সিন্ডিকেটের কবলে চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে মসলার বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে মসলার বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একের পর এক বেড়েই চলেছে জিরা, এলাচ, গোলমরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গসহ প্রায় সব মসলার দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণেই মসলার দাম বাড়ছে। তবে পুরো মসলার বাজারই এখন সিন্ডিকেটের কবলে। এরাই গত এক সপ্তাহে জিরা, এলাচ ও লবঙ্গের মতো মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এসব মসলা আমদানি হয়েছে তিন থেকে চার মাস আগে। দীর্ঘদিন ধরেই চাল-ডাল-আটাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সে তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে এলাচ দানা, জিরা, লবঙ্গ, মরিচ, হলুদ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন প্রকারের মসলা।এদিকে মসলার বাজার অস্থির করার বিষয়টি তদারকি করতে শিগগির অভিযান পরিচালনার কথা বলেছে প্রশাসন।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকট ও ডলারের দাম বাড়ার কারণে এখন মসলার দাম অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। মসলাজাতীয় পণ্যের দাম দুই কারণে বাড়ছে। প্রথমত, দেশে এখন চলছে ডলার সংকট। ডলারের অভাবে এলসি করা যাচ্ছে না। একইভাবে বেড়েছে ডলারের দামও। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম।
গতকাল শনিবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বড় দানার ভালো মানের প্রতি কেজি এলাচ চার হাজার থেকে চার হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এই এলাচের কেজি বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৮০০ টাকায়। ছোট দানার প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকায়। গত সপ্তাহে একই মানের এলাচ তিন হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে লবঙ্গের দাম ছিল এক হাজার ২০০ টাকা। এখন একই লবঙ্গ বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৪০০ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৫৫৭ টাকায়, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। গত সপ্তাহে যে গোলমরিচ প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন তা ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দারুচিনি ৪০০ টাকা, হলুদ ৩১০ টাকা, কালিজিরা ৩২০ টাকা, কিশমিশ ৮০০ টাকা, তেজপাতা ১২০ টাকা আর সাদা সরিষা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকায়।
ভারতের রফতানির ঘোষণার পরও চট্টগ্রামের বাজারে কোথাও পণ্যের দাম কমার লক্ষণ নেই। বরং প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। পাইকারি বাজারে ভালোমানের ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকায়। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। যা আগে ছিল ৭০ টাকার নিচে। পাইকারি বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকার বেশি দামে। খুচরা বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৭৫ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মানভেদে পাঁচ টাকা কম-বেশি।
অথচ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি হয়েছে। সুতরাং সরবরাহ ঘাটতির কোনো কারণ নেই। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা বলছেন, কোরবানির বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে কয়েক গুণ বেশি মুনাফা করতেই অসাধু ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২৪ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন এলাচ, ৪১ হাজার ৩৪৬ মেট্রিক টন জিরা, ৩২ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন লবঙ্গ এবং ২৯ হাজার ৬৪৬ মেট্রিক টন গোল মরিচ আমদানি হয়েছে। এটি গত বছরের এ সময়ে আমদানির তুলনায় অনেক বেশি।
কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণে মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব কাস্টমস থেকে পণ্য খালাস করা হচ্ছে। যাতে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। মূলত ভারত থেকে জিরা ও এলাচ, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও গুয়েতেমালা থেকে দেশে লবঙ্গ ও দারুচিনি আমদানি করা হয়। এতদিন এসব দেশে উৎপাদন কম হওয়ার অজুহাত দেখালেও এখন এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি।
বাড়তি দাম নিয়ে বাংলাদেশ মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, মসলার বড় একটি অংশ আসে ভারত থেকে। বর্তমানে সেখানে জিরা, এলাচসহ কয়েকটি মসলা পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তাছাড়া ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।
অন্যদিকে খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু কিছু মসলার দাম বেড়েছে। মসলাকে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এ পণ্য আমদানিতে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়। পাশাপাশি ডলারের দাম বাড়ায় মসলার বাজার চড়া। এ কারণে এলাচসহ সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে।
তবে ব্যবসায়ীদের এ দাবি মানতে নারাজ ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এখনও কোরবানির ঈদ আসতে প্রায় এক মাস বাকি। এরই মধ্যে তারা মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দাম বাড়ার জন্য তারা ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কথা বলছে। এগুলো অযৌক্তিক কথা। কারণ বর্তমানে যেসব মসলা বাজারে আছে, তা কয়েক মাস আগে আমদানি করা। সেসব মসলা তো বর্তমান বাড়তি দামের ডলারে কেনা নয়। তাই ডলারের দামের প্রভাব এসব পণ্যের ওপর এখনই পড়ার কথা নয়। এগুলো তাদের অজুহাত ছাড়া আর কিছু নয়। প্রশাসনের কঠোরতার অভাব ও নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকার কারণেই ভোক্তাকে বাড়তি দামে মসলা কিনতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে টার্গেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা মসলা পণ্যের দাম ইচ্ছামতো বাড়িয়ে দেয়। এবারও একই পথে হাঁটছে তারা। এরই মধ্যে কারসাজি করে কেনা দামের তুলনায় কয়েক গুণ বাড়তি দামে এলাচ বিক্রির প্রমাণ পেয়েছি আমরা। বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করে জরিমানাও করা হয়েছে। মসলার বাজার নিয়ে কারসাজিতে কারা জড়িত, সেটি চিহ্নিত করতে বড় পরিসরে শিগগির অভিযান পরিচালনা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য ১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ আসছে। ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে আসার কথা রয়েছে। অবশ্য জাহাজটি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশে প্রথম ক্রুুড অয়েলের চালান নিয়ে এসেছিল। বিপিসির শতভাগ ক্রুড অয়েল পরিবহন করে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

বিএসসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা, ৪৪ দশমিক ৪ মিটার প্রশস্ত, ১৪ দশমিক ৬ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) এমটি নিনেমিয়া ১ লাখ ৪ হাজার ২৬ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসছে। গত ২৩ জুলাই এমটি নিনেমিয়া ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল লোড করে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তৈরি জাহাজটি ১১ নটিক্যাল মাইল গতিতে জাহাজটি চলছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে জাহাজটি। বরবারের মতো এমটি নিনেমিয়া বহির্নোঙরে আসলে ছোট ছোট ট্যাংকারে ক্রুড অয়েল লাইটারিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ বার্থিং, লাইটারিং, চলাচল ও খালাস কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসসি আফ্রিকা ঘুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে ওই জাহাজের মালিকপক্ষ বা স্থানীয় এজেন্টের প্রস্তাবে রাজি হয়।

স্বাভাবিক সময়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসত ১৩-১৫ দিনে।কিন্তু নতুন রুটে সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে আসায় পথ প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেড়েছে। সময় লাগছে প্রায় ৫২ দিন। ঘুরপথে জাহাজটির নিজস্ব জ্বালানি লো সালফার ফুয়েল, মেরিন গ্যাস অয়েল, সুয়েজ খাল পার হওয়ার ফি, ভাড়া ইত্যাদি খরচও বাড়ছে কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ফিসহ কিছু খরচ ফিক্সড হলেও পুরো হিসাব উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হচ্ছে। এর জন্য বিপিসি থেকে পরিশোধন বাবদ ফি পায় ইআরএল। পরিশোধিত তেলের মধ্যে ডিজেলই বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, এমএস অকটেন ইত্যাদিও উৎপাদিত হচ্ছে। ইআরএলের ট্যাংকে ক্রুড অয়েল মজুদ থাকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন। এর বাইরে এসপিএমের পাইপলাইনে কিছু ক্রুড অয়েল রাখা ছিল যা ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরুতে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক সংকটের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল ইআরএলের প্ল্যান্টে।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর এমটি নিনেমিয়া জাহাজে ক্রুড অয়েল আসার পর ৮ মে পুনরায় চালু হয়েছিল ইস্টার্ন রিফাইনারি। অবশ্য যুদ্ধকালীন জ্বালানি সংকট সামাল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে সরকার।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পদক্ষেপ নিয়েছি : চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরে কার্যক্রম সফল করতে সিটি করপোরেশন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পদক্ষেপ নিয়েছি। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম সফল করতে কাজ করবেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ জন্য নগরীর প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারা দেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম মহানগরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের করণীয় নির্ধারণে চসিকের বিভাগীয় প্রধান, বিএনসিসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সভা করেন মেয়র।

পরে কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেয়র পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। এ সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার ওষুধ ছেটানো ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তদারক করেন মেয়র।
মেয়র বলেন, সামান্য স্বচ্ছ পানি জমে থাকলেও এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। বাসার ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির পানি জমার স্থান ও পরিত্যক্ত পাত্রসহ সম্ভাব্য সব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃত বিটিআই ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, কোতোয়ালি, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪২। তবে নগরীর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ও অন্যান্য মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, শুধু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার দিকে নজর না দিয়ে রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। নিজের ঘর, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ