চসিকের লাগবে অতিরিক্ত ৩৫০ কোটি, ওয়াসার ১৫৪ কোটি টাকা

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণায় অর্থনৈতিক বিপাকে দুই সংস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হওয়ায় বিপদে পড়ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম ওয়াসা। গত সোমবার সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন বেড়েছে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ।এদিকে চসিক ও ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মেটাতে এই দুই সংস্থাকে বাড়তি ব্যয় করতে হবে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। দুটি প্রতিষ্ঠানই দুর্বল আর্থিকভাবে। তবে দুই সংস্থার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বাড়তি ব্যয় মেটাতে নগরবাসীর উপর করের বোঝা নয়, রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে।

চসিক ও ওয়াসার বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুরো বছরের পরিচালন ব্যয় শেষে নামমাত্র টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। তাও ব্যয় হয়ে যায় দেনা শোধ করতে। এরমধ্যে বাড়তি বেতন-ভাতার টাকা জোগাতে সিটি করপোরেশনকে হোল্ডিং ট্যাক্স (গৃহকর) ও ওয়াসাকে পানির দাম বাড়াতে হতে পারে।চট্টগ্রাম ওয়াসার বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে ওয়াসার আয় ছিল ৩৩৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ব্যয় হয়েছে ৩০২ কোটি টাকা। ৩৪ কোটি টাকা জমা থাকলেও সংস্থাটির ঋণ আছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে তাদের কোনো উদ্বৃত্ত থাকে না।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী, স্বায়ত্তশাসিত এই সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হয়েছে ৬৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ করা হলে সংস্থাটির মোট বেতন-ভাতার ব্যয় এক লাফে বেড়ে দাঁড়াবে ১৫৪ কোটি টাকায়। ফলে শুধুমাত্র বেতন-ভাতা পরিশোধ করতেই ওয়াসার অতিরিক্ত ৮৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে ১ হাজার ৫৭০ জন। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলোর বিপরীতে বিপুল পরিমাণ ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও আছে ওয়াসার। ফলে এই অতিরিক্ত ব্যয়ভার মেটাতে হয় পানির দাম বাড়াতে হবে, নয়তো সরকারি ভর্তুকি দিতে হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেছেন, পানির দাম বাড়িয়ে নয়, বকেয়া বিল ও পানি অপচয় কমিয়ে এই ব্যয় মেটানোর পরিকল্পনা আছে। গত মাসেও সর্বোচ্চ বকেয়া আদায় হয়েছে। এছাড়া পানি সরবরাহও বাড়ানো হচ্ছে। এতে বিলের আওতাও বাড়বে।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিটি করপোরেশনের আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ব্যয়ও হয়েছে সমানে সমান। কোনো উদ্বৃত্ত ছিল না। স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হয়েছে ২৪৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়লে চসিকের বেতন বাবদ অতিরিক্ত লাগবে ২৪৬ কোটি থেকে ৩৫০ কোটি টাকা। সংস্থাটির মোট বেতন-ভাতা এক লাফে দাঁড়াবে ৬৮২ কোটি টাকা।

তবে নিজস্ব উদ্বৃত্ত তহবিল না থাকায় এই বিপুল ব্যয় মেটানো সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন প্রধানত হোল্ডিং ট্যাক্স, সেবা ফি ও সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর করে তাদের ব্যয় মেটায়। এই বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে সরকারি থোক বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। নয়তো নিজস্ব হোল্ডিং ট্যাক্স ও সেবা মাশুল বাড়াতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। মূল বেতন বাবদ এতে ধরা আছে ১৬৫ কোটি টাকা। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন প্রায় ৮ হাজার।
সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেছেন, পে স্কেল ঘোষণা হবে মাথায় রেখে বেতন-ভাতা খাতে বাড়তি ১৫০ কোটি টাকা বাজেট রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ গেজেট হলে কত টাকা বাড়বে সুনির্দিষ্টভাবে তা জানা যাবে। রাজস্ব খাত থেকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ব্যয় মেটানো হয়।

সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল বলেছেন, ইতোমধ্যে আমরা বন্দর থেকে ২৬৪ কোটি টাকা ন্যায্য কর আদায় করছি। পাশাপাশি ৩৬টি কনটেইনার টার্মিনালকে হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় আনতে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে কমপক্ষে ১২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে বলে আশা করছি। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি, সেগুলো মূল্যায়ন করে ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হবে। এভাবে আদায় হলে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আদায় করতে পারবো বলে আশা করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে আগ্রহ নেই চীনের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইরানের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বেইজিংয়ের রয়েছে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার চীন।তবে ওয়াশিংটনের নতুন করে চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতি চীনের সমর্থনেরও যে নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সামরিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে বেইজিং। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক চীনের বৈদেশিক নীতির অনেকগুলো হিসাবের একটি মাত্র অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যেকোনো মূল্যে ইরানের নেতৃত্বকে টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ বেইজিংয়ের নেই।

চট্টগ্রামের জলপথকে পণ্য পরিবহনে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামের খাল ও জলপথকে শুধু পানি নিষ্কাশনের কাজে নয়, পণ্য পরিবহনের পথ হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি জলপথের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম নগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠির মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাথে যৌথভাবে কাজ করবে বেসরকারি সংস্থা ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজ।
এ লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সাক্ষরিত হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার এম ডি প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তরিকুল ইসলাম, ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজ এর এমডি ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এ উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে তবে তারা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরকারী পক্ষ নয়।

তিন বছর মেয়াদী সমঝোতা স¥ারকের আওতায় এ তিনটি পক্ষ যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে। নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ ৪০ ও ৪১ নং ওয়ার্ডকে এ কাজের পাইলটিং হিসেবে ধরা হয়েছে। এ দুটি ওয়ার্ড অর্থমন্ত্রীর সংসদীয় এলাকার অধিভূক্ত। এ দুটি ওয়ার্ডে বর্তমানে ওয়াসার পানি সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।

প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে সুপেয় ও নিরাপদ পানি পৌঁছানো সরকারের সেবা নয়- দায়িত্ব। তবে সরকারের একার পক্ষে সবসময় সবজনগণের পানির চাহিদা পূরণ করা কঠিন। তাইতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজে নিয়োজিত করা। এর ফলে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে উঠে, জনচাহিদা পুরণ ও উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হয়।

নিজ সংসদীয় এলাকার দুটি ওয়ার্ডে পাইলটিং প্রকল্প নেয়ায় তিনি চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজকে ধন্যবাদ দেন । তিনি বলেন, এটি এ ধরনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা যেটি দেশের পানি সরবরাহ খাতের জন্য একটি নতুন বেঞ্চমার্কের সূচনা করেছে।

নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন (ঔধহহধ ঠধহ উবৎ খরহফবহ), দুটি ওয়ার্ডের অধিবাসীদের পক্ষে ইসরাফিল খসরু অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ