সোনারগাঁয়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

​স্টাফ রিপোর্টার তাওলাদ হোসাইন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ৯ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। ​নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনা এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত ১:২৫ ঘটিকার সময় পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা টোল প্লাজার কাছে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন আষারিয়ারচর পুলিশ চেকপোস্টের সামনে একটি অভিযান চালায়। অভিযানে কসটেপে মোড়ানো বিভিন্ন প্যাকেটে রাখা সর্বমোট ৯ কেজি (৪+৩+২ কেজি) গাঁজাসহ ৩ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ১.ফয়সাল ওরফে জুজু (২৯): পিতা- আব্দুল লতিফ, গ্রাম- শিমরাইল, থানা- কসবা, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।২.আরিফ (২৩): পিতা- মোহন মিয়া, গ্রাম- কুঠি জাজিয়ারা, থানা- কসবা, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।৩. মোঃ শাকিল (৩৭): পিতা- মোঃ জবেদ আলী, গ্রাম- ছুটিভাগবাউল, থানা- মানিকগঞ্জ সদর, জেলা- মানিকগঞ্জ। ​পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

হারিয়ে যাওয়া ১০৭ মুঠোফোন ফিরে পেল মালিকরা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় হারানো মোবাইল ফোনের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে ১০৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।দীর্ঘদিন পর হারানো ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে জেলার ১৭টি থানায় করা মোবাইল হারানোর জিডিগুলো পর্যালোচনা করে ডিবি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে ১০৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এ সময় ফোন ফিরে পেয়ে মালিকেরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, পুলিশের এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে।

জেলা পুলিশ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হারানো সম্পদ উদ্ধার এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু হত্যায় একজনের যাবজ্জীবন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আলী হোসেনকে হত্যার দায়ে মো.জাহাঙ্গীর আলম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। সন্দীপ থানার এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নানের আদালত এ রায় দেন।দণ্ডপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম, সন্দীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ওয়াচ্ছের বাড়ির মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে। নিহত আলী হোসেন একই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সন্দীপের মগধরা ইউনিয়নের পেলিশ্যার বাজার থেকে কমলা সড়কে ওয়াচ্ছের গো বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় পাঁচ বছরের শিশু আলী হোসেন মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে আছাড় মাড়ে। ফলে দুই কান, নাক ও মাথার পিছনের অংশ দিয়ে রক্ত নির্গত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সন্দীপ মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের বিরোধের জেরে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে তার প্রবাসী বাবা আবু তাহের সন্দীপ থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী বলেন, সন্দীপ থানার পাঁচ বছরের শিশু আলী হোসেনকে হত্যার মামলা সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো.জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ