চট্টগ্রাম বন্দর

এনসিটি-সিসিটি ইজারা ঠেকাতে আসছে কঠোর কর্মসূচী বন্দর রক্ষা কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ৩১ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। রোববার (১৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই হলে অনুষ্ঠিত নাগরিক কনভেনশন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বন্দর রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় কনভেনশনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।কনভেনশনে সিদ্ধান্ত হয়, ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসংযোগ কর্মসূচি চালানো হবে। এরপর ৩১ আগস্ট বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে।

কনভেনশনে বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু চট্টগ্রামের নয়, এটি দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বন্দরের টার্মিনাল কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার আগে অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বন্দরের সক্ষমতা ও আয় বাড়ানোর পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, বন্দর ও বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিকদের স্বার্থ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। জনগণের সম্পদ জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হওয়া উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জাতীয় সম্পদ। এর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। বন্দর রক্ষা কমিটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরদার করবে।

কনভেনশনে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজস্ব আয়, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কনভেনশনে আরও বক্তব্য রাখেন টিইউসি চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারুল, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দর নোঙর করা জাহাজে ধাক্কা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করেজে আবারও দুটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহত, জাহাজে পানি প্রবেশ কিংবা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি। দুই জাহাজের ২১ জন ক্রুই নিরাপদে রয়েছেন।শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে, তবে রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আলফা অ্যাঙ্করেজে প্রবল স্রোতের কারণে প্রবেশকারী বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি আনাসসা নোঙর করে থাকা এমভি জাহাব জাহানের সামনের অংশে সামান্য ধাক্কা দেয়। এমভি আনাসসা ২১ জন ক্রু নিয়ে স্ল্যাগ বহন করছিল।বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এ ঘটনায় দুই জাহাজের কোনো ক্রু আহত হননি। জাহাজ দুটিতে পানি প্রবেশ বা পরিবেশ দূষণেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই জাহাজ দুটি নিরাপদে আলাদা হয়ে আবার নোঙর করে। বর্তমানে বন্দরের নৌ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সঙ্গে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী এমটি সি স্পাইক ট্যাংকারের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমে ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে সাময়িক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। তবে কার্গো ট্যাংক অক্ষত থাকায় কোনো তেল ছড়িয়ে পড়েনি।

স্টিয়ারিং গিয়ারের ত্রুটি গোপন চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়া কোটি টাকা জরিমানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে একটি বিদেশী জাহাজকে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বন্দরে স্টিয়ারিং বিকল হওয়া সেই বিদেশি জাহাজ ‘সিএনসি ইউরেনাস’ ও শিপিং এজেন্ট আমেরিকান প্রেসিডেন্ট লাইনকে (এপিএল) এই জরিমানা করা হয়েছে। দেশের প্রধান চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম ক্ষুন্ন করার দায়ে জাহাজটির মাস্টার ও শিপিং এজেন্টকে এই জরিমানা করেন হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম। যথাসময়ে বন্দরকে না জানিয়ে জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল, জাহাজ, পাইলট, বন্দর স্থাপনা এবং অন্যান্য নৌযানের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলার প্রমাণ পেয়ে এই জরিমানা করল বন্দর কর্তৃপক্ষ।গত সোমবার এ-সংক্রান্ত আদেশ শিপিং এজেন্টকে পাঠানো হয়।

স্টিয়ারিং গিয়ারের হাইড্রোলিক হর্ন বিকল হওয়া বিদেশি জাহাজটি তথ্য গোপন করে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ঢুকতে চেয়েছিল। বন্দরের পাইলটরা সেটি বুঝে ফেলেন। এরপর চট্টগ্রাম বন্দর ও নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর গঠন করে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি। বন্দরের তদন্ত প্রতিবেদনে তথ্য গোপন করে ঝুঁকিতে ফেলার প্রমাণ মেলে। এরপরই করা হয় এই জরিমানা।
সিএনসি ইউরেনাস জাহাজটি এখন চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) ১১ নম্বর জেটিতে ভিড়ে আমদানি পণ্য নামানো শেষ করে রপ্তানি পণ্য বোঝাইয়ের অপেক্ষায় আছে। বুধবার (১২ আগষ্ট)জাহাজ রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দর ছাড়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, চীনের শিকো বন্দর থেকে আসা জাহাজটি গত ২ আগস্ট বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। পরদিন দুপুরে এনসিটিতে প্রবেশের সময় বন্দর জেটিতে ঢোকার পথে কর্ণফুলী চ্যানেলের একটু সামনে গিয়ে লাল বয়ার কাছে সেটির স্টিয়ারিং বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় পানির তীব্র স্রোত ছিল। স্রোত সামলে এগোতে না পেরে জাহাজটি একপাশ হয়ে ভাসতে ভাসতে পেছনে যেতে থাকে। একপর্যায়ে নেভাল একাডেমির পাশের রিটেইনিং দেয়ালের কাছাকাছি চরে আটকা পড়ে।

জাহাজটি যদি মূল প্রবেশপথে আটকা পড়ত বা ডুবে যেত, তাহলে অচল হয়ে পড়ত চট্টগ্রাম বন্দর, যা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ত। পরে ৩ আগস্ট রাতেই জাহাজটি সেখান থেকে টাগবোট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় টেনে বহির্নোঙরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে নেওয়া হয়। ৫ আগস্ট জাহাজটি ফের জেটিতে আনতে যান বন্দরের সিনিয়র তিন পাইলট। তখন স্টিয়ারিং গিয়ারের হাইড্রোলিক হর্ন বিকল থাকার বিষয় অফিসিয়ালি জানতে পারেন পাইলটরা। এরপর জাহাজ না নিয়েই বন্দর ভবনে ফেরত আসেন তারা। পরে সিঙ্গাপুর থেকে প্রকৌশলী এনে স্টিয়ারিং গিয়ারের ত্রুটি ঠিক করে গত শনিবার জাহাজটি জেটিতে ভেড়ানো হয়।
এদিকে আদেশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে এপিএল বাংলাদেশের হেড অব অপারেশন এনামুল হক টিটু বললেন, বন্দর যেটা জরিমানা করেছে, সেটা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা জরিমানা পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছি। একই সঙ্গে এই জাহাজে ১৩শ একক রপ্তানি কনটেইনার বুকিং আছে। সেগুলো জাহাজীকরণের অনুমতিও চেয়েছি।

চট্টগ্রাম বন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের স্পেশাল অফিসার (মেরিন সেফটি) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী জরিমানার এই উদ্যোগকে বলছেন নৌযান চলাচলে শৃঙ্খলার দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, এখানে থামলেই হবে না। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আমদানি-রপ্তানির লাইফলাইন অচল হলে এই জরিমানা কোনো কাজে আসবে না।

নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রধান ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, সরেজমিনে গিয়ে ত্রুটি দেখে জাহাজ আটক (ডিটেইন) করেছিলাম। এই আটকই জাহাজের জন্য পানিশমেন্ট বা কলঙ্ক তিলক। প্রাথমিক তদন্তে হিউম্যান এরর নেভিগেশন ফেইলিউর বলে মনে হয়েছে। ফাইনাল রিপোর্ট দেবে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত রিপোর্ট আসার আগে জাহাজকে কেন বন্দর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হলো, তা জানতে চাইলে শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বললেন, তদন্ত রিপোর্টের জন্য জাহাজ আটকে থাকে না। জাহাজের কারিগরি ত্রুটি সারানোর পর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আমাদের রিপোর্ট দিয়েছে। এরপরই রবিবার জাহাজটিকে নো অবজকেশন সনদ দিয়েছি।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ