আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

উলিপুরে গরু কেনার সময় জাল নোট সহ পিতা-পুত্র আটক

নুরুন্নবী সরকার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ৩৩ হাজার টাকার জাল নোটসহ পিতা-পুত্রকে আটক করেছে পুলিশ। ওই পিতা-পুত্র জাল টাকার নোট দিয়ে গরু ক্রয় করেছিলেন। আটকের ঘটনাটি ঘটেছে, পৌর শহরের গরুর হাট এলাকায়। আটক ব্যক্তিদের মঙ্গলবার (৪ জুন) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। উলিপুর থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের হারুনেফড়া এলাকার মুকুল মিয়া (৩৫) পেশায় একজন রিক্সা চালক। তিনি রিক্সা চালানোর পাশাপাশি গবাদিপশু পালন করতেন। গত ৩১ মে তিনি উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের হাটে যান বকনা গরু বিক্রি করতে। এ সময় রফিকুল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবক ক্রেতা সেজে ২-৩ জনকে সঙ্গে নিয়ে বকনা গরুটি ৩৭ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। পরে গরু বিক্রির টাকা বুঝে পেয়ে মুকুল মিয়া বাড়িতে চলে যান। এরপর গত ২ জুন গরু বিক্রির টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা এনজিও’র ঋণের কিস্তি দেয়ার সময় মাঠকর্মী টাকা গুলো জালনোট বলে জানান। এ সময় মুকুল মিয়া ক্ষোভে ওই ৪ হাজার টাকা ছিড়ে ফেলেন। পরে তিনি গরু বিক্রির বাকী টাকা গুলোও এনজিও কর্মীকে দেখালে তিনি বলেন সব টাকাই জাল।

এরপর থেকে মুকুল মিয়া উপজেলার বিভিন্ন গরুর হাটে ওই ব্যক্তিকে খুঁজতে থাকেন। ৩ জুন বিকালে উলিপুর পৌর শহরের গরুরহাটে জাল নোট দিয়ে গরু ক্রয়কারী রফিকুল ইসলাম চিনতে পেরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করেন। এ সময় তার সাথে থাকা অপর এক ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যান। এরপর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেলে আটকব্যক্তি সকলের উপস্থিতিতে স্বীকার করেন জাল ৩৭ হাজার টাকা দিয়ে তিনি বকনা গরু ক্রয় করেছেন। এছাড়া পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি তার পিতা। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী মুকুল মিয়া সোমবার (৩ জুন) রাতে রফিকুল ইসলাম (২৪) ও তার পিতা আলিম উদ্দিনের (৫০) নামে থানায় মামলা করেন। এরপর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে আলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেন। আলিম উদ্দিন উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মর্তুজা জানান, জাল টাকাসহ আটক পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (ক) ধারায় মামলা হয়েছে। তাদের মঙ্গলবার (৪ জুন) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

বোয়ালখালীতে বসতঘর চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর বসতঘরে ভেন্টিলেটর ভেঙে নিয়ে গেছে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার। উপজেলার পোপাদিয়ার আকুবদন্ডী মিনা গাজী মাজার এলাকার প্রবাসী জয়নাল মাস্টারের ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পরিবারের সদস্যরা নগরী থেকে বাড়িতে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন।

পরিবারের সদস্য প্রবাসী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন মানিক জানান, তার বড় ভাই জয়নাল মাস্টার গত সপ্তাহে পরিবার নিয়ে নগরের হালিশহরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেমি-পাকা ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে চোরের দল প্রবেশ করেছে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণের গয়না ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এবং ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘জয়নাল মাস্টার ঘরে না থাকার সুবাদে চোরের দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ