আজঃ মঙ্গলবার ৭ জুলাই, ২০২৬

পাঁচ রুটে সক্রিয় চোরাচালান চক্র

৬ মাসে ২৪ হাজার কার্টন বিদেশি সিগারেট, পৌনে ৯ হাজার পিস বিউটি ক্রিম, ২৩৭ বোতল বিদেশি মদ জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ ধরনের পণ্যের চেষ্টা হচ্ছে শুল্ক ফাঁকির শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাতটি আন্তর্জাতিক রুট পরিচালিত হচ্ছে। জেদ্দা, মক্কা-মদিনা, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি ও মাস্কাট-এই রুটগুলোর মধ্যে অন্তত পাঁচটি রুট ব্যবহার করে নিয়মিত চোরাই সিগারেট আনার চেষ্টা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নজরে এসেছে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটগুলো। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে এ প্রবণতা চললেও সম্প্রতি বিষয়টি স্পষ্টভাবে নজরে আসে। এরপরই বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়।

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ব্যাগেজ রুলসের অপব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে আসার প্রবণতা দেখা গেছে। বিগত ৬ মাসে (ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মে ২০২৬) মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের লাগেজে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ২৪ হাজার কার্টনের বেশি বিদেশি সিগারেট, পৌনে ৯ হাজার পিস বিউটি ক্রিম ও ২৩৭ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস। বিমানবন্দর কাস্টমসের মালামাল জব্দের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
এক সময় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ত স্বর্ণের বার। কিন্তু গত এক বছরে দৃশ্যপট বদলেছে। এখন বিমানবন্দরজুড়ে চোরাচালানের সবচেয়ে বড় পণ্য হয়ে উঠেছে বিদেশী সিগারেট। এরপর রয়েছে নিষিদ্ধ কসমেটিকস এবং উচ্চ শুল্কের ইলেকট্রনিক পণ্য।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে ২০ টাকা মূল্যের একটি সিগারেটের শলাকায় প্রায় ১৭ টাকার মতো শুল্ক আরোপিত হয়। অর্থাৎ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। একটি ১০ প্যাকেটের কার্টন সিগারেটে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত লাভের সুযোগ থাকায় চোরাকারবারিদের কাছে এটি দ্রুত লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, স্বর্ণ চোরাচালানের তুলনায় সিগারেট পাচারের আইনি ঝুঁকি কম এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও তুলনামূলকভাবে কম কঠোর হওয়ায় সিন্ডিকেটগুলো নতুন কৌশলে এই খাতে সক্রিয় হচ্ছে।

বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১৭ ধরনের পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-বিদেশী সিগারেট,নিষিদ্ধ কসমেটিকস, মোবাইল ফোন, ই-সিগারেট ও ভ্যাপ, মদ ও মদজাত দ্রব্য, ল্যাপটপ, ইলেকট্রনিক পণ্য, বিউটি ক্রিম, ফাস্ট এইড বক্স, সার্ভার, হুক্কা, পিসিবি, টেলিভিশনসহ অন্যান্য উচ্চ শুল্কের পণ্য। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি জব্দ হচ্ছে সিগারেট ও কসমেটিকস।
এদিকে, সিগারেটের পাশাপাশি ব্যবসার উদ্দেশ্যে কসমেটিকস বা রূপচর্চার ক্রিম নিয়ে আসার হারও সমানতালে বেড়েছে। কাস্টমসের তালিকায় সাধারণ বিউটি ক্রিমের পাশাপাশি ‘গৌরি ক্রিম’ এবং হোয়াইটেনিং সিরামের বড় সংখ্যার উল্লেখ রয়েছে। গত ৬ মাসে বিমানবন্দরটিতে মোট ৮ হাজার ৭৫৬ পিস ক্রিম ও সিরাম জব্দ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ১ হাজার ৬৪৯ পিস বিউটি ক্রিম, জানুয়ারিতে ৫৮১ পিস বিউটি ও গৌরি ক্রিম এবং ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ২১৪ পিস বিউটি ক্রিম জব্দ করে কাস্টমস। মার্চ মাসে ৯২২ পিস বিউটি ক্রিম এবং ১৮ পিস গৌরি ক্রিম আটক করা হয়। অন্যদিকে এপ্রিলে ৬৫২ পিস বিউটি ক্রিম, ২০৯ পিস গৌরি ক্রিম ও ১৩৮ পিস হোয়াইটেনিং সিরাম এবং মে মাসে এক চালানেই ২ হাজার ৭৫১ পিস বিউটি ক্রিম জব্দ করা হয়।

একই সময়ে বিমানবন্দরে সাধারণ সিগারেটের বাইরেও তরুণদের জন্য ক্ষতিকর ও আমদানিতে কড়াকড়ি থাকা ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হুক্কা এবং গুটখার মতো মাদকজাতীয় পণ্যও নিয়মিত ধরা পড়ছে। গত ডিসেম্বরে একসাথেই ৩১১ পিস ই-সিগারেট জব্দ করা হয়। এছাড়া জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ ই-সিগারেটের পার্টস, ভ্যাপ, গুটখা ও জর্দার চালান জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে এই ছয় মাসে কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসার সময় মোট ২৩৭ বোতল বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণত চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে বড় বড় সোনার চালান আসার খবর আলোচনায় থাকলেও এই ছয় মাসের কাস্টমস তালিকায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তালিকায় শুধু ডিসেম্বর মাসে ২২.১৯ গ্রাম এবং জানুয়ারি মাসে ১১১ গ্রাম কাস্টমস ইউনিট ও ৯১ গ্রাম এয়ারফ্রেইট ইউনিট কর্তৃক সোনা জব্দের তথ্য রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯০ টাকা। বাকি ফেব্রুয়ারি থেকে মে- এই চার মাস বিমানবন্দরটিতে কোনো সোনা জব্দের উল্লেখ নেই।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সোনা চোরাচালানে আইনি জটিলতা ও শাস্তি অনেক বেশি হওয়ায় পণ্যের ধরন বদলে কসমেটিকস বা সিগারেটের দিকে ঝুকছে একটি চক্র। কারণ নামী ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট ও পাকিস্তানি বা ভারতীয় বিউটি ক্রিমের ব্যাপক চাহিদা ও লাভ বেশি থাকায় সাধারণ যাত্রীদের লাগেজে লুকিয়ে এগুলো আনা তুলনামূলক সহজ।

বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারির বিষয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, দেশের ২য় বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে যেকোনো ধরনের শুল্ক ফাঁকি বা অবৈধ পণ্যের প্রবেশসহ মুদ্রা পাচার ঠেকাতে কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বিমানবন্দরটির জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, বিমানবন্দর দিয়ে যেকোনো ধরনের শুল্ক ফাঁকি বা অবৈধ পণ্য বহন বাধাগ্রস্ত করতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কাস্টমস, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি যৌথভাবে কাজ করায় সাম্প্রতিক অবৈধভাবে আনা প্রচুর কমার্শিয়াল পণ্য বিমানবন্দরের কাস্টমস হলে আটক হচ্ছে। দুঃখজনক হলো অনেক সময় সাধারণ প্রবাসীরা না বুঝেই চোরাকারবারি চক্রের ফাঁদে পড়ে নিজেদের লাগেজে এসব বাণিজ্যিক পণ্য বহন করেন, যা আইনত দণ্ডনীয়। আমরা প্রতিনিয়ত যাত্রীদের এ বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছি যাতে তারা অন্য কারও দেওয়া প্যাকেট বা পণ্য না আনেন।

পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে চোরাচালান বন্ধ হয়নি-বরং পণ্যের ধরণ ও পদ্ধতি বদলেছে। স্বর্ণের জায়গায় এখন সিগারেট এসেছে, তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে এটিকে শুধু রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কারণ চোরাচালান চক্র সাধারণত একটি পণ্যের আড়ালে আরেকটি পণ্যের প্রবেশপথ তৈরি করে। ফলে নজরদারি শুধু জব্দ অভিযানে নয়, সিন্ডিকেট শনাক্ত ও রুটভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণেও বাড়ানোর দাবি উঠছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

তৈরি হয়নি জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের শঙ্কা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে মাইকিং

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিম্নচাপের প্রভাবে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম মহানগরে একটানা বর্ষণে নগরজীবনে দূর্ভোগ নেমে এসেছে। কর্মমূখী মানুষ নানা দূর্ভোগ মাথায় নিয়ে নিজ কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। তবে এবার নগরীতে কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। বৃষ্টির ভোগান্তি থাকলেও দীর্ঘ সময়ের তীব্র গরমের পর এমন স্বস্তির বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মনে।

এদিকে বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। রোববার রাতেও নগরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়।সেইসঙ্গে নগরের সবকটি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ের আশপাশের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে। এরই প্রেক্ষিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এ কারণে সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শনিবার রাত থেকেই চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষার্থে ৬ জন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম কাজ করছে। মাইকিং থেকে শুরু করে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

নগরের আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
নগরের চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, নগরের টাংকির পাহাড় এবং আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, সমসামিত গৃহ নির্মাণ, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড় ও আশেপাশে মাইকিং করা হচ্ছে এবং এসব এলাকা সংলগ্ন একাধিক স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মতিঝর্ণা সংলগ্ন পাহাড়ে মাইকিং করা হয়েছে। বাকলিয়া এলাকায় দুপুর থেকে মাইকিং করা হয়েছে নদীর পাড়ের লোকজন যেন সতর্ক থাকে এবং যেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।
আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, লালখান বাজার পোড়া কলোনি বস্তি এলাকা, ঢেবারপাড়, আমবাগান সংলগ্ন পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

এছাড়াও উত্তর হালিশহর সংলগ্ন সমুদ্রপাড়ের কাছে বসবাসকারী মানুষজনকে বাসস্থান খালি করতে মাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এদিকে নগরীতে পানি না জমার পেছনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্মকর্তাদের তৎপরতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, নগরীর জলজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে রাতভর পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখতে আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখার সুফল এখন মিলছে। এই অর্জন ধরে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। মেয়র বলেন, তিনি গত রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ঢাকা থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি চলাচল তদারকি করেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন। টানা বৃষ্টিতে স্বাভাবিক চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা না আসায় নগরবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকা এবং ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভনে তরুণী ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয় বছর পর মো. রাজীব (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক এস এম জিয়াউর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী তার মায়ের সঙ্গে নগরের পতেঙ্গা থানার কাটঘর হিন্দুপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে আসামি রাজীব বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তরুণীর মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে রাজীব ওই বাসায় যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে তরুণীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর রাজীব ঘরের ওয়াশরুমে ঢুকলে ভুক্তভোগী বাইরে থেকে দরজা আটকে প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে বাড়ির মালিকসহ স্থানীয় লোকজন এসে রাজীবকে ওয়াশরুম থেকে বের করেন।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২০ সালের গত ৯ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দীন বলেন, পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আসামি মো. রাজীবকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ