আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামকে পর্যটনবান্ধব নগরী গড়তে প্রয়োজন পর্যটন মাস্টার প্ল্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিটাগাং চেম্বারে পরিবেশ ও পর্যটন বিষয়ক সভা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র পরিবেশ ও পর্যটন বিষয়ক স্ট্যান্ডিং সাব-কমিটির প্রথম সভা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ ও চেম্বার পরিচালক আখতার উদ্দিন মাহমুদ’র সভাপতিত্বে সদস্যবৃন্দ মোহাম্মদ হারমুজ শাহ বেলাল, হাসিব শাকুর ও মোঃ মোসাদ্দেক আহমেদ শরিফ এবং চেম্বার সেক্রেটারী ইনচার্জ প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক বক্তব্য রাখেন।

ডিরেক্টর ইনচার্জ আখতার উদ্দিন মাহমুদ বলেন-চট্টগ্রাম শহরে মাস্টার প্ল্যান হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশবান্ধব নগরী গড়তে হলে পরিবেশগত মাস্টার প্ল্যানও প্রয়োজন। একই সাথে চট্টগ্রামকে পর্যটনবান্ধব নগরী গড়তে প্রয়োজন পর্যটন মাস্টার প্ল্যান। বাংলাদেশের রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। কিন্তু আমরা এ সম্ভাবনা তুলে ধরতে পারছি না। এ সম্ভাবনা তুলে ধরা গেলে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মত বাংলাদেশেও পর্যটন খাত থেকে প্রচুর রাজস্ব আয় করতে পারবে। আমাদের দেশে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করা হলেও প্রচার-প্রচারনার অভাবে এ খাতে পর্যটক আকর্ষণ করতে পারে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ট্যুরিস্ট স্পটগুলো সন্ধ্যার পর প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। কিন্তু আমাদের দেশের ট্যুরিস্ট স্পটগুলো সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। তাই পর্যটনের জন্য নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন-কোন বিদেশী বাংলাদেশে ভ্রমণে আসলে তাকে ভ্রমণ কর দিতে হয়। ফলে বাংলাদেশের প্রতি অনাগ্রহী হচ্ছেন তারা। তাই কিভাবে ভ্রমণ কর পরিহার করে পর্যটনকে সমৃদ্ধকরণে ভূমিকা রাখতে পারে চিটাগাং চেম্বারসহ ব্যবসায়ী সমাজ। তিনি বলেন-চট্টগ্রামসহ এ অঞ্চলের পর্যটন বিকাশে প্রয়োজন সেক্টর সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত তুলে আনা এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার আয়োজন করা। তবেই বাংলাদেশ সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী পর্যটকরা আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যের সন্ধান পাবে যা একই সাথে স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরকে সমৃদ্ধ করবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন- নান্দনিক শহর চট্টগ্রামে রয়েছে নদীভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনা। একই সাথে থাইল্যান্ডের আদলে নগরীর খালগুলোতে করা যায় ভাসমান বাজার যা নদী ও খালগুলো দূষণরোধ ও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। নগরীর আউটার রিং রোড, পতেঙ্গা নেভাল একাডেমী ও ডিসি পার্ক-কে ঘিরে পর্যটনের নতুন গন্তব্য তৈরী হয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যার পর ভূতড়ে পরিবেশের কারণে অনেকে এসব স্থানে যেতে আগ্রহী হয় না। তাই পর্যটনের বিকাশে স্পটগুলোতে আলোকায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পরিবেশ ও পর্যটনবান্ধব নগরী গড়তে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, পর্যাপ্ত বৃক্ষ রোপনে নগরীবাসীকে উৎসাহিত করা, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়ে তোলার উপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি দেশের পর্যটনের বিকাশে সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা আরো কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেই লক্ষ্যে সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আত্মসাত হওয়া ৬০ লাখ টাকার কাপড়ের রোল নোয়াখালীতে উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে আত্মসাত হওয়া ১৫৩টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যার আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। এসময় আবুল বাসার (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাপড়ের রোলগুলো গুলো উদ্ধার করা হলেও মঙ্গলবার এ তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) পুলিশের মো. জামির হোসেন জানান, গত ২৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেডের আমদানিকৃত ১৬৩টি বিভিন্ন সাইজের কাপড়ের রোল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গাজীপুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যার আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। যাওয়ার পথে কার্ভাডভ্যানটি হালিশহর থানাধীন আব্বাসপাড়া টোলরোডস্থ চিটাগাং ফিলিং স্টেশনে রাখা হয়। এরপর দিবগাত রাত ৩টায় কাভার্ডভ্যানটি গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেও গাড়ির চালকসহ অন্যরা কাপড়ের রোলগুলো আত্মসাত করেন। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন ১নং হরিণী ইউনিয়নের আজিমনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৯৬টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করা হয়। পরে চর জব্বর থানাধীন চর মজিদ ভুঁইয়ার হাট বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরও ৬৭টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবুল বাসার (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ