ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি

প্রতারক চক্রের দুই নারীসহ ৭ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারীর সাথে বিবস্ত্র করে তোলা হয় ছবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. চট্টগ্রামে চক্রের দুই নারীসহ ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় উদ্ধার করা হয় এক ভুক্তভোগীকে। পুলিশ জানায়, ইমো অ্যাপ কিংবা ফেসবুকে প্রথমে পাতানো হয় বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলে দেয় প্রেমের টোপ। আর সেই প্রস্তাবে সাড়া দিলেই দেখা করতে ‘দাওয়াত’ দেওয়া হয় ফাঁকা বাসায়। বাসায় গেলেই নেমে আসে ভয়ঙ্কর বিপদ! বাসায় পৌঁছামাত্র ছুটে আসে পাঁচ যুবক। দুই নারীর সাথে বিবস্ত্র করে তোলা হয় ছবি। এরপর ব্ল্যাকমেইল করে দাবি করা হয় টাকা। চালানো হয় শারীরিক-মানসিক নানা নির্যাতন। মূলত তারা একটি চক্র। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রুপনগর আবাসিক এলাকার আদনান ভিলার তৃতীয় তলার বাসা থেকে এদের গ্রেফতার করা হয়।
    গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পুরাতন চান্দগাঁও এলাকার মৃত মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. আসিফ (২৩), একই এলাকার মুন্সি মিয়ার ছেলে মো. মোরশেদ (২৯), রাউজান উপজেলার উরগির চর গ্রামের মৃত গোলাম শরীফের ছেলে মো. সাজে শরীফ (৪০), তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৪০), চন্দনাইশ উপজেলার হাজিরপাড়া গ্রামের বাইট্টা সওদাগরের বাড়ির আব্দুল করিমের ছেলে মো. আবুল হাসেম (৩৫), ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার পূর্ব ভূজপুর গ্রামের মৃত হাজী কবির আহাম্মদের ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (৩৯) এবং বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের চা বাগান এলাকার সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (২৬)। অভিযুক্ত সাতজনের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ডিগ্রি পড়ুয়া এক তরুণ অভিযোগ করে ২৩ বছর বয়সী মো. আসিফের সাথে তার ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব হয়। গত ২৫ এপ্রিল রাতে আসিফ ওই তরুণকে দেখা করার কথা বলে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ৪ জন পুরুষ এবং দুইজন নারী উপস্থিত ছিলো। ওই বাসায় প্রবেশের সাথে সাথে ভিকটিম তরুণকে বিবস্ত্র করে নারীদের সাথে তার অশ্লীল ছবি-ভিডিও ধারণ করে তারা। এরপর এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একইসাথে হাতিয়ে নেওয়া হয় তার সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় অভিযুক্তরা ভিকটিমকে ওই বাসা থেকে বের করে রুপনগর আবাসিক এলাকার গেইট থেকে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে দেয়। এরপর ভিকটিম ওই তরুণ ছাড়া পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা বলেন, এরা ছিনতাইকারীর চেয়েও ভয়ঙ্কর। ছিনতাইকারী শুধু ছিনতাই করে নিয়ে যায়, কিন্তু এরা ছিনতাইয়ের পাশাপাশি ভিকটিমকে মানসিক, শারীরিক অত্যাচারও করে আবার পরিবারের কাছে অর্থও দাবি করে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে সাত জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি মো. আরমান নামে এক ভিকটিমকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পদ্মার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ দুর্যোগের সময়ে বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে চিলমারী ইউনিয়নের বাংলা বাজার-উদয়নগর এলাকায় বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) উদ্যোগে ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, আটা ও লবণ) বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন এবং কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

দুর্যোগের এই সময়ে বিজিবির পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদয়নগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চারদিকে পানি উঠায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব বিপদে আছি। না ছিল খাওয়ার ব্যবস্থা, না ছিল চলাচলের উপায়। এই কঠিন সময়ে বিজিবির কর্মকর্তারা নিজ হাতে আমাদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর রাখছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বানভাসি মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে আমাদের এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। দুর্গম ও প্লাবিত এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল ও পর্যবেক্ষণ জোরদার রয়েছে।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অর্পিত দায়িত্বের অংশ। পদ্মার পানি বাড়ায় এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরা সাধ্যমতো খাদ্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি এবং বন্যাকবলিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত -সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ