পাঁচ রুটে সক্রিয় চোরাচালান চক্র

৬ মাসে ২৪ হাজার কার্টন বিদেশি সিগারেট, পৌনে ৯ হাজার পিস বিউটি ক্রিম, ২৩৭ বোতল বিদেশি মদ জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ ধরনের পণ্যের চেষ্টা হচ্ছে শুল্ক ফাঁকির শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাতটি আন্তর্জাতিক রুট পরিচালিত হচ্ছে। জেদ্দা, মক্কা-মদিনা, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি ও মাস্কাট-এই রুটগুলোর মধ্যে অন্তত পাঁচটি রুট ব্যবহার করে নিয়মিত চোরাই সিগারেট আনার চেষ্টা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নজরে এসেছে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটগুলো। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে এ প্রবণতা চললেও সম্প্রতি বিষয়টি স্পষ্টভাবে নজরে আসে। এরপরই বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়।

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ব্যাগেজ রুলসের অপব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে আসার প্রবণতা দেখা গেছে। বিগত ৬ মাসে (ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মে ২০২৬) মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের লাগেজে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ২৪ হাজার কার্টনের বেশি বিদেশি সিগারেট, পৌনে ৯ হাজার পিস বিউটি ক্রিম ও ২৩৭ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস। বিমানবন্দর কাস্টমসের মালামাল জব্দের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
এক সময় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ত স্বর্ণের বার। কিন্তু গত এক বছরে দৃশ্যপট বদলেছে। এখন বিমানবন্দরজুড়ে চোরাচালানের সবচেয়ে বড় পণ্য হয়ে উঠেছে বিদেশী সিগারেট। এরপর রয়েছে নিষিদ্ধ কসমেটিকস এবং উচ্চ শুল্কের ইলেকট্রনিক পণ্য।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে ২০ টাকা মূল্যের একটি সিগারেটের শলাকায় প্রায় ১৭ টাকার মতো শুল্ক আরোপিত হয়। অর্থাৎ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। একটি ১০ প্যাকেটের কার্টন সিগারেটে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত লাভের সুযোগ থাকায় চোরাকারবারিদের কাছে এটি দ্রুত লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, স্বর্ণ চোরাচালানের তুলনায় সিগারেট পাচারের আইনি ঝুঁকি কম এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও তুলনামূলকভাবে কম কঠোর হওয়ায় সিন্ডিকেটগুলো নতুন কৌশলে এই খাতে সক্রিয় হচ্ছে।

বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১৭ ধরনের পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-বিদেশী সিগারেট,নিষিদ্ধ কসমেটিকস, মোবাইল ফোন, ই-সিগারেট ও ভ্যাপ, মদ ও মদজাত দ্রব্য, ল্যাপটপ, ইলেকট্রনিক পণ্য, বিউটি ক্রিম, ফাস্ট এইড বক্স, সার্ভার, হুক্কা, পিসিবি, টেলিভিশনসহ অন্যান্য উচ্চ শুল্কের পণ্য। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি জব্দ হচ্ছে সিগারেট ও কসমেটিকস।
এদিকে, সিগারেটের পাশাপাশি ব্যবসার উদ্দেশ্যে কসমেটিকস বা রূপচর্চার ক্রিম নিয়ে আসার হারও সমানতালে বেড়েছে। কাস্টমসের তালিকায় সাধারণ বিউটি ক্রিমের পাশাপাশি ‘গৌরি ক্রিম’ এবং হোয়াইটেনিং সিরামের বড় সংখ্যার উল্লেখ রয়েছে। গত ৬ মাসে বিমানবন্দরটিতে মোট ৮ হাজার ৭৫৬ পিস ক্রিম ও সিরাম জব্দ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ১ হাজার ৬৪৯ পিস বিউটি ক্রিম, জানুয়ারিতে ৫৮১ পিস বিউটি ও গৌরি ক্রিম এবং ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ২১৪ পিস বিউটি ক্রিম জব্দ করে কাস্টমস। মার্চ মাসে ৯২২ পিস বিউটি ক্রিম এবং ১৮ পিস গৌরি ক্রিম আটক করা হয়। অন্যদিকে এপ্রিলে ৬৫২ পিস বিউটি ক্রিম, ২০৯ পিস গৌরি ক্রিম ও ১৩৮ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম এবং মে মাসে এক চালানেই ২ হাজার ৭৫১ পিস বিউটি ক্রিম জব্দ করা হয়।

একই সময়ে বিমানবন্দরে সাধারণ সিগারেটের বাইরেও তরুণদের জন্য ক্ষতিকর ও আমদানিতে কড়াকড়ি থাকা ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হুক্কা এবং গুটখার মতো মাদকজাতীয় পণ্যও নিয়মিত ধরা পড়ছে। গত ডিসেম্বরে একসাথেই ৩১১ পিস ই-সিগারেট জব্দ করা হয়। এছাড়া জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ ই-সিগারেটের পার্টস, ভ্যাপ, গুটখা ও জর্দার চালান জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে এই ছয় মাসে কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসার সময় মোট ২৩৭ বোতল বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণত চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে বড় বড় সোনার চালান আসার খবর আলোচনায় থাকলেও এই ছয় মাসের কাস্টমস তালিকায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তালিকায় শুধু ডিসেম্বর মাসে ২২.১৯ গ্রাম এবং জানুয়ারি মাসে ১১১ গ্রাম কাস্টমস ইউনিট ও ৯১ গ্রাম এয়ারফ্রেইট ইউনিট কর্তৃক সোনা জব্দের তথ্য রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯০ টাকা। বাকি ফেব্রুয়ারি থেকে মে- এই চার মাস বিমানবন্দরটিতে কোনো সোনা জব্দের উল্লেখ নেই।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সোনা চোরাচালানে আইনি জটিলতা ও শাস্তি অনেক বেশি হওয়ায় পণ্যের ধরন বদলে কসমেটিকস বা সিগারেটের দিকে ঝুকছে একটি চক্র। কারণ নামী ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট ও পাকিস্তানি বা ভারতীয় বিউটি ক্রিমের ব্যাপক চাহিদা ও লাভ বেশি থাকায় সাধারণ যাত্রীদের লাগেজে লুকিয়ে এগুলো আনা তুলনামূলক সহজ।

বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারির বিষয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, দেশের ২য় বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে যেকোনো ধরনের শুল্ক ফাঁকি বা অবৈধ পণ্যের প্রবেশসহ মুদ্রা পাচার ঠেকাতে কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বিমানবন্দরটির জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, বিমানবন্দর দিয়ে যেকোনো ধরনের শুল্ক ফাঁকি বা অবৈধ পণ্য বহন বাধাগ্রস্ত করতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কাস্টমস, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি যৌথভাবে কাজ করায় সাম্প্রতিক অবৈধভাবে আনা প্রচুর কমার্শিয়াল পণ্য বিমানবন্দরের কাস্টমস হলে আটক হচ্ছে। দুঃখজনক হলো অনেক সময় সাধারণ প্রবাসীরা না বুঝেই চোরাকারবারি চক্রের ফাঁদে পড়ে নিজেদের লাগেজে এসব বাণিজ্যিক পণ্য বহন করেন, যা আইনত দণ্ডনীয়। আমরা প্রতিনিয়ত যাত্রীদের এ বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছি যাতে তারা অন্য কারও দেওয়া প্যাকেট বা পণ্য না আনেন।

পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে চোরাচালান বন্ধ হয়নি-বরং পণ্যের ধরণ ও পদ্ধতি বদলেছে। স্বর্ণের জায়গায় এখন সিগারেট এসেছে, তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে এটিকে শুধু রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কারণ চোরাচালান চক্র সাধারণত একটি পণ্যের আড়ালে আরেকটি পণ্যের প্রবেশপথ তৈরি করে। ফলে নজরদারি শুধু জব্দ অভিযানে নয়, সিন্ডিকেট শনাক্ত ও রুটভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণেও বাড়ানোর দাবি উঠছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চীনে আন্তর্জাতিক কোল্ড চেইন এক্সপোতে নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁওয়ের রবিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ী নেতা গোলাম সারোয়ার রবিন। চীনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোল্ড চেইন এক্সপো RACC China 2026 এ বাংলাদেশের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে ফিতা কাটার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

আজ আয়োজক কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক গোলাম সারোয়ার রবিন। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সদস্য এবং ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে তাঁর অংশগ্রহণ ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মহলের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কোল্ড চেইন প্রযুক্তি, হিমাগার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ খাতের আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতিনিধি দলে গোলাম সারোয়ার রবিনের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ঠাকুরগাঁও চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর আলম খোকন, রাজশাহী চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শামসুর রহমান শান্তন, রাহাবার হিমাগার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গণি সুলতান হাসান ইমরোজ, এসবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম সুমন ও নুরুল ইসলাম স্বপন এবং ঠাকুরগাঁও চেম্বারের পরিচালক মনোয়ার হোসেন কামালসহ অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্য।

সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক কোল্ড চেইন প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে নতুন পদ্ধতি এবং ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

বাংলাদেশের কোল্ড স্টোরেজ খাতের প্রতিনিধিত্বকারী এ দলের অংশগ্রহণ দেশের কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক খাতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লিবিয়ায় জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা আদায়, দেশে ফিরেও হামলার শিকার প্রবাসী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ