৫ দফা স্থগিতের পর অবশেষে চেম্বার নির্বাচন ২৩ মে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘদিন মামলা-পাল্টা মামলা এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচবার নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর অবশেষে আগের তফসিল অনুযায়ী দেশের শতবর্ষী প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ বহাল রাখা হয়েছে। আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ নির্বাচন।

সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সাধারণ শাখার পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের যুগ্ম সচিব নুরুল আবসার চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ মে চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরের আগ্রাবাদে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ থেকে মোট ১৮ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন।
জানা গেছে, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনটি নির্বাচিত নেতৃত্ব ছাড়াই প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় চেম্বারের প্রশাসকের দায়িত্বে একাধিকবার পরিবর্তন আসে। ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেন তৎকালীন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা।তার মেয়াদ শেষে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য সংগঠন-১ অনুবিভাগের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের স্বাক্ষরিত আদেশে নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী।

পরবর্তীতে তার মেয়াদ শেষ হলে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান মো. মোতাহের হোসেন। এভাবে ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসকের মাধ্যমে চলছে চেম্বারের কার্যক্রম।এদিকে দীর্ঘদিন নির্বাচন স্থগিত থাকায় মামলা-পাল্টা মামলা ও উচ্চ আদালতের একাধিক নির্দেশে পাঁচবার ভোটগ্রহণ পিছিয়ে যায়। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত আগামী ২৩ মে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।
চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একক আধিপত্যের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই চেম্বারে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব আবারও প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।

সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বার্থ অপারেটরস এবং শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের আর্টিক্যালস অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, অর্ডিনারি গ্রুপের ১২ জন ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ৬ জন পরিচালক সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। এছাড়া টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক সমঝোতার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পরে ২৪ জন পরিচালকের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়।

প্রসঙ্গত, সংগঠনটিতে সাধারণ সদস্য ৪ হাজার ১ জন, সহযোগী সদস্য ২ হাজার ৭৬৪ জন, শহর সমিতির সদস্য ৫ জন এবং ট্রেড গ্রুপের সদস্য ১০ জনসহ মোট সদস্য সংখ্যা ৬ হাজার ৭৮০। এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একটি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম এবং অন্যটি সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন সমমনা পরিষদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড স্থগিত থাকার পর ফের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু, অনুপস্থিত ১ হাজার ৮২৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সোমবার (২৭ জুলাই) পুনরায় শুরু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত থাকার পর সোমবার সকালে শুরু হয়। পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় মোট ৭৭ হাজার ৫৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৮২৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুনরায় এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সব কেন্দ্রেই সার্বিক পরিস্থিতি ভালো ছিল।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে এক জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় ৫৬ হাজার ৫৮৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ২০২ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কক্সবাজারে ৯ হাজার ৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ২৬৩ জন। রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৯৬৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১০৯ জন। খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার ২১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ১৫৪ জন এবং বান্দরবানে ২ হাজার ৬৯২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৯৭ জন।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও এক বৃদ্ধার প্রাণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। সোমবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নুরজাহান বেগম নামে ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১২ জুলাই ডেঙ্গুতে মরিয়ম বেগম (৩১) নামে এক নারীর মৃত্যু খবর দিয়েছিল সিভিল সার্জন কার্যালয়। এদিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সবাইকে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম গত ২৬ জুলাই মুমূর্ষু অবস্থায় নগরীর বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ডেঙ্গু ও উচ্চরক্তচাপজনিত জটিলতার কারণে ‘মাল্টি অর্গান ডিসফাংশন সিনড্রোম’ দেখা দেওয়ায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জেলায় নতুন করে আরও ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন, যার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৭৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৫ জনে।এর মধ্যে নারী আক্রান্তের সংখ্যা ১৯১ জন, যেখানে পুরুষ ৪৩৯ জন এবং শিশু ১২৫ জন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই এক মাসেই ৪৫৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ