আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

যুদ্ধ শুরুর পর দেশে এলো প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মানবতাবাদী ও কৃষক দরদি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতিশীল- সংস্কৃতি মন্ত্রী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়ীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের সূর্যকিরণ, যিনি আলো দিয়ে অন্ধকার দূর করেছেন। তার মতে, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মানবতাবাদী ও কৃষক দরদি, যিনি সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি দেখিয়েছেন এবং প্রচলিত রাজাদের মতো আচরণ করেননি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এছাড়া কুষ্টিয়া-১ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।শিক্ষক ও সংস্কৃতি অনুরাগীরা কুঠিবাড়ী এলাকায় গবেষণাগার ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলার দাবি জানান, যাতে সারা বছর রবীন্দ্রচর্চা আরও বিস্তৃত হয়।

সেবায় গাফিলতি হলে নেওয়া হবে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেছেন-
বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অনবোর্ড সেবার গুণগত মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো ধরনের অবহেলা বা ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না। সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি রাজধানীর রেলভবনের কনফারেন্স কক্ষেববাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা ও পরিচালনা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. রুপম আনোয়ার, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) শহিদুল ইসলাম, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন, সিসিএম মাহবুবুর রহমান, পশ্চিমাঞ্চলের সিসিএম সুজিত কুমার বিশ্বাসসহ অপারেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চার বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা।

এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে অনবোর্ড ও ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনাকারী বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সময় সময় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চলন্ত ট্রেনে খাদ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা, আচরণ ও নিরাপত্তা—সবকিছুতেই যাত্রীদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ে অনবোর্ড ও ক্যাটারিং সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং সুরুচি ফাস্টফুডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা মালিকপক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিক থাকবো।

এস.এ কর্পোরেশনের মালিক প্রতিনিধি মতিউর রহমান সম্রাট বলেন, “রেলওয়ের কর্মকর্তারা সবসময় সঠিক নির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত টাস্কফোর্স কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”

হাবীব বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী মামুন হোসেন বলেন, “দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে বিল পরিশোধ না হলেও আমরা যাত্রীসেবা অব্যাহত রেখেছি। ভবিষ্যতেও রেলওয়ের নির্দেশনা মেনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাব।বলাকা ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি মতিন বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে আমরা সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন,চলন্ত ট্রেনে যাত্রীসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু কার্যাদেশের শর্ত পূরণ করলেই হবে না, বরং যাত্রীদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।”
সভায় রেলসেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রস্তাব, যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার, অনবোর্ড খাদ্যসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ