জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত মিথ্যাচার করছে, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না – মির্জা ফখরুল

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণায়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণের নিমিত্তে সরেজমিন পরিদর্শন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণায়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়েসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। পরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের ঠাকুরগাঁওবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে, মিথ্যা ছড়াচ্ছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে- আমরা নাকি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাইনা! অথচ আমরাই জুলাই সনদ তৈরি করেছি, সংস্কার আমাদের, আমরাই সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। মিথ্যাচারের জন্য জনগণ জামায়াতকে ক্ষমা করবে না।

তিনি বলেন, আমি পরিস্কার করে বলতেছি জামায়াতকে কখনই এই দেশের জনগণ ক্ষমতা আনবে না, কারণ তারা ১৯৭১ সালে আমার স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল; আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছে। জামায়াতকে কোনভাবেই এই দেশের মানুষ ক্ষমতা আনতে পারেনা।

আরো বলেন, আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, গণতান্ত্রিক ভাবে করতে চাই; তার অর্থে এই নয়- আপনারা দেশের স্বাধীনতার বাইরে গিয়ে কথা বলবেন, অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন আর আমরা সেটা মেনে নিয়ে কাজ করবো, এই দেশের মানুষ তা করতে দেবে না। আমি পরিস্কার করে বলছি- মিথ্যাচার করবেন না, জনগণ আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না। আমরা প্রতিটি শর্ত জুলাই সদনে পালন করেছি, আমরা তখনি বলেছিরলাম

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য রাজনীতি, অতএব এখানে কোন ধরনের বিভাজন থাকবে না। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই একসাথে থাকবে; সবাইকে একসাথে নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এখানে কোন ধরনের সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না।

আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানম রিতা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমরা ফুল টিম নিয়ে এসেছি। আমরা বিমানবন্দরের রানওয়েসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখলাম। আমরা যত তারাতারি সম্ভব এটি চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবো। যেহেতু এটি চালু করা প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা ছিলো, তাই এটি ২ বছরের মধ্যে চালুর চেষ্টা করবো। আপনাদের এখানে ইয়ারপোর্টটি চালু হলে সমগ্র ঠাকুরগাঁওবাসীর অনেক উপকার হবে। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি চালুর ব্যাপারে কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। তবে আপনাদেরও একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতি মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু ওয়াদা করেছেন, বিমানবন্ধর চালুর ব্যাপারে সেহেতু এটি চালু না করে কি পারা যায়। না চাইলে যে কোন জিনিস পাওয়া যায় না। আর সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে বিমানবন্দরটি চালু হবে কিনা, আর হলে কাজ কতদিনে শেষ হবে। তবে আপনারা কি চান? আমরা চাই ২ বছরের মধ্যে এই বিমানবন্দরে বিমানে উঠে আপনারা ঢাকা যেতে পারবেন ইনশায়াল্লাহ। আমরা যাবতীয় কাজগুলো যাচাই বাছাই করছি। পরিকল্পনা হয়ে গেছে, এখন কাজ শরু হবে। আর কাজ শুরু হলে ২ বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি।

অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য দেন- ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা: মো: আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: জাহিদুর রহমান জাহিদ, জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল হান্নান হান্নু, দপ্তর সম্পাদক মো: মামুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মাহেবুল্লাহ আবু নূর, এম, এম মজিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আব্দুল হামিদ প্রমুখ। এসময় ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো: বেলাল হোসেনসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা, কর্মী ও সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাবার জানাজায় যাওয়ার পথেই ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল জিকুর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো প্রিয় মুখটি দেখতে বাড়ির পথে ছুটে যাচ্ছিলেন ছেলে। কিন্তু সেই শেষ দেখা আর হলো না। পথেই ঘাতক ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান নূর আলম জিকু (৪৫)। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের আলামপুর ইউনিয়নের স্বস্তিপুর এলাকায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নূর আলম জিকু কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ গ্রামে মারা যান জিকুর বাবা জসিম উদ্দিন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে কর্মস্থল মাগুরা থেকে ভায়রা ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন জিকু।

পথিমধ্যে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের স্বস্তিপুর এলাকায় পৌঁছালে একটি বালিবাহী ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান জিকু এবং গুরুতর আহত হয় তার ভায়রাভাই।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কুষ্টিয়া-হ ১৬-৬৬৪৯ সিরিয়ালের মোটরসাইকেলের আরোহী নূর আলম জিকু ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।ঘটনার পর পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ (১০ সেপ্টেম্বর) পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদুন্নবী (সা.) শীর্ষক আলোচনা, কেরাত, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা-২০২৬ অত্যন্ত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এ আয়োজনের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। কেরাত ও নাত প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তরিক প্রয়াস। বক্তারা আরো বলেন, আজকের একটি পুরস্কার হয়তো শুধু একটি শিশুর হাতে উঠেছে, কিন্তু তার মাধ্যমে হয়তো আগামী দিনের একজন ক্বারি, একজন আলেম, একজন আদর্শ শিক্ষক কিংবা একজন আলোকিত মানুষ তৈরি হওয়ার স্বপ্নের সূচনা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লায়ন মাসুদুল আলম চৌধুরী মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন মাওলানা হুবাইব নূর। বিশেষ বক্তা ছিলেন মোহাম্মদ জুনায়েদ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার মাহবুবুল আলম চৌধুরী, অভিভাবক প্রতিনিধি মিসেস আকলিমা বিবি, অভিভাবক এনাম, নূর হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ফটিকছড়ির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাইফুদ্দিন সুমন, পাইন্দং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সহ-সম্পাদক মাইনুদ্দিন সোহেল, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রনেতা আহমেদ হাছান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কামরুল হাসান চৌধুরী, পাইন্দং কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ওসমান গনি, মিলাদুন্নবী (সা.) কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা এমদাদ হোসাইন, সদস্য ফোরকান উদ্দিন মান্নান, তসফিক উদ্দিন আহমেদ, বোরহানউদ্দিন, মুক্তার উল আলম, সহকারী প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলীসহ শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু গোবিন্দ দাস। মাওলানা হুবাইব নূরের মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ