আজঃ মঙ্গলবার ৭ জুলাই, ২০২৬

তৈরি হয়নি জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের শঙ্কা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে মাইকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিম্নচাপের প্রভাবে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম মহানগরে একটানা বর্ষণে নগরজীবনে দূর্ভোগ নেমে এসেছে। কর্মমূখী মানুষ নানা দূর্ভোগ মাথায় নিয়ে নিজ কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। তবে এবার নগরীতে কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। বৃষ্টির ভোগান্তি থাকলেও দীর্ঘ সময়ের তীব্র গরমের পর এমন স্বস্তির বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মনে।

এদিকে বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। রোববার রাতেও নগরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়।সেইসঙ্গে নগরের সবকটি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ের আশপাশের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে। এরই প্রেক্ষিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এ কারণে সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার রাত থেকেই চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষার্থে ৬ জন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম কাজ করছে। মাইকিং থেকে শুরু করে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। নগরের আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

নগরের চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, নগরের টাংকির পাহাড় এবং আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, সমসামিত গৃহ নির্মাণ, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড় ও আশেপাশে মাইকিং করা হচ্ছে এবং এসব এলাকা সংলগ্ন একাধিক স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মতিঝর্ণা সংলগ্ন পাহাড়ে মাইকিং করা হয়েছে। বাকলিয়া এলাকায় দুপুর থেকে মাইকিং করা হয়েছে নদীর পাড়ের লোকজন যেন সতর্ক থাকে এবং যেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।

আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, লালখান বাজার পোড়া কলোনি বস্তি এলাকা, ঢেবারপাড়, আমবাগান সংলগ্ন পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়াও উত্তর হালিশহর সংলগ্ন সমুদ্রপাড়ের কাছে বসবাসকারী মানুষজনকে বাসস্থান খালি করতে মাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নগরীতে পানি না জমার পেছনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্মকর্তাদের তৎপরতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, নগরীর জলজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে রাতভর পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখতে আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখার সুফল এখন মিলছে। এই অর্জন ধরে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। মেয়র বলেন, তিনি গত রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ঢাকা থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি চলাচল তদারকি করেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন। টানা বৃষ্টিতে স্বাভাবিক চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা না আসায় নগরবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকা এবং ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। পাহাড়ধসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান না করেন। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বর্ষাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। নগরবাসীর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এ সময় মেয়র নগরবাসীর প্রতি পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নির্মাণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবনের যাত্রা শুরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও গতিশীল করতে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) ভবনের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভবনটি বুধবার উদ্বোধন করেছেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। বেলা পৌনে ১২টায় বেলুন উড়িয়ে, ফলক উন্মোচন করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবন উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন ভবনটি নির্মাণে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ভবনের দাম এক বছরে উঠে আসবে। বিশেষ করে ভবনটি থেকে ভাড়া ও বিভিন্ন সেবা বাবদ আয় দিয়ে এক বছরের মধ্যেই নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবনটি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় হবে।
তিনি বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার ভেতরে ছিল। তখন হাজার হাজার মানুষ বন্দরের ভেতরে ঢোকা-বের হওয়ায় সমস্যা হতো। ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি আইএসপিএম কোড মেনে করা হয়েছে। এ ভবন পোর্ট কমপ্লায়েন্সে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

এ সময় বন্দরের সদস্য, পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার বন্দরের ভেতরে ছিল। তখন প্রতিদিন ৫ হাজার মানুষকে ভেতরে ঢুকতে হতো। ২০২২ সালে ভবনের কাজ শুরু হয়। নিচতলায় রিসিপশন। প্রথম তলায় টোকেন দেওয়া হবে। সব ফ্লোরে ব্যাংকের বুথ আছে। তিনটি ফ্লোরে সার্ভিস দেওয়া হবে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩টি ফ্লোর বন্দরের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবন চালুর মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন সেবা এক ছাদের নিচে আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ