চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা

চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন লাখো শিক্ষার্থী, বাড়ছে উদ্বেগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া লাখো শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার অবশিষ্ট সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। পরীক্ষার অবশিষ্ট অংশ এমন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষা যথাসময়ে শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বৈষম্য ও তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা ঝুলিয়ে না রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সংশোধিত রুটিন প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষার্থীরা অন্তত নতুন করে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ পাবেন।চট্টগ্রাম মডেল কলেজের পরীক্ষার্থী সানজিদা আক্তার নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বললেন, গত কয়েক মাস ধরে শুধু এইচএসসি পরীক্ষার জন্যই দিন-রাত প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন বলা হচ্ছে পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। কবে হবে, সেটাও জানি না। প্রতিদিন একই বিষয় বারবার পড়তে পড়তে মানসিকভাবে খুব চাপ অনুভব করছি।

এদিকে বোর্ড পরীক্ষা ঝুলে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিকল্পনায়। বাকলিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বললেন, এইচএসসি শেষ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন বোর্ড পরীক্ষা কবে শেষ হবে, সেটাই জানি না। ফলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি একসঙ্গে নিতে হবে, যা আমাদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যাবে।
জানা গেছে, গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কয়েকটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রথমে ১৬ জুলাই পর্যন্ত দুই দফায় চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সর্বশেষ অনির্দিষ্টকালের জন্য’ স্থগিতের ঘোষণাআসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বেড়েছে।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানাচ্ছেন, দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হলে সেসব বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় পাবেন। অথচ চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা তখনো বোর্ড পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে ভর্তি যুদ্ধে তারা স্বাভাবিকভাবেই অনেক পিছিয়ে পড়বেন।
তবে শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও প্রবেশপত্র হারানোর সংকট বিবেচনা করে একদল শিক্ষার্থী পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে পরীক্ষার বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মতে, দুর্যোগের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া অবশ্যই জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ একাডেমিক সময়সূচির বিষয়টিকেও অবহেলা করার সুযোগ নেই।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মাদকের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে বলে জানালেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। সোমবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় পরিদর্শন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সব থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশকে আরও সক্রিয়, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং থানাসমূহের সেবামুখী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়।

মাদক নির্মূলের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিআইজি বলেন, শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিশ্চিত করতে ওসিদের নির্দেশ দেন তিনি।
ডিআইজি কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের প্রধান লক্ষ্য। সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। থানায় সেবা নিতে আসা নারী, শিশু ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এসময় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি ও সাইবার অপরাধ রুখতে বিশেষ অভিযান ও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। থানাকে জনগণের আস্থার স্থানে রূপান্তর করতে বিট পুলিশিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিলাম। পরিদর্শন শেষে ডিআইজি রেঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করে জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

শাহ আমানতে দুবাইফেরত ফ্লাইটে মিলল অর্ধ কোটি টাকার সিগারেট-আইফোন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেট ও আইফোনের চালান জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে পরিচালিত অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল। তিনি বলেন, দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের তিন যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৭৮২ কার্টন সিগারেট ও ১৩টি আইফোন পাওয়া যায়। এ ছাড়া ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

তিন যাত্রীর বিষয়ে ইব্রাহীম খলিল বলেন, তাদের ব্যাগেজ থেকে পণ্যগুলো জব্দ করা হয়েছে। পরে বিমানবন্দরের কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও কাস্টমস শাখা তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বিমানের দুবাইফেরত বিজি-১৪৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিন যাত্রী হলেন মঈনুল আবদিন, আব্দুল মান্নান ও নুরুল আলম রিয়াদ। মঈনুল আবদিন ও আব্দুল মান্নানের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায়। নুরুল আলম রিয়াদের বাড়ি ফেনী সদর এলাকায়।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল আরো বলেন, তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৭৮২ কার্টন বিদেশি সিগারেট পাওয়া যায়। পাশাপাশি ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে সিগারেটের পরিমাণ ১ হাজার ৮০২ কার্টন। এ ছাড়া ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক মূল্য ৩৬ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং আইফোনের মূল্য ১৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ করা চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা।জব্দ করা পণ্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হবে বলে জানান বিমানবন্দরের এই কর্মকর্তা।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ