চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়ায় বির্জা খালের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কারের কাজে সন্তুষ্ট নন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। চসিকের অনুমতি নিয়ে খালটি পরিস্কারের কাজ শুরু করেছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু পরিদর্শনে গিয়ে মেয়র দেখতে পান, খালের অনেক জায়গা এখনো ময়লা-আবর্জনায় পূর্ণ। এ অবস্থায় মেয়র চসিকের টিমকে আবারও সেই খালটিতে পরিচ্ছন্নতা

অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে নগরীর বাকলিয়ায় বির্জা খাল পরিদর্শনে যান সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। এছাড়া তিনি নগরীর মিয়াখান নগর, দামপাড়া, ওয়াসা মোড়, জিসি মোড়,
কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ এলাকায় গিয়ে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১৯ এপ্রিল ময়লা-আবর্জনায় পূর্ণ নগরীর বাকলিয়ায় বির্জা খাল পরিস্কারের কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী। চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এক কোটি টাকা ব্যয়ে তারা খালটি পরিস্কার করে দিচ্ছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি খালটি পুরোপুরি পরিস্কার করা হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে চসিককে জানানো হয়। এরপর সোমবার চসিক মেয়র বির্জা খাল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় মেয়র বাকলিয়ার বিভিন্নস্থানে বির্জা খালে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখেন। সাংবাদিকদের সেগুলো দেখিয়ে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন এসময় বলেন, চট্টগ্রাম শহরে ৫৭ টা খাল আছে। বির্জা খাল এর মধ্যে একটা খাল। জামায়াতে ইসলাম এটা আমাদের কাছে পরিস্কারের জন্য চেয়েছিল, আমরা দিয়েছি। আমরা মনে করেছিলাম, যে পরিমাণে খালটাকে ক্লিন করা হবে, আজ এসে দেখতে পাচ্ছি প্রচুর পরিমাণে ময়লা এখানে পড়ে আছে। এখন আমাদের আবারও সেটা ক্লিন করতে হবে।

সিটি করপোরেশনের স্পেশাল টিম আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে আবারও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করবে।কোটি টাকা খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, এই খালটা ক্লিন করার জন্য সিটি করপোরেশন যে বাজেট নির্ধারণ করেছিল, সেটা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা। তাদের ৫০ লাখ টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়।
নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে সিটি মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টির পরও নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা না হওয়া একটি বড় সাফল্য। এ সাফল্যের পেছনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা রয়েছে।
পরিকল্পিতভাবে কাজ চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতেও নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু খাল নালায় জলপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না।

পরিদর্শনের সময় মেয়রের সঙ্গে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাহাড় ও হ্রদের বুকে এক মানবিক অধ্যায়: হাবীব আজমের বিদায় ও জনকল্যাণের পদচিহ্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সময় বয়ে যায় নদীর স্রোতের মতো। মানুষের জীবনে আসে নানা অধ্যায়, কেউ আসে, কেউ চলে যায়; কিন্তু কিছু মানুষের কর্ম, ভালোবাসা ও মানবিকতার স্পর্শ সময়ের সীমানা পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে থাকে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের (RHDC) চত্বরে দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিনের—মোট ৬৪৯ দিনের—কর্মময় ও দায়িত্বশীল অধ্যায় শেষে বিদায় নিয়েছেন তরুণ ও মানবিক নেতা মো. হাবীব আজম।

আশা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সততাকে পুঁজি করে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, বিদায়ের মুহূর্তে তা পরিণত হয়েছে এক গুচ্ছ স্মৃতি, অর্জন ও জনকল্যাণের গল্পে। জেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনের সময়টুকু তাঁর জন্য যেমন ছিল প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতার অধ্যায়, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে তা ছিল একজন জনপ্রতিনিধির মানবিক মুখ দেখার সময়।
পাহাড়, হ্রদ আর মেঘের উপত্যকা রাঙ্গামাটিতে হাবীব আজমের কাটানো দিনগুলো শুধু দাপ্তরিক ফাইল, সভা কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, দুর্যোগে ছুটে যাওয়া, অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করা, দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া, যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক আলাদা মানবিক পরিচয়।
জনকল্যাণের পথে দীর্ঘ এক যুগের পদচিহ্ন:

জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার অনেক আগে থেকেই হাবীব আজম ছিলেন মানুষের পাশে। বিগত এক যুগ ধরে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে কোনো এলাকায় আগুন লাগার খবর, কোথাও পাহাড়ধস, বন্যা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ—দুর্গমতার বাধা পেরিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। দুর্গম এলাকায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা তুলে দেওয়া তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক।

অনেক সময় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পৌঁছাতে সময় লাগে। সেই অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন হাবীব আজম। এ কারণেই সংকটের সময়ে তাঁকে অনেক মানুষের কাছে একজন নির্ভরতার মানুষ হিসেবে দেখা গেছে।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে মানবিক হাত:
একজন শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে যেন তার স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত না হয়—এই ভাবনা থেকেই শিক্ষা সহায়তায়ও সক্রিয় ছিলেন হাবীব আজম।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অসচ্ছল শিক্ষার্থী সুমনা আকতারের ভর্তির সমস্ত খরচ বহন করার পাশাপাশি তাঁর ভবিষ্যৎ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া হাবীব আজমের শিক্ষানুরাগী কর্মকাণ্ডের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।শুধু একজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো নয়, শিক্ষাকে সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, একটি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানকে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া মানে শুধু একজন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা নয়; বরং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
স্বাস্থ্যসেবায় অসহায় মানুষের পাশে:

অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারা অসহায় মানুষের পাশেও বারবার দাঁড়িয়েছেন তিনি। ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমসহ অসংখ্য চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ এবং চিকিৎসার খরচ বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
মানুষের অসুস্থতার খবর পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর এই প্রবণতা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আপন করে তুলেছে। তাঁর কাছে মানবিকতা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মানুষের কষ্টকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখার একটি মানসিকতা।

শীতের রাতে ছিন্নমূল মানুষের উষ্ণতার সঙ্গী:
তীব্র শীতে যখন মানুষ ঘরের উষ্ণতায় নিরাপদ থাকতে চায়, তখন রাতের আঁধারে ছিন্নমূল মানুষের কাছে গিয়ে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে হাবীব আজমের।
বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু থেকে শুরু করে ফুটপাত ও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো অসহায় মানুষের মাঝে নিজে উপস্থিত হয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন তিনি। তাঁর কাছে মানবিক সহায়তার সবচেয়ে বড় মূল্য ছিল—যে মানুষটির প্রয়োজন, তার কাছে গিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য কারিগর:
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সামাজিক বাস্তবতায় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গায় হাবীব আজমের অন্যতম বড় শক্তি তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।
দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা জনগোষ্ঠীর পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষের সুখ-দুঃখে সমানভাবে ছুটে যাওয়ার কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বিস্তৃত পরিসরে।
প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছেও তাঁর উপস্থিতি তৈরি করেছে আস্থার জায়গা। মানুষের পরিচয়ের আগে মানুষকে দেখার এই মানসিকতাই তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
জ্ঞানচর্চায় নতুন প্রজন্মের জন্য ‘পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার:

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করার ক্ষেত্রেও হাবীব আজমের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।
নিজস্ব অর্থায়নে রাঙ্গামাটির বনরূপায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার’। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানার সুযোগ করে দেওয়া এবং তরুণদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ডিজিটাল যুগে যখন তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত, তখন একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ভাবনার প্রতিফলন।
শিশুদের মাঝে দেশপ্রেমের বীজ বপন:
দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতি বছর মহান স্বাধীনতা দিবসে রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে আগত হাজারো শিশুর মাঝে জাতীয় পতাকা, মাথায় পরার ফিতা ও বেলুন বিতরণ করেন তিনি।

শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার এই ছোট্ট উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তাদের মনে দেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বাধীনতার ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
তাঁর কাছে দেশপ্রেম শুধু বক্তৃতার বিষয় নয়; বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সামাজিক দায়িত্ব।মাদকমুক্ত সমাজ ও তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগানো:

যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই—এই বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব ও তরুণদের উৎসাহিত করেছেন হাবীব আজম।
বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবকে জার্সি ও ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান, খেলাধুলার আয়োজনকে উৎসাহ দেওয়া এবং তরুণদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।তাঁর বিশ্বাস, একজন তরুণ যদি খেলার মাঠে থাকে, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, তাহলে সে সমাজের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তাই মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে ক্রীড়াকে তিনি একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন।
পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ:

পাহাড় ও হ্রদের শহর রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও যুক্ত ছিলেন হাবীব আজম।সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তরুণদের পরিবেশ সচেতন করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
পর্যটন উন্নয়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ:
রাঙ্গামাটির অর্থনীতিতে পর্যটনের গুরুত্ব অপরিসীম। জেলা পরিষদে পর্যটন করপোরেশন ও নার্সিং ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের দায়িত্বে থেকে পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করার বিভিন্ন উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন হাবীব আজম।

পর্যটনকেন্দ্রে যাত্রীছাউনি, ওয়াশরুম এবং ঝুলন্ত ব্রিজের অপর পাশে ওয়াকওয়ে ও সিঁড়ি নির্মাণের মতো অবকাঠামোগত উদ্যোগ পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথম ‘ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ:
পর্যটন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর নির্ভরশীল নয়; দক্ষ জনবলও একটি পর্যটন এলাকার অন্যতম শক্তি। এই বাস্তবতা বিবেচনায় জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেন হাবীব আজম।

এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের পর্যটন খাতে দক্ষ করে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পর্যটকদের সামনে রাঙ্গামাটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।সংক্ষিপ্ত জীবন ও সাংগঠনিক পথচলা:
জন্ম ও পরিবার মো. হাবীব আজম ১ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে রাঙ্গামাটি শহরের কাঁঠালতলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মো. চাঁন মিয়া এবং মা ফাতেমা বেগম।
শৈশব থেকেই রাঙ্গামাটির মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা হাবীব আজমের সামাজিক চিন্তা ও কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়।

শিক্ষাজীবন:
তিনি চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে তাঁর আইন বিষয়ে শিক্ষাজীবনের এই অধ্যায় সম্পন্ন হয়।
আইন বিষয়ে শিক্ষালাভ তাঁর সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং দায়িত্বশীলতার বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব:
হাবীব আজম পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)-এর সাবেক রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি এবং বর্তমানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ, ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করা এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক পরিসরে সক্রিয়।

সামাজিক সম্পৃক্ততা:
মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও FPAB-এর আজীবন সদস্য। পাশাপাশি ‘হিল ট্রেকার্স’, ‘হিলফুল যুব সংগঠন’ ও ‘হিল সার্ভিস’-এর উপদেষ্টা হিসেবেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
পদ থেকে বিদায়, মানুষের কাছ থেকে নয়:
একজন জনপ্রতিনিধি বা পরিষদ সদস্যের দায়িত্বের সময়সীমা নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চত্বরে হাবীব আজমের ৬৪৯ দিনের অধ্যায় শেষ হয়েছে। দায়িত্বের চেয়ার বদলেছে, দাপ্তরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে; কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে অভ্যাস, তা থেমে যাওয়ার নয়।

ক্ষমতার অহংকার, পদ-পদবির মোহ কিংবা বিলাসিতা তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি—এমনটাই তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের চিত্রে প্রতিফলিত হয়। বরং তিনি বারবার দেখিয়েছেন, জনপ্রতিনিধিত্ব মানে শুধু একটি পদ বা পরিচয় নয়; এটি মানুষের সেবা করার একটি বড় সুযোগ এবং মানুষের আস্থা ধরে রাখার একটি গুরুদায়িত্ব।
পাহাড় ও হ্রদের শহর রাঙ্গামাটিতে তাঁর রেখে যাওয়া পদচিহ্ন তাই কেবল উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। তা ছড়িয়ে আছে কোনো অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া খাদ্যসামগ্রীতে, কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের সহায়তায়, কোনো অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায়, শীতার্ত মানুষের গায়ে জড়ানো শীতবস্ত্রে, কোনো শিশুর হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় পতাকায়, কোনো তরুণের হাতে দেওয়া ক্রীড়া সামগ্রীতে কিংবা কোনো পাঠাগারের নীরব বইয়ের পাতায়।

জেলা পরিষদ থেকে তাঁর বিদায় হয়েছে—কিন্তু মানুষের কাছ থেকে নয়। দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও জনকল্যাণের পথচলা যে শেষ হয়নি, তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
রাঙ্গামাটির পাহাড়, হ্রদ আর মানুষের হৃদয়ে একজন তরুণ নেতার ৬৪৯ দিনের দায়িত্বের স্মৃতি হয়তো সময়ের সঙ্গে আরও দূরে সরে যাবে; কিন্তু মানুষের জন্য করা ভালো কাজগুলো থেকে যাবে—নীরবে, নিঃশব্দে, মানুষের স্মৃতির গভীরে।হাবীব আজমের বিদায় তাই কেবল একটি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়, বরং জনকল্যাণের এক মানবিক অধ্যায়ের নতুন পর্বে প্রবেশ।

চট্টগ্রাম মহানগরের ৮ ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে, মাঠে থাকবে ১০ ম্যাজিস্ট্রেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মাসব্যাপী মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। বিশ্ব মশা দিবসে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মহানগরের সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের সামনে থেকে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত নগরের আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, লার্ভা নিধন এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, গোলাম বাকী মাসুদসহ রেড ক্রিসেন্টের ভলান্টিয়ার এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমএসএফের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে লিফলেট ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক কনটেন্ট বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

চসিক সূত্র জানায়, বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে শুরু হওয়া বিশেষ কর্মসূচি পুরো এক মাসব্যাপী চলবে। পাশাপাশি নগরের অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষে পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নালা-নর্দমা, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
তিনি বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা নির্মাণসামগ্রীতে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে শুরু হওয়া বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আগামী এক মাস ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হবে। পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন বিভাগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগও সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নেবে।

গত দুই-তিন মাস ধরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পুরো কার্যক্রম ব্যক্তিগতভাবে মনিটর করছেন এবং নিয়মিত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে চসিক বিটিআই ব্যবহার করছে। এর ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।গত বছর এ সময়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৮০০-এর বেশি থাকলেও চলতি বছরে তা প্রায় ৫৫০-৫৮০ জনে রয়েছে। একই সময়ে গত বছর ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হলেও চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, আমরা আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছি। এগুলো হলো ২,৩,১৭,১৮,১৯,৩২,৩৪,৩৯ নম্বর ওয়ার্ড। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মশক নিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে শতাধিক কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আশরাফুল আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ প্রয়োগ নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, জমে থাকা পানি এবং বিভিন্ন স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা হবে।এ লক্ষ্যে চসিকের ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাস তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন। যেখানে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ