আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে: আবু সুফিয়ান।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পদ পদবী নয়, দলের আদর্শ ধারণ করে জনগণের সেবাই প্রকৃত রাজনীতি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, পদ পদবী বড় বিষয় নয়, দলের আদর্শ ধারণ করে জনগণের পাশে থাকাই প্রকৃত রাজনীতি। আজকে এখানে কারো পদবী আছে, কারো নেই, এটা বড় কথা নয়। আমরা শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। এই দলকে ভালোবেসেই আমরা রাজপথে থেকেছি। হতাশ না হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।তিনি শুক্রবার (৮ মে) বিকালে নগরীর লাভ লেইনস্থ স্বরনিকা কমিউনিটি সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ৯ আসন বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম ৯ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম, জাহাঙ্গীর আলম, এম এ সবুর।

ডা. শাহাদাত হোসেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মনের মধ্যে হতাশা রাখবেন না। হতাশা মানুষকে দুর্বল করে দেয়। দল ক্ষমতায় এসেছে মাত্র দুই মাস হয়েছে। ধৈর্য ধরতে হবে।তিনি বলেন, অনেকে সুবিধার জন্য একসময় আওয়ামী লীগ, আবার বিএনপি কিংবা অন্য দলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসব সুবিধাবাদীদের থেকে দূরে থাকতে হবে। নৈতিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, যারা চাঁদাবাজি করবে, সন্ত্রাস করবে কিংবা দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতন, জেল জুলুম সহ্য করেও দল ত্যাগ করেননি। সেই ত্যাগের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নগরে চলমান খাল নালা সংস্কার ও পরিষ্কার কার্যক্রমের কারণে সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে। তবে এই কাজের সুফল আগামী ছয় মাসের মধ্যে নগরবাসী পাবে। ইনশাআল্লাহ, এবার চট্টগ্রাম শহরের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতা কমে যাবে।তিনি আরও বলেন, গত বছর মানুষ জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রামের আংশিক সুফল দেখেছে। এবার আরও বড় পরিবর্তন আসবে। এজন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রতিটি ইউনিটকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে টিম গঠন করে কোথাও ময়লা আবর্জনা পড়ে আছে কিনা তা মনিটরিং করতে হবে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধেও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। তবে দলের নাম ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন অপকর্মে জড়ানোর চেষ্টা করছে। এসব প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করা এখন আমাদের দায়িত্ব। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে।

আবু সুফিয়ান বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি দলের নাম ব্যবহার করে প্রবাসীদের জমিতে ঘর নির্মাণের সময় জোরপূর্বক ইট বালু সরবরাহের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারেক রহমান যতদিন দলের দায়িত্বে থাকবেন, ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশাজনক স্ট্যাটাস না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও ঐক্য বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

বক্তব্যে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোরবানির আগে ওয়ার্ডভিত্তিক অসচ্ছল সাধারণ মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে। এই সহায়তা স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ করতে হবে। দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও মানুষের কল্যাণে সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এতে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মোবিন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এম এ হান্নান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, একে খান, মাহবুব রানা, ইসমাইল বালি, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মান্নান, শাহেদ বক্স, ইয়াসিন চৌধুরী আসু, শাহ আলম, হাজী মোহাম্মদ বেলাল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ তৈয়ব, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, বাকলিয়া থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আই চৌধুরী মামুন, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খান, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আনাস সহ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিববৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত একাধারে সমাজ হিতৈষী, শিক্ষাবিদ সফল ক্রীড়াবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমাজ হিতৈষী, জন বান্ধব সফল শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত ছিলেন একাধারে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সফল ক্রীড়াবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-১৩ সংসদ সদস্য সরওয়ার নিজাম বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তিনি কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তাঁর নিরহংকারী স্বভাব ও দেশপ্রেমিক চেতনা তাঁকে সবার কাছে শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল।

‎সোমবার (৪ মে) বিকালে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্তের নাগরিক শোকসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্তের নাগরিক শোকসভা কমিটি আয়োজিত সভায় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলি চৌধুরী, লতিফা সিদ্দিকী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া, সিংহরা রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আনন্দ মোহন চৌধুরী, প্রকৌশলী ইমন দত্ত।

‎নাগরিক শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক তাপস হোড়ের সভাপতিত্বে সাংবাদিক সরোজ আহমেদের সঞ্চালনায় শোক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন, শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন ছাবের আহমদ চৌধুরী।বক্তারা বলেন, প্রকৃতি রঞ্জন শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন তা নয়, তিনি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্ব বুঝতেন এবং তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতেন। পাশাপাশি সমাজ সংস্কারক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সচেতনতা সৃষ্টি করেন এবং সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে অবদান রাখেন। সব মিলিয়ে, প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত ছিলেন একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য অনুকরণীয় ও প্রেরণার উৎস।

শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত ছিলেন একাধারে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সফল ক্রীড়াবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-১৩ সংসদ সদস্য সরওয়ার নিজাম বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তিনি কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তাঁর নিরহংকারী স্বভাব ও দেশপ্রেমিক চেতনা তাঁকে সবার কাছে শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল।‎শিক্ষাবিদ প্রকৃতি রঞ্জন দত্তের নাগরিক শোকসভা কমিটি আয়োজিত সভায় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলি চৌধুরী, লতিফা সিদ্দিকী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া, সিংহরা রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আনন্দ মোহন চৌধুরী, প্রকৌশলী ইমন দত্ত।নাগরিক শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক তাপস হোড়ের সভাপতিত্বে সাংবাদিক সরোজ আহমেদের সঞ্চালনায় শোক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন, শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন ছাবের আহমদ চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, প্রকৃতি রঞ্জন শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন তা নয়, তিনি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্ব বুঝতেন এবং তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতেন। পাশাপাশি সমাজ সংস্কারক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সচেতনতা সৃষ্টি করেন এবং সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে অবদান রাখেন। সব মিলিয়ে, প্রকৃতি রঞ্জন দত্ত ছিলেন একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য অনুকরণীয় ও প্রেরণার উৎস।
তাঁর হাতে গড়া ছাত্ররা আজ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি – বেসরকারি দপ্তরে কর্মরত, শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা কর্তব্যবোধ তারই বহি:প্রকাশ।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে: ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সকালে মেয়র নগরীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রজাপতি রোডস্থ সিডিএ খাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। পরে তিনি ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাটগড় মোড় থেকে চর পাথরঘাটা পর্যন্ত চলমান নালা নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকি করেন। এরপর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দার পাড়া থেকে টিজি অফিস সাগরপাড় পর্যন্ত পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে বিমানবন্দর থাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। তাই এই এলাকাসহ পুরো নগরীকে সবসময় জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশন ড্রেন পরিষ্কার করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যদি ড্রেন ও খালে ময়লা আবর্জনা ফেলে, তাহলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নগরী আমাদের সবার, তাই এটিকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জলাবদ্ধতামুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব।

মেয়র আরও বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ নালা নর্দমা ও খালসমূহ পরিষ্কার করার লক্ষ্যে চসিক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি খাল খনন, খালের গভীরতা বৃদ্ধি এবং বন্ধ মুখগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল থাকে এবং পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।

এসময় তিনি মুসলিমাবাদ খাল পরিদর্শন করে খালটি দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা ও নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা জন্ম নেয়। এজন্য বাসাবাড়ি, মার্কেট, ভবনের ছাদ কিংবা এসির ভেতরে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে জনপ্রতিনিধি, সেবাদানকারী সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, সহকারী প্রকৌশলী রূপক চন্দ্র দাশ, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, সহকারী ইন্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, ইন্জিনিয়ার মো: মোহাইমিনুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া, মেয়রের এপিএস মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ), মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ