গাউছে ছমদানী কুতুবে রব্বানী চেরাগে চাটগাম হজরত আল্লামা সৈয়দ গাজী ঈমামউদ্দীন পীর বদর শাহ (রহ.) অ্যাডভোকেট শাহাজাদী মুক্তা।

প্রেস রিলিজ

আগামীকাল ২৯ মার্চ পীর বদর শাহ (রহ.)’র বার্ষিক ওরশ শরীফে উপলক্ষে প্রকাশের জন্য...

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহান রাব্বুল আলামিন তার সৃষ্টি জগতকে সুন্দর ও নিজস্ব চলার গতিতে পরিচালিত করে থাকেন তার সুনিপুণ দিকনির্দেশনা মাধ্যমে। সৃষ্টি জগতে কোথাও কোন ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয় না। রাত-দিন, সূর্য চন্দ্র , গ্রহ, নক্ষত্র নিজ নিজ অক্ষে এবং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে সদা পরিচালিত। রহস্যময়তায় ভরা আমাদের এই পৃথিবী এবং জীবজগৎ। এই পৃথিবীর সৃষ্টির শুরু থেকে আজ এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগ পর্যন্ত যা কিছু দৃশ্যমান সবই মহান রব্বুল আলামীনের কুদরতের বহিঃপ্রকাশ পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তোলা এবং আবাদ করার পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন এবং যাচ্ছেন নবী-রাসুল,অলি আবদাল গাউস কুতুব মোজাদ্দেদ তথা মহান অলি আল্লাহগণ। তেমনি যুগ সংস্কারক মহান অলি হলেন হযরত আল্লামা সৈয়দ গাজী ইমামুদ্দিন পীর বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি।

বাংলাদেশ ছোট একটি বদ্বীপ অঞ্চল।আল্লাহ তার অপার মহিমায় সাজিয়েছেন এই দেশকে। নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন-জঙ্গল এ বেষ্টিত পাহাড়ি কন্যা বা ঝর্ণাধারিনী’ চট্টগ্রাম’সে আদিকাল থেকে আকৃষ্ট করতো বিভিন্ন জাতিকে। এই ভূমিটি পবিত্র হয়েছে আল্লাহর ওলীদের পবিত্র কদমের ছোঁয়ায়। কিন্তু এই পাহাড়ি কন্যা বর্তমান রূপে আসতে প্রথমত যার অবদান অনস্বীকার্য তিনি হলেন গাউসে সামদানী কুতুবেরাব্বানি হযরত আল্লামা সৈয়দ পীর বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি। বাংলাদেশের মানচিত্রে চট্টগ্রাম এক সুপ্রাচীন জনপথ প্রাগৈতিহাসিক দলিল পেরি প্লাস অফ দা ইরিথ্রিয়ান সি এর স্কেচ চিত্রে চট্টগ্রাম শহরের চিহ্ন সুস্পষ্ট। মহাভারতে বর্ণিত কিরাত রাজা বা গ্রিক পর্যটকদের উল্লেখিত কিরা দি রাজা যে চট্টগ্রাম তা ম্যাক্রিন্ডন ও পাজীরটারের মতো পণ্ডিতরা ও স্বীকার করেন। আরাকানের প্রাচীন ইতিহাস রাজো আং এ উল্লেখ আছে চট্টগ্রাম একসময় ব্রহ্মদেশ রূপে গণ্য ছিল। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের মধ্যভাগে অর্থাৎ ১৪৬ সালে চন্দ্র সূর্য নামে মগদের এক সামন্ত ভূস্বামী চট্টগ্রাম থেকে আরাকান পর্যন্ত এলাকা দখল করে আরাকানের ধান্য বতিতে রাজধানী স্থাপন করে একটি রাজ্য গঠন করেন এবং রাজা হন। তারা চন্দ্র-সূর্য রাজবংশ নামে পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত একটানা শাসন করেন। পরবর্তীতে তাদের অন্ত দ্বন্দ্ব এর সুযোগে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে চট্টগ্রাম সমতটের খড়খ রাজবংশ সপ্তম শতকে সমতটের দেবরাজ বংশের অধীনে চলে যায়। অষ্টম শতকে চট্টগ্রাম ধর্ম পালের রাজ্য ভুক্ত হয়। তখন বঙ্গোপসাগর কে বলা হত হরিকেল সমুদ্র। দশম শতকে আরাকানের চন্দ্র সূর্য রাজবংশ পুনরায় চট্টগ্রাম জয় করে নিজ এলাকাভুক্ত করেন।এই সময় প্রতিষ্ঠিত বিজয়স্তম্ভে ,” চেত্তগং”বা যুদ্ধ করা অনুচিত কথাটি উল্লেখ করা হয়। আরাকান রাজবংশীয় উপখ্যান “রন্দজাতুয়ে,” সূত্রে জানা যায় ৯৫৩ সালে আরাকান রাজ সুলতইঙ্গ চন্দয়ত মূর্তন বিজয় করে সেই দেশে একটি বিজয় স্তম্ভ স্থাপন করে তার উক্তি অনুসারে সেই দেশের নাম হয় চেত্তগং (জার্নাল অব দি এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল কলকাতা ১৮৪৪ পৃষ্ঠা নম্বর: ৩৬)

চট্টগ্রাম ব্রহ্মদেশের পগাঁ রাজ, প্যাট্রিক রাজ, সমদর দেব রাজ বংশ আরাকান রা সহ বিভিন্ন শাসকদের পরাধীন ছিল। জঙ্গল আকীর্ণ নদী বিধৌত এই অঞ্চল অরাজকতার শীর্ষে পৌঁছে ছিল। তখন আল্লাহ রাববুল আলামীনের বেলায়তের প্রতিনিধি মোজাদ্দেদ হিসেবে হজরত পীর বদর আউলিয়া (রহঃ) আগমন ঘটে এই অঞ্চলে। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের সাথে সুফি সাধক পীর আউলিয়া, আলেম গণের নাম অঙ্গা অঙ্গি ভাবে জড়িত। আরব, ইরান, ইয়েমেন,খোরাসান,মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে সুফি ও আলেমগণ বাংলাই আগমন করেন।
গাউছে ছামদানি মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানী সুলতানুল অলি গাজী ইমাম উদ্দিন হযরত সৈয়দ পীর বদর রহমাতুল্লাহ আলাইহি ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে চট্টগ্রাম শহরে আগমন করেন। হযরত পীর বদর শাহ ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে মুসলমান কর্তৃক সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম বিজয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাংলা প্রথম স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের আমলে (১৩৩৮-১৩৫০) তার সেনাপতি কদলখান গাজী (রহঃ) এর সহায়তায় শাহ বদর (রহঃ) ও তার সহচরগণ মগদের পরাজিত ও বিতাড়িত করে চট্টগ্রামে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। সপ্তদশ শতকের শেষার্ধে শিহাব উদ্দিন তালিস লিখিত ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি যে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের আমলে ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দ চট্টগ্রাম মুসলমানদের দ্বারা সর্বপ্রথম বিজিত হয়। পর্যটক ইবনে বতুতা (১৩৪৬ থেকে ১৩৪৭) সালে যখন বাংলা সফর করেন তখন তিনি চট্টগ্রাম শহর ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ এর শাসনাধীন দেখেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচারের প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় সপ্তদশ শতকের চট্টগ্রামের কবি মুহাম্মদ খানের মুকতল হুসেন কাব্যে (রচনাকাল ১৬৪৬ খ্রিস্টাব্দ)কবিতার পিতা মাতার বংশ পরিচয় দিতে গিয়ে সর্বপ্রথম মুসলমানদের চট্টগ্রাম বিজয় কাহিনী বর্ণনা দিয়েছেন এবং চট্টগ্রামের বার আউলিয়ার কথাও বলেছেন।

“এক মনে প্রণাম করি বারে বার কদলখান গাজী পীর ত্রিভুবন সার যার রণে পড়িল অক্ষয় (অসংখ্য)রিপুদল,
ভয়ে কেহ মজ্জি গেল সমুদ্রের তল,
এক মর মহিম হইল প্রাণহীন,
রিপু যিনি চাটি গ্রাম কৈলা নিজাধিন,
বৃক্ষ ডালে(তলে) বসি ছিলা কাফিরেরগণ,
সেই বৃক্ষ ছেদী সবে করিলাম নিধন,
তান একাদশ মিত্র করম প্রণাম,
পুস্তকভাবে এহেতু না লিখিলু নাম,
তান একাদশ মিত্র জিনিয়া চাটিগ্রাম,
মুসলমান কৈলা চট্টগ্রাম অনুপম।”
পাণ্ডুলিপিতে আরো উল্লেখ আছে যে যুদ্ধ জয়শেষে কদল খান গাজী যখন শিবিরে ফিরেছিলেন। তখন তিনি নিজের কয়েকজন বন্ধু দরবেশকে দেখলেন। তাদের মধ্যে হাজী খলিল ও শাহ বদর রাহমাতুল্লাহ আলাইহি ছিলেন সুবিখ্যাত।কদলখান গাজী তাদের নিয়ে গেলেন। হাজী খলিল কে দেখে হযরত শাহ বদর রহমাতুল্লাহ আলাইহি খুশি হলেন । বোঝা গেল বেশ বড় রকমের যুদ্ধ হয়েছিল।তাতে অমুসলিম পক্ষ সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছিল এবং এই যুদ্ধে দরবেশ বাহিনী ও যথেষ্ট সাহায্য করেছিল।

এই থেকে প্রমাণ হয় যে চট্টগ্রাম সর্বপ্রথম বিজিত হয় কদলখান গাজীসহ বারো আউলিয়ার মাধ্যমে এবং আরেকটি সত্য প্রমাণিত হয় কর্তৃক চট্টগ্রাম বিজয়ের পূর্বে হযরত শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি চট্টগ্রামে অবস্থান করেন। ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি জীবিত ছিলেন। তিনি কদলখান গাজীর আগে আল্লাহর নির্দেশে আরব দেশ হতে চট্টগ্রাম আসেন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি বিশাল পাথর খন্ডে (কিস্তি) অলৌকিক শক্তি বলে আরব সাগর পাড়ি দেন। তিনি বাংলাদেশে প্রবেশের আগে বার্মা অবস্থান করেন পামেলা গুড ম্যান লিখিত “বারমা’স লস্ট কিংডম” শিরোনামে যুক্ত গ্রন্থে এই বদর মোকামের পরিচয় পাওয়া যায়। পামেলা লিখেছেন বুদ্ধ আউলিয়া নামে পরিচিত পীরের সম্মানে ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানরা এটি নির্মাণ করেন। ৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে আরাকানের ব্রিটিশ কমিশনার বদর মোকাম সম্পর্কে এক বিবরণ লিখে যান। তারপর তিনি টেকনাফ শহর থেকে একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে সর্বশেষ প্রান্তের নাম বদর মোকাম নামক স্থানে বার্মা থেকে আসার পথে যাত্রা বিরতি করেন। আগের দিনে এই বদর মোকাম ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে এপ্রিল মাসে প্রলয়নকারী ঘূর্ণিঝড়ে এই স্মৃতি বিজড়িত স্থান অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বর্তমানে (১৯৯১) সালে বদর মোকামের কিছু জায়গা চর আকারে পুনরায় জেগে উঠেছে। টেকনাফ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে এই মহান অলি এবাদতের উদ্দেশ্যে যাত্রা বিরতি করেন। বর্তমানে কক্সবাজার সদরে বদর মোকাম মসজিদ নামে স্থানটি পরিচিতি লাভ করে।

এরপর কক্সবাজার হতে পুনরায় যাত্রা শুরু করে চকরিয়ায় বদরখালী নামক স্থানে তিনি যাত্রা বিরতি করেন।তারপর তিনি কর্ণফুলী নদী হয়ে (বর্তমানে পাথরঘাটা) দিয়ে বক্সিরহাটে এসে পৌঁছলেন এবং বকশিবাজারস্থ মাটির মাজার (মেট্যে মাজার) নামক স্থানে তিনি উজু করেন এবং চুল, গোঁফ, দাড়ি মুবারক কেটে ছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। বর্তমানে দরগা প্রাঙ্গনে তার আস্তানা গড়ে তোলেন। তার এবাদতের নির্জনতার জন্য এবং জিন, পরীদের আর মগদের দৌরাত্ব দমন করতে বর্তমান (চারাগি পাহাড়) নামক স্থানে অবস্থান করেন এবং জিন পরীদের সাথে তার আধ্যাত্মিক যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবার একটি মাটির প্রদীপ চাটি রাখার স্থান চেয়ে নিয়ে সেখান থেকে ইসলামের ঐশী আলো ছড়িয়ে সমগ্র চট্টগ্রাম আলোকিত করেন।
চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গন বিভিন্ন তথ্য লিখে গিয়েছেন। তার মধ্যে হযরত পীর বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহির এর এই অঞ্চলে আগমন এবং চেরাগ বা চাটি জ্বালিয়ে অলৌকিক ইসলাম এর আলো ছড়িয়ে তিনি যে সভ্য জাতির বীজ বপন করে গিয়েছেন তা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য এবং স্বীকৃত।হজরত বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি কতৃক অশুভ শক্তিকে বিতাড়িত করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলের নাম চাটি গ্রাম বা চাট গাঁ নামের পরিচিত। আজও চট্টগ্রামের লোকেরা ধাতব বা মাটির তৈরি প্রদীপ কে চেরাগ বা চাটি বা চাডি বলে। মূলত ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের পর হতে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পর্যটক ও ঐতিহাসিকদের বর্ণনা থেকে চট্টগ্রাম নামের প্রমাণ মিলে।

এই মহান সাধক এক আধারে বেলায়েতের সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মাদারজাত অলি এবং মোজাদ্দেদ ছিলেন সেই সাথে তিনি যোদ্ধা অর্থাৎ গাজী হিসেবে এই অঞ্চলে খ্যাতি লাভ করেন তার জীবনের যেই সময়টুকু তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে কাটিয়েছেন তা বহুল ঘটনার সমৃদ্ধ এবং কারামত সম্বলিত। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ পর্যন্ত তিনি মানবতার ধর্ম ইসলামের সুশীতল বাতাসে চট্টগ্রামের জমিনকে পবিত্র ভূমিতে রূপান্তরে অক্লান্ত চেষ্টা করে গিয়েছিলেন এই মহান অলি প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে আমাদের জন্য বয়ে এনেছিলেন ইসলামের আলো তার এই প্রশংসায় আল্লামা হযরত আজিজুল হক শেরে বাংলা শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার রচিত “দিওয়ান-ই-আজিজ” “এ উল্লেখ করেন চাটগাম আবাদ আজওয়াই গোশত বেশক মারহাবা আযদাহ মিশলে বদর বেশক মিয়ানে আউলিয়া”।
অর্থ: নিশ্চয়ই তার দ্বারা চট্টগ্রাম আবাদ হয়েছে তাকে স্বাগতম অলিগনের মধ্যে তিনি নিঃসন্দেহে পূর্ণিমা চাঁদের মতো হয়ে এসেছেন।
“মাসকানে জিন্ন ও পরীমুদাহ বেলা আসক চাটগাম এক চেরাগ আদাযাহ যুশজা গেরেফতাহলা কালাম”
অর্থ: নিঃসন্দেহে চট্টগ্রাম ছিল জিন ও পরীর বাসস্থান তিনি মাত্র একটি চেরাগ পরিমাণ জায়গা তাদের থেকে নিয়েছিলেন এতে সবাই একমত কারো দ্বিমত নেই।।
“দর বদর পাতি বেদানি রওজােয়ে পুর নূরে উ মারদুমা পুর ফায়য বা শন্দ দাইমান আযযাতে উ”

অর্থ: তার নূরানী মাজার বদর পাতিতে অবস্থিত মানুষ সবসময় তার পবিত্র সত্তা থেকে ফয়েজ প্রাপ্ত হচ্ছেন।
হযরত পীর বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে যে কোন এক সময়ে উফাত প্রাপ্ত হন ঐতিহাসিক গবেষক এবং আউলিয়া একরাম গণের মতামত অনুসারে তিনি ১৩৪০ সালের পরে (পহেলা ছাওয়াল বা চাঁদরাতে )উফাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রয়াত মতয়াল্লি সৈয়দ দেরাযদ্দৌল্লাহ ফকিরের সময় থেকে ভক্তদের ওরশ শরীফে অংশগ্রহণের সুবিধার জন্য এবং রমজান ও ঈদুল ফিতরের কারণে প্রতিবছর (৯ সাওয়াল) এই মহান অলি আল্লার বার্ষিকী ওরশ শরীফ পালন করা হয়। ব্যাপক ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণভাবে এই মহান সাধকের মাজার প্রাঙ্গনে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় দিনটি। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই শ্রদ্ধা ভরে এই মহান ওলীকে আজও স্মরণ করেন।

লেখিকা: অ্যাডভোকেট শাহাজাদী মুক্তা, বদরপতি, বক্সহিরহাট, হজরত পীর বদর শাহ (রহঃ) মাজার শরীফ, চট্টগ্রাম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাসুল (সাঃ)-এর আদর্শ অনুসরণেই ব্যক্তি ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আদর্শ অনুসরণেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পটিয়ায় অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিলের বক্তারা। তাঁরা বলেন, মহানবী (সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

গতকাল ২১ আগস্ট, শুক্রবার, চট্টগ্রামের পটিয়ার দক্ষিণ হুলাইন, নিমতল, ইমাম হোসাইন সড়কে হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের উদ্যোগে রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শুভাগমন উপলক্ষে আয়োজিত ১২ দিনব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল-২০২৬-এর ৮ম দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ট্রাস্টের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত ৮ম দিনের কর্মসূচিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাত-মুশায়েরা, বয়ান ও ধর্মীয় আলোচনা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সালাতু সালাম, ফাতেহা ও জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজ গেইটস্থ গাউছুল আজম শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ তাওফিক ইলাহী ক্বাদেরী।
প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁওয়ের আল-হুমায়ারা (রাঃ) মহিলা ফাজিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক হাফেজ মাওলানা নাজমুল হোসাইন মুনির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার সহ সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ কুতুব উদ্দিন রোকন সাদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার সভাপতি লোকমান হাকিম বি.কম.

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সাংবাদিক মোঃ বাকি বিল্লাহ চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সার্ভেয়ার আইয়ুব আলী মিজান।পুরো আয়োজনটি হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হযরাতুলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল-কাদেরী (ম.জি.আ.)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ তাওফিক ইলাহী ক্বাদেরী বলেন, “মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পবিত্র জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশ। তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন করা গেলে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে মহানবী (সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানাতে হবে। কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের চর্চা বাড়াতে হবে।

বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ছিল মানবিকতা, ন্যায়, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায় ও অশান্তি দূর করে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বক্তারা আরও বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে ইসলামী শিক্ষা ও মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মহানবী (সাঃ)-এর আদর্শকে ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মাহফিলকে ঘিরে স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুসল্লি, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি ছিল। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাত-মুশায়েরা, বয়ান-আলোচনা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সালাতু সালাম, ফাতেহা ও জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, ১২ দিনব্যাপী এ মাহফিলের ১২তম ও সমাপনী দিনের কর্মসূচি আগামী ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী দিনে বোখারী শরীফ পাঠ, খতমে ছহীহ্, দস্তারবন্দী, মিলাদ, নাতে রাসুল (সাঃ) ও বিশেষ ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করবেন হযরাতুলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল-কাদেরী (ম.জি.আ.)।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে ‘সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা আজ ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ আলহাজ্ব সুলতান আহমদ হলে অনুষ্ঠিত হয়। ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় উলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন হয়েছে বলেই মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টিজগৎ অস্তিত্ব লাভ করেছে। সকল সৃষ্টির উৎসই হচ্ছেন মহানবী (দ.)। তাঁর কারণে এবং তাঁরই উসিলায় সৃষ্টি জগৎ অস্তিত্ব পেয়েছে, টিকে আছে এবং টিকে থাকবে। তাই সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ পুণ্য বরকত, কল্যাণ এবং সবিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন মানে কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী। তিনি বলেন, সমগ্র সৃষ্টির মূল হচ্ছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)। তাঁর আনুগত্য ও আহলে বাইতে রাসুলকে (দ.) ভালোবাসা ফরজ। উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ আন্তঃযোগাযোগ না থাকা, অনৈক্য-বিভাজনের কারণে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরা পেছনে পড়ে রয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতিসহ দেশ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমরা নেই। ফলে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী আমাদের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে। সুফিবাদী উদারনৈতিক মানবিক ইসলামের প্রসার ঘটাতে সকল সুন্নি মতাদর্শী ও তরিকতপন্থিদের একই প্ল্যাটফরমে আসতে হবে। মুখ্য আলোচক ছিলেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান। তিনি বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন আল্লাহ পাকের সেরা নিয়ামত। তাই নিয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করি।

বিগত দুই বছরে বহু মাজার খানকায় হামলা হয়েছে। মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে অসংখ্য মাজার গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও এর বিচার হয়নি। বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে এর প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে। উদ্বোধক ছিলেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ নাফিসুর রহমান মাইজভা-ারী। স্বাগত বক্তব্য দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম বরকত আকাশ। নির্ধারিত বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনায় অংশ নেন হযরত শাহ আমানত (রহ.) দরবার শরীফের আওলাদ শাহজাদা সৈয়দ হাবিবুল্লাহ খান মারুফ, গবেষক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, শাহজাদা মাওলানা ফখরুল ইসলাম রিজভী, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ গোলাম রসুল, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ ছালেকুল মাওলা, আল্লামা শফিকুল ইসলাম আস সাঈদী, আল্লামা মঈনুদ্দিন রেজভী, মাওলানা রায়হান রেজা আশরাফী, মাওলানা আবদুল মান্নান আশরাফী,আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা ও হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা প্রমুখ আনিছ মুহাম্মদ বিপলু, এম মহিউল আলম চৌধুরী, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নেজামী, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, ফরিদুল আলম আশরাফী, মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা ও হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা বলেন, সুন্নি সুফিবাদিরা আজ জেগে উঠেছে। তাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না।

ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন গোলটেবিল আলোচনায় সমবেত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের পরিবেশনায় মিলাদ কিয়াম শেষে দেশ ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানবতার পরিত্রাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ