আজঃ রবিবার ৩১ মে, ২০২৬

আনোয়ারায় অধ্যক্ষ আবু তাহের রাহিমাহুল্লাহর স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

অধ্যক্ষ আবু তাহের ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী --- আ.ন.ম শামসুল ইসলাম(সাবেক এমপি)

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি আ.ন.ম শামসুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ আবু তাহের রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। তাঁর হাত ধরে আমাদের ইসলামী আন্দোলন আসার সুযোগ হয়েছে। ওনি এমন একজন ইসলামী আন্দোলনের পন্ডিত ছিলেন। ওনার আলোচনা শুনে মানুষ ইসলামি আন্দোলনে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসতেন। আজকে যারা বড় বড় ইসলামী আন্দোলনের নেতা তারা সবাই মাওলানা আবু তাহেরের হাতে গড়া জনশক্তি। ওনি খুবই সরল জীবনযাপন করতেন। এত বড় একজন নেতার এভাবে জীবনযাপন সত্যিই বিরল। তিনি জাতীয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার নেতৃত্ব শুধু রাজনীতিতে নয়, শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রভাব পড়েছে।শনিবার (৩০ মে) বিকালে দি কিং আনোয়ারা কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত অধ্যক্ষ আবু তাহের স্মারক গ্রন্থ “স্মৃতিতে অম্লান” প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতের আমীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আবদুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আরম চৌধুরী, নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হাসান জিয়া, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জোবাইরুল ইসলাম মানিক, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমদ মির্জা, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা শিবিরের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, অধ্যক্ষ আবু তাহের জ্ঞানের সাগর ছিলেন। ওনি একাধিক ভাষার অধিকারী ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামী আন্দোলনের নেতা ছিলেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। ওনি ছাত্রজীবন থেকে সৃজনশীল নেতা ছিলেন। ওনি এতো গুনী একজন মানুষ ছিলেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষানলের কারণে আমরা সেদিন স্বাধীনভাবে জানাজা পড়ার অধিকারটুকু পাইনি। তিনি বহু গুনের অধিকারী ছিলেন। যারা ওনার সংস্পর্শ পেয়েছেন তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন। ওনি এমন নেতা ছিলেন তৎকালীন আমাদের শীর্ষ নেতারা ওনাকে নিয়ে গর্ব করতেন। আজকে আলোচনা সভা প্রমান করেছে ওনি দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মানের জায়গায় অবস্থান করছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, এমন জমানায় ছিলাম বরেণ্য এই রাজনীতিবিদের জানাজা আমরা ভালো করে আদায় করতে পারি নাই। ওনি এই অঞ্চলে ইসলামি আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কোন রক্ত চক্ষুকে ভয় করে নাই। ওনি শুধু আনোয়ারার কৃতি সন্তান নয়, ওনি পুরো বাংলাদেশের কৃতিসন্তান। এই দেশের ছাত্রদের আলোর মশাল ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ওনার মরহুম পিতাও একজন গর্বিত আলেম ছিলেন। কওমী ও আলিয়া আলেমদের সমন্বয় করার জন্য তাফসির মাহফিল আয়োজন করেন। অধ্যক্ষ আবু তাহের রহিমাহুল্লাহু ধর্মীয় রাজনীতির সব বিভেদ দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তাফসীর মাহফিলের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর নজরুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবু তাহের জ্ঞান আহরনের এক অনন্য মানুষ ছিলেন। ওনি আরবিসহ বিভিন্ন জ্ঞান চর্চা করতেন। ওনি জ্ঞানী লোকদের খুব কদর করতেন। দলমত নির্বিশেষে জ্ঞানী ও সম্মানিত লোকদের সম্মান করতেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাফর সাদেক বলেন, অনন্য প্রতিভা ও বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী অধ্যক্ষ আবু তাহের এর জীবন রাসুলুল্লাহ সাঃ এর আদর্শের অনুকরণে সাজানো ছিল। আমরা রাসুলুল্লাহ আদর্শ অনুসরণের লক্ষ্যে অধ্যক্ষ আবু তাহের এর মতো অনন্য ব্যক্তিত্বকে ধারণ করতে পারি। তার বর্ণাঢ্য জীবন আমাদের জন্য অনুসরণীয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, মাওলানা আবু তাহের আদর্শিক দায়িত্বশীলের অনুপম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিশেষ করে তিনি সার্বজনীন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আমরা যারা আদর্শিক রাজনীতি ও ইসলামি আন্দোলন করি ওনার চরিত্র থেকে বিষয় গুলো শিক্ষা হিসেবে আমাদের জন্য রয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি বলেন, জনগনের দায়িত্ব কি জিনিস মাওলানা আবু তাহের ভাই থেকে শেখার প্রয়োজন রয়েছে। অনেক বড় দায়িত্ব পালন করার পর রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার থাকার পর ওনি ছিলেন নির্লোভ। যা রাজনৈতিক নেতাদের ক্যারিয়ারে দুর্লভ।

অধ্যক্ষ আবু তাহের স্মারক গ্রন্থ “স্মৃতিতে অম্লান “প্রকাশনা পরিষদের সদস্য সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাছান খোকা ও সদস্য মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মোহাম্মদ উল্লাহ, জেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, বিএনপির সাবেক উপজেলা সেক্রেটারী হুমায়ূন কবির আনসার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হক্কানী, ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা, আ ক ম ফরিদুল আলম, বাঁশখালী উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাইল, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, সদরঘাট থানা আমীর অধ্যাপক আবদুল গফুর, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আবদুস সালাম আনোয়ারী, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্, নাছির উদ্দীন শাহ, আলহাজ্ব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জঙ্গল সলিমপুরকে আর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে আর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এখানকার অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় প্রকৃত অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না। তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।


তিনি বলেছেন, এই আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর, এই জায়গাটা আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের এলাকা থাকবে না, অভয়ারণ্য থাকবে না। এর আশেপাশে দুইটা পাহাড় টিলা শ্রেণী আছে-একটা হচ্ছে বেতুয়া আরেকটা চা-বাগান।এই এরিয়াতেও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেখান থেকেও তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাঁড়াশি এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে, পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া এবং চাঁদাবাজি-এই চারটাকে আমরা অ্যাড্রেস করেছি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে। এগুলোকে আমরা নির্মূল করার চেষ্টা করব এবং তার জন্য আমরা আইনি সংস্কার করছি। কারণ দেখা যায়, ১৮৬৭ সনের জুয়া আইনের মধ্য দিয়ে জুয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না; এখন অনলাইন জুয়া, অফলাইন জুয়া, বিভিন্ন রকমের মডারেট জুয়া এবং বেটিং চালু হয়েছে অনেক বছর আগে থেকে। এগুলোকে আমরা কখনোই আইনিভাবে অ্যাড্রেস করতে পারছি না। কারণ আইনটাই নেই অথবা আইনটাই দুর্বল। সেই আইনটা আমরা আগামী সেশনে পার্লামেন্টে নিয়ে আসার চেষ্টা করব, তাহলে আইনি কাঠামোগতভাবে এগুলোকে আমরা অ্যাড্রেস করব।

তিনি বলেন, একই সাথে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে আমরা যাতে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করতে পারি সেই সংশোধনীটাও আনব। এখানে হাজার হাজার মাদকের মামলা আছে যেগুলো বছরের পর বছর পেন্ডিং হয়ে আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি হবে। এইভাবে আমরা আমাদের দেশকে বাঁচাতে পারি, যুব সমাজকে বাঁচাতে পারি। আর কিশোর গ্যাংয়ের যে উৎপাত হয়েছে সেটার জন্য আমাদের কিছুটা আইনি সংস্কার আনতে হবে। কিশোর গ্যাং বলতে কত বয়স পর্যন্ত তাদেরকে কিভাবে কী সুবিধা দেয়া যায়, কারণ আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে কিশোরদের যে সুবিধা আছে (জুভেনাইল ডিলিনকোয়েন্সি) সেটা তারা নিচ্ছে। এই কিশোররা যারা কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত তারা আক্রমণাত্মক ও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। সুতরাং এখানে আইনের সংস্কার দরকার আছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, এলজিইডি প্রকৌশলী সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রতি মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগরের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন‌ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।

আলোচিত খবর

আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার (৩০ মে)। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য তাকে হত্যা করে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

কর্মসূচিতে রয়েছে, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা। দেশের সব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য ইউনিটেও একই কর্মসূচি রয়েছে। স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও পালন করা হবে।

একই দিন বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

পরদিন ৩১ মে দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এজন্য তাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক বলা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। জাতীয়তাবাদভিত্তিক একটি কালজয়ী রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ