আজঃ রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২৬

গাজীপুরের পূবাইলে ঋণের চাপে ফ্যানে ঝুলে যুবকের আত্মহত্যা

সুরুজ্জামান রাসেল গাজীপুর প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে ঋণের চাপে পরে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন এক যুবক।
নিহত যুবক সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার হরিনাকান্দি সুখাইড় বেহেলী গ্রামের মো. ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ কাওছার (২৭)।
২৬ মে রোববার রাতে পূবাইল থানাধীন বসুগাঁও কলেজ গেইট এলাকায় সোলেমান কাজীর ভাড়া বাসায় নিজ রুমে গলায় গামছা পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যা করে।
নিহতের স্ত্রী মিতু জানান, আমার স্বামী কিছু দিন পূর্বে পূবাইল কলেজ গেট চায়ের দোকান করে সংসার চালাতো বর্তমানে ২ মাস যাবত বেকার ঋণগ্রস্ত। খাবারের প্রয়োজনে আজ সন্ধ্যায় কাঁচা মালামাল বাজার করে নিয়ে আসেন এবং আমার ছেলে মিহিরের সাথে নিজ ঘরে খেলা করতে থাকেন। পরবর্তীতে নিজ শয়ন কক্ষে আমার তিন বছরের শিশু ছেলে মিহির ইসলামকে নিয়ে খেলা করা অবস্থায় রুমের দরজা লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে পাশের রুমে পাটের তৈরি রশি দিয়ে ঝুরি তৈরি করছিলাম এমন সময় বাচ্চার কান্না শব্দ পেয়ে দরজা বন্ধ অবস্থায় জানালা দিয়ে দেখতে পাই আমার স্বামী সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। আমার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকেরা ঘটনাস্থলে এসে তাৎক্ষণিকভাবে পূবাইল থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়।

পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান বলেন,আপাতত লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামকে ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি: চসিক মেয়র।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার কথা জানালেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের গত ১৬ মাসে নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাত ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

শুক্রবার রাতে নগরের আন্দরকিল্লাস্থ জেএমসেন হলে বাসন্তী পূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বসন্ত উৎসবে উদ্যোগে বসন্ত উৎসব ও মিলন মেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে সম্প্রীতির শহর।এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করছে। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আমরা চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চট্টগ্রামকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। গত ১৬ মাসে আমরা অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করতে পেরেছি, নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি।সব ধর্মের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শুধু দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীই নয়, এটি বহুজাতিক ও বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে।

এজন্য সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।সনাতনী সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে শ্মশান উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, নগরীর কয়েকটি শ্মশানঘাটে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও নতুন শ্মশান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো ধরনের উসকানি বা সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নাগরিকদের যেকোনো অভিযোগ জানাতে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।আমার দরজাও সব সময় সবার জন্য খোলা। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, এই শহর শুধু আমার নয়, আমাদের সবার। তাই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।তিনি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নালা খাল পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রামের জেএমসেন হলে শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজার নবমী ও মিলনমেলায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবাস দাশ সাগর। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার মজুমদার, অধ্যাপক নারায়ণ কান্তি চৌধুরী, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন।

জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলায় সর্বমোট গ্রেফতার-২০।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য ডিএডি আব্দুল মোতালেব হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পৃথক অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০ জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম গ্রেফতার করেছে ১৩ জন এবং জেলা পুলিশ ৭ জনকে।

শনিবার র‌্যাবের পক্ষে থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।গ্রেফতার তিনজন হলেন, সাইদুল ইসলাম, মো. পারভেজ ও মো. বেলাল। তাদের নোয়াখালীর কবিরহাট, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়। এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে তাদের চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিএডি আব্দুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর র‌্যাব-৭ বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করে। মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও হামলাসহ একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
সর্বশেষ গত শুক্রবার নোয়াখালীর কবিরহাট, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এবং বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে, ২৩ মার্চ সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকা থেকে মিজানুর রহমান সোহান (১৯), ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাট্টালী থেকে সেলিম (৩৫) এবং ১০ ফেব্রুয়ারি চাঁদগাঁও এলাকা থেকে সেকেন্দার মিয়া (৪৩) গ্রেফতার হন।

এছাড়া, জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুছ আলী হাওলাদার (৬২), খন্দকার জাহিদ হোসেন (৩৯), আলীরাজ হাসান (২৮), মিজান (৫৩), মামুন (৩৮), শহাজাহান (৫৩) ও শফিকুল ইসলামসহ (৫১) আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গ্রেফতারদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ