আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

অর্থনৈতিকভাবে সরকারের উন্নয়নের চিত্র ভুয়া-আমীর খসরু

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের যে চিত্র এতদিন সরকার দিয়েছে, সেটা একটা ভুয়া চিত্র বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সাম্প্রতিক সময়ে উদঘাটন হওয়া দেশের পণ্য রফতানির তথ্যে গরমিল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে দেশবাসীর সঙ্গে কতবড় প্রতারণা করেছে, সেটা ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসছে। গতকাল শনিবার সকালে নগরীর মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ প্রতিক্রয়া জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে রফতানি হয়েছে ৪৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু গত ৩ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনের পর তা ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার কমে ৩৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার রফতানির হিসেব ওলটপালট হয়ে গেছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির যে চিত্র, উন্নয়নের যে চিত্র, যেগুলোর কথা বলে দেশের মানুষের ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন, জীবনের নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হয়, সেই উন্নয়নের চিত্র ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হচ্ছে। সেই চিত্র হচ্ছে একটা ভুয়া চিত্র। ১৪ বিলিয়ন ডলার ভুয়া রফতানি দেখানো হয়েছে, তার ফলশ্রুতিতে কী হয়েছে? আপনার প্রবৃদ্ধি বেশি দেখানো হয়েছে, অর্থনীতির সঙ্গে জিডিপির গ্রোথ বেশি দেখানো হয়েছে, ব্যালেন্স অব পেমেন্টের একটা ভিন্ন চিত্র দেখানো হয়েছে বা দেখাচ্ছে। বস্তুতপক্ষে অর্থনীতির যে মানদণ্ডগুলো আছে, সবগুলোতেই এটার একটা প্রতিফলন আছে।
১৪ বিলিয়ন ডলার বাদ দিলে অর্থনীতির চিত্র কী দাঁড়ায়- সেই ব্যাখা চেয়ে তিনি বলেন, এতদিন পর ধরা পড়ল ১৪ বিলিয়ন রফতানিতে নেই অর্থাৎ দেশের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে, উৎপাদন কমে যাচ্ছে, মিল-ফ্যাক্টরিগুলোতে উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। দুর্নীতি-লুটপাট করে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার যে প্রবৃত্তি আওয়ামী লীগের হয়ে গেছে, তার প্রতিফলন ছাড়া এটা আসলে আর কিছুই নয়। চৌদ্দ বিলিয়ন ডলার ভুয়া রফতানির চিত্র দেখানোর ফলে বিবিএসের রিপোর্টগুলো নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠে গেছে, এগুলোর সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠে গেছে।
দেশের অর্থনীতিকে ‘আওয়ামী মার্কা আর্টিফিশিয়াল লুটপাটের অর্থনীতির মডেল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কল-কারখানায় গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। ব্যাংক থেকে তারা টাকা নিতে পারছে না, কারণ ব্যাংকের টাকা সরকার নিয়ে যাচ্ছে, না হলে সরকারপন্থি লোকজন বিদেশে পাচার করে যাচ্ছে। আবার ব্যাংকের টাকার সুদও বাড়িয়ে দিয়েছে। শেয়ারবাজার বলেন, ব্যাংক বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনগুলো- সব খালি করে ফেলেছে। খালি করে টাকাটা বাইরে পাচারের কারণে রিজার্ভ কমতে কমতে একেবারে তলানিতে এসে গেছে। রিজার্ভ ঠিক রাখার জন্য আমদানি করতে দিচ্ছে না। আমদানি করতে না দেওয়ার কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই যে একটা আর্টিফিশিয়াল আওয়ামী মার্কা লুটপাটের অর্থনীতির মডেল তারা দাঁড় করিয়েছে, এটা ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতা আমীর খসরু বলেন, শুধু চৌদ্দ বিলিয়ন ডলার ভুয়া রফতানি আয় নয়, এটাই একমাত্র ফিগার নয়, বিভিন্ন খাত থেকে আরও বিভিন্ন ফিগার বেরিয়ে আসবে ক্রমান্বয়ে। তাহলে দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? রাজনৈতিকভাবে তো দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ভোটাধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার- কিছুই নেই। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের যে চিত্র এতদিন সরকার দিয়েছে, সেটা যে একটা কতবড় ভুয়া চিত্র, প্রতারণার চিত্র, সেটাও ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিপদে ফেলে গেছে সমর্থকদের, নির্দোষদের পাশে আছে বিএনপি: ফখরুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের বিপদে ফেলে গেছেন, তাদের মধ্যে যারা অন্যায় করেনি, বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এ কথা বলেছেন দলের মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) নিজ আসনে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এর আগে এমপি নির্বাচন করছি ১৫ বছর আগে। মাঝখানে আমরা আর কোনো ভোট দিতে পারিনি। সব ভোট নিয়ে গেছে ওরা। কারা? ওই ফ্যাসিস্ট, হাসিনার লোকেরা, পুলিশ, প্রশাসন। এবার একটা সঠিক ভোট হবে বলে আশা করছি আমরা। অর্থাৎ যার ভোট, সে দিতে পারবে। যাকে খুশি তাকে দিতে পারবে।

তিনি বলেন, এবারের ভোটটা একটু অন্যরকম হচ্ছে। অন্যান্যবার এলাকায় আমার খালি দৌড়াদৌড়ি করি, নৌকা আর ধানের শীষ, নৌকা আর ধানের শীষ। এবার তো নৌকা নাই, নৌকা এবার পালাইছে। চলে গেছে হাসিনা, যারা সমর্থক আছে, তাদের বিপদে ফেলে গেছে। আমরা সে বিপদ থেকে তাদের পাশে দাঁড়াইছি।

যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য শাস্তি হবে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা হিন্দু ভাইদের বলছি, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। যারা অন্যায় করছে তাদের জন্য শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, সাধারণ মানুষ, তাদের আমরা আমাদের বুকের মধ্যে রেখে দেবো।
তিনি শেষে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ধানের শীর্ষে ভোট চান বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনগণ গণতন্ত্রের পথে যাবে : আমীর খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণের ওপর আস্থা রেখে নির্বাচন করা ভালো। সব ধরনের খুটিনাটি নিয়ে, প্রপাগান্ডা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যে প্রক্রিয়া সে পথে তো জনগণ যাবে না, জনগণ যাবে গণতন্ত্রের পথে। তারা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সে পথেই চলছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ডের সল্ট গোলা ক্রসিং থেকে নিশ্চিন্তপাড়া ওয়ার্ড অফিস মাইজপাড়া, ১ নং সাইট, হিন্দু পাড়া, বাকের আলি ফকির টেকসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।আমীর খসরু বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটে থাকে এটার জন্য বা এটার অর্থ এই নয় যে নির্বাচনে লেভেল ফিল্ড নেই। সব জায়গায় সব সময় সারা বিশ্বে ঘটে থাকে ছোটখাটো ঘটনা। এটার জন্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অর্থাৎ যারা নির্বাচন চায় না তারা এই কাজগুলো এই কথাগুলো বলে।কিছু ছোটখাটো ঘটনা, এটা সারা বিশ্বে ঘটছে, এটা বাংলাদেশেও ঘটেছে। জনগণের সমর্থনে এ নির্বাচন হচ্ছে। এটা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। এই নির্বাচনে তার মালিকানা ফিরে পেতে চায় মানুষ।

তারা নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দেখতে চায়, যারা তাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে। সে অপেক্ষায় তারা আছে। এটাকে বাধাগ্রস্ত করতে যারাই যাবে তারা নিজেরাই বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের রাজনৈতিক কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মহানগর বিএনপির সদস্য হাজী হানিফ সওদাগর প্রমুখ।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ