এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিম্নচাপের প্রভাবে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম মহানগরে একটানা বর্ষণে নগরজীবনে দূর্ভোগ নেমে এসেছে। কর্মমূখী মানুষ নানা দূর্ভোগ মাথায় নিয়ে নিজ কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। তবে এবার নগরীতে কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। বৃষ্টির ভোগান্তি থাকলেও দীর্ঘ সময়ের তীব্র গরমের পর এমন স্বস্তির বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মনে।

এদিকে বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। রোববার রাতেও নগরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়।সেইসঙ্গে নগরের সবকটি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ের আশপাশের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে। এরই প্রেক্ষিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এ কারণে সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শনিবার রাত থেকেই চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষার্থে ৬ জন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম কাজ করছে। মাইকিং থেকে শুরু করে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

নগরের আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
নগরের চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, নগরের টাংকির পাহাড় এবং আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, সমসামিত গৃহ নির্মাণ, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড় ও আশেপাশে মাইকিং করা হচ্ছে এবং এসব এলাকা সংলগ্ন একাধিক স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মতিঝর্ণা সংলগ্ন পাহাড়ে মাইকিং করা হয়েছে। বাকলিয়া এলাকায় দুপুর থেকে মাইকিং করা হয়েছে নদীর পাড়ের লোকজন যেন সতর্ক থাকে এবং যেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।
আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, লালখান বাজার পোড়া কলোনি বস্তি এলাকা, ঢেবারপাড়, আমবাগান সংলগ্ন পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
এছাড়াও উত্তর হালিশহর সংলগ্ন সমুদ্রপাড়ের কাছে বসবাসকারী মানুষজনকে বাসস্থান খালি করতে মাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এদিকে নগরীতে পানি না জমার পেছনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্মকর্তাদের তৎপরতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, নগরীর জলজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে রাতভর পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখতে আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখার সুফল এখন মিলছে। এই অর্জন ধরে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। মেয়র বলেন, তিনি গত রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ঢাকা থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি চলাচল তদারকি করেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন। টানা বৃষ্টিতে স্বাভাবিক চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা না আসায় নগরবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকা এবং ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।











