চবি কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য

প্রেস রিলিজ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করছেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খেলাধূলা শিক্ষার্থীদেচবির চরিত্র গঠন, মানসিক উন্নয়ন এবং সামাজিক মেলবন্ধন দৃঢ় করে কর্মস্পৃহা বাড়িয়ে দেয়
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ১৯ জানুয়ারি ২০২৪ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দু’দিন ব্যাপি (১৯-২০ ফেব্রæয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৪ শুরু হয়েছে। সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব আনিসুল আলম।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে চবি কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রিত অতিথি, ক্রীড়াবিদসহ উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন খেলাধূলা ও শরীরচর্চা মানুষের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, মানসিক উন্নয়ন এবং সামাজিক মেলবন্ধন দৃঢ় করতে বিদ্যানুশীলনের পাশাপাশি খেলাধূলা ও শরীরচর্চা কর্মস্পৃহা বাড়িয়ে দেয়। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। খেলাধুলা ও শরীরচর্চার মাধ্যমে সুস্থ শরীর ও প্রফুল্ল মন নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করলে কাক্সিখত সাফল্য অর্জন সম্ভব।” মাননীয় উপাচার্য ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্যে বলেন, “খেলার মাঠে জয়-পরাজয় মেনে নেয়ার মানসিকতা ও খেলোয়াড়সূলভ আচরণের মাধ্যমে শৃংখলা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দর্শকদের উজ্জীবিত করে উপভোগ্য খেলা উপহার দেবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।” মাননীয় উপাচার্য তরুণদের শিক্ষা-গবেষণা, ক্রীড়া-শরীরচর্চা, শিল্প-সংস্কৃতিসহ বহুমাত্রিক দক্ষতা সম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় শামিল হওয়ার আহবান জানান। মাননীয় উপাচার্য দু’দিন ব্যাপি চবি’র কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং ক্রীড়াবিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকার আহবান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সুর ও মুর্চ্ছনায় মাননীয় উপাচার্য জাতীয় পতাকা, মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা, ¯^ ¯^ হলের প্রভোস্ট হল পতাকা ও শারীরিক শি¶া বিভাগের পরিচালক অলিম্পিক পতাকা উত্তোলন করেন। প্রতিযোগীতায় মশাল হাতে মাঠ প্রদ¶িণ করেন দুই কৃতি ক্রীড়াবিদ নুসরাত জাহান তৃণা এবং মোহাম্মদ সজীব। মাননীয় উপাচার্য বিচারকবৃন্দের প¶ে প্রধান বিচারক চবি বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মোঃ দানেশ মিয়াকে এবং ক্রীড়াবিদদের প¶ে কৃতি ক্রীড়াবিদ মোঃ শফিউল্লাহকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ব্যান্ডের তালে তালে অনুষ্ঠিত ক্রীড়াবিদদের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ মাননীয় উপাচার্য ও অতিথিবৃন্দ উপভোগ করেন এবং তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে চবি সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, অনুষদসমূহের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, কলেজ পরিদর্শক, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট এবং গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, হলের আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, শারীরিক শি¶া বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক ক্রীড়ামোদী শি¶ক-শি¶ার্থীবৃন্দ ও সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এবারের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় হলসমূহ হতে ৩০টি ইভেন্টে ২৭৫ জন ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।চ.বি. শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক জনাব মো. রাশেদ বিন আমিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন চ.বি. কেন্দ্রীয় মসজিদের সিনিয়র মোয়াজ্জিন হাফেজ শাহা মোঃ আজম, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন প্রবীন সেন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন কংকন বড়–য়া অন্তু এবং পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন আকাশ ত্রিপুরা।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করছেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে খাদ্য অপচয় রোধ ও পুষ্টি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে “খাদ্য অপচয় রোধ ও পুষ্টি সচেতনতা” শীর্ষক সেমিনার গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের আয়োজনে এবং হসপিটালিটি স্টুডেন্টস লিডারশিপ কাউন্সিল ( HSLC )—এর সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—“আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি নিশ্চিতকরণ”

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সালেহ জহুর, অধ্যাপক ড. শওকতুল মেহের এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ড. হাসিনা আখতার লিপি, রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ এর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ বিভাগের সহকারী পরিচালক গাজী মহিউদ্দিন এবং দ্য পেনিনসুলা চট্টগ্রামের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান কামাল হোসেন।

সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল খাদ্য অপচয়ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহ প্রদান এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল ও টেকসই চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা। পাশাপাশি, আতিথেয়তা ও খাদ্যসেবা খাতে খাদ্য অপচয় কমানো এবং পুষ্টিসচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সেমিনারে সচেতনতামূলক আলোচনায় বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ হাসিনা আক্তার লিপি তাঁর আলোচনায় দেশিয় ফলমূল ও খাদ্যসামগ্রীর পুষ্টিগুণ এবং সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি গাজী মহিউদ্দিন তাঁর আলোচনায় হোটেলশিল্পে খাদ্যের গুণগত মান, পুষ্টিগুণ এবং তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। একইসঙ্গে, মোহাম্মদ কামাল হোসেন তাঁর আলোচনায় হোটেলশিল্পের কার্যকর পদ্ধতিগুলো দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে খাদ্য অপচয় রোধ করা সম্ভব, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

সমাপণী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান আলোচকদের উপস্থাপিত বক্তব্যসমূহের ওপর বিশদ ও বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা প্রদান করেন এবং আলোচ্য বিষয়ের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার ইঙ্গিত চুয়েট ভিসির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তিনি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছেন। দ্রুত সুস্থ হয়ে তাকে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে চুয়েট ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়ার খবরকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে হাসপাতাল থেকে গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান তিনি।এর আগে বিকালে চুয়েট ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
উপাচার্য জানান, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তিনি ও তার সঙ্গে থাকা আরও ১০ জনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। তাদের মধ্যে দুজন অ্যালামনাই সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার আমাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছে।
এদিকে পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে চুয়েট ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে অসত্য দাবি করে একটি বিবৃতি দিয়েছে উপাচার্য। এ প্রসঙ্গে তিনি বললেন, আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না, এ রকম কোনো বক্তব্য আমি দিইনি। যখন আমাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আমার কথা বলার মতো পরিস্থিতি ছিল না।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের বের করে আনা হয়।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণবের দাবি, ‘ভিসি হিসেবে এই চুয়েট ক্যাম্পাসে তিনি আর কখনো ফিরে আসবে না’ এই শর্তে জেলা প্রশাসক উপাচার্যকে নিয়ে গেছেন।
এদিকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন এর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কর্মচারী সমিতির সদস্যরা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ