চট্টগ্রামে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২১ মৃত্যুর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই ১৬ জন

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুন-জুলাই থেকে ডেঙ্গু বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সেপ্টেম্বর অক্টোবর থেকে ডেঙ্গু বাড়ার হার তুলনামূলকভাবে কমে আসতো। তবে এবার জুন-জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী খুব বেশি ছিল না। আগস্ট থেকে ডেঙ্গু রোগী বাড়তে থাকে। তবে সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরে সেটি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এই ধারা অক্টোবরেও চলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছর চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৪৬৬ জন। ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২১ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৩০ জন। অন্যদিকে চলতি বছর মোট মৃত্যুর মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে ১৭ জন এবং পুরুষ রয়েছে ৪ জন। তবে আক্রান্তের দিকে পুরুষের হার বেশি। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৯৩ জন পুরুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, নারী আক্রান্ত হয় ১ হাজার ২৭৮ জন এবং শিশু আক্রান্ত হয় ৯৯৫ জন।

এদিকে ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সর্বশেষ তথ্য অনুসারে আগের ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ১০৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩১ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১৩ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জন, চট্টগ্রাম সিএমএইচ হাসপাতালে ৫ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ১২ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৬ জন।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর মূল চিকিৎসা হচ্ছে ফ্লুইড ম্যানেজম্যান্ট। অনেক রোগী এনএস-১ রিপোর্ট হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। এটির আসলে কোনো দরকার নাই। ডেঙ্গুর প্ল্যাটিলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে তখন ইন্টারনাল ব্লিডিং শুরু হয়। তখন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ম্যানেজম্যান্টের প্রয়োজন পড়ে। আবার প্ল্যাটিলেট কমা শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার পরপর। তখন শারীরিক কিছু অসুবিধা দেখা দেয়। ওই সময় হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্ল্যাটিলেট নিয়ে আতঙ্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আসলে প্ল্যাটিলেট যখন বাড়া শুরু হয় তখন দ্রুতই বাড়ে। কাজেই ডেঙ্গু জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন প্রায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে ভ্যাপসা গরম। এমন আবহাওয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া যত্রতত্র ডাবের খোসা, গাড়ি টায়ার ও বাসা বাড়ির ছাদে ফুলের টবে পানি জমে সেখান থেকে মশার বংশবিস্তার হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর বাইরে সীতাকুণ্ডের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। মহানগরের বাইরে ১ হাজার ৯২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে সীতাকুণ্ডে আক্রান্ত ৫৬২ জন। এরপরে কর্ণফুলীতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৭ জন।এছাড়া রাঙ্গুনিয়ায় ১৪৫ জন, বাঁশখালীতে ১৪২ জন, সাতকানিয়া ১০৯ জন, আনোয়ারায় ১০৭ জন, রাউজানে ৯৩ জন, পটিয়ায় ৮৮ জন, হাটহাজারীতে ৭৬ জন, মীরাসরাইতে ৭৪ জন, বোয়ালখালীতে ৭১ জন, চন্দনাইশে ৬৫ জন, লোহাগাড়ায় ৬১ জন, ফটিকছড়িতে ৩৭ জন এবং সন্দ্বীপে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, এখন প্রায় প্রতিদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাচ্ছে। ফলে এসব পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। কোনো স্থানে যেন তিনদিনের বেশি পানি না জমে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও মশক নিধনে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জানা গেছে, গত বছর ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে মারা যান ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে মারা যান ৪১ জন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম মেডিকেলের দুই ক্যান্টিনে পচা-বাসি খাবার ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনল পাঁচ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে খাদ্যপণ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, মেয়াদ সংক্রান্ত অনিয়ম, মূল্য তালিকা না থাকা এবং অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির বিষয়গুলো উঠে আসে।

অভিযানে সিএমসি ক্যাফেকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।ক্যাফেটির ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা তরকারি সংরক্ষণ এবং অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত, রান্না ও পরিবেশনের প্রমাণ পাওয়ায় এ অর্থদণ্ড করা হয়। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ক্যান্টিনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত, রান্না ও পরিবেশনের পাশাপাশি দধিতে মেয়াদ ব্যবহারের তারিখ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানা করা হয়।

এছাড়া মূল্য তালিকা না থাকা এবং ডাবের দাম বেশি রাখার অভিযোগে মেডিকোপ সুপার শপকে ১০ হাজার টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং বিদেশি অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির দায়ে জেবিএল সার্জিক্যাল ইউনিট-২কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, একই অভিযোগে স্বপ্না মেডিকেল স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং বিদেশি অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় খাদ্য ও ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ নেই। অভিযানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রি এবং পণ্যের মূল্য নিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, মেয়াদ ও অনুমোদন যাচাই করে ওষুধ বিক্রি এবং পণ্যের সঠিক মূল্য প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে পিংক বাসে ভ্রাম্যমাণ ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলক্ষে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি শনিবার পিংক বাসে ভ্রাম্যমাণ ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়।চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিএসসিআর ও পিজিএস একাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

বিআরটিএর একটি দ্বিতল পিংক বাস নগরের বিভিন্ন এলাকায় এ বাসে ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালাবে। সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নেতৃত্বে অক্টোবর মাসের প্রতি শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।

শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামকে ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পিংক অক্টোবর উপলক্ষে নগরবাসীকে বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গোলাপি আলো জ্বালানোর আহ্বান জানান মেয়র।

শোভাযাত্রায় চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমানসহ চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ