ভবন নির্মাণে অনিয়মে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে : গণপূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, আগে শুধু স্থাপত্য নকশা দিয়ে ভবনের প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হলেও এখন থেকে স্থাপত্য, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিংসহ পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা একসঙ্গে জমা দিতে হবে। এছাড়া অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটলে ভবনকে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না এবং ওই সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ধরনের ইউটিলিটি সংযোগও মিলবে না। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি
ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলে জানান।
প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলোর ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বাকি অল্প কিছু কাজের কারণে জনগণ পুরো সুবিধা পাচ্ছে না। দ্রুত এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বড় বড় প্রকল্পের সুফল মানুষ ভোগ করতে পারবে।

জমি জটিলতার কারণে আটকে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত সমাধানে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ছিল ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু প্রকল্প শেষ করার। কিন্তু এখন সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গত আট-দশ বছর ধরে প্রকল্পগুলো টেনে নেওয়া হয়েছে। এখন এগুলোর সমাপ্তি প্রয়োজন, যাতে জনগণ পুরোপুরি সুফল পায়। এসময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুলসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাস করার জন্য ১৮ জন মন্ত্রীর বিশেষ পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করেছে সরকার। দায়িত্বের গুরুত্বের কারণে ছয়জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার জন্য এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।

জানা যায় , রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ নিরাপত্তা বহরের আকারও ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন মন্ত্রীর বিশেষ পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার কার্যকর করা হয়েছে। বিষয়টি একাধিক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ নজমুল হুদা শনিবার জানান- গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা জারি হওয়ার পরই তা কার্যকর হয়েছে। , বর্তমানে মন্ত্রীর নিরাপত্তায় শুধু একজন গানম্যান দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রীর সংখ্যা ২৪ জন। যদিও বিশেষ এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী মন্ত্রীরা ব্যক্তিগত গানম্যান, সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তারক্ষী এবং রাজধানীর বাইরে সরকারি সফরে প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদর দপ্তরকে ভিআইপি নিরাপত্তা খাতে ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি পুলিশ সদস্য ও অপারেশনাল যানবাহনের দীর্ঘদিনের সংকটও এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অন্যতম কারণ।

সাধারণত একজন মন্ত্রীর এসকর্ট টিমে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), চারজন কনস্টেবল এবং একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান থাকে। এসব সদস্যের বেতন-ভাতা ও যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় সরকার বহন করে। তবে প্রতিমন্ত্রীরা এ সুবিধার আওতায় ছিলেন না।

এসকর্ট বহাল রাখা হয়েছে তারা হলেন— স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, নারী ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

যেসব মন্ত্রীর বিশেষ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন— ধর্মবিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রীতা), শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে ৪৯ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে প্রয়োজন ২ হাজার ৫৭৫ জন। ফলে প্রায় ৯০০ জন সদস্যের ঘাটতি রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই জনবল সংকটের কারণে অনেক সদস্যকে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ ছাড়া জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন ও স্থাপনায় হামলায় ভিআইপি নিরাপত্তা ইউনিটের বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়। ফলে বর্তমানে একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তায় একই যানবাহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও যানবাহন নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামীকাল স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ