আজঃ শনিবার ৬ জুন, ২০২৬

ভাঙ্গুড়ায় ব্রাক সিডের উদ্যোগে আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল প্রয়োগে হাইব্রিড ধানের অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা মেটাতে এবং ধান চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পাবনা জেলা বেসরকারি উন্নয়নমূলক সংস্থা ব্র্যাক সীড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে দিনব্যাপী আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল প্রয়োগে হাইব্রিড ধানের অধিক ফলন নিশ্চিতকরন এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালাটি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পৌরসভার ৪ নং ওয়াডের শারুটিয়া কমিউনিটি সেন্টার কাম-পাবলিক লাইব্রেরি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ৪ জুন বৃহস্পতিবার কর্মশালায় মো: গোলজার হোসেনের  সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছাঃ শারমিন জাহান, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন “জমির পরিমাণ কমলেও জনসংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অল্প জমিতে অধিক ফলন পেতে আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল ও উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের বিকল্প নেই।

বিশেষ করে আমন মৌসুমে ব্র্যাকের জনপ্রিয় জাত ‘ব্র্যাক ধান ১০’ ও ‘রাজা’ ধান চাষের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্য প্রদান করেন মানিক রাহা আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ, বগুড়া অঞ্চল, বগুড়া কর্মশালায় এ আরএসএম মানিক রাহা তার সেশনে ব্র্যাকের পরিচিতি কৃষকদের মাঝে তুলে ধরেন।

তিনি হাইব্রিড ধান ও উচ্চ ফলনশীল ধান কি এবং সেগুলোর মধ্যে বেসিক পার্থক্য কি তা তুলে ধরেন। তিনি ব্র্যাকের হাইব্রিড জাতের ধানের বৈশিষ্ট্য এবং দেশের সামগ্রিকভাবে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে হাইব্রিড ধানের চাষের গুরুত্ব আলোচনা করেন।

পাবনা ব্র্যাক সিড এর টিএসও সুমন সাহা আধুনিক বীজতলা তৈরি, সঠিক বয়সে চারা রোপণ এবং সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোকপাত করেন। এছাড়া ধানের উৎপাদন বাড়াতে লাইন লোগো ও পার্সিং পদ্ধতির উপযোগিতা তুলে ধরেন তিনি।

কর্মশালায় এলাকার প্রায় ৬০ জন আদর্শ কৃষক অংশগ্রহন করেন প্রশিক্ষণ শেষে কৃষকদের মাঝে ব্র্যাকের জনপ্রিয় জাত রাজা ধানের বীজ বিতরন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ব্র্যাক সিড বিশ্বাস করে দেশজুড়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং দেশে খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধি পাবে। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,মোঃ ইমরান হোসেন, এএসও, ব্র্যাক সিড, পাবনা।  ডিলার মো: রফিকুল হাসান, ভাঙ্গুড়া,পাবনা সহ কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে গ্রামীণ জনপদ বোয়ালখালী হারগাজী খাল ভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ ও রাস্তার কাজ সম্পন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ১০নং আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আহ্লা (ধলঘাট) গ্রামে হারগাজী খাল পানির স্রোতে বিলীন হয়ে যাওয়া ভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ জিও ব্যাগ ও রাস্তার উন্নয়নের কাজ গত বৃহস্পতিবার সকালে পরিদর্শনে আসেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান ও ইউপি সদস্য হারুনুর রশীদ চৌধুরী অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়নের ফলে বদলে গেছে সার্বিক চিত্র। দীর্ঘদিনের কাঁচা রাস্তাগুলো এখন ইটের সোলিং ও খাল ভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ সাধারণ মানুষের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। ৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আহলা শ্রী শ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির থেকে লোকনাথ মন্দির পর্যন্ত প্রায়ই হাফ কিলোমিটার ১০ ফুট পাকা রাস্তা ও ২১০ মিটার খাল ভাঙ্গন রোধে তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে সম্পন্ন হয় ৪ জুন ২০২৬। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এলাকার উৎপল দাশ বলেন, “বৃষ্টির দিনে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা হতো। চলাচলের খুব কষ্ট ছিল। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য চলমান কাজ সব সময় তদারকি করায় এখন আমরা শান্তিতে চলাচল করতে পারছি। আমাদের ভোগান্তি শেষ হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি ছিলো, কয়েক বছর ধরে খাল ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তা বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। এবার তীর সংরক্ষণ ও রাস্তার উন্নয়ন কাজের ফলে এলাকার মানুষ ভাঙনের ভয় কাটিয়ে স্বত্বি ফিরে পেয়েছে। “আগে এই রাস্তায় কোনো ভ্যান-রিকশা সিএনজি আসতে চাইত না। রাস্তাটি সংস্কার হওয়ার পর এখন খুব সহজেই ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে এবং আমরা প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে যেতে পারছি। রাস্তা করে দেওযায় এলাকার চেহারাটাই এখন সুন্দর হয়ে গেছে।

চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান বলেন, “আমরা জনগণের প্রতিনিধি, কোথায় কি কি প্রয়োজন তা মাথায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি কাজের মান নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত তদারকি করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুষ্ঠুভাবে সব কাজ শেষ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকিট বাণিজ্যে ১০ বছরে অতিরিক্ত অর্ধকোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৩ টাকার টিকিট ৫ টাকায় বিক্রি করে গত এক দশকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে। চলনবিল অধ্যুষিত কৃষিনির্ভর ভাঙ্গুড়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৯৫ সালে ৩০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি ২০১৭ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর থেকেই টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৭০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। সে হিসাবে প্রতিদিন অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি। সেই হিসাব অনুযায়ী গত ১০ বছরে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, হাসপাতালের বহির্বিভাগে সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৩ টাকা হলেও রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা করে। প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ২ টাকা আদায় করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে জানতে পরিচয় গোপন করে হাসপাতালের কাউন্টারে দায়িত্বরত রেজাউল করিমের (হারবাল অ্যাসিস্টেন্ট) কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি ৫ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন। অতিরিক্ত অর্থ আদেশ স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, অনেক বছর ধরেই ৫ টাকা দিয়ে টিকিট কাটছি। সরকারি মূল্য ৩ টাকা এটা আগে জানতাম না। যদি সত্যিই ৩ টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে সেটার উত্তর কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।
অষ্টমনিষা ইউনিয়নের গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। হাসপাতালে আসলে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতেই অনেক টাকা খরচ হয়। সেখানে টিকিটের জন্যও যদি বেশি টাকা দিতে হয়, তাহলে কষ্ট তো হবেই।

ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকার রিকশাচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালই ভরসা। সেখানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলে সেটা অন্যায়। আমরা চাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক।

ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, সরকারি হাসপাতালে গরিব মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। সেখানে সরকারি নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলে সেটা অবশ্যই অনিয়ম। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই টাকা হয়তো অনেকের কাছে সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন শত শত রোগীর কাছ থেকে নেওয়া হলে সেটি বড় অঙ্কের টাকা হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমনটি হচ্ছে এর জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ কোথায় গেছে, কারা এর সুবিধাভোগী এবং কেন এতদিনেও অনিয়ম বন্ধ হয়নি, সে বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

এ সকল বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে অফ দ্য রেকর্ডে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান।

অন্যদিকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) কৌশিক খান বলেন, টিকিট বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

তিনি আগামী এক বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচনে সর্বমোট ১৯০টি দেশ অংশ নেয়। এরমধ্যে খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ