মতবিনিময় সভায় ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী

মাদকের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে বলে জানালেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। সোমবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় পরিদর্শন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সব থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশকে আরও সক্রিয়, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং থানাসমূহের সেবামুখী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়।

মাদক নির্মূলের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিআইজি বলেন, শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিশ্চিত করতে ওসিদের নির্দেশ দেন তিনি।
ডিআইজি কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের প্রধান লক্ষ্য। সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। থানায় সেবা নিতে আসা নারী, শিশু ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এসময় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি ও সাইবার অপরাধ রুখতে বিশেষ অভিযান ও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। থানাকে জনগণের আস্থার স্থানে রূপান্তর করতে বিট পুলিশিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিলাম। পরিদর্শন শেষে ডিআইজি রেঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করে জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে গাড়িচালক হত্যা মামলায় তিন জনের ফাঁসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী থানার গাড়িচালক মো. সজিব হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় দেন। একই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের মো. নুরুল আমিন, কুমিল্লার দেবিদ্বারের মো. শাহজাহান এবং ফেনী সদর উপজেলার মো. নুরুল আলম টুটুল। তাদের মধ্যে টুটুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।অপর দুই আসামি পলাতক।

চট্টগ্রাম আদালত সূত্র জানা গেছে, পাহাড়তলী থানাধীন টোল রোডের পূর্ব পাশে শিল্প পুলিশের অধিগ্রহণ করা জমির পশ্চিম পাশে সেকান্দরের কৃষিজমি থেকে ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে লাশটি নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা মো. সজিবের বলে শনাক্ত করা হয়। সজিব পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন জেলায় মালামাল পরিবহনের কাজ করতেন। ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। ২৭ অক্টোবর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার পেছনে থেতলানো আঘাত, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। তদন্ত শেষে পুলিশ তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে গাড়িচালক মো. সজিব হত্যা মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো.নুরুল আমিন, মো.শাহজাহান ও মো.নুরুল আলম টুটুলকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি নুরুল আলম টুটুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে নুরুল আলম টুটুলকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পলাতক নুরুল আমিন ও শাহজাহানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আক্তার হোসেন বন্দর চেয়ারম্যান, নৌবাহিনীতে ফেরত যাচ্ছেন মনিরুজ্জামান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে বদলি করে নিজ কর্মস্থল নৌবাহিনীতে ফেরত পাঠানোর আদেশ হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণাালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম ১৬ আগস্ট এই আদেশ দেন। একই আদেশে রিয়ার অ্যাডমিরাল খন্দকার আক্তার হোসেনকে বন্দর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমন একসময়ে এই আদেশ দেওয়া হলো যখন রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করতে সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে মোংলায় ছিলেন। তিনি এখনো চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মস্থলে ফেরেননি। তার অধস্তন কর্মকর্তারাও বিষয়টি জানেন না।

নৌবাহিনী থেকে ফেরত নিতে আদেশ আসে ১২ আগস্ট। এরপর ১৩ আগস্ট সেটি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যায়। সেই আদেশেই বন্দরে নতুন চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের জন্য রিয়ার অ্যাডমিরাল খন্দকার আক্তার হোসেনকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর ১৬ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নতুন চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের জন্য নাম প্রস্তাব করে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া সরাসরি জবাব না দিয়ে আগামীর সময়কে জানালেন, নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেই আসবে। তখন জানবেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যেই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের আদেশ নৌ মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। দুই বছরের বেশি সময় দায়িত্ব থাকাকালে তিনি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হন নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার তৎপরতা নিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী, বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীর আন্দোলন ও ধর্মঘট উপেক্ষা করে তিনি অন্তর্র্বতী সরকারের আমলে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া চূড়ান্ত করে ফেলেন। সে সময় প্রায় তিন দিন দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন বন্দর অচল ছিল। তখন দেশ জুড়ে হইচই পড়ে যায়। বন্দর ব্যবহারকারীদের তোপের মুখে পড়েন বন্দর চেয়ারম্যান। ২০০৯ সালের পর তার আমলেই চট্টগ্রাম বন্দর অচলের ঘটনা নজিরবিহীন।

তার সময়ে এনসিটির পাশাপাশি চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনালও বিদেশিদের দেওয়ার তোড়জোড় চলে। ডিপিএম পদ্ধতিতে প্রচুর প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন বন্দর শ্রমিকরা। তার সময়ে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা তটস্থ ছিলেন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এই চেয়ারম্যান বন্দরকে বিদেশি বেনিয়াদের দেওয়া রুখতে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। জেলে ঢুকিয়েছেন। আশা করব নতুন চেয়ারম্যান বিদেশিদের কাছে বন্দর দেওয়া রুখতে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। মামলা প্রত্যাহার করবেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চীন থেকে ছয়টি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় একই মূল্যে মাত্র চারটি জাহাজ ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৪৮৩-৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি ও অনিয়ম অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। তার আমলেই বন্দর থেকে আড়াইশ পণ্যভর্তি কন্টেইনার গায়েবের ঘটনা ঘটে। যার কোনো সুরাহা হয়নি।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ