পাবনার ভাঙ্গুড়ায় তরঙ্গ সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠীর উদ্যোগে ঈদ আনন্দ মেলা ও সার্কাস অনুষ্ঠিত

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় তরঙ্গ সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠীর উদ্যোগে ঈদ আনন্দ মেলা ও দি বুলবুল জয়ার সার্কাস অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার ৩০ মে ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহাসিক বড়াল ব্রিজ খেলার মাঠ প্রাঙ্গণে তরঙ্গ সাংস্কৃতিক নাট্যগোষ্ঠীর উদ্যোগে শুরু হয়েছে ৭ দিন ব্যাপি ঈদ আনন্দ মেলা ও দি বুলবুল জয়ার সার্কাস।


প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঈদ আনন্দ মেলাটি উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি, কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। মেলাটিতে দর্শনার্থীদের বিনোদন দেওয়ার জন্য আনা হয়েছে দি বুলবুল জয়ার সার্কাস, নাগরদোলা ও হাতি।
এছাড়াও মেলাটিতে বসেছে বিভিন্ন রকমের কসমেটিকের দোকান, বিভিন্ন আসবাসপত্রের দোকান, বিভিন্ন খাবারের দোকান। সব মিলিয়ে মেলাটি দর্শনার্থীদের মন কেড়ে নিবে বলে জানিয়েছেন মেলা কতৃপক্ষ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন, সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক সরদার,ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম কমিশনার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছাইদুল ইসলাম বুরুজ,সাবেক উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান এবং সাবেক পৌর বিএনপি সভাপতি শামসুল হক সহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি,র সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গুড়ায় এমন একটি মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই জন্যে মেলাকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, হইচই, সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে 9oসবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন। একই সঙ্গে মেলায় কোনো ধরনের অশ্লীলতা বা অসামাজিক কর্মকাণ্ড কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও তারা সকলেই উল্লেখ করেন।

এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাকিউল আযম এর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সেকেন্ড অফিসার সুব্রত কুমার ও অপূর্ব কুমার সহ নিরাপত্তার জন্য একাধিক পুলিশ সদস্যরা।স্থানীয়দের মধ্যে মেলাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা আশা করছেন, সার্কাস ও নাগর দোলা মেলাটি সব শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষের জন্য বিনোদনের একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রূপগঞ্জে সিটি গ্রুপের অটো রাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার রূপসী গন্ধর্বপুর তালতলা এলাকার সিটি গ্রুপের অটো রাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আজ ৩০ আগষ্ট রবিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন তারাবো পৌরসভার তালতলা এলাকার হামিদ প্রধানের ছেলে মোজাম্মেল প্রধান (৪৫) ও আমির হোসেনের ছেলে সাব্বির আহমেদ (১৮)। দুর্ঘটনার পর গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল রবিবার সকালে সিটি গ্রুপের অটো রাইস মিলে শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করছিলেন। হঠাৎ মিলের বয়লার ভাটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের সময় মোজাম্মেল প্রধান ও সাব্বির আহমেদ দগ্ধ হন। পরে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার পর কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বয়লারটি কী কারণে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সিটি গ্রুপের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে কারখানার ভেতরে তাদের প্রবেশের অনুমতি দেয়নি এবং দুর্ঘটনা সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দিতেও রাজি হয়নি।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, বয়লার বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দগ্ধ শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হবে বছরে প্রায় ৮ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এটি চালু হলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সক্ষমতা তৈরি হবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৮ লাখ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা যুক্ত হবে বন্দরে। রোববার (৩০ আগস্ট) পতেঙ্গার কর্ণফুলী নদীর তীরে এই টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। লালদিয়া টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এত বড় বিদেশি বিনিয়োগে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ দেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়া চরে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার ভাটিতে গুপ্তা বাঁকের পরবর্তী এলাকায় টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৪৯ দশমিক ১৫ একর। এর মধ্যে ৩২ একর জায়গায় মূল টার্মিনাল, প্রায় ৭ দশমিক ১৫ একর জায়গায় কনটেইনার ইয়ার্ড এবং প্রায় ১০ একর জায়গার একটি অংশে ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধা থাকবে। প্রস্তাবিত টার্মিনালে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ করা হবে। নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য থাকবে সাতটি জাহাজ থেকে তীরে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর ক্রেন এবং ইয়ার্ডে থাকবে ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার-চাকা ক্রেন। টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টিইইউ।

জানা গেছে, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা এক দশকেরও বেশি সময়ের পুরোনো। ২০১৩ সালে প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বাস্তব জটিলতায় তা দীর্ঘদিন বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারেনি। লালদিয়া চরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জমি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে

ডেনমার্কভিত্তিক মারস্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস ২০২৩ সালের ২১ মে লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রস্তাব দেয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রথম পিপিপি যৌথ প্ল্যাটফর্মের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয় এবং এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ চুক্তির কার্যকারিতা শুরু হয়। এরপর চুক্তিতে নির্ধারিত পূর্বশর্তগুলো পূরণ করে ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এপিএম টার্মিনালসের কাছে প্রকল্পের সাইট হস্তান্তর করে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টিইইউ পর্যন্ত ধারণক্ষমতার জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এর চেয়ে বড় জাহাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পণ্য ছোট জাহাজে করে সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ আঞ্চলিক বন্দরে নিয়ে গিয়ে সেখানে বড় জাহাজে তুলে দিতে হয়। এতে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হয়। এপিএম টার্মিনালসের হিসাবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়তি সময় যুক্ত হতে পারে।

লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে বড় জাহাজের সরাসরি সংযোগের কারণে এই বাড়তি ধাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় হতে পারে। তৈরি পোশাকের মতো সময়নির্ভর রপ্তানি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস ও সরবরাহের ক্ষেত্রেও সুবিধা তৈরি হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

বন্দর সূত্রে আরো জানা গেছে, পিপিপির আওতায় বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি ও বন্দরের মালিকানা ধরে রাখবে। আর এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটির নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তির মধ্যে প্রথম তিন বছর নির্মাণপর্ব এবং পরবর্তী ৩০ বছর পরিচালনার মেয়াদ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে টার্মিনাল হস্তান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। এপিএম টার্মিনালস চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করলে পরিচালনার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) ও বন্দর বিশেষজ্ঞ মো. জাফর আলম বলেন, সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে, কোনো রকম বিনিয়োগ ছাড়া আমরা একটি বড় অবকাঠামো পাচ্ছি। বিদেশি বিনিয়োগ আসছে, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে। তবে যথাসময়ে শেষ করাটা একটা চ্যালেঞ্জ।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, লালদিয়া টার্মিনালের নকশায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কনটেইনার ওঠানো-নামানো ও ইয়ার্ড পরিচালনায় বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থাও থাকবে। ভবিষ্যতে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের উপযোগী অবকাঠামো রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।ইয়ার্ডের ক্রেনগুলো প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে কর্মীদের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে। জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যেই এসব প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে।
তারা বলেন, নির্মাণপর্বে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। টার্মিনাল চালুর পর সরাসরি কয়েকশ মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান হবে। এর বাইরে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পণ্য খালাস, জাহাজসেবা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতি পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে। ফলে স্থানীয় কর্মীদের নতুন ধরনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হবে।

ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, লালদিয়া টার্মিনালের সুফল পুরোপুরি পেতে শুধু নির্মাণকাজ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। বড় জাহাজ চলাচলের জন্য কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ও নেভিগেশন ব্যবস্থা সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে টার্মিনালের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়লেও বন্দর থেকে পণ্য দ্রুত বের করে নেওয়ার ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থায় নতুন করে জট তৈরি হতে পারে।

কাস্টমস, পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যবস্থার গতি বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলোর সরাসরি সেবা নিশ্চিত করাও বড় বিষয়। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা ও নির্ভরযোগ্য নেভিগেশন নিশ্চিত করা গেলে বড় জাহাজের নিয়মিত সরাসরি আগমন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ