পাহাড় ও হ্রদের বুকে এক মানবিক অধ্যায়: হাবীব আজমের বিদায় ও জনকল্যাণের পদচিহ্ন

রাঙামাটি প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সময় বয়ে যায় নদীর স্রোতের মতো। মানুষের জীবনে আসে নানা অধ্যায়, কেউ আসে, কেউ চলে যায়; কিন্তু কিছু মানুষের কর্ম, ভালোবাসা ও মানবিকতার স্পর্শ সময়ের সীমানা পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে থাকে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের (RHDC) চত্বরে দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিনের—মোট ৬৪৯ দিনের—কর্মময় ও দায়িত্বশীল অধ্যায় শেষে বিদায় নিয়েছেন তরুণ ও মানবিক নেতা মো. হাবীব আজম।

আশা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সততাকে পুঁজি করে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, বিদায়ের মুহূর্তে তা পরিণত হয়েছে এক গুচ্ছ স্মৃতি, অর্জন ও জনকল্যাণের গল্পে। জেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনের সময়টুকু তাঁর জন্য যেমন ছিল প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতার অধ্যায়, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে তা ছিল একজন জনপ্রতিনিধির মানবিক মুখ দেখার সময়।
পাহাড়, হ্রদ আর মেঘের উপত্যকা রাঙ্গামাটিতে হাবীব আজমের কাটানো দিনগুলো শুধু দাপ্তরিক ফাইল, সভা কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, দুর্যোগে ছুটে যাওয়া, অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করা, দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া, যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক আলাদা মানবিক পরিচয়।
জনকল্যাণের পথে দীর্ঘ এক যুগের পদচিহ্ন:

জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার অনেক আগে থেকেই হাবীব আজম ছিলেন মানুষের পাশে। বিগত এক যুগ ধরে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে কোনো এলাকায় আগুন লাগার খবর, কোথাও পাহাড়ধস, বন্যা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ—দুর্গমতার বাধা পেরিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। দুর্গম এলাকায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা তুলে দেওয়া তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক।

অনেক সময় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পৌঁছাতে সময় লাগে। সেই অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন হাবীব আজম। এ কারণেই সংকটের সময়ে তাঁকে অনেক মানুষের কাছে একজন নির্ভরতার মানুষ হিসেবে দেখা গেছে।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে মানবিক হাত:
একজন শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে যেন তার স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত না হয়—এই ভাবনা থেকেই শিক্ষা সহায়তায়ও সক্রিয় ছিলেন হাবীব আজম।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অসচ্ছল শিক্ষার্থী সুমনা আকতারের ভর্তির সমস্ত খরচ বহন করার পাশাপাশি তাঁর ভবিষ্যৎ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া হাবীব আজমের শিক্ষানুরাগী কর্মকাণ্ডের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।শুধু একজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো নয়, শিক্ষাকে সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, একটি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানকে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া মানে শুধু একজন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা নয়; বরং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
স্বাস্থ্যসেবায় অসহায় মানুষের পাশে:

অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারা অসহায় মানুষের পাশেও বারবার দাঁড়িয়েছেন তিনি। ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমসহ অসংখ্য চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ এবং চিকিৎসার খরচ বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
মানুষের অসুস্থতার খবর পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর এই প্রবণতা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আপন করে তুলেছে। তাঁর কাছে মানবিকতা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মানুষের কষ্টকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখার একটি মানসিকতা।

শীতের রাতে ছিন্নমূল মানুষের উষ্ণতার সঙ্গী:
তীব্র শীতে যখন মানুষ ঘরের উষ্ণতায় নিরাপদ থাকতে চায়, তখন রাতের আঁধারে ছিন্নমূল মানুষের কাছে গিয়ে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে হাবীব আজমের।
বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু থেকে শুরু করে ফুটপাত ও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো অসহায় মানুষের মাঝে নিজে উপস্থিত হয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন তিনি। তাঁর কাছে মানবিক সহায়তার সবচেয়ে বড় মূল্য ছিল—যে মানুষটির প্রয়োজন, তার কাছে গিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য কারিগর:
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সামাজিক বাস্তবতায় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গায় হাবীব আজমের অন্যতম বড় শক্তি তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।
দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা জনগোষ্ঠীর পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষের সুখ-দুঃখে সমানভাবে ছুটে যাওয়ার কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বিস্তৃত পরিসরে।
প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছেও তাঁর উপস্থিতি তৈরি করেছে আস্থার জায়গা। মানুষের পরিচয়ের আগে মানুষকে দেখার এই মানসিকতাই তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
জ্ঞানচর্চায় নতুন প্রজন্মের জন্য ‘পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার:

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করার ক্ষেত্রেও হাবীব আজমের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।
নিজস্ব অর্থায়নে রাঙ্গামাটির বনরূপায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার’। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানার সুযোগ করে দেওয়া এবং তরুণদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ডিজিটাল যুগে যখন তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত, তখন একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ভাবনার প্রতিফলন।
শিশুদের মাঝে দেশপ্রেমের বীজ বপন:
দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতি বছর মহান স্বাধীনতা দিবসে রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে আগত হাজারো শিশুর মাঝে জাতীয় পতাকা, মাথায় পরার ফিতা ও বেলুন বিতরণ করেন তিনি।

শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার এই ছোট্ট উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তাদের মনে দেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বাধীনতার ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
তাঁর কাছে দেশপ্রেম শুধু বক্তৃতার বিষয় নয়; বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সামাজিক দায়িত্ব।মাদকমুক্ত সমাজ ও তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগানো:

যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই—এই বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব ও তরুণদের উৎসাহিত করেছেন হাবীব আজম।
বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবকে জার্সি ও ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান, খেলাধুলার আয়োজনকে উৎসাহ দেওয়া এবং তরুণদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।তাঁর বিশ্বাস, একজন তরুণ যদি খেলার মাঠে থাকে, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, তাহলে সে সমাজের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তাই মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে ক্রীড়াকে তিনি একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন।
পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ:

পাহাড় ও হ্রদের শহর রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও যুক্ত ছিলেন হাবীব আজম।সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তরুণদের পরিবেশ সচেতন করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
পর্যটন উন্নয়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ:
রাঙ্গামাটির অর্থনীতিতে পর্যটনের গুরুত্ব অপরিসীম। জেলা পরিষদে পর্যটন করপোরেশন ও নার্সিং ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের দায়িত্বে থেকে পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করার বিভিন্ন উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন হাবীব আজম।

পর্যটনকেন্দ্রে যাত্রীছাউনি, ওয়াশরুম এবং ঝুলন্ত ব্রিজের অপর পাশে ওয়াকওয়ে ও সিঁড়ি নির্মাণের মতো অবকাঠামোগত উদ্যোগ পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথম ‘ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ:
পর্যটন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর নির্ভরশীল নয়; দক্ষ জনবলও একটি পর্যটন এলাকার অন্যতম শক্তি। এই বাস্তবতা বিবেচনায় জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেন হাবীব আজম।

এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের পর্যটন খাতে দক্ষ করে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পর্যটকদের সামনে রাঙ্গামাটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।সংক্ষিপ্ত জীবন ও সাংগঠনিক পথচলা:
জন্ম ও পরিবার মো. হাবীব আজম ১ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে রাঙ্গামাটি শহরের কাঁঠালতলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মো. চাঁন মিয়া এবং মা ফাতেমা বেগম।
শৈশব থেকেই রাঙ্গামাটির মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা হাবীব আজমের সামাজিক চিন্তা ও কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়।

শিক্ষাজীবন:
তিনি চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে তাঁর আইন বিষয়ে শিক্ষাজীবনের এই অধ্যায় সম্পন্ন হয়।
আইন বিষয়ে শিক্ষালাভ তাঁর সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং দায়িত্বশীলতার বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব:
হাবীব আজম পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)-এর সাবেক রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি এবং বর্তমানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ, ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করা এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক পরিসরে সক্রিয়।

সামাজিক সম্পৃক্ততা:
মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও FPAB-এর আজীবন সদস্য। পাশাপাশি ‘হিল ট্রেকার্স’, ‘হিলফুল যুব সংগঠন’ ও ‘হিল সার্ভিস’-এর উপদেষ্টা হিসেবেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
পদ থেকে বিদায়, মানুষের কাছ থেকে নয়:
একজন জনপ্রতিনিধি বা পরিষদ সদস্যের দায়িত্বের সময়সীমা নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চত্বরে হাবীব আজমের ৬৪৯ দিনের অধ্যায় শেষ হয়েছে। দায়িত্বের চেয়ার বদলেছে, দাপ্তরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে; কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে অভ্যাস, তা থেমে যাওয়ার নয়।

ক্ষমতার অহংকার, পদ-পদবির মোহ কিংবা বিলাসিতা তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি—এমনটাই তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের চিত্রে প্রতিফলিত হয়। বরং তিনি বারবার দেখিয়েছেন, জনপ্রতিনিধিত্ব মানে শুধু একটি পদ বা পরিচয় নয়; এটি মানুষের সেবা করার একটি বড় সুযোগ এবং মানুষের আস্থা ধরে রাখার একটি গুরুদায়িত্ব।
পাহাড় ও হ্রদের শহর রাঙ্গামাটিতে তাঁর রেখে যাওয়া পদচিহ্ন তাই কেবল উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। তা ছড়িয়ে আছে কোনো অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া খাদ্যসামগ্রীতে, কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের সহায়তায়, কোনো অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায়, শীতার্ত মানুষের গায়ে জড়ানো শীতবস্ত্রে, কোনো শিশুর হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় পতাকায়, কোনো তরুণের হাতে দেওয়া ক্রীড়া সামগ্রীতে কিংবা কোনো পাঠাগারের নীরব বইয়ের পাতায়।

জেলা পরিষদ থেকে তাঁর বিদায় হয়েছে—কিন্তু মানুষের কাছ থেকে নয়। দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও জনকল্যাণের পথচলা যে শেষ হয়নি, তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
রাঙ্গামাটির পাহাড়, হ্রদ আর মানুষের হৃদয়ে একজন তরুণ নেতার ৬৪৯ দিনের দায়িত্বের স্মৃতি হয়তো সময়ের সঙ্গে আরও দূরে সরে যাবে; কিন্তু মানুষের জন্য করা ভালো কাজগুলো থেকে যাবে—নীরবে, নিঃশব্দে, মানুষের স্মৃতির গভীরে।হাবীব আজমের বিদায় তাই কেবল একটি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়, বরং জনকল্যাণের এক মানবিক অধ্যায়ের নতুন পর্বে প্রবেশ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

লোহাগাড়ায় বিএনপির মতবিনিময় সভা দলীয় সমর্থনের প্রত্যাশায় এক মঞ্চে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিএনপির জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার নয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মতামত নেওয়া হয়।

রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি  আসহাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি সদস্য  সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান, সালাহউদ্দিন চৌধুরী সোহেল ও ফৌজুল কবির ফজলু বক্তব্য দেন।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক ভূমিকা, জনসম্পৃক্ততা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তারা দলের দুঃসময়ে নিজেদের ভূমিকা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং নিজ নিজ এলাকায় দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করে একাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এসএম আবু সাইদ চৌধুরী টিটু,  বিএনপি নেতা মোঃ জসিম উদ্দিন,  লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমিরাবাদ ইউনিয়নের সাবেক ছাড়ানেতা সাংবাদিক খলিল চৌধুরী, কলাউজান ইউনিয়নের আবুল কাশেম ও আধুনগর ইউনিয়নের সোহেল আরিফসহ অনেক।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তৃণমূলের মতামত গ্রহণ, দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।সভায় লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুবদল নেতা বাহাদুর চৌধুরী ও মো. সেলিম উদ্দিন।

চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগে তদন্ত কমিটি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে গাড়ির পাস নিয়ে তর্কের জেরে এক জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে বন্দরের এক চেকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি তদন্তে মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় মো. আতিকুর রহমান (৪৫) নামে ওই জেটি সরকার আহত হয়েছেন।
তবে কী কারণে জেটি সরকার ও চেকারের মধ্যে গাড়ির পাস নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত এবং হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
আহত মো. আতিকুর রহমান সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স টক ট্রেডের জেটি সরকার। ঘটনার পর তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে আতিকুর রহমান বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে যান। সেখানে বন্দরের নিম্নমান বহিঃসহকারী (জেআরওএ) বা চেকার জুয়েলের সঙ্গে গাড়ির পাস নিয়ে তার তর্ক-বিতর্ক হয়।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে চেকার জুয়েল দে আতিকুর রহমানকে ঘুষি মারেন। এতে তার চোখের নিচে জখম হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ আনিস উদ্দিন আহাম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি দুপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ