আনোয়ারায় অধ্যক্ষ আবু তাহের রাহিমাহুল্লাহর স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

অধ্যক্ষ আবু তাহের ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী --- আ.ন.ম শামসুল ইসলাম(সাবেক এমপি)

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি আ.ন.ম শামসুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ আবু তাহের রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। তাঁর হাত ধরে আমাদের ইসলামী আন্দোলন আসার সুযোগ হয়েছে। ওনি এমন একজন ইসলামী আন্দোলনের পন্ডিত ছিলেন। ওনার আলোচনা শুনে মানুষ ইসলামি আন্দোলনে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসতেন। আজকে যারা বড় বড় ইসলামী আন্দোলনের নেতা তারা সবাই মাওলানা আবু তাহেরের হাতে গড়া জনশক্তি। ওনি খুবই সরল জীবনযাপন করতেন। এত বড় একজন নেতার এভাবে জীবনযাপন সত্যিই বিরল। তিনি জাতীয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার নেতৃত্ব শুধু রাজনীতিতে নয়, শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রভাব পড়েছে।শনিবার (৩০ মে) বিকালে দি কিং আনোয়ারা কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত অধ্যক্ষ আবু তাহের স্মারক গ্রন্থ “স্মৃতিতে অম্লান” প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতের আমীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আবদুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আরম চৌধুরী, নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হাসান জিয়া, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জোবাইরুল ইসলাম মানিক, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমদ মির্জা, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা শিবিরের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, অধ্যক্ষ আবু তাহের জ্ঞানের সাগর ছিলেন। ওনি একাধিক ভাষার অধিকারী ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামী আন্দোলনের নেতা ছিলেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। ওনি ছাত্রজীবন থেকে সৃজনশীল নেতা ছিলেন। ওনি এতো গুনী একজন মানুষ ছিলেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষানলের কারণে আমরা সেদিন স্বাধীনভাবে জানাজা পড়ার অধিকারটুকু পাইনি। তিনি বহু গুনের অধিকারী ছিলেন। যারা ওনার সংস্পর্শ পেয়েছেন তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন। ওনি এমন নেতা ছিলেন তৎকালীন আমাদের শীর্ষ নেতারা ওনাকে নিয়ে গর্ব করতেন। আজকে আলোচনা সভা প্রমান করেছে ওনি দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মানের জায়গায় অবস্থান করছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, এমন জমানায় ছিলাম বরেণ্য এই রাজনীতিবিদের জানাজা আমরা ভালো করে আদায় করতে পারি নাই। ওনি এই অঞ্চলে ইসলামি আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কোন রক্ত চক্ষুকে ভয় করে নাই। ওনি শুধু আনোয়ারার কৃতি সন্তান নয়, ওনি পুরো বাংলাদেশের কৃতিসন্তান। এই দেশের ছাত্রদের আলোর মশাল ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ওনার মরহুম পিতাও একজন গর্বিত আলেম ছিলেন। কওমী ও আলিয়া আলেমদের সমন্বয় করার জন্য তাফসির মাহফিল আয়োজন করেন। অধ্যক্ষ আবু তাহের রহিমাহুল্লাহু ধর্মীয় রাজনীতির সব বিভেদ দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তাফসীর মাহফিলের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর নজরুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবু তাহের জ্ঞান আহরনের এক অনন্য মানুষ ছিলেন। ওনি আরবিসহ বিভিন্ন জ্ঞান চর্চা করতেন। ওনি জ্ঞানী লোকদের খুব কদর করতেন। দলমত নির্বিশেষে জ্ঞানী ও সম্মানিত লোকদের সম্মান করতেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাফর সাদেক বলেন, অনন্য প্রতিভা ও বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী অধ্যক্ষ আবু তাহের এর জীবন রাসুলুল্লাহ সাঃ এর আদর্শের অনুকরণে সাজানো ছিল। আমরা রাসুলুল্লাহ আদর্শ অনুসরণের লক্ষ্যে অধ্যক্ষ আবু তাহের এর মতো অনন্য ব্যক্তিত্বকে ধারণ করতে পারি। তার বর্ণাঢ্য জীবন আমাদের জন্য অনুসরণীয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, মাওলানা আবু তাহের আদর্শিক দায়িত্বশীলের অনুপম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিশেষ করে তিনি সার্বজনীন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আমরা যারা আদর্শিক রাজনীতি ও ইসলামি আন্দোলন করি ওনার চরিত্র থেকে বিষয় গুলো শিক্ষা হিসেবে আমাদের জন্য রয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি বলেন, জনগনের দায়িত্ব কি জিনিস মাওলানা আবু তাহের ভাই থেকে শেখার প্রয়োজন রয়েছে। অনেক বড় দায়িত্ব পালন করার পর রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার থাকার পর ওনি ছিলেন নির্লোভ। যা রাজনৈতিক নেতাদের ক্যারিয়ারে দুর্লভ।

অধ্যক্ষ আবু তাহের স্মারক গ্রন্থ “স্মৃতিতে অম্লান “প্রকাশনা পরিষদের সদস্য সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাছান খোকা ও সদস্য মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মোহাম্মদ উল্লাহ, জেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, বিএনপির সাবেক উপজেলা সেক্রেটারী হুমায়ূন কবির আনসার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হক্কানী, ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা, আ ক ম ফরিদুল আলম, বাঁশখালী উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাইল, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, সদরঘাট থানা আমীর অধ্যাপক আবদুল গফুর, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আবদুস সালাম আনোয়ারী, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্, নাছির উদ্দীন শাহ, আলহাজ্ব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিভ্রান্তি ও মিথ্যা কনটেন্ট ঠেকাতে মেটা, গুগলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে বৈঠক করবে সরকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে মেটা, গুগলসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করবে সরকার। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তিগত হয়রানি, বুলিং ও চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

আজ ৪ আগস্ট মঙ্গলবার রাজধানীতে সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২৬-২০৩০-এর প্রাথমিক খসড়াও উপস্থাপন করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাহসী মানুষদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তাই এই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহতদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী সেনা কল্যাণ কনভেনশন সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সঞ্চালনা করেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ এর যুগ্ম সম্পাদক আহমদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রদের সামনের সারিতে রেখে আমরা পেছন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। শেখ হাসিনা যাতে আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দলের নামে আখ্যায়িত করতে না পারে, সে কারণেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে আমরা রাজপথে ছিলাম এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছি।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধদের দেখতে এবং শহীদদের মরদেহের খোঁজ নিতে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গিয়েছি। সেই সময় চিকিৎসকরাও অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

মেয়র বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত, পঙ্গু ও দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের সম্মান, পুনর্বাসন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতোই জাতির সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত থাকুক।তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করি বলে সব কৃতিত্ব আমাদের, এমন দাবি করি না। জুলাই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। এই ঐক্যের শক্তিই স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এখন প্রয়োজন নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা।

নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিথ্যা ও অপপ্রচারের রাজনীতি নয়, বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নই এখন সময়ের দাবি।চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে।তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতি অম্লান রাখতেই এ আয়োজন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারা রাজপথ ছেড়ে যাননি। সেই দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।অনুষ্ঠানে ১২ জন শহিদ পরিবার এবং ১১০ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহিদ ফয়সাল শান্তের বাবা, আমরা জুলাই যোদ্ধা চট্টগ্রামের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম আবির, স্মৃতিচারণ করেন আহত জুলাই যোদ্ধা গাজী রাসেল, ওসমান কাশেমী, মো. লিটন, সোলাইমান স্বপন। আয়োজক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন শহিদুল ইসলাম সজীব।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ