আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চিটাগাং চেম্বারের সাথে চট্টগ্রাম এওটিএস এলুমনি সোসাইটির মতবিনিময়

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র পরিচালকমন্ডলীর সাথে চট্টগ্রাম এওটিএস এলুমনি সোসাইটির প্রতিনিধিদল গতকাল শনিবার সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ চেম্বার কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ, পরিচালকবৃন্দ মাহফুজুল হক শাহ, বেনাজির চৌধুরী নিশান, মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, চট্টগ্রাম এওটিএস এলুমনি সোসাইটি’র সভাপতি লতিফ আনোয়ার চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি এ.আর.এম. শামীম উদ্দিন, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ট্রেজারার মোহাম্মদ রহিম উল্যাহ, পাবলিসিটি সেক্রেটারী এ.এ.মোঃ আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী, আরএন্ডডি ও পাবলিকেশন সেক্রেটারী এ. টি. কায়সার আহমেদ চৌধুরী ও চেম্বার সেক্রেটারী ইনচার্জ প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যদের মধ্যে সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহ মোঃ কেরামাতুল আজিম, নির্বাহী সদস্যবৃন্দ সৈয়দ নুরুল বাশার, মোহাম্মদ সাইফ উল্যাহ মনসুর, মোঃ কামরুল হাসান ও জাফর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন-জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপান সরকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। দেশের মেগা প্রকল্প বিশেষ করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর-সহ উল্লেখযোগ্য প্রকল্পে জাপানীরা কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও এসোসিয়েশন ফর ওভারসীস টেকনিক্যাল কো-অপারেশন এন্ড সাস্টেনাবল পার্টনারীশীপস (এওটিএস)’র মাধ্যমে জাপান সরকার দেশের উৎপাদনশীল ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন-প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন। এসব উন্নয়নের সুফল পেতে বিদেশী বিনিয়োগ যেমন দরকার তেমনি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাও প্রয়োজন। কারণ দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে না উঠলে বিদেশীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না। তাই চট্টগ্রামের এওটিস এলুমনি সোসাইটির সাথে চিটাগাং চেম্বার যৌথভাবে দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারে।

চট্টগ্রাম এওটিএস এলুমনি সোসাইটি’র সভাপতি লতিফ আনোয়ার চৌধুরী বলেন-এওটিএস এলমুনি সোসাইটি চট্টগ্রামে দক্ষ মানবসম্পদ, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস সেক্টরে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণমূলক সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করে থাকে। তিনি বলেন-জাপানীরা মনে করে একটি কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি প্রশিক্ষিত হয় তাহলে প্রতিষ্ঠান গতিশীল হবে। তাই জাপানীরা এওটিএস এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত হস্তান্তরের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তিনি চেম্বারের সাথে অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে আগামীতে চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজনে সহযোগিতা কামনা করেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন-যেকোন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় অনেক দুর্বলতা থাকে। আবার শিল্পকারখানাগুলোর অনেক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তাই দেশের শিল্পের চাহিদানুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগতভাবে প্রশিক্ষিত করতে গবেষণা প্রয়োজন। এজন্য শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী এনজিএস প্রোগ্রাম, কাইজেন, ফাইভ এস, জাপানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক নির্ণয় এবং জাপানী ভাষা শিক্ষা কোর্স চাহিদানুযায়ী চেম্বার এবং এওটিএস চট্টগ্রাম সোসাইটি যৌথভাবে আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে- জ্বালানি উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে- জ্বালানি উপদেষ্টা।

চট্টগ্রামে আমদানি নির্ভর এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণে প্রয়োজন ৫০ একর খালি জমি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রাম মহানগরের দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় আমদানি নির্ভর এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। আর এই প্ল্যান্ট নির্মাণে প্রয়োজন অব্যবহৃত ৫০ একর খালি জমি। প্ল্যান্টটি বানাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অব্যবহৃত জমি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি বলে জানা গেছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন প্ল্যান্ট নির্মাণ করা গেলে সরকারিভাবে এলপিজির অংশীদারিত্ব বাড়বে। বাজারে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা সম্ভব হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরো নিশ্চিত হবে। সূত্র জানায়- নতুন এলপিজি প্ল্যান্ট বানাতে জমি চেয়ে সম্প্রতি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয় সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বরাদ্দ পেলে সেই জমিতেই বার্ষিক ৪০ হাজার মেট্রিকটন ক্ষমতাসম্পন্ন আমদানি নির্ভর একটি এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষা পাউবোর এই জমি বরাদ্দ চাওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়- দেশের বন্দর এলাকাসমূহে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে অপেক্ষাকৃত স্বল্প পরিবহন খরচে রেফ্রিজারেটেড এলপিজি ও প্রেসারাইজড এলপিজি আমদানি করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে বিপিসির আমদানি নির্ভর এলপিজি স্টোরেজ ও বটলিং প্লান্ট নির্মাণপূর্বক বাজারজাত করার কার্যক্রম গ্রহণ করা সহজ হবে।

চিঠিতে বলা হয়- চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার দক্ষিণ কাট্টলী মৌজায় অধিগ্রহণমূলে পাউবোর মালিকানাধীন দুটি দাগে ২৫ একর ও ৩৩ দশমিক ৫১ একর ভূমি অব্যবহৃত রয়েছে। তবে পাউবো যে উদ্দেশ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করেছিল-সে উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে না। কাজেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ বান্ধব সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পাউবোর অধিগ্রহণকৃত এসব ভূমি থেকে ৫০ একর ভূমি বিপিসির অনুকূলে বরাদ্দ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণে জমি চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দেওয়া চিঠির বিষয়ে পাউবো এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাদী। তিনি বলেন, পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ বিষয়ে বিপিসির সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশে এখন দুটি সরকারি এলপিজি স্টোরেজ ও বটলিং প্লান্ট থাকলেও দেশে ক্রমবর্ধমান বোতলজাত এলপি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে তিন দশক পর নতুন প্ল্যান্ট তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নগরের দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় এটি নির্মিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, নগরের উত্তর পতেঙ্গায় ‘চট্টগ্রাম এলপিজি স্টোরেজ ও বটলিং প্ল্যান্ট’ নির্মাণ করা হয় ১৯৭৭-৭৮ সালে। এরপর ১৯৯৫ সালে সিলেটের কৈলাশটিলায় আরো একটি এলপিজি স্টোরেজ, বটলিং ও ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। দাম কম হওয়ায় বাজারে সরকারি এলপিজির বিপুল চাহিদা থাকলেও এরপর আর কোনো এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মিত হয়নি।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে বোতলজাত এলপি গ্যাসের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৭ লাখ মেট্রিকটন। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা ৩০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ দেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে আবাসিকে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় এলপিজির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য এবং অটোমোবাইল খাতেও সংযোগ সীমিত থাকায় এলপিজির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিন্তু বিপুল এই চাহিদার বিপরীতে সরকারিভাবে এলপিজি সরবরাহের সক্ষমতার পরিমাণ মাত্র ৩৩ হাজার মেট্রিকটন। এরমধ্যে এলপি গ্যাস লিমিটেডের চট্টগ্রাম প্ল্যান্ট থেকে ২৫ হাজার এবং সিলেটের কৈলাশটিলা প্ল্যান্ট থেকে ৮ হাজার মেট্রিকটন এলপিজি সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। চাহিদার বাকি প্রায় ৯৯ শতাংশ এলপিজি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ করছে। ফলে এই খাতে সরকারি অংশীদারিত্ব নেই বললেই চলে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের অভ্যন্তরে চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় আমদানি নির্ভর এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিপিসি।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ