চট্টগ্রামে ধর্ষণে অভিযুক্ত এনসিপি নেতা বহিষ্কার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য আফতাব মজুমদার জয়কে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে নগর এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তাকে বহিষ্কারের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় বললেন, আফতাব মজুমদারের বিরুদ্ধে দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নগরীর চান্দগাঁও থানায় গত ১৯ জুলাই আফতাবের বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রী মামলা করেন। ওই মামলায় গত বুধবার রাতে নগরীর হালিশহর বিডিআর মাঠ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়। ২৮ বছর বয়সী আফতাব নগরীর খুলশী থানার ওয়ারল্যাস কলোনি এলাকার মোহাম্মদ আবছারের ছেলে।

ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম নগরীর একটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী (১৯)। তার অভিযোগ, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আফতাব তাকে গত ১৪ জুলাই রাতে বহদ্দারহাটে একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর থেকে আফতাব তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, আফতাব বিবাহিত। তার সন্তানও আছে।
এনসিপির আগে আফতাব চট্টগ্রাম মহানগর যুবশক্তির সংগঠক পদে ছিলেন। গত ১৪ মে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয় কেন্দ্র থেকে। সেই কমিটিতে আফতাবকে সদস্য করা হয়েছিল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে আদালতের এজালাসে বাদীকে গলায় চুরি ডুকিয়ে দিল আসামীরা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আদালত ভবনের এজলাস কক্ষে মামলার বাদীকে গলায় চুরি ডুকিয়ে দিয়েছে আসামীরা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম মেট্টাপলিটন মেজিস্টেট আদালত -৩ এর এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পর বিচারকের নির্দেশে পুলিশ পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী নূরুল কবিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। নুরুল কবির স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চাাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, চুরিসহ তিনটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলার বিচারকাজে উপস্থিত হলে আসামীরা এমন ঘটনা ঘটায় বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা নুরুল কবিরের স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা বলেন, আজকে মামলার হাজিরা ছিল। আমার স্বামী এজলাসে ডোকার কিছুক্ষণ পর মামলার আসামী ইলিয়াস হোসেন অপু, জয়নাল আবেদীন সোহেল, এমরান, আনোয়ারসহ আরো কয়েকজন মিলে তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গলায় চুরি ডুকিয়ে দেয়। এ সময় তার আত্মচিৎকারে আসামীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর আগে আসামীরা গ্রেফতার হয়। সম্প্রতি এরা জামিনে বেরিয়ে আসে।
জানা গেছে, নুরুল কবিরের সাথে আসামীদের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় নুরুল কবির ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা (৩০) বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা নং-০৩(১১)২০২৪, মামলা নং-০৪(৬)২০২৬, মামলা নং-২৩(৬)২০২৬ দায়ের করে। যাহা আদালতে বিচারাধীন এবং থানায় তদন্তাধীন আছে। এতে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটায়। সম্প্রতি নুরুল কবিরের পাঁচলাইশের বাসায় দিন-দুপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৩ দিন পর অবশেষে চুরির মামলা গ্রহণ করে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী নূরুল কবিরের বাড়ীতে ২০২৪ সালে নগদ ১৪ লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী ইলিয়াস হোসেন অপুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৫ সালের প্রথম দিকে তাহসিন হত্যা ও চুরির মামলা থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ইলিয়াস হোসেন অপু নুরুল কবিরের নিকট সরাসরি ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীসহ মামলা তুলে না নিলে ডিশ-ওয়াইফাই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকী প্রদান করেন।

তাদের দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত ১ জুন সাবেক যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন সোহেল ও ইলিয়াস হোসেন অপুর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা নুরুল কবিরকে তুলে নিয়ে সোহেলের রিক্সার গ্যারেজে আটকে রেখে ২ দিনের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী পূর্বক মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়। উক্ত ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন নুরুল কবিরের বাসার সামনে এসে তাকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার স্ত্রীকেও ব্যাপক মারধর করে সন্ত্রাসীরা। উক্ত ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে সন্ত্রাসীরা নূরুল কবিরকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকী দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ডিশ-ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে নুরুল কবির অন্যত্র বসবাস করলেও তার স্ত্রী-সন্তানেরা বাসায় থাকতেন।

গত ২৮ আগষ্ট জুমার নামাজের সময় অপু-সোহেলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি ডাকাতদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে নুরুল কবিরের বাড়ির সিসি ক্যামরা ভাংচুর করে বাসায় ঢুকে কবিরের স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রেখে নগদ ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপসহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরই সিএমপির পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। অজানা কারণে পুলিশ চুরির মামলা (নং ২৪(৮)২৬) গ্রহণ করে। এতে এমরান, ফয়সাল, ইলিয়াস হোসেন অপু, জয়নাল আবেদীন সোহেল, আনোয়ার, রবিউল হাসান, জালাল আহম্মেদ পারভেজ এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়। ৩০ আগষ্ট দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এজাহারনামীয় আসামি রবিউল হাসান, জালাল আহম্মেদ পারভেজ এবং ফয়সালকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন। পরে তারা জামিনে বেরিয়ে আসে।

চট্টগ্রামে বাসা থেকে হিজড়াদের ‘গুরুমা’ মৌসুমীর লাশ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার নাম মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া। প্রাথমিকভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ৫২ বছরের মৌসুমী হিজড়া চট্টগ্রামে বসবাসরত হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হিজড়া কমিউনিটির লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা হত্যার বিচার দাবি করে বিক্ষোভও করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম জানালেন, মৌসুমী বাসায় একা থাকতেন। সকালে প্রতিবেশীরা ঘুম থেকে উঠে তার বাসার দরজা খোলা দেখতে পান। পরে শয়নকক্ষে বিছানার ওপর তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসআই নাসিম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মৌসুমীর গলায় গুরুতর জখমের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জানা গেছে, মৌসুমীর বাসার পেছনে একটি গরুর খামার আছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) খামারের একটি গরু বিক্রি করা হয়। গরু বিক্রির টাকা তার কাছে ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ওই টাকা ও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে গরু বিক্রির টাকা লুটের জন্যই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে প্রতিবেশী কয়েকজন জানিয়েছেন, রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত মৌসুমী তাদের সঙ্গে গল্প করেন। এরপর তিনি ঘুমাতে যান। পাশের কক্ষের বাসিন্দারা তার বাসার সামনে এক জোড়া জুতা দেখতে পান। ভোররাতের দিকে ওই বাসা থেকে বাকবিতণ্ডার শব্দও শুনতে পান তারা। তবে কলোনির কারও সঙ্গে কথা বলছেন মনে করে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। সকাল ১০টা পর্যন্ত মৌসুমী ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা তাকে ডাকতে যান। এ সময় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, নিহত মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের একজন নেতা ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ