সাতকানিয়ায় জনবান্ধব প্রশাসনের দৃষ্টান্ত খোন্দকার মাহমুদুল হাসান – জাহাঙ্গীর আলম

জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর থেকে প্রশাসনিক দক্ষতা, সাহসী সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান, দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায়-দুস্থ মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন।

সাতকানিয়ার মতো বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় একটি উপজেলায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন সহজ নয়। একদিকে রয়েছে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত জনপদ, অন্যদিকে নদী-খাল, কৃষিনির্ভর এলাকা ও ঘনবসতি। এর সঙ্গে রয়েছে বন্যা, জলাবদ্ধতা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ মাটি কাটা, খাদ্যে ভেজাল, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও ভেজাল রোধে প্রায় শতাধিক অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ভেজাল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তৎপরতা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবনযাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

আধুনিক ও উন্নত সাতকানিয়া গড়ার লক্ষ্যেও তিনি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলার কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, কোথায় অনিয়ম হচ্ছে কিংবা কোন বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সমস্যা সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ জনবান্ধব প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাতকানিয়ায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে চাকরি দেওয়া কিংবা আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন উপজেলা প্রশাসন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থেকেছেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। হতদরিদ্র ও সহায়-সম্বলহীন মানুষের মাঝে চাল, ডাল ও অর্থ সহায়তা প্রদান, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগে একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পাশাপাশি অসহায় মানুষের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতারও প্রকাশ ঘটেছে।

তার দায়িত্ব পালনের সময় সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি ছিল পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ। মাটি কাটার সুবিধার্থে কিছু প্রভাবশালী চক্রের তৈরি করা একটি কৃত্রিম বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সেই বাঁধ কেটে দেওয়ার সাহসী পদক্ষেপ নেন তিনি। প্রভাবশালী মহলের তৈরি করা বাধা অপসারণের এ সিদ্ধান্তের ফলে এলাকায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং বন্যার পানির চাপ দ্রুত কমে আসে বলে স্থানীয়দের অভিমত। মাঠ প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবেও এ উদ্যোগটি আলোচিত হয়েছে।

সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সাধারণ মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য উপজেলা পরিষদে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেন তিনি। বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি, আটকে পড়া মানুষের তথ্য, জরুরি উদ্ধার ও খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জানতে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে উপজেলার বিপন্ন মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রায় ৮৯টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র সচল করা হয়।

বন্যার পানিতে পানিবন্দী হাজার হাজার পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ১৫ হাজার প্যাকেট চাল এবং ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার সরাসরি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। ত্রাণ কার্যক্রম যাতে শুধু উপজেলা সদরে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বন্যার পানিতে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন ইউএনও। দুর্যোগের সময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে গতিশীল করার চেষ্টা করা হয়।

বন্যার পানি কমে যাওয়ার পরও থেমে থাকেননি তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন। কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন—এসব বিষয় চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গত দুস্থ ও অসহায় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা দেন তিনি।

সব মিলিয়ে সাতকানিয়ায় খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও মানবিকতার একটি সমন্বিত চিত্র পাওয়া যায়। একদিকে ভেজাল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শত শত অভিযান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের চাকরি ও আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং প্রভাবশালী চক্রের কৃত্রিম বাঁধ অপসারণের মতো পদক্ষেপ; অন্যদিকে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য, অর্থ, শীতবস্ত্র ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ এবং বন্যার সময় আশ্রয়, ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা—দুই দিকই তার কর্মপরিধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সমস্যা বোঝা, প্রয়োজনের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষা করা এবং দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে সাতকানিয়ায় খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের কর্মকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসনে একটি সক্রিয়, সাহসী ও জনমুখী ভূমিকার চিত্র তুলে ধরেছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সাতকানিয়াকে আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে। কারণ একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু সরকারি দায়িত্ব পালন নয়—দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থা অর্জন করা। সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে মানবিক কর্মকাণ্ড, দুর্যোগ মোকাবিলা, জনস্বার্থে সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সেই আস্থার জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চউক’র ‘এক নগর দুই শহর’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) একটি আধুনিক শিল্প ও আবাসিক হাব বা মেগাসিটি গড়ে তুলতে ‘ওয়ান সিটি টু টাউনস’ বা ‘এক নগর দুই শহর’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কর্ণফুলী টানেল কেন্দ্র করে নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় ৭ হাজার ৩১৫ একর জমির ওপর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে রূপরেখাও দিয়েছে চউক। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হারিয়ে যাবে ১ হাজার ৭৮২ একর কৃষিজমি।

কৃষিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের আনোয়ারার ২৩ হাজার ৯৬৭টি কৃষি পরিবারের মধ্যে ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক। সংখ্যায় যারা ২৩ হাজার ৭৭৬ জন। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে এই বিশালসংখ্যক ক্ষুদ্র চাষি তাদের একমাত্র জীবিকা হারাবেন। বর্তমানে ওই উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৩৩ জন মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। জমি হারানোর ফলে এই বিশাল শ্রমশক্তি পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম আহমদ সরকার বললেন, উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি তিন ফসলি। ধানের পাশাপাশি এখানে সবজিরও ব্যাপক আবাদ হয়। এমনিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে লোকজন কৃষিজমি কিনে আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছেন। এতে কৃষিজমি কমছে। নতুন শহর বাস্তবায়ন করা হলে কৃষিজমি আরও কমে আসবে।

এদিকে কৃষিজমি হ্রাস ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিকল্পনার প্রকল্প পরিচালক এবং চউক’র উপ-প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বললেন, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন হচ্ছে। যার কারণে কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। এজন্য মাস্টারপ্ল্যানে ২ হাজার ৩৮৮ একর কৃষিজমি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এতে করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকা ও কলকারখানা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

চউক’র দেয়া ‘আনোয়ারা অ্যাকশন এরিয়াপ্ল্যান (২০২৫-৫০)’-এর খসড়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, কৃষিজমির ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে যাচ্ছে বৈরাগ ইউনিয়নে। সেখানে বিদ্যমান ৪৯৪ একর কৃষিজমির ৯৮ শতাংশই শিল্প ও সাধারণ নগর ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সেখানে আবাদি জমি অবশিষ্ট থাকবে মাত্র ৯ একর। এ ছাড়া শিল্পায়ন ও নগরায়ণের চাপে চাতরী ইউনিয়নে ৫৪৬ একর এবং বারখাইন ইউনিয়নে ৩৪৮ একর কৃষিজমি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।বর্তমানে এখানকার মোট জমির ৫৭ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে কৃষি ও মৎস্য খাতে এবং ৯ শতাংশ জলাশয়। এর পাশাপাশি আবাসিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ২৭ এবং শিল্প খাতে আড়াই শতাংশ।

জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলা চট্টগ্রামের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। কৃষিজমি কমে গেলে সরাসরি প্রভাব পড়বে ধান, ডাল, শাকসবজি ও অর্থকরী ফসল উৎপাদনের ওপর। সর্বশেষ কৃষিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রধান ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে ধান। বর্তমানে উপজেলায় ১১ হাজার ১৯৬ একরে আমন এবং ৯ হাজার ৬৪ একরে বোরো ধানের চাষ হয়। আবাদি জমি কমলে এই উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এরপরই রয়েছে শাকসবজি। আনোয়ারার জনপ্রিয় বেগুন (১৩৯ দশমিক ৬৭ একর), টমেটো (১১৬ দশমিক ৭ একর) এবং আলু (১১৮ দশমিক ৫৮ একর) চাষের এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হবে। এ অঞ্চলে প্রায় ৪০০ একর জমিতে মরিচ চাষ হয়। এ ছাড়া ফেলন ডাল (১২৬ দশমিক ৬১ একর) উৎপাদনের এলাকাটিও নগর উন্নয়নের আওতায় পড়েছে।

সূত্র জানায়, ২০৫০ সাল নাগাদ আনোয়ারায় জনসংখ্যা ৭ লাখ ২৪ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন পরিকল্পনায় ৭৭৪ দশমিক ৪ একর জমি নিয়ে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) এবং শিল্প খাতে ৫৫০ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই শিল্প জোনে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হয়েছে। নগরায়ণের এই বিপুল চাপ সামলাতে আনোয়ারায় ৪৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার নতুন ও উন্নত সড়কের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারা-পটিয়া সড়ককে ১৬০ ফুট প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার যানবাহন ধারণক্ষমতার একটি ট্রাক টার্মিনাল, একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল, সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি উচ্চবিদ্যালয় এবং ৯টি ক্লিনিক স্থাপনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আনোয়ারা এলাকাটি ঘূর্ণিঝড় এবং মৌসুমি বন্যার উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।

শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে প্রাকৃতিক জলাধার (বর্তমানে যা ৯ শতাংশ) ও খোলা জায়গা কমে যাবে, যার ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করবে। জলাবদ্ধতা রোধে ১১৪ দশমিক ২৩ কিলোমিটার নতুন সেকেন্ডারি ড্রেন এবং ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার নতুন খালের অ্যালাইনমেন্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। জোয়ারের পানি ঠেকাতে পার্কি খাল, খুরুশকুল, দক্ষিণ বারুনিছড়া, ইছাখালী এবং মুরাই খালে সাতটি রেগুলেটর স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে পার্কি খালের মুখে একটি বড় রেগুলেটর নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পলি জমা রোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চারটি সিল্ট ট্র্যাপ বসানো হবে। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবেশদূষণ রোধে ‘ইকো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনিং’ এবং নদীর তীরে বনায়ন বা গ্রিন বেল্ট কর্মসূচি হাতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কৃষিজমি ধ্বংস করে এমন মেগাসিটি নির্মাণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. অলক পাল বলেন, তিন ফসলি জমিতে শহর গড়ে তোলা বাঞ্ছনীয় নয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে অংশীজনের মতামত নেওয়া এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। নয়তো এটি পরিবেশের ওপর যেমন প্রভাব ফেলবে, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে। তিনি কৃষিজমি বাদ দিয়ে নদীর পাড়কে ঘিরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানিতে হুমকির মুখে পড়তে পারে নিরাপত্তা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বেসরকারি পর্যায়ে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সভা করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (সিবিএ)। সভায় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় নেতারা বলেন, বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দেওয়া হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সিবিএর সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের প্রস্তাব দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই খাতকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে ইস্টার্ন রিফাইনারি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতৃত্বে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও বেসরকারিভাবে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, পরিশোধন, বিতরণ ও বিপণনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, একনেকে অনুমোদিত ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে বিপিসির মাধ্যমে দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা সরকারিভাবে পূরণের সক্ষমতা আরও বাড়বে। এতে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন ছাড়া বেসরকারি রিফাইনারিকে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধনের অনুমোদন দেওয়ার কোনো প্রস্তাব মেনে নেওয়া হবে না।

জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি না করে সরকার ও জ্বালানি বিভাগের প্রতি বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন আবু মোহাম্মদ নোমান, জাহেদুল আলম, আবু নাঈম সুজন, আবদুর রহিম, আশরাফুল মাওলাসহ সিবিএর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ