আনোয়ারা চন্দনাইশ দুই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স, স্টাফসহ কর্মীদের অনুপস্থিতি, অপরিচ্ছন্নতাসহ বেশকিছু অনিয়ম দেখতে পান সিভিল সার্জন। এর জবাব চেয়ে ২ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন তিনি। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চন্দনাইশ ও আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান সিভিল সার্জন। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ চিকিৎসক, নার্স, স্টাফসহ ১৩ জনকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখেন। অন্যদিকে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ চিকিৎসক ও পাঁচ কর্মীকে অনুপস্থিত দেখেন। তাছাড়া ওই ২ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগ অপরিচ্ছন্ন, যন্ত্রপাতি নষ্ট এবং চিকিৎসকদের পরনে অ্যাপ্রোন দেখতে পাননি। এসব বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল ইফরান ও আনোয়ারার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ৯ জুলাই মিরসরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সিভিল সার্জন। সে সময় ৭ জন চিকিৎসককে অনুপস্থিত দেখতে পান তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিনকেও দেন কারণ দর্শানোর নোটিশ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, শানাক্ত ৭৩ জন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ৬৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ২৭ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ৯ জন, ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ৭ জন এবং বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চমেক হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬২১ জনে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে দুই হাজার ২৩০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৩৯১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এ সময়ে ডেঙ্গুতে মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন দুই হাজার ৪৩২ জন। বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোগীর দেহে হাম শনাক্ত নমুন পরীক্ষায় ভোগান্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন এই ভাইরাসে। হামে আক্রান্ত শিশুদের শতকরা ৫ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে। অনেক শিশুকে শেষ পর্যন্ত নিতে হচ্ছে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ)। গত তিন মাসে ৫৬০ জন রোগীর দেহে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস।

এর মধ্যে জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি ছিল। চলতি বছরে হাম সন্দেহে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭ হাজার ৩৪ জন। এসব রোগীর মধ্যে বেশিরভাগই মহানগরের বাসিন্দা। তবে হামের সঙ্গে নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে নিউমোনিয়া। এদিকে চট্টগ্রামে প্রায় প্রতিদিনই হাম সন্দেহে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলেও পরীক্ষা নিয়মিত হচ্ছে না। মূলত এখানে কোনো ধরনের পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় নমুন পরীক্ষায় এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, অপুষ্টি, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা শিশুদের হামের জটিলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক শিশু জন্মের সময় কম ওজন নিয়ে জন্মায় বা পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না পাওয়ায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। যখন একটি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় চিকিৎসায় তাকে রুটিনমাফিক অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স করতে হয়। পরবর্তীতে সেই বাচ্চা হামে আক্রান্ত হয় তখন ওষুধের ধকল আর নিতে পারে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৯৬ জন। এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মারা গেছে ১২ জন। তবে হামে শনাক্তের পর মারা গেছেন ৩ জন। গত তিন মাসে ৫৬০ জন রোগীর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত হামের রোগী চিকিৎসা নিয়েছে মহানগরে ৩ হাজার ৬২১ জন। ১৫ উপজেলায় ১৪৪ জন। মোট ৩ হাজার ৭৬৫ জন। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৩১ জন, যাদের ২৭৬ জন নগরের ও ৫৫ জন উপজেলার বাসিন্দা। যেখানে ৩১ মে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫৬ জন।

৩১ জুলাই পর্যন্ত হামের রোগী চিকিৎসা নিয়েছে ৫ হাজার ২৯০ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৫ হাজার ৬৬ জন, ১৫ উপজেলায় ২২৪ জন। শনাক্ত রোগী ছিল ৫৭৫ জন। যা গত মাসের চেয়ে ২৪৪ জন বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে মহানগরের ৩৯৮ জন, উপজেলার ১৭৭ জন।
৩১ আগস্ট পর্যন্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছে ৬ হাজার ৯৭৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মহানগরে ৬ হাজার ৬৪৩ জন আর ১৫ উপজেলায় ৩৩৪ জন। এর মধ্যে পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ছিল ৭১৬ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৪৭২ জন। উপজেলায় ২৪৪ জন। এ মাসে ১৪১ জনের শরীরে হাম ধরা পড়ে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ৮ ও ৯ এবং হামের জন্য নির্ধারিত স্পেসিফিক ওয়ার্ড-১-এ বর্তমানে ১৬১ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৪ জন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬ জন এবং হামের নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ১১১ জন।
শিশু ওয়ার্ড ৮ ও ৯ ঘুরে দেখা গেছে, দুই ওয়ার্ডে মোট ৪৪১ জন শিশু রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৪০ জন এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২০১ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে তৈরি হয়েছে ঠাসাঠাসি পরিস্থিতি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ মুছা বলেন, শিশু রোগীতে ঠাসা ওয়ার্ড। হঠাৎ করে আবারও সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। নিউমোনিয়া রোগীতে ওয়ার্ডে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। নিউমোনিয়া থেকে পরবর্তীতে হামে আক্রান্ত রোগীকে রিকভারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পিআইসিউতে রোগী ট্রান্সফার করতে হচ্ছে। কিন্তু সেখানে সিট নির্ধারিত। আসলে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে পড়ছে।জানা গেছে, চলতি মাসের ১৯ আগস্ট সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২৩ জনের। সেই হিসেবে নমুনা পরীক্ষা মোট রোগীর সংখ্যা ১৯৮০ জন। এর আগে ১৮ আগস্ট ৩৫ জন, ১৬ আগস্ট ৩০ জন রোগী নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই চিকিৎসকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে নিউমোনিয়ার জটিলতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৫ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। হামের কারণে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তখন নিউমোনিয়া দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার শিশুদের ঝুঁকি বেশি। নিউমোনিয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়া, বমি ও মারাত্মক পানিশূন্যতা দেখা দিলে শিশুর শারীরিক অবস্থা আরও দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণেও অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ছে।

চট্টগ্রামের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বাসনা মহুরী বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৫ শতাংশই সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে যায়। তবে একটি অংশের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা ব্রেইন ইনফেকশনের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, মূল বিপদ ওই ৫ শতাংশকে ঘিরে; যাদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা ব্রেইন ইনফেকশনের মতো জটিলতা তৈরি হয়। হামের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিউমোনিয়ার ঝুঁকি আরও বাড়ে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ