আজঃ শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬

স্মৃতির পাতায়

মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিনগুলি বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ

লেখক : প্রাবন্ধিক যুগ্ম পরিচালক (অব.), বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাকিস্তান আমলে সক্রিয় ছাত্রকর্মী হিসেবে ছাত্র সমাজের ১১দফা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী । পরবর্তীতে ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়া খানের নানামুখী ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর বন্ধ করে বাঙালী জাতিকে দাবিয়ে রাখার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের সংগঠক হিসাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

বাঙ্গালী জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর একজন ভারতীয় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গেরিলা বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধের গেরিলা যোদ্ধা ছিলাম। এছাড়াও চাকুরীতে যোগদানের আগ পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং শ্রমিক সংগ্রামে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আজ পাঠকদের জন্য আমার ছাত্রজীবন ও যুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করছি। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ পিতা- মনোহর আলী, মাতা- ছবুরা খাতুন, গ্রাম- তেকোটা, ডাকঘর- গৈড়লা, উপজেলা পটিয়া, জিলা- চট্টগ্রাম। আমি কৃষক পরিবারের সন্তান, পরিবার কৃষি আয়ের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। বাবা মনোহর আলী কৃষক হলেও তিনি ছিলেন গ্রামের মাতাব্বর।

তার কথায় গ্রাম ও সমাজ চলতো। তিনি একজন কৃষক সমিতির নেতাও ছিলেন। পাঁচ ভাই চার বোনের মধ্যে আমিই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশুনা করেছি। আমি গৈড়লা কেপি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি পটিয়া সরকারী কলেজ হতে এইচ.এস.সি ও ডিগ্রী পাশ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে রাজনীতি বিজ্ঞানে এম.এ পাশ করি। চট্টগ্রাম আইন কলেজে অধ্যায়ন করি। ছাত্র জীবনের শুরু হতে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হই। তবে সাংগঠনিক ভাবে ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হই। এবং একই সাথে গোপন সংগঠন কমিউনিস্ট পার্টি’র সংস্পর্শে আসি। তৎ সময়ে ১৯৬৮ সালে ছাত্র ইউনিয় পশ্চিম পটিয়া আঞ্চলিক শাখার সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সনে পটিয়া থানা ছাত্র ইউনিয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই। ছাত্র ইউনিয়নের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসাবে ছাত্র ইউনিয়ন ছাড়াও তখন কৃষক সমিতির কাজেও জড়িয়ে পড়ি।

কৃষকদের নানা সমস্যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কৃষক নেতাদের আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে পার্টির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ন্যাপের মনোনয়ন প্রার্থী আনোয়ারা থানার এডভোকেট আবদুল জলিলের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আমাকে আনোয়ারায় পাঠান। আনোয়ারায় প্রায় ৩ দিন অবস্থান করি এবং সুচারুভাবে নির্বাচনী কাজ পরিচালনা করি। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ক্ষমতা হন্তান্তরে পাকিস্তানী সাময়িক শাসক ইয়াহিয়া গড়িমশি শুরু করলে তখন দেশে প্রতিনিয়ত শহর গ্রামে সভা সমাবেশ মিছিল চলতে থাকে।

এতে জনগণের মধ্যে মারাত্মক উত্তেজনা দেখা দেয়। ১৯৭১ এর শুরু থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছিল। ৩রা মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকে ইয়াহিয়া অধিবেশ বন্ধ করে দেন। উক্ত অধিবেশনে যোগদানের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান হতে ন্যাপের আবদুল ওয়ালী খানের নেতৃত্বে ন্যাপের এমপি’রা ঢাকায় আসলেও পাকিস্তানি পিপলস পার্টি’র এমপিরা ঢাকায় আসেনি ভুট্টোর এমপিরা সংসদ অধিবেশ বর্জনের ঘোষণা দেয়ায় সংসদ অধিবেশ না বসায় পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী জনগণের মধ্যে তীব্র উত্তজেনা দেখা দেয়। দিন রাত মিছিল সমাবেশ চলতে থাকে। তখন শ্লোগান উঠে জাগো জাগো বাঙালী জাগো। বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো পূর্ব বাংলা স্বাধীন করো।

তোমার আমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব এক দফা এক দাবী পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা। যা বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে উচ্চারণ করে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। ‘জয় বাংলা’। দেশে টান টান উত্তেজনা, দেশে কি হবে কি হবে তা নিয়ে মানুষের চোখে ঘুম নেই মানুষের। ৭ই মার্চের ঘোষণার পর মুলত: রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মানুষের দাবী তখন এক দফা পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা।
এই লড়াই সংগ্রামের ভেতর পাক সরকার সাময়িক সমাধানের দিকে নাগিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য ও অস্ত্রসস্ত্র আনতে থাকে। চট্টগ্রাম শোয়াত জাহাজে অস্ত্র আনার সংবাদ পেয়ে চট্টগ্রামের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। যার যা আছে লাটি শোটা হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। মেজর জিয়ার উপর দায়িত্ব ছিলো শোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের।

এই খবর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনগণের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায় তখন চট্টগ্রাম শহরে রাস্তায় রাস্তায় সার্বক্ষণিক হাজার হাজার মানুষ। আগ্রাবাদ মেইন রোডে মানুষের পাহাড়া, সকাল বেলা মেজর জিয়ার নেতৃত্বে কিছু সংখ্যক সৈনিক আগ্রাবাদ রাস্তা দিয়ে শোয়াত জাহাজের দিকে রওনা হলে হোটেল সেন্ট মার্টিনের এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং মেজর জিয়াকে বন্দরের দিকে যেতে দেওয়া হয়নি।২৫ মার্চ মধ্য রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে ঢাকায় গ্রেপ্তারের আগেই বঙ্গবন্ধু ওয়ারলেশ বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

উক্ত বার্তা চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেন। ২৫ মার্চ মধ্য রাতেই পাকিস্তানী সামরিক সরকার বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেন, এবং ঢাকার রাজবাগ-পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস সহ ঢাকা শহরে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ শুরু করেন পাক বাহিনী। ২৫ মার্চের পর চট্টগ্রামে ক্যাপ্টন রফিকুল ইসলাম ইপিআর বাঙালী সৈনিক নিয়ে বিদ্রোহ করেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী সৈনিকদের প্রতিরোধ করেন। কিছু দিনের মধ্যে পাকিস্তানী সৈনিকদের হাতে চট্টগ্রাম শহরের পতন হলে শহরের মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে চলে যেতে থাকে।

এমতাবস্থায়, এলাকার যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে গৈড়লা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে থাকার নেতৃত্বে শত শত যুবকদের সকলবেলা ট্রেনিং এরং ব্যবস্থা করি। সামশুজ্জামান হীন ভাই এর একটি পয়েন্ট ২২ রাইফেল ছিল এবং একজন ইপিআর একটি রাইফেল ছিলো। এভাবে ট্রেনিং ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলে ১৯ তারিখ শুক্রবার বেলা ১১টায় সময় পটিয়া থানা মোড়ে পাকিস্তানী বাহিনী বিমান হামলা করে এতে অনেক লোক হতাহত হন।

বিমান হামলার পর আমাদের ট্রেনিং বন্ধ হয়ে যায়। মূলতঃ এপ্রিল থেকে সমগ্র চট্টগ্রাম পাক বাহিনী ও তাদের দোসর মুসলিমলীগের দখলে চলে যাওয়ায়
স্বাধীনতা যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। আওয়ামী রীগ ও অন্যান্য প্রগতিশীল নেতারা ইতিমধ্যে সীমান্ত পাঁড়ি দিয়ে ভারতে চলে গেছেন আমাদের নেতারাও অনেকে ভারতে। ১৯৭১ এর এপ্রিলের শেষে আমাদের প্রিয় নেতা কমরেড পূর্ণেন্দু কানুনগোয় আমাকে ও সুজিত বড়ুয়াকে আমাদের গ্রামের বৌদ্ধ মন্দিরে গোপনে বৈঠক করে জানালেন যে, ভারতে ন্যাপ কমিউনিট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা হচ্ছে, তাই আমাদের ভারতে যেতে হবে।

কথা মত দুই দিন আমি ও সুজিত ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গোমদন্ডী বকতেয়ার নোমানির বাড়ীতে যাই। সেখানে থেকে গাইডার আমাদের নেয়ার কথা। কিন্তু ঐ দিকে বিকেলে খবর আসে আমাদের নেতা পূর্ণেন্দু কানুনগো কর্ণফুলী নদী পাড় হওয়ার সময় মুসলিমলীগের দালালদের হাতে ধরা পড়েছে। এর কয়েক দিন পর কমরেড কানুনগো দালালদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে আমার নিকট আসে। বিকল্প পথে অর্থাৎ, মিরশ্বরাই হয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন, এবং যাওয়ার বিষয়ে সবিস্তারে ব্রীফ করেন।

তার নিদের্শনা মোতাবেক অন্যান্য সহযোদ্ধাদের সাথে মিরশ্বরাই ফেনী দিয়ে চৌদ্দগ্রাম, চৌদ্দগ্রামে রাতযাপন করি কাজী বাড়ীতে। পরদিন সকাল বেলা চৌদ্দগ্রাম জগতনাথ দীঘির পাশ দিয়ে বেলোনীয়া বর্ডার অতিক্রম করি। বেলোনী শহরে সিপিআই ক্যাম্পে রাত যাপনের পর পরদিন আগরতলা ক্রেপ্ট হোস্টেল পৌছি। সেখানে দেখি সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ অবস্থান করছেন। ক্রেপ্ট হোস্টেলে বেগম মতিয়া চৌধুরী আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। আমরা ভাত খেয়ে সেখান থেকে একটি স্কুলে যাই, সেখানে দেখি ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়েনের কয়েকশত নেতা কর্মচারী অবস্থান করছেন। সেখানে কয়েক দিন অবস্থানের পর অধ্যাপক মাহাবুবুল হকের পরিচালনায় বি.এস. হোস্টেলে দুই দিন রশিদ আসলেন এবং সবাইকে নীচে নেমে লাইন ধরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি আমাদের ব্রীফ করলেন এবং বললেন আমাদের চূড়ান্ত ট্রেনিং এর জন্য পাঠানো হচ্ছে।

তাই তিনি আমাদের জাতীয় পতাকা দিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করালেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়ী এসে আমাদের আগরতলা বিমান বন্দরে নিয়ে গেলেন। সেখানে দাঁড়ানো ছিলো রাশিয়ার একটি কাগো বিমান। সে বিমানে করে আমাদের আসাম সামরিক বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে সাময়িক বাহিনীর গাড়ীতে করে তেজপুর সেনা নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে আমাদের দুই মাসের বেশী সময় গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, ট্রেনিং শেষে ত্রিপুরা বাইকোরা নামক স্থানে ক্যাম্পে আশা হয় কয়েক দিন পর সাবরুম বর্ডার হয়ে ভারতীয় বর্ডার গার্ডের সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করি।

বর্ডার পাড় হয়ে চাকমা উপজাতীয় সহযোগিতায় কারণ আমাদের সমস্ত গোলা বারুদ বহন করেন তারা, তাদের মাধ্যমে ফটিকছড়ি নারায়ন হাট হয়ে বোয়ালখালী চলে আসি। বোয়ালখালী থেকে যে দিন পটিয়া গোপাল পড়া প্রবেশ করি, সেদিন সকাল বেলা আমাদের সাথে পাক বাহিনীর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পাক বাহিনীর সহযোগী কয়েকজন মারা গেলেও আমাদের কেউ হতাহত হননি।
১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর হতে করলডেঙ্গা রসহরী মহাজনের বাড়ীতে ক্যাম্প এবং করলডেঙ্গা পাহাড়ে ছালতাছড়ি নামক স্থানে ট্রেনিং সেন্টার করে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ধলঘাট ষ্টেশন দখলের যুদ্ধ, ইন্দ্রপুল ধ্বংস করা, গৈড়লার টেকে ঐতিহাসিক সম্মুখে যুদ্ধ এবং যুদ্ধে জয় লাভ, পটিয়া থানায় জাতীয় জতাকা উত্তোলন সহ ছোট কাটো আরো অনেক অপারেশনে অংশগ্রহণ করি।

কমরেড শাহ আলমের নেতৃত্বে ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ১৯ জন গেরিলা বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও স্থানীয় ভাবে করলডেঙ্গা পাহাড়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিরাট গেরিলা বাহিনী গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর পটিয়া সেচ্ছাসেবক বিগ্রেড প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করি। ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের পটিয়া থানার সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন শেষে প্রথমে চট্টগ্রাম শুল্ক বিভাগে চাকুরী করি। এর পর ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দান করি। (বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত)।

সংসার জীবনে আমার চারকন্যা, বড় মেয়ে সাবরিনা বিনতে আহমদ (সাকী), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ পাশ করে, ২য় মেয়ে মায়মুনা জেসমিন পিংকি এম.বি.বি.এস ডাক্তার, ৩য় মেয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর কম্পিউটার স্নাতকত্তোর ডিগ্রি অর্জন করেন। ৪র্থ মেয়ে সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এইচ.এস.সি ১ম বর্ষের ছাত্রী, তার স্ত্রী জেসমিন আরা বেগম বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করছি সমাজের জন্য।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানিক কমান্ডের ২০ বছর কমান্ডার ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ডের সভাপতি, চট্টগ্রাম বীর মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির সভাপতি, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধকালিন ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের চট্টগ্রাম জেলার সদস্য সচিব। হিসেবে আছি।
চট্টগ্রাম নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমার রাজনৈতিক গুরু মাস্টার আবদুস সালাম।

উল্লেখ্য যে, আমার গেরিলা দলে ছিলেন কমরেড শাহ আলম, সামশুজ্জামান হীরা, মো: ইউছুপ, কাজী আনোয়ার, নজরুল ইসলাম, শেখর দস্তিদার, পুলক দাশ, তপন দস্তিদার, মো: আলী, মোজাফ্ফর হোসেন, খামরুজ্জামান, সুজিত বড়ুয়া, প্রিয়তোষ বড়ুয়া, ভূপাল দাশ, মিয়া জায়র আহমদ, গোলাম মাওলা প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জীবন সংস্কৃতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কতনা অদ্ভূত সমাজ
মিথ্যাকে বিশ্বাস করে
সত্যের প্রমান চায়,
সাপের মতো খোলস বদল
স্বভাব থেকে যায় ।

কতনা অদ্ভূত সমাজ
ভাল কাজ মুছে যায়
সময়ের বাঁকে,
মন্দ কাজ রেকর্ড হয়
ইতিহাসের ফাঁকে ।

কতনা বিচিত্র জীবন সংস্কৃতি
একদিন না পেলে
ভুলে যায় স্মৃতি ,
স্বার্থের মোহে অন্ধ মানুষ
লাভের গায় গীতি ।।

কতনা অদ্ভূত মানুষ
অবুঝ তার মন,
সত্যকে আড়াল করে
মিথ্যার অনুশীলন।

কতনা অসহায় মানুষ
যত পায় তত চায় ,
অফুরন্ত চাহিদা তার
অভাব থেকে যায় ।

কতনা অবুঝ মানুষ
হিসেবের খাতায় ভুল
ক্ষনিকের মোহ মায়ায়
সৃষ্টির প্রেমে আকুল ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় টাকার কাছে
লোভের কাছে
বন্ধুত্বের কাছে
কখনো ভালবাসার কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় বিবেকের কাছে
সময়ের কাছে
অবশেষে মৃত্যুর কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
উজাড় করে জীবন,
একদিন নিজেই বোঝা
কেউ থাকেনা আপন।

কতনা অসহায় মানুষ
জানেনা তার কখন মরণ,
যেতে হবে ছেড়ে
মায়ার বাঁধন,
সব যাবে মুছে
কেউ করবেনা স্মরণ ।

এই বুঝি দুনিয়ার নিয়ম
বিদায়ের পরিনতি,
হাসি আর কান্নার মাঝে
জীবনের ইতি ।

রচনাকাল: ১৫/১২/২০২৫

দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংসকারীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্র গঠনে ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে। মন্ত্রী শুক্রবার চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পরিদর্শন পরবর্তী উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মেজর জিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি জিয়া ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে তাঁর অবদান দেশকে আলোড়িত ও সমৃদ্ধ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থেই এই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাধীনতা কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ করা হয়েছিল, যা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পুনরায় এর নাম ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন মেজর জিয়া। পরবর্তীতে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা,সেক্টর কমান্ডার, বীর উত্তম, সেনাপ্রধান ও সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নাম ও অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না।মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সরকার এসব স্থাপনা পুনর্গঠন করে জনগণের জন্য আবার উন্মুক্ত করবে।

দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সামান্য মূল্য সমন্বয়কে কেন্দ্র করে দেশে যে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে, তা অযৌক্তিক। সকলকে দেশপ্রেমিক হতে হবে, কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বা গণতন্ত্রহীনতার দিকে আমরা যেতে চায় না। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি।

তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যা এগিয়ে নিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন।পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ