বোয়ালখালীতে লবণ কারখানার ট্যাজেডি মৃতের সংখ্যা দাড়াল ৪

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও দুই শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে।নিহতরা হলেন বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুর গ্রামের উত্তর সাতঘড়িয়া পাড়ার নূর ছফার ছেলে নুর নবী হৃদয় (২৫) এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার মধুরামপাড়ার বাসিন্দা উজ্জ্বল দাস (৫৩)। উজ্জ্বল দাস মহান মুক্তিযুদ্ধে পোমরায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে জীবন্ত কবর দেওয়া ১৪ শহীদের অন্যতম শহীদ বিরাজ দাশের ছেলে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টা ও রাত সাড়ে ১০টায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হৃদয়ের খালা নার্গিস আক্তার বলেন, ছেলেটাকে আর বাঁচানো গেল না। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালীর কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে উজ্জ্বল দাসের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং নুর নবী হৃদয়ের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে দুজনকে চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নুর নবী হৃদয় ঠিকাদারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কারখানায় কাজ করতেন। দুই বছর আগে বিয়ে করা হৃদয়ের এক বছর দুই মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আইসিইউতে নেওয়ার আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “চোখের অংশ পুড়ে গেছে, আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমাকে মাফ করে দেবেন। আমার ছোট্ট বাচ্চাটাকে দেখে রাখবেন।”

অন্যদিকে, উজ্জ্বল দাসের পরিবার জানায়, সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডে কাজে যোগ দিয়েছিলেন।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে বন্যায় ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি ও সাড়ে ৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মাছের খামার প্লাবিত হওয়ায় ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগের আগে ৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হলেও তার বেশিরভাগই বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

এ ছাড়া বন্যার পানিতে ২৩ হেক্টর আউশ ধান ও ১১০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় এখনও পানি জমে থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) উপজেলার চরনদ্বীপ, পোপাদিয়া শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, আমুচিয়া, করলডেঙ্গা, সারোয়াতলী,শাকপুরা ও পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমি থেকে পানি নামতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত রয়েছে।

পোপাদিয়া সৈয়দপুর কৃষক রমজান জানান, ৩০ কানি জমিতে আমন চাষের জন্য বৃষ্টির তিন দিন আগে ১৫ আড়ি ধানের বীজতলা করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পুরো বীজতলা তলিয়ে গেছে। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হবে। এতে আমনের আবাদও পিছিয়ে যাবে।

আমুচিয়া ইউনিয়নের মৎসউদ্যোগক্তা বেলাল জানান দুই কানি পুকুর মাছ চাষ করেছি কিন্তু টানা বষর্নে বন্যার পানিতে আমার সব মাছ তলিয়ে গেছে তার হিসাব মতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সাড়ে তিন লক্ষ টাকা।

একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল, মাসুদ নিহাল করিম সহ আরও অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, বৃষ্টিজনিত ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালী পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ১০০টি ছোট-বড় মাছের পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রদর্শনী পুকুরসহ প্রায় ৯৫০টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে মৎস্য খাতে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম হাসান বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মৎস্য খামার পুরোপুরি বা আংশিক তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন বন্ধে যাত্রীরা ফেরত পেল প্রায় ৮৮ লাখ টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলী হাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন প্রায় ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। যার কারণে এই রুটে ট্রেন চলাচল পাঁচদিন বন্ধ থাকায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু টিকিটের মূল্য বাবদই যাত্রীদের প্রায় ৮৮ লাখ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ হাজারের বেশি টিকিট বাতিল করে মূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পরবর্তী কয়েক দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিও ব্যাহত হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল)-এর মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন দুই ফুট পানিতে তলিয়ে গেলেও অবকাঠামোর বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের দুই জোড়া ট্রেন কেবল ঢাকা-চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলাচল করেছে।

জানা গেছে, ভারী বর্ষণে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে এই রুটের অগ্রিম বিক্রি হওয়া ১১ হাজার ৩৩৭টি টিকিট ফেরত নিতে হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষকে। এসব টিকিটের বিপরীতে যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৪ টাকা। টিকিট ফেরতের এই তাৎক্ষণিক ক্ষতির পাশাপাশি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই সময়ে নতুন করে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরবর্তী দিনগুলোতেও এই রুটে প্রত্যাশিত সংখ্যক যাত্রী পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক যাত্রী কক্সবাজার ভ্রমণ বাতিল করায় পরোক্ষভাবে রেলওয়ের অন্যান্য দূরপাল্লার রুটেও যাত্রীসংখ্যা কমেছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, সাধারণত রেললাইনের ওপর চার ইঞ্চি পর্যন্ত পানি থাকলে ট্রেন চলাচল সম্ভব। কিন্তু এবার রেললাইন অন্তত দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, টানা তিন দিন রেললাইন পানির নিচে থাকায় পানি নেমে যাওয়ার পরও নিরাপত্তার স্বার্থে লাইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরে ১২ জুলাই ‘অ্যাডভান্সড পাইলটিং’ বা সীমিত গতিতে এই রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ