১০ মাঘের গাউসুল আযম মাইজভান্ডার দরবার শরীফ দেশের সর্ববৃহৎ স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাবেশ

লেখক ঃ নাজমুল হাসান চৌধুরী হেলাল আওলাদে গাউসুল আযম মাইজভান্ডারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১০ মাঘ ১৪৩০ বাংলা ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ বুধবার বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা,বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভা-ারীয়া’র প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভা-ারী (ক.) কেবলা কাবার ১১৮তম মহান ১০ মাঘ উরস শরিফ ১০ মাঘ। বাংলা সনের এ তারিখ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের বর্ষপঞ্জির এক উল্লেখযোগ্য তাৎপর্যময় দিন।এ তারিখটি সারা বাংলাদেশের জন্যই সাংবাৎসরিক গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হিসেবে প্রতিষ্টিত।১০ মাঘ,হযরত গাউসুল আযম মাইজভান্ডারি শাহসূফি হযরত মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহর (ক.)ওফাত দিবস।বাংলা ১৩১৩ সনের ১০ মাঘ মোতাবেক ইংরেজী ১৯০৬ সনের ২৩ জানুয়ারী তিনি ওফাত প্রাপ্ত হন। (সুত্র মাসিক আলোকধারা) এ তারিখে প্রতি বছর মাইজভান্ডার দরবার শরীফে মহাসমারোহে উরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর মাঘ মাস শুরু হবার আগে থেকেই চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বাংলাদেশের নিভৃত পল্লী জনপদগুলো ঢোলক, খরতাল প্রভৃতি রখমারী বাদ্যের তালে তালে জেগে উঠে অকস্মাৎ। মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রাম বাংলার কৃষকের শান্ত উঠোন,প্রশান্ত আঙিনা। বাদ্যের তালে তালে অনুরণিত হতে থাকে মাইজভা-ারী গানের সুর। ‘মানুষ ধরা কল বসাইছে আমার বাবা ভান্ডারী, সেই কলেতে পড়লে ধরা আর থাকেনা ঘর-বাড়ী’ নানান ধরনের তকরীর দিতে দিতে সারিবদ্ধভাবে চলে মানুষ। পাড়ায় পাড়ায় ঘরে ঘরে গিয়ে সংগ্রহ করে উরস উপলক্ষে চাউল টাকা। ঢোলকের তাল, সানাইয়ের সুর শুনেই বৌ-ঝিরা বুঝতে পারে ওরশের নজরানা যোগাড়ে বেরিয়েছেন ভক্তরা। এসব দলে থাকেন এক কিম্বা একাধিক মাস্তান।শুধু চট্টগ্রামে নয়,বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেই,এমনকি প্রতিটি মহল্লাতেই পাওয়া যাবে কয়েকজন করে ভান্ডারী-পাগল এমন মাস্তান। তাদের কারো মাথায় লম্বা বাবড়ী কাটা ঝাকড়া চুল। কারো হাতে লোহার কিম্বা গাছের বড় লাঠি,কারো হাতে লোহা বা তামা পিতলের বালা। পোশাকে-আশাকে নিতান্তই সাধারণ। কিন্তু প্রথম দর্শনেই এদের স্বকীয় একটা বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে। এদের দেখলে যে কেউই সহজে বুঝতে পারে। এরা ভান্ডারীর পাগল-মাস্তান। হক ভান্ডারীই এদের মুখের বুলি, জপমন। সারা দুনিয়াই যেন এদের ঘর। কেউ এদের পর নয়। উরস শরীফের নজরানা সংগ্রহের মিছিলে এদের উপস্থিতি পরিবেশকে করে তোলে আরো বৈচিত্র্যময়। যেখানে সেখানে এরা হালকায়ে জিকির শুরু করে দেয়। ঢোলক বাঁশীর আওয়াজ পেলে তো কথাই নেই এদের ভাবের সাগরে যেন তুফান উটে। বাল্যকালে এমন মিছিলে দু একজন মাস্তান কে ঢোলকের তালে তালে গাইতে শুনেছি “ফকিরী সহজ কথা না,লম্বা চুলে তেল মাখিলে ফকিরী পাবা না” কিম্বা ভান্ডারী! কি যাদুতে আমায় ভুলাইলি, গোস্ত দিবার আশা দিয়া কত্তি কিনালি (কত্তি অর্থ মাটির বদনা) “দেখে যারে মাইজভান্ডারে হইতাছে নুরের খেলা, নুরের মাওলা বসাইছে প্রেমের মেলা” আরো দেখেছি গান শুনে শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ের অশ্রুসিক্ত অভিব্যক্তি।
১০ মাঘের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয় মাইজভান্ডার শরীফ অভিমুখে জনগ্রোত। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটায় দুর দুরান্ত থেকে শত শত বাস ভাড়া করে আসেন লাখ লাখ মানুষ। সে এক অপরূপ দৃশ্য। ট্রেনে বাসে পায়দলে কেবল মানুষের মিছিল।কিসের টানে কোন সে মোহিনী আকর্ষণে কাতারে কাতারে লক্ষ লক্ষ মানুষ এদিকে ছুটে আসেন।তা আল্লাহপাকই ভাল জানেন। সুফি কবি আবদুল হাদীর ভাষায় চল গো প্রেম সাধুগণ প্রমেরী বাজার,প্রেম হাট বসিয়াছে মাইজভান্ডার মাঝার। নারী পুরুষ, শিশু যুবক সকল বয়সের সকল স্তরের মানুষের সে এক মিলনমেলা মহাসম্মিলন। সমগ্র বাংলাদেশ যেন ভেঙে পড়ে মাইজভান্ডার শরীফ গ্রামে। মাইজভান্ডার শরীফ হয়ে ওঠে সমগ্র বাংলাদেশের মহামিলন তীর্থ। গোটা দেশের সাংস্কৃতিক আর্থিক ঐক্যের প্রতীক- প্রতিভু। লাখো লাখো মানুষ শুধু যায় আর আসে, পিঁপড়ের ঝাকের মত। সে দৃশ্য চোখে না দেখলে বলে বুঝানো যাবেনা।১০ মাঘ এভাবে পরিনত হয় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম স্থলে। শুধু জনসমাগম নয়,এই গোটা বিশাল গ্রামটিই তখন পরিনত হয় এক সুবিশাল এবাদতগাহে।সর্বক্ষণ চলে হালকায়ে জিকির,মিলাদ মাহফিল।দরবারের স্থানে স্থানে অজিফা পাঠ। আল্লাহর হামদ, মহনবীর নাত, আওলিয়া কেরামদের শানে গজল কাওয়ালী। ধর্মীয় পবিত্রতা, নিবেদিত প্রানের আকুতি যেন জড়িয়ে রাখে সমগ্র মাইজভান্ডার শরীফ কে। মানুষ নিজের অজান্তেই এতে হারিয়ে যায়, বিলীন হয়ে যায় মিশে যায় সেই অনাদি অনন্ত মহাশক্তির দরদী বুকে, মরমী সত্তায়। ১০ মাঘ উপলক্ষে মাইজভান্ডার শরীফে বসে এক বিরাট মেলা।বর্তমানে ঐ তারিখে দরবার শরীফের আশে পাশে বাজারগুলো যথা নাজিরহাট, নানুপুর লেলাং ফরহাদাবাদ প্রভৃতি জমে উঠে। হস্তশিল্পজাত বহু সামগ্রী এখানে বেচা কেনা হয়। চালুনি কুলা বেলুনি দা চুরি কোদাল বাঁশ বেতের অন্যান্য সামগ্রী। মাটির তৈরি তৈজস খেলনাপাতি মৌসুমি ফসল মূলা খীরা বরই হরেক রকম জিনিস পত্রের পসরা বসে। হালদা নদীর ভেতর চরে জম্মানো সাত/আট থেকে বার/চৌদ্দ কেজি ওজনের বিশাল বিশাল মুলা কাঁধে ঝুলিয়ে ঘরে ফেরেন ওরশার্থীরা। ১০ মাঘের কয়েকদিন আগে পিছে চলে চলে বেচাকেনা। ১০ মাঘ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের হরেক রকম কুটির শিল্পের এক প্রদর্শনী ও বিপণন কেন্দ্র। আবহমান বাংলাকে পরিপূর্ণ রূপে খুঁজে পাওয়া যায় এখানে।
মাইজভান্ডার দরবার শরীফে সকল ঘরে চলে এ উপলক্ষে জেয়াফত। দরবারে আগত লক্ষ লক্ষ মানুষ এখান থেকে খালি মুখে ফিরে যেতে পারেন না ফিরে যান না। তারা কেউ খালি হাতে আসেন না। প্রত্যেক দল সাথে করে নিয়ে আসেন মহিষ গরু ছাগল মোরগ চাউল রান্নার মসল্লা সামগ্রী। জমা দেন দরবারে। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলে রান্না বান্না ও পরিবেশনের কাজ।যে যার নিয়ত ও মানত করে খায়। এ দরবারের তবররুক খেয়ে জটিল রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন এমন লোকের সংখ্যাও অগণিত। রান্না বান্নার খানা পিনার এ বিশাল আয়োজন প্রকৃত অর্থে এক বিষ্ময়কর ব্যাপার লক্ষ লক্ষ মানুষেরা সারিবদ্ধভাবে শৃঙ্খলার সহিত খেয়ে এখান থেকে যান।এর বৈশিষ্ট্য হলো এ খানা পিনায় ধনী গরীব সকলের জন্য একই ব্যবস্থা।খানা পিনা সরবরাহ করা হয় মাটির সানকিতে (বছি) বর্তমানে মেলামাইনের বাসনে (প্লেট)।হাজার হাজার মাটির সানকির প্রয়োজন হয় মাইজভান্ডার উরশ এ। এই মাইজভান্ডার শরীফই বলতে গেলে চট্টগ্রামের শত শত কুমোর পরিবারকে টিকিয়ে রেখেছে দীর্ঘদিন।অনেকেরই জানতে ইচ্ছে হয়, এখানে ১০ মাঘ কত মহিষ গরু ছাগল জবাই হয়? হিসেব করে এর জবাব দেওয়া সম্ভব নয়।বলতে গেলে হাজারো হাজার। সে এক এলাহি কান্ড। কেবল মাইজভান্ডার দরবার শরীফে নয় ১০ মাঘ সারা বাংলাদেশে এমন কি দেশের বাইরে যেখানে ভক্ত অনুসারীরা আছেন কিন্তু কোনো না কোনো কারণে দরবারে হাজির হতে পারেন নাই। তারা নিজ নিজ অবস্থানে সমবেতভাবে উরশ শরীফের আয়োজন করেন।এই উরশ শরীফ বাঙালির জাতীয় অনুষ্টানের দাবীদার। বিশেষ করে জাতি ধর্ম দল মত বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের নিঃসংকোচ ও অবাধ অংশগ্রহন এ উরশ শরীফকে সার্বজনীনভাবে গৌরবের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

লেখক ঃ নাজমুল হাসান চৌধুরী হেলাল
আওলাদে গাউসুল আযম মাইজভান্ডারি

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাসুল (সাঃ)-এর আদর্শ অনুসরণেই ব্যক্তি ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আদর্শ অনুসরণেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পটিয়ায় অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিলের বক্তারা। তাঁরা বলেন, মহানবী (সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

গতকাল ২১ আগস্ট, শুক্রবার, চট্টগ্রামের পটিয়ার দক্ষিণ হুলাইন, নিমতল, ইমাম হোসাইন সড়কে হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের উদ্যোগে রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শুভাগমন উপলক্ষে আয়োজিত ১২ দিনব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) মাহফিল-২০২৬-এর ৮ম দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ট্রাস্টের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত ৮ম দিনের কর্মসূচিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাত-মুশায়েরা, বয়ান ও ধর্মীয় আলোচনা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সালাতু সালাম, ফাতেহা ও জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজ গেইটস্থ গাউছুল আজম শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ তাওফিক ইলাহী ক্বাদেরী।
প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁওয়ের আল-হুমায়ারা (রাঃ) মহিলা ফাজিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক হাফেজ মাওলানা নাজমুল হোসাইন মুনির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার সহ সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ কুতুব উদ্দিন রোকন সাদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার সভাপতি লোকমান হাকিম বি.কম.

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সাংবাদিক মোঃ বাকি বিল্লাহ চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া বজল আহমদ ফকির এতিমখানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সার্ভেয়ার আইয়ুব আলী মিজান।পুরো আয়োজনটি হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হযরাতুলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল-কাদেরী (ম.জি.আ.)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ তাওফিক ইলাহী ক্বাদেরী বলেন, “মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পবিত্র জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশ। তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন করা গেলে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে মহানবী (সাঃ)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানাতে হবে। কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের চর্চা বাড়াতে হবে।

বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ছিল মানবিকতা, ন্যায়, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায় ও অশান্তি দূর করে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বক্তারা আরও বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে ইসলামী শিক্ষা ও মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মহানবী (সাঃ)-এর আদর্শকে ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মাহফিলকে ঘিরে স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুসল্লি, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি ছিল। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাত-মুশায়েরা, বয়ান-আলোচনা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সালাতু সালাম, ফাতেহা ও জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, ১২ দিনব্যাপী এ মাহফিলের ১২তম ও সমাপনী দিনের কর্মসূচি আগামী ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী দিনে বোখারী শরীফ পাঠ, খতমে ছহীহ্, দস্তারবন্দী, মিলাদ, নাতে রাসুল (সাঃ) ও বিশেষ ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করবেন হযরাতুলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল-কাদেরী (ম.জি.আ.)।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে ‘সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা আজ ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ আলহাজ্ব সুলতান আহমদ হলে অনুষ্ঠিত হয়। ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় উলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন হয়েছে বলেই মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টিজগৎ অস্তিত্ব লাভ করেছে। সকল সৃষ্টির উৎসই হচ্ছেন মহানবী (দ.)। তাঁর কারণে এবং তাঁরই উসিলায় সৃষ্টি জগৎ অস্তিত্ব পেয়েছে, টিকে আছে এবং টিকে থাকবে। তাই সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ পুণ্য বরকত, কল্যাণ এবং সবিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন মানে কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী। তিনি বলেন, সমগ্র সৃষ্টির মূল হচ্ছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)। তাঁর আনুগত্য ও আহলে বাইতে রাসুলকে (দ.) ভালোবাসা ফরজ। উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ আন্তঃযোগাযোগ না থাকা, অনৈক্য-বিভাজনের কারণে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরা পেছনে পড়ে রয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতিসহ দেশ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমরা নেই। ফলে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী আমাদের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে। সুফিবাদী উদারনৈতিক মানবিক ইসলামের প্রসার ঘটাতে সকল সুন্নি মতাদর্শী ও তরিকতপন্থিদের একই প্ল্যাটফরমে আসতে হবে। মুখ্য আলোচক ছিলেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান। তিনি বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন আল্লাহ পাকের সেরা নিয়ামত। তাই নিয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করি।

বিগত দুই বছরে বহু মাজার খানকায় হামলা হয়েছে। মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে অসংখ্য মাজার গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও এর বিচার হয়নি। বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে এর প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে। উদ্বোধক ছিলেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ নাফিসুর রহমান মাইজভা-ারী। স্বাগত বক্তব্য দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম বরকত আকাশ। নির্ধারিত বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনায় অংশ নেন হযরত শাহ আমানত (রহ.) দরবার শরীফের আওলাদ শাহজাদা সৈয়দ হাবিবুল্লাহ খান মারুফ, গবেষক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, শাহজাদা মাওলানা ফখরুল ইসলাম রিজভী, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ গোলাম রসুল, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ ছালেকুল মাওলা, আল্লামা শফিকুল ইসলাম আস সাঈদী, আল্লামা মঈনুদ্দিন রেজভী, মাওলানা রায়হান রেজা আশরাফী, মাওলানা আবদুল মান্নান আশরাফী,আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা ও হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা প্রমুখ আনিছ মুহাম্মদ বিপলু, এম মহিউল আলম চৌধুরী, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নেজামী, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, ফরিদুল আলম আশরাফী, মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা ও হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা বলেন, সুন্নি সুফিবাদিরা আজ জেগে উঠেছে। তাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না।

ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন গোলটেবিল আলোচনায় সমবেত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের পরিবেশনায় মিলাদ কিয়াম শেষে দেশ ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানবতার পরিত্রাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ