আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চবিতে যোগদান করেছেনপ্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো.কামাল উদ্দিন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এর অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ১৪(১) ধারা অনুসারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. মো.কামাল উদ্দিনকে ৪ (চার) বছরের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন মঙ্গলবার পূর্বাহ্নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে যোগদান করেছেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যোগদানের পূর্বে মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
প্রফেসর ড. মো. কামাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০১১ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সংগঠনের উপর অ্যাডভান্সড মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১৫ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অফ হংকং এর এশিয়ান অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিভাগ থেকে বাংলাদেশে আওয়ামী সরকারের আমলে পুলিশের কার্যক্রমে মানবাধিকার বিপর্যয় শিরোনামে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে কৃতি শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। এছাড়াও তিনি হংকং এর সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি’র বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি’র বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব মেরিটাইম এ্যাফেয়ারর্স সহ দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউশনে শিক্ষকতা করেছেন।
এছাড়া তিনি ২০২২ ও ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শীর্ষ গবেষকের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩ সালের শ্রেষ্ঠ গবেষণা অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। এছাড়াও তিনি ২০১৭ সালে কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, অস্ট্রেলিয়া এর ক্রাইম অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টার কর্তৃক ইয়াং রিসার্চার এওয়ার্ড পান। স্কোপাস ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে ড. কামালের ২৫টিরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ। স্কোপাস ও গুগোল স্কলারের সাইটেশন অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের একজন বেস্ট রিসার্চার।
তিনি তার বিভিন্ন গবেষণায় গত ১৫ বছর ধরে মানবাধিকার লংঘন, গুম-খুন, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।
তিনি শিক্ষা জীবনে ১৪টি পুরস্কার ও বৃত্তি লাভ করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে জেম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক ৪র্থ সম্মেলন: থিওরি মিটস প্র্যাকটিস কনফারেন্স এর ভ্রমণ অনুদান, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে অপরাধ ও বিচার গবেষণা কেন্দ্রের “আরলি-ক্যারিয়ার রিসার্চার স্কলারশিপ ইন সাউদার্ন ক্রিমিনোলজি”, হংকং সিটি ইউনিভার্সিটিতে ২০১২-২০১৩, ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হিসেবে গবেষণা ডিগ্রির জন্য অসামান্য একাডেমিক পারফরম্যান্স পুরস্কার, ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির বার্ষিক সভায় দক্ষিণী সম্মেলনে যোগদানের জন্য প্রেস্টিজ-কুক ভ্রমণ পুরস্কার, ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ সালে হংকং সিটি ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ টিউশন স্কলারশিপ, ২০১২-২০১৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন পর্যন্ত হংকং সরকারের অর্থায়নে ইউজিসি অব হংকং সিটি ইউনিভার্সিটির পোস্ট গ্রেজুয়েট স্কলারশিপ, ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ড জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ফাইনাল পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফলের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেধা বৃত্তি ও বুক এওয়ার্ড অর্জন করেন।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন ১৯৮৯ সালে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ফয়েজ আহমেদ ও মাতা চেমনা খাতুন। প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের সহধর্মিনী সরকারের একজন ডেপুটি সেক্রেটারী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর আগ্রহের বিষয় শিক্ষকতা, গবেষণা ও সমাজসেবা। প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিশ^বিদ্যালয় পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইউসিটিসির সেমিনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চিটাগাং (ইউসিটিসি)-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব, একাডেমিক অগ্রগতি এবং পেশাগত উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউসিটিসির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহিদ হোসেন শরীফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েট-এর প্রফেসর ও সাবেক উপ-উপাচার্য ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার সালাহউদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রূপক কান্তি বিশ্বাস।

সেমিনারে বক্তারা ডিপ্লোমা শিক্ষা সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, প্রকৌশল শিক্ষায় ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।পাশাপাশি ইউসিটিসির আধুনিক একাডেমিক পরিবেশ, উন্নত ল্যাব সুবিধা এবং সমসাময়িক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হয়।

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে শেক্সপিয়ার স্মরণে নানা আয়োজন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইংরেজি সাহিত্যের কালজয়ী নাট্যকার, সাহিত্যিক ও কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান।

বিভাগীয় প্রধান আরমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেজিস্ট্রার এএফএম মোদাচ্ছের আলী, কলা, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ আলী ।ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নাট্যাংশ, সংগীত এবং শেক্সপিয়ারের সাহিত্যকর্মভিত্তিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও তাঁর সাহিত্যকর্ম, নাট্যচর্চা এবং বিশ্বসাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান বলেন, শেক্সপিয়ারের সাহিত্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্যচর্চা মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অন্যান্য বক্তারা বলেন, শেক্সপিয়ারের সাহিত্য শুধু ইংরেজি সাহিত্যের সম্পদ নয়, বিশ্ব সভ্যতারও এক অমূল্য ঐতিহ্য।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ