লোহাগাড়ায় বিএনপির মতবিনিময় সভা দলীয় সমর্থনের প্রত্যাশায় এক মঞ্চে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা 

খলিল চৌধুরী, লোহাগাড়া।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিএনপির জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার নয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মতামত নেওয়া হয়।

রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি  আসহাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি সদস্য  সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান, সালাহউদ্দিন চৌধুরী সোহেল ও ফৌজুল কবির ফজলু বক্তব্য দেন।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক ভূমিকা, জনসম্পৃক্ততা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তারা দলের দুঃসময়ে নিজেদের ভূমিকা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং নিজ নিজ এলাকায় দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করে একাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এসএম আবু সাইদ চৌধুরী টিটু,  বিএনপি নেতা মোঃ জসিম উদ্দিন,  লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমিরাবাদ ইউনিয়নের সাবেক ছাড়ানেতা সাংবাদিক খলিল চৌধুরী, কলাউজান ইউনিয়নের আবুল কাশেম ও আধুনগর ইউনিয়নের সোহেল আরিফসহ অনেক।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তৃণমূলের মতামত গ্রহণ, দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।সভায় লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুবদল নেতা বাহাদুর চৌধুরী ও মো. সেলিম উদ্দিন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চউক’র অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মইজ্জ্যারটেক মোড়ের জংশন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক মোড়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর সিডিএর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে সিডিএর মইজ্জ্যারটেক প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা (পিডি) ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান, কর্ণফুলী থানা পুলিশ ও স্পেশাল পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। প্রায় ৪০ জন শ্রমিক ও একটি এক্সকাভেটরের সহায়তায় অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে মইজ্জ্যারটেক মোড়ে আব্দুল মন্নানের দখলে থাকা ওয়েলফুড, এস আলমের চেমন ইস্পাত লিমিটেডের সীমানাপ্রাচীর, কুলিং কর্নার, মুদির দোকান, বিকাশের দোকান, গোডাউন, বেকারি এবং সড়কের ওপর নির্মিত ঝুপড়ি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।চউকের প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান বলেন, মইজ্জ্যারটেক মোড়ের জংশনটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হবে।

পাহাড়তলী ডিজেল শপে এক-তৃতীয়াংশ জনবল, জোড়াতালিতে সচল শত শত ইঞ্জিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

পূর্বাঞ্চলের রেল বহরের মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার অন্যতম প্রধান কারিগরি কেন্দ্র চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ মেরামত কারখানা। রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআইভুক্ত এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট, বাজেট স্বল্পতা, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং ঋণপত্র বা এলসি জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে আসছে। মঞ্জুরিকৃত ৩৩০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত মাত্র ১১০ জন। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় জনবলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দিয়েই প্রতিদিন পূর্বাঞ্চলের রেল বহরের লোকোমোটিভ মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সচল রাখার কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

কারখানা-সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের পর বছর নতুন নিয়োগ না হওয়া এবং অভিজ্ঞ ও প্রবীণ টেকনিশিয়ানদের অবসরে যাওয়ায় দক্ষ জনবলের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক লোকোমোটিভ প্রয়োজন, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই। ফলে সীমিতসংখ্যক মেকানিক ও টেকনিশিয়ানকে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দৈনিক মজুরি বা অদক্ষ শ্রমিকের সহায়তাও নিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনবল সংকটের পাশাপাশি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে লোকোমোটিভের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। পূর্বাঞ্চলের বহরে থাকা বহু মিটারগেজ লোকোমোটিভ পুরোনো হওয়ায় নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রয়োজন হয়। এসব যন্ত্রাংশের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু ডলার সংকট, ব্যাংকে এলসি খোলার জটিলতা, বাজেট বরাদ্দের দীর্ঘসূত্রতা এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সময়মতো কারখানায় পৌঁছায় না। কারখানা-সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের রিকুইজিশন দেওয়ার পর বাজেট ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পাহাড়তলী) দপ্তর থেকে সেটি হাতে পেতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়।

ফলে মেরামতের টেবিলে এসে থেমে থাকে লোকোমোটিভ। প্রয়োজনীয় জেনুইন স্পেয়ার পার্টস না থাকায় পুরোনো ইঞ্জিন কিংবা অচল ইঞ্জিন থেকে কার্যকর যন্ত্রাংশ খুলে অন্য ইঞ্জিনে ব্যবহার করে অনেক সময় কাজ চালিয়ে নিতে হয়। কারিগরি কর্মীদের ভাষায়, এক ইঞ্জিনের ‘জীবন’ বাঁচাতে আরেকটি অচল ইঞ্জিনের পার্টস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ইঞ্জিন সচল করা সম্ভব হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

কারখানা সূত্রের ভাষ্য, ইয়ার্ড বা লাইন থেকে কোনো লোকোমোটিভ বিকল হয়ে পাহাড়তলী ডিজেল শপে এলে সেটিকে দ্রুত মেরামত করে লাইনে ফেরত পাঠানোর চাপ থাকে। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, দক্ষ জনবল এবং পর্যাপ্ত সময়ের অভাবে অনেক সময় গভীর সংস্কার বা নির্ধারিত ওভারহোলিং করা সম্ভব হয় না। তখন সাময়িক বা দ্রুত মেরামত—কারিগরি ভাষায় ‘কুইক ফিক্স’—করে ইঞ্জিনটি লাইনে পাঠানো হয়। এর ফলে কোনো কোনো ইঞ্জিন কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ চলার পর একই ধরনের ত্রুটি নিয়ে আবারও কারখানায় ফিরে আসে। রেলওয়ের কারিগরি পরিভাষায় এ ধরনের পুনঃপুন বিকল হওয়াকে ‘রিপিট ফেইলিওর’ বলা হয়। কর্মীদের ভাষায়, এটাই অনেকটা ইঞ্জিনের ‘ইউ-টার্ন’।

একটি লোকোমোটিভ বারবার বিকল হয়ে কারখানায় ফিরে এলে একদিকে মেরামত সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, অন্যদিকে ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রস্তুত লোকোমোটিভের সংখ্যা কমে যায়। ফলে অন্য ইঞ্জিনগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এভাবে সংকটটি একটি চক্রে পরিণত হয়—যন্ত্রাংশের অভাব, দ্রুত মেরামত, লাইনে পাঠানো, পুনরায় বিকল হয়ে ফিরে আসা এবং আবার মেরামতের চাপ।

তবে নানা সংকটের মধ্যেও পাহাড়তলী ডিজেল শপের কারিগরি সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২টি মৃতপ্রায় লোকোমোটিভ মেরামত করে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় রানিং ডিভিশনে পাঠানো হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪টি মৃতপ্রায় এবং ২টি দুর্ঘটনাকবলিত লোকোমোটিভ মেরামত করে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় রানিং ডিভিশনে প্রেরণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ৪টি মৃতপ্রায় লোকোমোটিভ মেরামত করে সচল করা হয়েছে। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫টি মৃতপ্রায় এবং ২টি দুর্ঘটনাকবলিত লোকোমোটিভ মেরামত করে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় রানিং ডিভিশনে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ চার অর্থবছরে মোট ১৫টি মৃতপ্রায় এবং ৪টি দুর্ঘটনাকবলিত—সর্বমোট ১৯টি লোকোমোটিভ মেরামতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় রানিং ডিভিশনে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

কারখানা সূত্র অনুযায়ী, গত তিন-চার বছরে এখানকার মেকানিকরা প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি লোকোমোটিভের ছোট-বড় মেরামত ও লাইট ওভারহোলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে ট্রেনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতিও নিতে হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিটি ঈদের আগে একযোগে প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫টি লোকোমোটিভ প্রস্তুত করে লাইনে আউট-টার্ন দেওয়ার কাজ করেছে এই কারখানা। সীমিত জনবল ও যন্ত্রাংশের মধ্যেও পূর্বাঞ্চলের রেল বহর সচল রাখতে কারখানাটির ওপর যে চাপ রয়েছে, তার বড় অংশই এখানকার কর্মীদের সামাল দিতে হচ্ছে।

শুধু পুরোনো মিটারগেজ লোকোমোটিভ নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে আনা ৩০০০ সিরিজের ২২টি আধুনিক লোকোমোটিভও বিভিন্ন সময়ে কারিগরি ত্রুটির কারণে পাহাড়তলী ডিজেল শপে মেরামত করতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে আধুনিক লোকোমোটিভের ক্ষেত্রেও দক্ষ মেকানিক, ডায়াগনস্টিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টসের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এদিকে সংকটের মধ্যেই কারখানাটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি আধুনিক অটোমেশন মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এর একটি স্বয়ংক্রিয় ডায়াগনস্টিকস মেশিন। কারখানা-সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে লোকোমোটিভের জটিল ইলেকট্রিক্যাল ও ফুয়েল সিস্টেমের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা যাচ্ছে। অন্যদিকে পার্টস ক্লিনিং ও ফিটিং অটোমেশন মেশিনের মাধ্যমে সিলিন্ডার হেড, ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্টসহ ভারী যন্ত্রাংশ পরিষ্কার ও ফিটিংয়ের কাজ তুলনামূলক দ্রুত ও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ম্যানুয়াল কাজের ক্ষেত্রে ভুলের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি মেরামতের গুণগত মান ও সময়—দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মূল্যবান কর্মঘণ্টা সাশ্রয় এবং মেরামত করা যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতা সঠিকভাবে যাচাই করে কার্যোপযোগিতা নির্ণয়ের জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে Jib Crane, AC Motor Testing Plant এবং Compressor Testing Plant তৈরি ও স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তিগত সুবিধার মাধ্যমে মেরামত ও পরীক্ষণ কার্যক্রমে সময় কমানোর পাশাপাশি যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতা যাচাই আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতি সত্ত্বেও মূল সংকট থেকে যাচ্ছে জনবল ও যন্ত্রাংশে। আধুনিক ডায়াগনস্টিক মেশিন ত্রুটি শনাক্ত করতে পারলেও ত্রুটিপূর্ণ অংশ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় জেনুইন স্পেয়ার পার্টস না থাকলে মেরামত সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। একইভাবে দক্ষ জনবল ছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত করা কঠিন।

একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল অনেকাংশে নির্ভর করে সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্ধারিত ওভারহোলিংয়ের ওপর। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে নির্ধারিত সময়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ সংস্কার ব্যাহত হলে ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্ট, ট্র্যাকশন মোটর, টার্বোচার্জারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্টের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে পুরোনো লোকোমোটিভগুলোকে দীর্ঘদিন সচল রাখার ব্যয়ও বাড়তে থাকে এবং সময়ের আগেই ইঞ্জিন অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পাহাড়তলী ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ মেরামত কারখানার কর্মব্যবস্থাপক (ডিজেল) প্রকৌশলী এতেশাম মো. শফিক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কারখানায় দক্ষ জনবল ও মানসম্মত স্পেয়ার পার্টসের ঘাটতি চলায় মেরামত কাজ করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। তবে দক্ষ জনবল ঘাটতি মোকাবেলা এবং মুল্যবান কর্মঘন্টা সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন রকম অটোমেশন প্রযুক্তি এর ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত প্ল্যান্টস এন্ড মেশিনারিজ এর পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে ডায়াগনস্টিক প্ল্যান্টস ও স্থাপন করা হচ্ছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি বলেন, “সরঞ্জাম বিভাগ যদি বাজেট ও এলসি জটিলতা কাটিয়ে আমদানিকৃত মালামালের দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে কারখানার কাজের গতি ও লোকোমোটিভ সচল করার হার আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।”

কারখানা-সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়তলী ডিজেল শপের বর্তমান সংকট সমাধানে শুধু নতুন মেশিন স্থাপন যথেষ্ট নয়। মঞ্জুরিকৃত শূন্য পদে দ্রুত দক্ষ জনবল নিয়োগ, অভিজ্ঞ মেকানিকদের জ্ঞান নতুন কর্মীদের মধ্যে স্থানান্তর, আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, সময়মতো বাজেট বরাদ্দ এবং জেনুইন স্পেয়ার পার্টস আমদানির জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কারণ পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগ অনেকাংশেই লোকোমোটিভের নির্ভরযোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল। একটি ইঞ্জিন বারবার বিকল হওয়া মানে শুধু একটি মেশিনের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয় ট্রেন পরিচালনা, শিডিউল, যাত্রীসেবা এবং পুরো রেল বহরের ওপর বাড়তি চাপ। পাহাড়তলী ডিজেল শপের কর্মীরা সীমিত জনবল ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিদিন সেই চাপ সামাল দিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে গত চার অর্থবছরে ১৯টি মৃতপ্রায় ও দুর্ঘটনাকবলিত লোকোমোটিভকে মেরামতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সচল করে রানিং ডিভিশনে ফেরত পাঠানো এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে বিভিন্ন টেস্টিং প্ল্যান্ট ও অটোমেশন স্থাপনের মাধ্যমে কারখানাটি তার সক্ষমতারও প্রমাণ দিয়েছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে অপ্রতুল জনবল, পুরোনো যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা এবং জেনুইন স্পেয়ার পার্টস পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান না হলে এই সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে। মঞ্জুরিকৃত জনবল পূরণ, নির্ধারিত ওভারহোলিং নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় জেনুইন স্পেয়ার পার্টস দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে দেশীয় প্রযুক্তির এসব উদ্যোগের সুফল আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে পূর্বাঞ্চলের লোকোমোটিভ বহরের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি বারবার বিকল হয়ে কারখানায় ফিরে আসা ইঞ্জিনের সংখ্যাও কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

 

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ