আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি

প্রতারক চক্রের দুই নারীসহ ৭ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারীর সাথে বিবস্ত্র করে তোলা হয় ছবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. চট্টগ্রামে চক্রের দুই নারীসহ ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় উদ্ধার করা হয় এক ভুক্তভোগীকে। পুলিশ জানায়, ইমো অ্যাপ কিংবা ফেসবুকে প্রথমে পাতানো হয় বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলে দেয় প্রেমের টোপ। আর সেই প্রস্তাবে সাড়া দিলেই দেখা করতে ‘দাওয়াত’ দেওয়া হয় ফাঁকা বাসায়। বাসায় গেলেই নেমে আসে ভয়ঙ্কর বিপদ! বাসায় পৌঁছামাত্র ছুটে আসে পাঁচ যুবক। দুই নারীর সাথে বিবস্ত্র করে তোলা হয় ছবি। এরপর ব্ল্যাকমেইল করে দাবি করা হয় টাকা। চালানো হয় শারীরিক-মানসিক নানা নির্যাতন। মূলত তারা একটি চক্র। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রুপনগর আবাসিক এলাকার আদনান ভিলার তৃতীয় তলার বাসা থেকে এদের গ্রেফতার করা হয়।
    গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পুরাতন চান্দগাঁও এলাকার মৃত মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. আসিফ (২৩), একই এলাকার মুন্সি মিয়ার ছেলে মো. মোরশেদ (২৯), রাউজান উপজেলার উরগির চর গ্রামের মৃত গোলাম শরীফের ছেলে মো. সাজে শরীফ (৪০), তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৪০), চন্দনাইশ উপজেলার হাজিরপাড়া গ্রামের বাইট্টা সওদাগরের বাড়ির আব্দুল করিমের ছেলে মো. আবুল হাসেম (৩৫), ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার পূর্ব ভূজপুর গ্রামের মৃত হাজী কবির আহাম্মদের ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (৩৯) এবং বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের চা বাগান এলাকার সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (২৬)। অভিযুক্ত সাতজনের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ডিগ্রি পড়ুয়া এক তরুণ অভিযোগ করে ২৩ বছর বয়সী মো. আসিফের সাথে তার ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব হয়। গত ২৫ এপ্রিল রাতে আসিফ ওই তরুণকে দেখা করার কথা বলে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ৪ জন পুরুষ এবং দুইজন নারী উপস্থিত ছিলো। ওই বাসায় প্রবেশের সাথে সাথে ভিকটিম তরুণকে বিবস্ত্র করে নারীদের সাথে তার অশ্লীল ছবি-ভিডিও ধারণ করে তারা। এরপর এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একইসাথে হাতিয়ে নেওয়া হয় তার সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় অভিযুক্তরা ভিকটিমকে ওই বাসা থেকে বের করে রুপনগর আবাসিক এলাকার গেইট থেকে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে দেয়। এরপর ভিকটিম ওই তরুণ ছাড়া পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা বলেন, এরা ছিনতাইকারীর চেয়েও ভয়ঙ্কর। ছিনতাইকারী শুধু ছিনতাই করে নিয়ে যায়, কিন্তু এরা ছিনতাইয়ের পাশাপাশি ভিকটিমকে মানসিক, শারীরিক অত্যাচারও করে আবার পরিবারের কাছে অর্থও দাবি করে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে সাত জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি মো. আরমান নামে এক ভিকটিমকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার, আটক- ২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি ট্রাক, ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ৫৮৫ পিস ইয়াবা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা, একটি ট্রাক ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইনের পাশের সড়কে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০ নম্বরের একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. রিয়াদ হোসেন (২০)কে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাশাপুর গ্রামের বাসিন্দা।এ সময় ট্রাকটির পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপ, ট্রাক ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মো. নাঈম ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।উদ্ধার করা ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ট্রাক, নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ