ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।

ফের রামু বৌদ্ধ বিহারে ‘অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের’ আগুন।

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজার জেলার রামু সদরে ‘অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের’ দেওয়া আগুনে একটি বৌদ্ধ বিহারের সিঁড়ি পুড়ে গেছে; তবে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা তাৎক্ষণিক এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান জানান, শুক্রবার গভীর রাতে রামু উপজেলা সদরের চেরাংঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

তবে আগুনের সূত্রপাতের পাশাপাশি এটি নাশকতা নাকি নিছক কোন দুর্ঘটনা তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।

আবু তাহের দেওয়ান বলেন, শুক্রবার রাতে রামু উপজেলা সদরের চেরাংঘাটাস্থ রাখাইন সম্প্রদায়ের দেড়শ বছরের পুরানো কাঠের তৈরী ‘উসাইচেন বৌদ্ধ বিহারের (বড় ক্যাং)’ পুরোহিতসহ অন্যরা প্রতিদিনের মত ঘুমিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে রাত ২ টার দিকে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। এসময় বৌদ্ধ বিহারের ভিতরে অবস্থানকারিরা শোর-চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে রামু ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বৌদ্ধ বিহারটির ভিতরের কাঠের তৈরী একটি সিঁড়ি পুড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিক আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ওসি বলেন, “আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে তা জানা যায়নি। তাছাড়া এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। রাতে ঘটনাটি শোনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বৌদ্ধ বিহারসহ আশাপাশের সব সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ ঘটনা কিভাবে ঘটেছে বা কোন দূর্বৃত্তরা সংঘটন করেছে কিনা পুলিশ তদন্ত করছে।

আবু তাহের দেওয়ান জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। সকালে পুলিশসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ খবর নিয়ে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাহাড় ও হ্রদের বুকে এক মানবিক অধ্যায়: হাবীব আজমের বিদায় ও জনকল্যাণের পদচিহ্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সময় বয়ে যায় নদীর স্রোতের মতো। মানুষের জীবনে আসে নানা অধ্যায়, কেউ আসে, কেউ চলে যায়; কিন্তু কিছু মানুষের কর্ম, ভালোবাসা ও মানবিকতার স্পর্শ সময়ের সীমানা পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে থাকে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের (RHDC) চত্বরে দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিনের—মোট ৬৪৯ দিনের—কর্মময় ও দায়িত্বশীল অধ্যায় শেষে বিদায় নিয়েছেন তরুণ ও মানবিক নেতা মো. হাবীব আজম।

আশা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সততাকে পুঁজি করে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, বিদায়ের মুহূর্তে তা পরিণত হয়েছে এক গুচ্ছ স্মৃতি, অর্জন ও জনকল্যাণের গল্পে। জেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনের সময়টুকু তাঁর জন্য যেমন ছিল প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতার অধ্যায়, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে তা ছিল একজন জনপ্রতিনিধির মানবিক মুখ দেখার সময়।
পাহাড়, হ্রদ আর মেঘের উপত্যকা রাঙ্গামাটিতে হাবীব আজমের কাটানো দিনগুলো শুধু দাপ্তরিক ফাইল, সভা কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, দুর্যোগে ছুটে যাওয়া, অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করা, দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া, যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক আলাদা মানবিক পরিচয়।
জনকল্যাণের পথে দীর্ঘ এক যুগের পদচিহ্ন:

জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার অনেক আগে থেকেই হাবীব আজম ছিলেন মানুষের পাশে। বিগত এক যুগ ধরে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে কোনো এলাকায় আগুন লাগার খবর, কোথাও পাহাড়ধস, বন্যা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ—দুর্গমতার বাধা পেরিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। দুর্গম এলাকায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা তুলে দেওয়া তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক।

অনেক সময় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পৌঁছাতে সময় লাগে। সেই অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন হাবীব আজম। এ কারণেই সংকটের সময়ে তাঁকে অনেক মানুষের কাছে একজন নির্ভরতার মানুষ হিসেবে দেখা গেছে।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে মানবিক হাত:
একজন শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে যেন তার স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত না হয়—এই ভাবনা থেকেই শিক্ষা সহায়তায়ও সক্রিয় ছিলেন হাবীব আজম।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অসচ্ছল শিক্ষার্থী সুমনা আকতারের ভর্তির সমস্ত খরচ বহন করার পাশাপাশি তাঁর ভবিষ্যৎ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া হাবীব আজমের শিক্ষানুরাগী কর্মকাণ্ডের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।শুধু একজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো নয়, শিক্ষাকে সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, একটি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানকে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া মানে শুধু একজন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা নয়; বরং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
স্বাস্থ্যসেবায় অসহায় মানুষের পাশে:

অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারা অসহায় মানুষের পাশেও বারবার দাঁড়িয়েছেন তিনি। ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমসহ অসংখ্য চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ এবং চিকিৎসার খরচ বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
মানুষের অসুস্থতার খবর পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর এই প্রবণতা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আপন করে তুলেছে। তাঁর কাছে মানবিকতা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মানুষের কষ্টকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখার একটি মানসিকতা।

শীতের রাতে ছিন্নমূল মানুষের উষ্ণতার সঙ্গী:
তীব্র শীতে যখন মানুষ ঘরের উষ্ণতায় নিরাপদ থাকতে চায়, তখন রাতের আঁধারে ছিন্নমূল মানুষের কাছে গিয়ে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে হাবীব আজমের।
বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু থেকে শুরু করে ফুটপাত ও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো অসহায় মানুষের মাঝে নিজে উপস্থিত হয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন তিনি। তাঁর কাছে মানবিক সহায়তার সবচেয়ে বড় মূল্য ছিল—যে মানুষটির প্রয়োজন, তার কাছে গিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য কারিগর:
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সামাজিক বাস্তবতায় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গায় হাবীব আজমের অন্যতম বড় শক্তি তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।
দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা জনগোষ্ঠীর পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষের সুখ-দুঃখে সমানভাবে ছুটে যাওয়ার কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বিস্তৃত পরিসরে।
প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছেও তাঁর উপস্থিতি তৈরি করেছে আস্থার জায়গা। মানুষের পরিচয়ের আগে মানুষকে দেখার এই মানসিকতাই তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
জ্ঞানচর্চায় নতুন প্রজন্মের জন্য ‘পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার:

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করার ক্ষেত্রেও হাবীব আজমের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।
নিজস্ব অর্থায়নে রাঙ্গামাটির বনরূপায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার’। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানার সুযোগ করে দেওয়া এবং তরুণদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ডিজিটাল যুগে যখন তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত, তখন একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ভাবনার প্রতিফলন।
শিশুদের মাঝে দেশপ্রেমের বীজ বপন:
দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতি বছর মহান স্বাধীনতা দিবসে রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে আগত হাজারো শিশুর মাঝে জাতীয় পতাকা, মাথায় পরার ফিতা ও বেলুন বিতরণ করেন তিনি।

শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার এই ছোট্ট উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তাদের মনে দেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বাধীনতার ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
তাঁর কাছে দেশপ্রেম শুধু বক্তৃতার বিষয় নয়; বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সামাজিক দায়িত্ব।মাদকমুক্ত সমাজ ও তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগানো:

যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই—এই বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব ও তরুণদের উৎসাহিত করেছেন হাবীব আজম।
বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবকে জার্সি ও ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান, খেলাধুলার আয়োজনকে উৎসাহ দেওয়া এবং তরুণদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।তাঁর বিশ্বাস, একজন তরুণ যদি খেলার মাঠে থাকে, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, তাহলে সে সমাজের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তাই মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে ক্রীড়াকে তিনি একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন।
পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ:

পাহাড় ও হ্রদের শহর রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও যুক্ত ছিলেন হাবীব আজম।সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তরুণদের পরিবেশ সচেতন করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
পর্যটন উন্নয়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ:
রাঙ্গামাটির অর্থনীতিতে পর্যটনের গুরুত্ব অপরিসীম। জেলা পরিষদে পর্যটন করপোরেশন ও নার্সিং ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের দায়িত্বে থেকে পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করার বিভিন্ন উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন হাবীব আজম।

পর্যটনকেন্দ্রে যাত্রীছাউনি, ওয়াশরুম এবং ঝুলন্ত ব্রিজের অপর পাশে ওয়াকওয়ে ও সিঁড়ি নির্মাণের মতো অবকাঠামোগত উদ্যোগ পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথম ‘ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ:
পর্যটন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর নির্ভরশীল নয়; দক্ষ জনবলও একটি পর্যটন এলাকার অন্যতম শক্তি। এই বাস্তবতা বিবেচনায় জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেন হাবীব আজম।

এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের পর্যটন খাতে দক্ষ করে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পর্যটকদের সামনে রাঙ্গামাটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।সংক্ষিপ্ত জীবন ও সাংগঠনিক পথচলা:
জন্ম ও পরিবার মো. হাবীব আজম ১ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে রাঙ্গামাটি শহরের কাঁঠালতলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মো. চাঁন মিয়া এবং মা ফাতেমা বেগম।
শৈশব থেকেই রাঙ্গামাটির মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা হাবীব আজমের সামাজিক চিন্তা ও কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়।

শিক্ষাজীবন:
তিনি চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে তাঁর আইন বিষয়ে শিক্ষাজীবনের এই অধ্যায় সম্পন্ন হয়।
আইন বিষয়ে শিক্ষালাভ তাঁর সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং দায়িত্বশীলতার বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব:
হাবীব আজম পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)-এর সাবেক রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি এবং বর্তমানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ, ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করা এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক পরিসরে সক্রিয়।

সামাজিক সম্পৃক্ততা:
মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও FPAB-এর আজীবন সদস্য। পাশাপাশি ‘হিল ট্রেকার্স’, ‘হিলফুল যুব সংগঠন’ ও ‘হিল সার্ভিস’-এর উপদেষ্টা হিসেবেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
পদ থেকে বিদায়, মানুষের কাছ থেকে নয়:
একজন জনপ্রতিনিধি বা পরিষদ সদস্যের দায়িত্বের সময়সীমা নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চত্বরে হাবীব আজমের ৬৪৯ দিনের অধ্যায় শেষ হয়েছে। দায়িত্বের চেয়ার বদলেছে, দাপ্তরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে; কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে অভ্যাস, তা থেমে যাওয়ার নয়।

ক্ষমতার অহংকার, পদ-পদবির মোহ কিংবা বিলাসিতা তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি—এমনটাই তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের চিত্রে প্রতিফলিত হয়। বরং তিনি বারবার দেখিয়েছেন, জনপ্রতিনিধিত্ব মানে শুধু একটি পদ বা পরিচয় নয়; এটি মানুষের সেবা করার একটি বড় সুযোগ এবং মানুষের আস্থা ধরে রাখার একটি গুরুদায়িত্ব।
পাহাড় ও হ্রদের শহর রাঙ্গামাটিতে তাঁর রেখে যাওয়া পদচিহ্ন তাই কেবল উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। তা ছড়িয়ে আছে কোনো অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া খাদ্যসামগ্রীতে, কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের সহায়তায়, কোনো অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায়, শীতার্ত মানুষের গায়ে জড়ানো শীতবস্ত্রে, কোনো শিশুর হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় পতাকায়, কোনো তরুণের হাতে দেওয়া ক্রীড়া সামগ্রীতে কিংবা কোনো পাঠাগারের নীরব বইয়ের পাতায়।

জেলা পরিষদ থেকে তাঁর বিদায় হয়েছে—কিন্তু মানুষের কাছ থেকে নয়। দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও জনকল্যাণের পথচলা যে শেষ হয়নি, তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
রাঙ্গামাটির পাহাড়, হ্রদ আর মানুষের হৃদয়ে একজন তরুণ নেতার ৬৪৯ দিনের দায়িত্বের স্মৃতি হয়তো সময়ের সঙ্গে আরও দূরে সরে যাবে; কিন্তু মানুষের জন্য করা ভালো কাজগুলো থেকে যাবে—নীরবে, নিঃশব্দে, মানুষের স্মৃতির গভীরে।হাবীব আজমের বিদায় তাই কেবল একটি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়, বরং জনকল্যাণের এক মানবিক অধ্যায়ের নতুন পর্বে প্রবেশ।

রাসুল (সাঃ)-এর আদর্শ অনুসরণেই ব্যক্তি ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আদর্শ অনুসরণেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পটিয়ায় অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিলের বক্তারা। তাঁরা বলেন, মহানবী (সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

গতকাল ২১ আগস্ট, শুক্রবার, চট্টগ্রামের পটিয়ার দক্ষিণ হুলাইন, নিমতল, ইমাম হোসাইন সড়কে হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের উদ্যোগে রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শুভাগমন উপলক্ষে আয়োজিত ১২ দিনব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল-২০২৬-এর ৮ম দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ট্রাস্টের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত ৮ম দিনের কর্মসূচিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাত-মুশায়েরা, বয়ান ও ধর্মীয় আলোচনা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সালাতু সালাম, ফাতেহা ও জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজ গেইটস্থ গাউছুল আজম শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ তাওফিক ইলাহী ক্বাদেরী।
প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁওয়ের আল-হুমায়ারা (রাঃ) মহিলা ফাজিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক হাফেজ মাওলানা নাজমুল হোসাইন মুনির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার সহ সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ কুতুব উদ্দিন রোকন সাদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার সভাপতি লোকমান হাকিম বি.কম.

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সাংবাদিক মোঃ বাকি বিল্লাহ চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সার্ভেয়ার আইয়ুব আলী মিজান।পুরো আয়োজনটি হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হযরাতুলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল-কাদেরী (ম.জি.আ.)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ তাওফিক ইলাহী ক্বাদেরী বলেন, “মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পবিত্র জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশ। তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন করা গেলে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে মহানবী (সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানাতে হবে। কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের চর্চা বাড়াতে হবে।

বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ছিল মানবিকতা, ন্যায়, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায় ও অশান্তি দূর করে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বক্তারা আরও বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে ইসলামী শিক্ষা ও মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মহানবী (সাঃ)-এর আদর্শকে ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মাহফিলকে ঘিরে স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুসল্লি, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি ছিল। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাত-মুশায়েরা, বয়ান-আলোচনা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সালাতু সালাম, ফাতেহা ও জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, ১২ দিনব্যাপী এ মাহফিলের ১২তম ও সমাপনী দিনের কর্মসূচি আগামী ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী দিনে বোখারী শরীফ পাঠ, খতমে ছহীহ্, দস্তারবন্দী, মিলাদ, নাতে রাসুল (সাঃ) ও বিশেষ ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করবেন হযরাতুলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল-কাদেরী (ম.জি.আ.)।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ