আজঃ বুধবার ১৩ মে, ২০২৬

স্মৃতির পাতায়

মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিনগুলি বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ

লেখক : প্রাবন্ধিক যুগ্ম পরিচালক (অব.), বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাকিস্তান আমলে সক্রিয় ছাত্রকর্মী হিসেবে ছাত্র সমাজের ১১দফা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী । পরবর্তীতে ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়া খানের নানামুখী ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর বন্ধ করে বাঙালী জাতিকে দাবিয়ে রাখার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের সংগঠক হিসাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

বাঙ্গালী জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর একজন ভারতীয় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গেরিলা বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধের গেরিলা যোদ্ধা ছিলাম। এছাড়াও চাকুরীতে যোগদানের আগ পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং শ্রমিক সংগ্রামে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আজ পাঠকদের জন্য আমার ছাত্রজীবন ও যুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করছি। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ পিতা- মনোহর আলী, মাতা- ছবুরা খাতুন, গ্রাম- তেকোটা, ডাকঘর- গৈড়লা, উপজেলা পটিয়া, জিলা- চট্টগ্রাম। আমি কৃষক পরিবারের সন্তান, পরিবার কৃষি আয়ের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। বাবা মনোহর আলী কৃষক হলেও তিনি ছিলেন গ্রামের মাতাব্বর।

তার কথায় গ্রাম ও সমাজ চলতো। তিনি একজন কৃষক সমিতির নেতাও ছিলেন। পাঁচ ভাই চার বোনের মধ্যে আমিই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশুনা করেছি। আমি গৈড়লা কেপি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি পটিয়া সরকারী কলেজ হতে এইচ.এস.সি ও ডিগ্রী পাশ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে রাজনীতি বিজ্ঞানে এম.এ পাশ করি। চট্টগ্রাম আইন কলেজে অধ্যায়ন করি। ছাত্র জীবনের শুরু হতে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হই। তবে সাংগঠনিক ভাবে ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হই। এবং একই সাথে গোপন সংগঠন কমিউনিস্ট পার্টি’র সংস্পর্শে আসি। তৎ সময়ে ১৯৬৮ সালে ছাত্র ইউনিয় পশ্চিম পটিয়া আঞ্চলিক শাখার সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সনে পটিয়া থানা ছাত্র ইউনিয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই। ছাত্র ইউনিয়নের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসাবে ছাত্র ইউনিয়ন ছাড়াও তখন কৃষক সমিতির কাজেও জড়িয়ে পড়ি।

কৃষকদের নানা সমস্যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কৃষক নেতাদের আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে পার্টির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ন্যাপের মনোনয়ন প্রার্থী আনোয়ারা থানার এডভোকেট আবদুল জলিলের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আমাকে আনোয়ারায় পাঠান। আনোয়ারায় প্রায় ৩ দিন অবস্থান করি এবং সুচারুভাবে নির্বাচনী কাজ পরিচালনা করি। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ক্ষমতা হন্তান্তরে পাকিস্তানী সাময়িক শাসক ইয়াহিয়া গড়িমশি শুরু করলে তখন দেশে প্রতিনিয়ত শহর গ্রামে সভা সমাবেশ মিছিল চলতে থাকে।

এতে জনগণের মধ্যে মারাত্মক উত্তেজনা দেখা দেয়। ১৯৭১ এর শুরু থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছিল। ৩রা মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকে ইয়াহিয়া অধিবেশ বন্ধ করে দেন। উক্ত অধিবেশনে যোগদানের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান হতে ন্যাপের আবদুল ওয়ালী খানের নেতৃত্বে ন্যাপের এমপি’রা ঢাকায় আসলেও পাকিস্তানি পিপলস পার্টি’র এমপিরা ঢাকায় আসেনি ভুট্টোর এমপিরা সংসদ অধিবেশ বর্জনের ঘোষণা দেয়ায় সংসদ অধিবেশ না বসায় পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী জনগণের মধ্যে তীব্র উত্তজেনা দেখা দেয়। দিন রাত মিছিল সমাবেশ চলতে থাকে। তখন শ্লোগান উঠে জাগো জাগো বাঙালী জাগো। বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো পূর্ব বাংলা স্বাধীন করো।

তোমার আমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব এক দফা এক দাবী পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা। যা বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে উচ্চারণ করে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। ‘জয় বাংলা’। দেশে টান টান উত্তেজনা, দেশে কি হবে কি হবে তা নিয়ে মানুষের চোখে ঘুম নেই মানুষের। ৭ই মার্চের ঘোষণার পর মুলত: রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মানুষের দাবী তখন এক দফা পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা।
এই লড়াই সংগ্রামের ভেতর পাক সরকার সাময়িক সমাধানের দিকে নাগিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য ও অস্ত্রসস্ত্র আনতে থাকে। চট্টগ্রাম শোয়াত জাহাজে অস্ত্র আনার সংবাদ পেয়ে চট্টগ্রামের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। যার যা আছে লাটি শোটা হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। মেজর জিয়ার উপর দায়িত্ব ছিলো শোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের।

এই খবর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনগণের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায় তখন চট্টগ্রাম শহরে রাস্তায় রাস্তায় সার্বক্ষণিক হাজার হাজার মানুষ। আগ্রাবাদ মেইন রোডে মানুষের পাহাড়া, সকাল বেলা মেজর জিয়ার নেতৃত্বে কিছু সংখ্যক সৈনিক আগ্রাবাদ রাস্তা দিয়ে শোয়াত জাহাজের দিকে রওনা হলে হোটেল সেন্ট মার্টিনের এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং মেজর জিয়াকে বন্দরের দিকে যেতে দেওয়া হয়নি।২৫ মার্চ মধ্য রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে ঢাকায় গ্রেপ্তারের আগেই বঙ্গবন্ধু ওয়ারলেশ বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

উক্ত বার্তা চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেন। ২৫ মার্চ মধ্য রাতেই পাকিস্তানী সামরিক সরকার বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেন, এবং ঢাকার রাজবাগ-পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস সহ ঢাকা শহরে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ শুরু করেন পাক বাহিনী। ২৫ মার্চের পর চট্টগ্রামে ক্যাপ্টন রফিকুল ইসলাম ইপিআর বাঙালী সৈনিক নিয়ে বিদ্রোহ করেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী সৈনিকদের প্রতিরোধ করেন। কিছু দিনের মধ্যে পাকিস্তানী সৈনিকদের হাতে চট্টগ্রাম শহরের পতন হলে শহরের মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে চলে যেতে থাকে।

এমতাবস্থায়, এলাকার যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে গৈড়লা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে থাকার নেতৃত্বে শত শত যুবকদের সকলবেলা ট্রেনিং এরং ব্যবস্থা করি। সামশুজ্জামান হীন ভাই এর একটি পয়েন্ট ২২ রাইফেল ছিল এবং একজন ইপিআর একটি রাইফেল ছিলো। এভাবে ট্রেনিং ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলে ১৯ তারিখ শুক্রবার বেলা ১১টায় সময় পটিয়া থানা মোড়ে পাকিস্তানী বাহিনী বিমান হামলা করে এতে অনেক লোক হতাহত হন।

বিমান হামলার পর আমাদের ট্রেনিং বন্ধ হয়ে যায়। মূলতঃ এপ্রিল থেকে সমগ্র চট্টগ্রাম পাক বাহিনী ও তাদের দোসর মুসলিমলীগের দখলে চলে যাওয়ায়
স্বাধীনতা যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। আওয়ামী রীগ ও অন্যান্য প্রগতিশীল নেতারা ইতিমধ্যে সীমান্ত পাঁড়ি দিয়ে ভারতে চলে গেছেন আমাদের নেতারাও অনেকে ভারতে। ১৯৭১ এর এপ্রিলের শেষে আমাদের প্রিয় নেতা কমরেড পূর্ণেন্দু কানুনগোয় আমাকে ও সুজিত বড়ুয়াকে আমাদের গ্রামের বৌদ্ধ মন্দিরে গোপনে বৈঠক করে জানালেন যে, ভারতে ন্যাপ কমিউনিট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা হচ্ছে, তাই আমাদের ভারতে যেতে হবে।

কথা মত দুই দিন আমি ও সুজিত ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গোমদন্ডী বকতেয়ার নোমানির বাড়ীতে যাই। সেখানে থেকে গাইডার আমাদের নেয়ার কথা। কিন্তু ঐ দিকে বিকেলে খবর আসে আমাদের নেতা পূর্ণেন্দু কানুনগো কর্ণফুলী নদী পাড় হওয়ার সময় মুসলিমলীগের দালালদের হাতে ধরা পড়েছে। এর কয়েক দিন পর কমরেড কানুনগো দালালদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে আমার নিকট আসে। বিকল্প পথে অর্থাৎ, মিরশ্বরাই হয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন, এবং যাওয়ার বিষয়ে সবিস্তারে ব্রীফ করেন।

তার নিদের্শনা মোতাবেক অন্যান্য সহযোদ্ধাদের সাথে মিরশ্বরাই ফেনী দিয়ে চৌদ্দগ্রাম, চৌদ্দগ্রামে রাতযাপন করি কাজী বাড়ীতে। পরদিন সকাল বেলা চৌদ্দগ্রাম জগতনাথ দীঘির পাশ দিয়ে বেলোনীয়া বর্ডার অতিক্রম করি। বেলোনী শহরে সিপিআই ক্যাম্পে রাত যাপনের পর পরদিন আগরতলা ক্রেপ্ট হোস্টেল পৌছি। সেখানে দেখি সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ অবস্থান করছেন। ক্রেপ্ট হোস্টেলে বেগম মতিয়া চৌধুরী আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। আমরা ভাত খেয়ে সেখান থেকে একটি স্কুলে যাই, সেখানে দেখি ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়েনের কয়েকশত নেতা কর্মচারী অবস্থান করছেন। সেখানে কয়েক দিন অবস্থানের পর অধ্যাপক মাহাবুবুল হকের পরিচালনায় বি.এস. হোস্টেলে দুই দিন রশিদ আসলেন এবং সবাইকে নীচে নেমে লাইন ধরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি আমাদের ব্রীফ করলেন এবং বললেন আমাদের চূড়ান্ত ট্রেনিং এর জন্য পাঠানো হচ্ছে।

তাই তিনি আমাদের জাতীয় পতাকা দিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করালেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়ী এসে আমাদের আগরতলা বিমান বন্দরে নিয়ে গেলেন। সেখানে দাঁড়ানো ছিলো রাশিয়ার একটি কাগো বিমান। সে বিমানে করে আমাদের আসাম সামরিক বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে সাময়িক বাহিনীর গাড়ীতে করে তেজপুর সেনা নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে আমাদের দুই মাসের বেশী সময় গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, ট্রেনিং শেষে ত্রিপুরা বাইকোরা নামক স্থানে ক্যাম্পে আশা হয় কয়েক দিন পর সাবরুম বর্ডার হয়ে ভারতীয় বর্ডার গার্ডের সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করি।

বর্ডার পাড় হয়ে চাকমা উপজাতীয় সহযোগিতায় কারণ আমাদের সমস্ত গোলা বারুদ বহন করেন তারা, তাদের মাধ্যমে ফটিকছড়ি নারায়ন হাট হয়ে বোয়ালখালী চলে আসি। বোয়ালখালী থেকে যে দিন পটিয়া গোপাল পড়া প্রবেশ করি, সেদিন সকাল বেলা আমাদের সাথে পাক বাহিনীর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পাক বাহিনীর সহযোগী কয়েকজন মারা গেলেও আমাদের কেউ হতাহত হননি।
১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর হতে করলডেঙ্গা রসহরী মহাজনের বাড়ীতে ক্যাম্প এবং করলডেঙ্গা পাহাড়ে ছালতাছড়ি নামক স্থানে ট্রেনিং সেন্টার করে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ধলঘাট ষ্টেশন দখলের যুদ্ধ, ইন্দ্রপুল ধ্বংস করা, গৈড়লার টেকে ঐতিহাসিক সম্মুখে যুদ্ধ এবং যুদ্ধে জয় লাভ, পটিয়া থানায় জাতীয় জতাকা উত্তোলন সহ ছোট কাটো আরো অনেক অপারেশনে অংশগ্রহণ করি।

কমরেড শাহ আলমের নেতৃত্বে ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ১৯ জন গেরিলা বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও স্থানীয় ভাবে করলডেঙ্গা পাহাড়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিরাট গেরিলা বাহিনী গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর পটিয়া সেচ্ছাসেবক বিগ্রেড প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করি। ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের পটিয়া থানার সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন শেষে প্রথমে চট্টগ্রাম শুল্ক বিভাগে চাকুরী করি। এর পর ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দান করি। (বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত)।

সংসার জীবনে আমার চারকন্যা, বড় মেয়ে সাবরিনা বিনতে আহমদ (সাকী), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ পাশ করে, ২য় মেয়ে মায়মুনা জেসমিন পিংকি এম.বি.বি.এস ডাক্তার, ৩য় মেয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর কম্পিউটার স্নাতকত্তোর ডিগ্রি অর্জন করেন। ৪র্থ মেয়ে সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এইচ.এস.সি ১ম বর্ষের ছাত্রী, তার স্ত্রী জেসমিন আরা বেগম বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করছি সমাজের জন্য।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানিক কমান্ডের ২০ বছর কমান্ডার ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ডের সভাপতি, চট্টগ্রাম বীর মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির সভাপতি, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধকালিন ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের চট্টগ্রাম জেলার সদস্য সচিব। হিসেবে আছি।
চট্টগ্রাম নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমার রাজনৈতিক গুরু মাস্টার আবদুস সালাম।

উল্লেখ্য যে, আমার গেরিলা দলে ছিলেন কমরেড শাহ আলম, সামশুজ্জামান হীরা, মো: ইউছুপ, কাজী আনোয়ার, নজরুল ইসলাম, শেখর দস্তিদার, পুলক দাশ, তপন দস্তিদার, মো: আলী, মোজাফ্ফর হোসেন, খামরুজ্জামান, সুজিত বড়ুয়া, প্রিয়তোষ বড়ুয়া, ভূপাল দাশ, মিয়া জায়র আহমদ, গোলাম মাওলা প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমি’র শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান সম্পন্ন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমি আয়োজিত ১০ই মে রবিবার সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনেঅনুষ্ঠিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। এতে শুরুতেই মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মুখ্য বাদ্যযন্ত্রী অনুপম বিশ্বাস। উদ্বোধনী অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমির শিক্ষার্থীরা বাঁশী, দোতারা, বেহালা, উকুলেলে এবং কণ্ঠ সঙ্গীত সমন্বয়ে রাগ ভুপালীতে অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন। অর্কেস্ট্রা পরিবেশনায় অংশ গ্রহণ করেন জবাশ্রী দাশগুপ্ত, দিপংকর বড়ুয়া, হৃদিতা দাশ (পুজা), কমলিনী নাথ,   নীলরাজ নাথ, রাশী দাশ, দিঘী মজুমদার, উর্বশী দে, সঙ্গীতা মহাজন,  পুজা দাশ,  অনুষ্ক দে, জিশু দেবনাথ, অভিজিৎ আচার্য্য, রনি দে, রাইমা দাশ, দুর্লভ দাশ, সীমান্ত দাশ, প্রশান্ত দাশ,  শামীম হোসাইন, হৃদয় দাশ অর্চিতা দাশ,  আনোয়ার হোসেন, প্রান্ত ধর, তমাল মজুমদার,   প্রেরণা আচার্য্য, সঞ্জিত রায়, প্রসেনজিৎ নাথ। তবলা সহযোগিতায় ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী।  অর্কেস্ট্রা পরিচালনা করেন সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমির পরিচালক শিল্পী সুমন কুমার নাথ।
এরপর অদিতি সাহার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী টিটু কুমার দাশ।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্যা নীড এ্যাপারেলস ( প্রা:) লিমিটেড এর চেয়ারম্যান রিয়াজ ওয়ায়েজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশনের উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী রনধীর দাশ।

বক্তারা একাডেমির এ ধরনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানান,সংস্কৃতি প্রেমীদের জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠবে উল্লেখ করেন, একাডেমির উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। ঢাকা থেকে আগত BASIC ACADEMY OF YOGIC ACOUSTIC TRADITIONAL INSTRUMENTS (BAYATI) দেশ রাগে দোতারাতে অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে দরবারি রাগে একক খ্যায়াল পরিবেশন করেন শিল্পী রিষু তালুকদার।  তবলা বাদনে ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী এবং  হারমেনিয়ামে বিজয় দেবনাথ। তানপুরায় সহযোগিতা করেন হৃদিতা দাশ পুজা।

বাঁশীতে সুরের মুর্ছনায় এক অনবদ্য পরিবেশনা উপহার দিলেন শিল্পী রাসেল দত্ত।  তিনি প্রথমে মত্যতাল এবং পরবর্তী তে ত্রিতালে রাগ বাগেশ্রী পরিবেশন করেন। তবলা বাদনে ছিলেন শিল্পী সানি দে এবং তানপুরা সহযোগিতায় আরাধ্যা দাশ। পরিশেষে শিল্পী রাসেল দত্ত কীর্তন ধুন পরিবেশন করে দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।

ওপার বাংলার থেকে আগত শিল্পী বাবুসোনা বসু চতুরঙ্গী পরিবেশন করিয়ে দর্শকশ্রোতাবৃন্দের সুরের তৃপ্তি আস্বাদনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে তোলেন। তিনি প্রথমে বিলম্বিত ত্রিতালে এবং পরে দ্রুত লয়ে রাগ যোগ পরিবেশন করেন। তবলা বাদনে ছিলেন ওপার বাংলা থেকে আগত শিল্পী সমীর আচার্য্য।  পরিশেষে একটি ধুন বাজিয়ে হলরুমে সুরের মায়াজালে উপস্থিত দর্শক – শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।

কবিয়াল রমেশ শীলের জন্মদিনে দুইদিন ব্যাপী ‘রমেশ উৎসব’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, ১৯৪৮ সালে কলকাতার শ্রদ্ধানন্দ পার্কে ‘বঙ্গের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল’ উপাধিপ্রাপ্ত, মাইজভাণ্ডারী গানের অন্যতম গীতিকার ও কবিকুল সম্রাট, উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল, একুশে পদকপ্রাপ্ত লোককবি রমেশ শীলের ১৪৯ তম জন্মবার্ষিকী শনিবার (৯ মে)। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার গোমদণ্ডী গ্রামে রমেশ সমাধি প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে ২ দিনব্যাপী রমেশ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

কবিয়াল রমেশ স্মৃতি ট্রাস্টের আয়োজনে ১ম দিন কবির সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, রমেশ শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় রমেশ সংগীত ও আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় রমেশ গীতি; ২য় দিন কবির সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, রমেশ শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় রমেশ সংগীতানুষ্ঠান, আলোচনা সভা, টিভি ও বেতার শিল্পীদের পরিবেশনায় রমেশ রচিত মাইজভাণ্ডারী গানের আসর বসবে বলে আয়োজক কমিটি জানান।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ