আজঃ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

স্মৃতির পাতায়

মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিনগুলি বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ

লেখক : প্রাবন্ধিক যুগ্ম পরিচালক (অব.), বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাকিস্তান আমলে সক্রিয় ছাত্রকর্মী হিসেবে ছাত্র সমাজের ১১দফা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী । পরবর্তীতে ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়া খানের নানামুখী ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর বন্ধ করে বাঙালী জাতিকে দাবিয়ে রাখার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের সংগঠক হিসাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

বাঙ্গালী জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর একজন ভারতীয় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গেরিলা বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধের গেরিলা যোদ্ধা ছিলাম। এছাড়াও চাকুরীতে যোগদানের আগ পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং শ্রমিক সংগ্রামে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আজ পাঠকদের জন্য আমার ছাত্রজীবন ও যুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করছি। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ পিতা- মনোহর আলী, মাতা- ছবুরা খাতুন, গ্রাম- তেকোটা, ডাকঘর- গৈড়লা, উপজেলা পটিয়া, জিলা- চট্টগ্রাম। আমি কৃষক পরিবারের সন্তান, পরিবার কৃষি আয়ের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। বাবা মনোহর আলী কৃষক হলেও তিনি ছিলেন গ্রামের মাতাব্বর।

তার কথায় গ্রাম ও সমাজ চলতো। তিনি একজন কৃষক সমিতির নেতাও ছিলেন। পাঁচ ভাই চার বোনের মধ্যে আমিই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশুনা করেছি। আমি গৈড়লা কেপি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি পটিয়া সরকারী কলেজ হতে এইচ.এস.সি ও ডিগ্রী পাশ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে রাজনীতি বিজ্ঞানে এম.এ পাশ করি। চট্টগ্রাম আইন কলেজে অধ্যায়ন করি। ছাত্র জীবনের শুরু হতে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হই। তবে সাংগঠনিক ভাবে ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হই। এবং একই সাথে গোপন সংগঠন কমিউনিস্ট পার্টি’র সংস্পর্শে আসি। তৎ সময়ে ১৯৬৮ সালে ছাত্র ইউনিয় পশ্চিম পটিয়া আঞ্চলিক শাখার সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সনে পটিয়া থানা ছাত্র ইউনিয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই। ছাত্র ইউনিয়নের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসাবে ছাত্র ইউনিয়ন ছাড়াও তখন কৃষক সমিতির কাজেও জড়িয়ে পড়ি।

কৃষকদের নানা সমস্যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কৃষক নেতাদের আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে পার্টির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ন্যাপের মনোনয়ন প্রার্থী আনোয়ারা থানার এডভোকেট আবদুল জলিলের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আমাকে আনোয়ারায় পাঠান। আনোয়ারায় প্রায় ৩ দিন অবস্থান করি এবং সুচারুভাবে নির্বাচনী কাজ পরিচালনা করি। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ক্ষমতা হন্তান্তরে পাকিস্তানী সাময়িক শাসক ইয়াহিয়া গড়িমশি শুরু করলে তখন দেশে প্রতিনিয়ত শহর গ্রামে সভা সমাবেশ মিছিল চলতে থাকে।

এতে জনগণের মধ্যে মারাত্মক উত্তেজনা দেখা দেয়। ১৯৭১ এর শুরু থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছিল। ৩রা মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকে ইয়াহিয়া অধিবেশ বন্ধ করে দেন। উক্ত অধিবেশনে যোগদানের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান হতে ন্যাপের আবদুল ওয়ালী খানের নেতৃত্বে ন্যাপের এমপি’রা ঢাকায় আসলেও পাকিস্তানি পিপলস পার্টি’র এমপিরা ঢাকায় আসেনি ভুট্টোর এমপিরা সংসদ অধিবেশ বর্জনের ঘোষণা দেয়ায় সংসদ অধিবেশ না বসায় পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী জনগণের মধ্যে তীব্র উত্তজেনা দেখা দেয়। দিন রাত মিছিল সমাবেশ চলতে থাকে। তখন শ্লোগান উঠে জাগো জাগো বাঙালী জাগো। বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো পূর্ব বাংলা স্বাধীন করো।

তোমার আমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব এক দফা এক দাবী পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা। যা বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে উচ্চারণ করে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। ‘জয় বাংলা’। দেশে টান টান উত্তেজনা, দেশে কি হবে কি হবে তা নিয়ে মানুষের চোখে ঘুম নেই মানুষের। ৭ই মার্চের ঘোষণার পর মুলত: রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মানুষের দাবী তখন এক দফা পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা।
এই লড়াই সংগ্রামের ভেতর পাক সরকার সাময়িক সমাধানের দিকে নাগিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য ও অস্ত্রসস্ত্র আনতে থাকে। চট্টগ্রাম শোয়াত জাহাজে অস্ত্র আনার সংবাদ পেয়ে চট্টগ্রামের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। যার যা আছে লাটি শোটা হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। মেজর জিয়ার উপর দায়িত্ব ছিলো শোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের।

এই খবর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনগণের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায় তখন চট্টগ্রাম শহরে রাস্তায় রাস্তায় সার্বক্ষণিক হাজার হাজার মানুষ। আগ্রাবাদ মেইন রোডে মানুষের পাহাড়া, সকাল বেলা মেজর জিয়ার নেতৃত্বে কিছু সংখ্যক সৈনিক আগ্রাবাদ রাস্তা দিয়ে শোয়াত জাহাজের দিকে রওনা হলে হোটেল সেন্ট মার্টিনের এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং মেজর জিয়াকে বন্দরের দিকে যেতে দেওয়া হয়নি।২৫ মার্চ মধ্য রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে ঢাকায় গ্রেপ্তারের আগেই বঙ্গবন্ধু ওয়ারলেশ বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

উক্ত বার্তা চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেন। ২৫ মার্চ মধ্য রাতেই পাকিস্তানী সামরিক সরকার বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেন, এবং ঢাকার রাজবাগ-পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস সহ ঢাকা শহরে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ শুরু করেন পাক বাহিনী। ২৫ মার্চের পর চট্টগ্রামে ক্যাপ্টন রফিকুল ইসলাম ইপিআর বাঙালী সৈনিক নিয়ে বিদ্রোহ করেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী সৈনিকদের প্রতিরোধ করেন। কিছু দিনের মধ্যে পাকিস্তানী সৈনিকদের হাতে চট্টগ্রাম শহরের পতন হলে শহরের মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে চলে যেতে থাকে।

এমতাবস্থায়, এলাকার যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে গৈড়লা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে থাকার নেতৃত্বে শত শত যুবকদের সকলবেলা ট্রেনিং এরং ব্যবস্থা করি। সামশুজ্জামান হীন ভাই এর একটি পয়েন্ট ২২ রাইফেল ছিল এবং একজন ইপিআর একটি রাইফেল ছিলো। এভাবে ট্রেনিং ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলে ১৯ তারিখ শুক্রবার বেলা ১১টায় সময় পটিয়া থানা মোড়ে পাকিস্তানী বাহিনী বিমান হামলা করে এতে অনেক লোক হতাহত হন।

বিমান হামলার পর আমাদের ট্রেনিং বন্ধ হয়ে যায়। মূলতঃ এপ্রিল থেকে সমগ্র চট্টগ্রাম পাক বাহিনী ও তাদের দোসর মুসলিমলীগের দখলে চলে যাওয়ায়
স্বাধীনতা যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। আওয়ামী রীগ ও অন্যান্য প্রগতিশীল নেতারা ইতিমধ্যে সীমান্ত পাঁড়ি দিয়ে ভারতে চলে গেছেন আমাদের নেতারাও অনেকে ভারতে। ১৯৭১ এর এপ্রিলের শেষে আমাদের প্রিয় নেতা কমরেড পূর্ণেন্দু কানুনগোয় আমাকে ও সুজিত বড়ুয়াকে আমাদের গ্রামের বৌদ্ধ মন্দিরে গোপনে বৈঠক করে জানালেন যে, ভারতে ন্যাপ কমিউনিট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা হচ্ছে, তাই আমাদের ভারতে যেতে হবে।

কথা মত দুই দিন আমি ও সুজিত ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গোমদন্ডী বকতেয়ার নোমানির বাড়ীতে যাই। সেখানে থেকে গাইডার আমাদের নেয়ার কথা। কিন্তু ঐ দিকে বিকেলে খবর আসে আমাদের নেতা পূর্ণেন্দু কানুনগো কর্ণফুলী নদী পাড় হওয়ার সময় মুসলিমলীগের দালালদের হাতে ধরা পড়েছে। এর কয়েক দিন পর কমরেড কানুনগো দালালদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে আমার নিকট আসে। বিকল্প পথে অর্থাৎ, মিরশ্বরাই হয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন, এবং যাওয়ার বিষয়ে সবিস্তারে ব্রীফ করেন।

তার নিদের্শনা মোতাবেক অন্যান্য সহযোদ্ধাদের সাথে মিরশ্বরাই ফেনী দিয়ে চৌদ্দগ্রাম, চৌদ্দগ্রামে রাতযাপন করি কাজী বাড়ীতে। পরদিন সকাল বেলা চৌদ্দগ্রাম জগতনাথ দীঘির পাশ দিয়ে বেলোনীয়া বর্ডার অতিক্রম করি। বেলোনী শহরে সিপিআই ক্যাম্পে রাত যাপনের পর পরদিন আগরতলা ক্রেপ্ট হোস্টেল পৌছি। সেখানে দেখি সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ অবস্থান করছেন। ক্রেপ্ট হোস্টেলে বেগম মতিয়া চৌধুরী আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। আমরা ভাত খেয়ে সেখান থেকে একটি স্কুলে যাই, সেখানে দেখি ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়েনের কয়েকশত নেতা কর্মচারী অবস্থান করছেন। সেখানে কয়েক দিন অবস্থানের পর অধ্যাপক মাহাবুবুল হকের পরিচালনায় বি.এস. হোস্টেলে দুই দিন রশিদ আসলেন এবং সবাইকে নীচে নেমে লাইন ধরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি আমাদের ব্রীফ করলেন এবং বললেন আমাদের চূড়ান্ত ট্রেনিং এর জন্য পাঠানো হচ্ছে।

তাই তিনি আমাদের জাতীয় পতাকা দিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করালেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়ী এসে আমাদের আগরতলা বিমান বন্দরে নিয়ে গেলেন। সেখানে দাঁড়ানো ছিলো রাশিয়ার একটি কাগো বিমান। সে বিমানে করে আমাদের আসাম সামরিক বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে সাময়িক বাহিনীর গাড়ীতে করে তেজপুর সেনা নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে আমাদের দুই মাসের বেশী সময় গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, ট্রেনিং শেষে ত্রিপুরা বাইকোরা নামক স্থানে ক্যাম্পে আশা হয় কয়েক দিন পর সাবরুম বর্ডার হয়ে ভারতীয় বর্ডার গার্ডের সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করি।

বর্ডার পাড় হয়ে চাকমা উপজাতীয় সহযোগিতায় কারণ আমাদের সমস্ত গোলা বারুদ বহন করেন তারা, তাদের মাধ্যমে ফটিকছড়ি নারায়ন হাট হয়ে বোয়ালখালী চলে আসি। বোয়ালখালী থেকে যে দিন পটিয়া গোপাল পড়া প্রবেশ করি, সেদিন সকাল বেলা আমাদের সাথে পাক বাহিনীর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পাক বাহিনীর সহযোগী কয়েকজন মারা গেলেও আমাদের কেউ হতাহত হননি।
১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর হতে করলডেঙ্গা রসহরী মহাজনের বাড়ীতে ক্যাম্প এবং করলডেঙ্গা পাহাড়ে ছালতাছড়ি নামক স্থানে ট্রেনিং সেন্টার করে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ধলঘাট ষ্টেশন দখলের যুদ্ধ, ইন্দ্রপুল ধ্বংস করা, গৈড়লার টেকে ঐতিহাসিক সম্মুখে যুদ্ধ এবং যুদ্ধে জয় লাভ, পটিয়া থানায় জাতীয় জতাকা উত্তোলন সহ ছোট কাটো আরো অনেক অপারেশনে অংশগ্রহণ করি।

কমরেড শাহ আলমের নেতৃত্বে ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ১৯ জন গেরিলা বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও স্থানীয় ভাবে করলডেঙ্গা পাহাড়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিরাট গেরিলা বাহিনী গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর পটিয়া সেচ্ছাসেবক বিগ্রেড প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করি। ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের পটিয়া থানার সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন শেষে প্রথমে চট্টগ্রাম শুল্ক বিভাগে চাকুরী করি। এর পর ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দান করি। (বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত)।

সংসার জীবনে আমার চারকন্যা, বড় মেয়ে সাবরিনা বিনতে আহমদ (সাকী), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ পাশ করে, ২য় মেয়ে মায়মুনা জেসমিন পিংকি এম.বি.বি.এস ডাক্তার, ৩য় মেয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর কম্পিউটার স্নাতকত্তোর ডিগ্রি অর্জন করেন। ৪র্থ মেয়ে সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এইচ.এস.সি ১ম বর্ষের ছাত্রী, তার স্ত্রী জেসমিন আরা বেগম বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করছি সমাজের জন্য।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানিক কমান্ডের ২০ বছর কমান্ডার ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ডের সভাপতি, চট্টগ্রাম বীর মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির সভাপতি, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধকালিন ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের চট্টগ্রাম জেলার সদস্য সচিব। হিসেবে আছি।
চট্টগ্রাম নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমার রাজনৈতিক গুরু মাস্টার আবদুস সালাম।

উল্লেখ্য যে, আমার গেরিলা দলে ছিলেন কমরেড শাহ আলম, সামশুজ্জামান হীরা, মো: ইউছুপ, কাজী আনোয়ার, নজরুল ইসলাম, শেখর দস্তিদার, পুলক দাশ, তপন দস্তিদার, মো: আলী, মোজাফ্ফর হোসেন, খামরুজ্জামান, সুজিত বড়ুয়া, প্রিয়তোষ বড়ুয়া, ভূপাল দাশ, মিয়া জায়র আহমদ, গোলাম মাওলা প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সুকণ্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদ বাংলাদেশ’র পহেলা বৈশাখে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পহেলা বৈশাখ বছরের প্রথম দিন বাঙ্গালী জাতির জন্যে বিশেষ দিন আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে পালন করে থাকে, সেই সাথে বিভিন্ন পটচিত্র হাতে বাংলার

ঘরে ঘরে রৌদ্রময় দিনগুলো যেভাবে কাটে হাত পাখা, মিষ্টি, দই সহ নানা রকম পণ্য কৃষকের নতুন ধান ঘরে আনার যে কৌতূহল। বিভিন্ন প্রাণীর ছবি সম্বলিত ফেস্টুন হাতে বৈশাখী শোভা যাত্রা বের করে, রাস্তায় আঁকা হয় আলপনা, বৈশাখী রঙিন পোশাক পরে সবাই আনন্দ উৎসবে সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা সহ পান্তা ইলিশ খাওয়া, ঘুরাঘুরি উৎসবে মেতে উঠে ছেলে বুড়ো সব বয়সের মানুষ।

সুকণ্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত পহেলা বৈশাখে চট্টগ্রাম নগরীর বৈঠক খানা কমিউনিটি হল চেরাগী পাহাড় ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ এর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, এতে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কণ্ঠ শিল্পী, সুরকার,বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন এর সঙ্গীত পরিচালক সুব্রত দাশ অনুজ, সম্মানিত অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা অঞ্জনা পারিয়াল, রিজেন্সী ও ক্যানপার্ক মানব সম্পদ বিভাগের উপমহা ব্যবস্হাপক লিটন কান্তি সরকার ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সনেট দেব।পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য তোলে ধরে অনুভূতি প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. অনুপ দে, শিক্ষক লেলিন বিশ্বাস, এর পর অনুভূতি প্রকাশ করেন সুকণ্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদ বাংলাদেশ’র সভাপতি সাংবাদিক

অরুণ নাথ, পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা লোপা দাশ, সুর্বণা দাশ, অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন পরিষদের সম্পাদক মো: লোকমান হোসেন।একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্মৃতি দে, অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, হিমু আইচ,অদিতি বিশ্বাস, উর্বশী চক্রবর্তী, কবিতা আবৃত্তি ও গান করেন লিটন কান্তি সরকার,এর পর একক গান করেন সারদা স্বয়ং প্রভা ঘোষ,অভ্রনীল দে,আর্য্যদীপ সরকার,শুভ্রনীল দাশ,দ্বৈত সঙ্গীত পরিবেশন করেন দীপা দে – নীপা দে ও অবন্তী সরকার – পিহুনা সরকার। এর পর একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সৌমিল শ্রীহান দত্ত, মো: লোকমান হোসেন, অরুণ নাথ, সনেট দেব,সুপ্রিয়া চৌধুরী, নরেন বিশ্বাস, রোদ্দুর দে, প্রসেনজিৎ ঘোষ,ঈশ্বান চক্রবর্তী,সূর্বণা দাশ,,উর্বশী চক্রবর্তী,দীপা সিংহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের মধ্যমনি ছিলেন বিদ্যার্থী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা শিল্পী সুব্রত দাশ অনুজ, তাঁর পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মনজয় করে নিয়েছে। বিকাল ৩.৩০ টা থেকে রাত ৮ টা অবধি সুরের মায়াজালে ভরপুর। হলরুমটি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। শ্রোতাদের অনুরোধে শিল্পী সুব্রত দাশ অনুজের গানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যচর্চার ফসল অমিত বড়ুয়ার সাহিত্যকর্ম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কিশোর সাহিত্যের উৎকর্ষধর্মী দ্বি-মাসিক পত্রিকা কিশোরবেলা’র উদ্যোগে কবি ও শিশুসাহিত্যিক অমিত বড়ুয়ার সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশীদ।আলোচক ছিলেন প্রফেসর রীতা দত্ত, এলিজাবেথ আরিফা মুবাশশিরা, তহুরীন সবুর ডালিয়া, অরুণ শীল। উদ্বোধক ছিলেন কবি সুজন বড়ুয়া।স্বাগত বক্তব্য দেন রহমান রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন দিলরুবা খানম ছুটি।

বক্তারা বলেন, কবি অমিত বড়ুয়ার দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যচর্চার ফসল এই আলোচনা-উৎসব। তিনি নানা প্রতিকূলতার মাঝেও সাহিত্য রচনা অব্যাহত রেখেছেন। ছড়া-কবিতায় তিনি যে দৃশ্য আঁকেন তা নতুন ও স্বতন্ত্র। শিশু-কিশোরদের মনস্তত্ত্ব বুঝেই তিনি সাহিত্য রচনা করেন। তাঁর কবিতা-ছড়ার ভাষা সহজ, সরল ও সংবেদনশীল।শুভেচ্ছা বক্তব্য ও কবিতা পাঠে অংশ নেন সনজীব বড়ুয়া, দীপক বড়ুয়া, জসীম মেহবুব, খালেদুল আনোয়ার, মর্জিনা আক্তার, সুবর্ণা দাশ মুনমুন, সিমলা চৌধুরী, লিপি বড়ুয়া, আলোক বিকাশ বড়ুয়া, সুসেন কান্তি দাশ, যারীন সুবা, আবুল কালাম বেলাল, সনজিত দে, আজিজ রাহমান, নূরনাহার নিপা, সুপলাল বড়ুয়া, ইফতেখার মারুফ, কাঞ্চণা চক্রবর্তী, শিউলি নাথ, সাবিনা পারভীন লিনা, মিলন বণিক, মারজিয়া খানম সিদ্দিকা, আকাশ আহমেদ, সৈয়দ জিয়াউদ্দীন, জসিম উদ্দিন খান, বিদ্যুৎ কুমার দাশ, হেলাল বিন ইলিয়াছ, তানজিনা রাহী, মুনাজউর রহমান, মহুয়া চৌধুরী, প্রদ্যোত কুমার বড়ুয়া, বনানী শেখর রুদ্র প্রমুখ।

আলোচিত খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ