আজঃ শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬

যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মাসব্যাপী নালা নর্দমা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আরও গতি আনতে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রবিবার (১০ মে ২০২৬) নগরীর দেওয়ান বাজার ও জামাল খান ওয়ার্ডে পরিচালিত ক্র্যাশ প্রোগ্রামের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

দৈনিক কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১১টায় সাব এরিয়া এলাকা এবং সকাল সাড়ে এগারটায় রহমতগঞ্জ, মিডটাউন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মেয়র। এ সময় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে, তবে তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। ভারী বৃষ্টিপাত হলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই দ্রুত মাটি অপসারণসহ চলমান কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।তিনি ৩৪ ব্রিগেড আর্মি ইঞ্জিনিয়ারিং টিমকে দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা ও নালায় বর্জ্য নিক্ষেপ। এতে পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই জলজট সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, যারা নালা খালে ময়লা ফেলবে, অবৈধ দখল করবে কিংবা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে এবং আইন অনুযায়ী জরিমানা ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মেয়র স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ভবন মালিক, ব্যবসায়ী ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত বছর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা অনেকাংশে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছিলাম। এবারও সব সেবা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে কাজ করছি।তিনি নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শোক মজলিস ও শোক র‌্যালি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার শোকাবহ ঘটনা স্মরণে চট্টগ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শোক মজলিস ও শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগের আদর্শ তুলে ধরার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্ব শান্তি এবং জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া র‌্যালীতে শোকাবহ কারবালার নানা ঘটনাবলি তাজিয়া, প্রতীকী কফিন, পতাকা, স্লোগান, মাতম ও কথামালায় তুলে ধরেন। শুক্রবার নগরের সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহ থেকে হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে শোক মিছিল বের হয়। মিছিলটি নিউমার্কেট, জিপিও, কোতোয়ালী মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে এসে শেষ হয়।

শোক মিছিলে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর অংশ নেন। তারা ইমাম হোসাইন (আ.)-এর প্রতীকী কফিন ও বিভিন্ন লেখা সম্বলিত পতাকা (আলাম) বহন করেন। মিছিলজুড়ে কারবালার শহীদদের স্মরণে নওহা ও মার্সিয়া পাঠ করা হয়। ‘ইয়া হোসাইন’ ও ‘লাব্বাইক ইয়া হোসাইন’সহ বিভিন্ন শোকধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে মাসায়েব মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। এতে হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা আমজাদ হোসেন কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের শাহাদাতের হৃদয়বিদারক ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর বয়ানে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে অংশগ্রহণকারীরা বুক চাপড়ে মাতমের মাধ্যমে শোহাদায়ে কারবালার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নিউমার্কেট এলাকায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মাওলানা আমজাদ হোসেন মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, ‘কারবালার শিক্ষা কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন আহ্বান। আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানসহ নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা সকল প্রকার যুদ্ধ, আগ্রাসন ও নিরপরাধ মানুষের রক্তপাতের তীব্র নিন্দা জানাই। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সব ধরনের জুলুম-নির্যাতনের অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি কামনা করি ও ধিক্কার জানাই। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারবালার মহান আদর্শ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং শান্তি, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে শিক্ষা দেয়।’

মিছিলে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইয়া হোসেন’, ‘লাব্বায়িক ইয়া হোসেন’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়। হৃদয়গ্রাহী কণ্ঠে ‘আখেরি সালাম লও ওহে নানাজান, তোমারি হোসেন যায় কারবালা ময়দান’সহ ধর্মীয় নাত, গজল পরিবেশন করে যুবকরা মাতম করেন।পিপাসার্ত পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় শরবত।
মিছিলটি কালীবাড়ি মোড়, নিউমার্কেট মোড়, কোতোয়ালী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমাম বাড়িতে ফিরে যায়। সেখানে দিনব্যাপী শিয়াদের চিরায়ত ঐতিহ্য অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান, আলোচনা আর প্রার্থনা হয়।

বাবা তার ছোট্ট সন্তানকে কাঁধে নিয়ে শরিক হয়েছেন মিছিলে। ছোট্ট শিশুটির হাতে কালো পতাকা। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এই বাবা বলেন, ১০ মহরম হৃদয়বিদারক ঘটনা। ইমাম হোসাইন সপরিবারে কারবালার মরু প্রান্তরে শহীদ হয়েছেন। আজ আমার বাচ্চাকে নিয়ে হাঁটছি কিন্তু সেদিন ছয় মাসের সন্তানও রেহাই পাননি ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে। সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে আমার সন্তানকে নিয়ে কারবালার জুলুসে এসেছি।

একজন নারী বলেন, আজ ১০ মহররম। আমাদের পবিত্র আশুরা। কারবালায় ইমাম হোসাইন শহীদ হয়েছেন, তাঁর স্মরণে আমরা শোক পালন করছি। ইসলামের জন্য, হক প্রতিষ্ঠার জন্য নবীজীর বংশধর জীবন দিয়েছেন। এমনকি ছোট্ট আলি আজগর পিপাসার্ত অবস্থায় শহীদ হয়েছেন। উনাকে তীর মেরে শহীদ করা হয়েছে। ইমামের মিছিলে যে নারীরা ছিলেন, তাঁদের ওপর জুলুম করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ১০ মহরম পবিত্র আশুরার দিনে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণে নগরীর সদরঘাট থেকে এই শোক মিছিলের আয়োজন করে শিয়া সম্প্রদায়। এ উপলক্ষে সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও পালন করা হয়।

নালা-খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না : সিডিএ চেয়ারম্যান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নালা-খাল দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে জানালেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(সিডিএ)’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। বৃহস্পতিবার তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের নয়ারহাট খাল ও ইপিজেড-সল্টগোলা ক্রসিং সংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এলকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নয়ারহাট খালে স্লুইসগেট নির্মাণ করে দেব। তবে আপনাদেরও একটি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না, নালা-খাল দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। একটি পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও সৌন্দর্যমণ্ডিত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

চট্টগ্রামের ইপিজেড-সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নয়ারহাট খালে স্লুইসগেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছেন সিডিএর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্লুইসগেট নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সংসদীয় এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

স্লুইসগেট নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার কথাও জানান তিনি। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সিডিএ চেয়ারম্যান। এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরলে তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।

সিডিএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় নয়ারহাট খালের সংস্কারকাজ আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে খালের মুখে স্লুইসগেট না থাকায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি খালে প্রবেশ করে এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে হালিশহর, ইপিজেড ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ এলাকায় স্লুইসগেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ