আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

সিন্ডিকেটের কবলে চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে মসলার বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে মসলার বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একের পর এক বেড়েই চলেছে জিরা, এলাচ, গোলমরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গসহ প্রায় সব মসলার দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণেই মসলার দাম বাড়ছে। তবে পুরো মসলার বাজারই এখন সিন্ডিকেটের কবলে। এরাই গত এক সপ্তাহে জিরা, এলাচ ও লবঙ্গের মতো মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এসব মসলা আমদানি হয়েছে তিন থেকে চার মাস আগে। দীর্ঘদিন ধরেই চাল-ডাল-আটাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সে তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে এলাচ দানা, জিরা, লবঙ্গ, মরিচ, হলুদ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন প্রকারের মসলা।এদিকে মসলার বাজার অস্থির করার বিষয়টি তদারকি করতে শিগগির অভিযান পরিচালনার কথা বলেছে প্রশাসন।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকট ও ডলারের দাম বাড়ার কারণে এখন মসলার দাম অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। মসলাজাতীয় পণ্যের দাম দুই কারণে বাড়ছে। প্রথমত, দেশে এখন চলছে ডলার সংকট। ডলারের অভাবে এলসি করা যাচ্ছে না। একইভাবে বেড়েছে ডলারের দামও। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম।
গতকাল শনিবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বড় দানার ভালো মানের প্রতি কেজি এলাচ চার হাজার থেকে চার হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এই এলাচের কেজি বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৮০০ টাকায়। ছোট দানার প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকায়। গত সপ্তাহে একই মানের এলাচ তিন হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে লবঙ্গের দাম ছিল এক হাজার ২০০ টাকা। এখন একই লবঙ্গ বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৪০০ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৫৫৭ টাকায়, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। গত সপ্তাহে যে গোলমরিচ প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন তা ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দারুচিনি ৪০০ টাকা, হলুদ ৩১০ টাকা, কালিজিরা ৩২০ টাকা, কিশমিশ ৮০০ টাকা, তেজপাতা ১২০ টাকা আর সাদা সরিষা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকায়।
ভারতের রফতানির ঘোষণার পরও চট্টগ্রামের বাজারে কোথাও পণ্যের দাম কমার লক্ষণ নেই। বরং প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। পাইকারি বাজারে ভালোমানের ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকায়। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। যা আগে ছিল ৭০ টাকার নিচে। পাইকারি বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকার বেশি দামে। খুচরা বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৭৫ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মানভেদে পাঁচ টাকা কম-বেশি।
অথচ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি হয়েছে। সুতরাং সরবরাহ ঘাটতির কোনো কারণ নেই। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা বলছেন, কোরবানির বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে কয়েক গুণ বেশি মুনাফা করতেই অসাধু ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২৪ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন এলাচ, ৪১ হাজার ৩৪৬ মেট্রিক টন জিরা, ৩২ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন লবঙ্গ এবং ২৯ হাজার ৬৪৬ মেট্রিক টন গোল মরিচ আমদানি হয়েছে। এটি গত বছরের এ সময়ে আমদানির তুলনায় অনেক বেশি।
কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণে মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব কাস্টমস থেকে পণ্য খালাস করা হচ্ছে। যাতে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। মূলত ভারত থেকে জিরা ও এলাচ, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও গুয়েতেমালা থেকে দেশে লবঙ্গ ও দারুচিনি আমদানি করা হয়। এতদিন এসব দেশে উৎপাদন কম হওয়ার অজুহাত দেখালেও এখন এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি।
বাড়তি দাম নিয়ে বাংলাদেশ মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, মসলার বড় একটি অংশ আসে ভারত থেকে। বর্তমানে সেখানে জিরা, এলাচসহ কয়েকটি মসলা পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তাছাড়া ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।
অন্যদিকে খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু কিছু মসলার দাম বেড়েছে। মসলাকে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এ পণ্য আমদানিতে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়। পাশাপাশি ডলারের দাম বাড়ায় মসলার বাজার চড়া। এ কারণে এলাচসহ সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে।
তবে ব্যবসায়ীদের এ দাবি মানতে নারাজ ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এখনও কোরবানির ঈদ আসতে প্রায় এক মাস বাকি। এরই মধ্যে তারা মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দাম বাড়ার জন্য তারা ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কথা বলছে। এগুলো অযৌক্তিক কথা। কারণ বর্তমানে যেসব মসলা বাজারে আছে, তা কয়েক মাস আগে আমদানি করা। সেসব মসলা তো বর্তমান বাড়তি দামের ডলারে কেনা নয়। তাই ডলারের দামের প্রভাব এসব পণ্যের ওপর এখনই পড়ার কথা নয়। এগুলো তাদের অজুহাত ছাড়া আর কিছু নয়। প্রশাসনের কঠোরতার অভাব ও নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকার কারণেই ভোক্তাকে বাড়তি দামে মসলা কিনতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে টার্গেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা মসলা পণ্যের দাম ইচ্ছামতো বাড়িয়ে দেয়। এবারও একই পথে হাঁটছে তারা। এরই মধ্যে কারসাজি করে কেনা দামের তুলনায় কয়েক গুণ বাড়তি দামে এলাচ বিক্রির প্রমাণ পেয়েছি আমরা। বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করে জরিমানাও করা হয়েছে। মসলার বাজার নিয়ে কারসাজিতে কারা জড়িত, সেটি চিহ্নিত করতে বড় পরিসরে শিগগির অভিযান পরিচালনা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রাখে। একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনে ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই।”

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা মরহুম আহম্মদুর রহমানের স্মরণে আয়োজিত “মরহুম আহম্মদুর রহমান স্মৃতি অলিম্পিক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মরহুম হাজী ইসমাঈল স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টার্ফ, নতুনব্রিজ, বাকলিয়ায় এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।

মেয়র বলেন, “আমার শ্রদ্ধেয় পিতা মরহুম আহম্মদুর রহমান সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


তিনি আরও বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে তোলে। যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ক্রীড়াচর্চার প্রসার জরুরি।”

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের তরুণদের জন্য সুস্থ ও নিরাপদ ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়াপ্রেমী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টে বিভিন্ন এলাকার দল অংশগ্রহণ করছে।

উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের ক্রীড়ামুখী করে তোলার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নগরীর ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে : চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহানগরের যানজট সমস্যা নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগর ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ লক্ষ্যে ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় নগরীর ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন ও ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সোমবার চসিকের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চট্টগ্রামের জন্য প্রস্তুতকৃত দুটি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

সভায় মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।আমাদের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে এআই-ভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম। দীর্ঘদিনের যানজট, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এবং সড়কে আইন অমান্যের প্রবণতা কমাতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, প্রকল্পটির আওতায় নগরীর ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন ও ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। এসব স্থানে স্মার্ট সিগন্যাল, ট্রাফিক ফ্লো মনিটরিং ক্যামেরা, আইন লঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা, নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, রেড সিগন্যাল ডিটেক্টর এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই সিস্টেম সম্পূর্ণ এআই-ভিত্তিক। কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা যাবে। যানবাহনের নম্বরপ্লেট, চলাচলের ধরন এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে যানজট কমবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নাগরিকদের দুর্ভোগ কমবে।

তিনি বলেন, নগরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত ট্রাফিক করিডোর এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। আমরা শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, একটি নিরাপদ নগর গড়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছি। সে কারণেই দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়কে সৌরবিদ্যুৎ চালিত অত্যাধুনিক এলইডি সড়কবাতি, ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।

তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত অপরাধ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে সড়কবাতির সঙ্গে যুক্ত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক নগর নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ প্রতিবন্ধকতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগও থাকবে। ফলে নগর ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। সৌরবিদ্যুৎ চালিত স্মার্ট সড়কবাতি স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎ ব্যয় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মেয়র জানান, প্রকল্প দুটির বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার মতামত নেওয়া হবে। তাদের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ডিপিপি প্রস্তুত করা হবে। এটি এখনো প্রাথমিক ডিপিপি। সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে আমরা আরও পরিমার্জন করবো। তবে আমি বিশ্বাস করি, স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম এবং স্মার্ট নিরাপত্তা অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ট্রাফিক সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসী একটি নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নগর উপহার পাবে।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম, আবু সাদাত তৈয়ব, কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু পুরকৌশলগত কাজ করতে হবে। বিশেষ করে লেন মার্কিং, আইল্যান্ড ঠিক করতে হবে। ইন্টারনেটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মূল্যবান ক্যামেরা, ক্যাবল, যন্ত্রপাতি যাতে চুরি না হয় সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রকল্পের বিষয়ে পুলিশ এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার পরামর্শ গ্রহণ করে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকৃত হবে নগরবাসী।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ