আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

চবিতে যোগদান করেছেনপ্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো.কামাল উদ্দিন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এর অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ১৪(১) ধারা অনুসারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. মো.কামাল উদ্দিনকে ৪ (চার) বছরের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন মঙ্গলবার পূর্বাহ্নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে যোগদান করেছেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যোগদানের পূর্বে মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
প্রফেসর ড. মো. কামাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০১১ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সংগঠনের উপর অ্যাডভান্সড মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১৫ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অফ হংকং এর এশিয়ান অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিভাগ থেকে বাংলাদেশে আওয়ামী সরকারের আমলে পুলিশের কার্যক্রমে মানবাধিকার বিপর্যয় শিরোনামে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে কৃতি শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। এছাড়াও তিনি হংকং এর সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি’র বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি’র বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব মেরিটাইম এ্যাফেয়ারর্স সহ দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউশনে শিক্ষকতা করেছেন।
এছাড়া তিনি ২০২২ ও ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শীর্ষ গবেষকের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩ সালের শ্রেষ্ঠ গবেষণা অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। এছাড়াও তিনি ২০১৭ সালে কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, অস্ট্রেলিয়া এর ক্রাইম অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টার কর্তৃক ইয়াং রিসার্চার এওয়ার্ড পান। স্কোপাস ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে ড. কামালের ২৫টিরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ। স্কোপাস ও গুগোল স্কলারের সাইটেশন অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের একজন বেস্ট রিসার্চার।
তিনি তার বিভিন্ন গবেষণায় গত ১৫ বছর ধরে মানবাধিকার লংঘন, গুম-খুন, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।
তিনি শিক্ষা জীবনে ১৪টি পুরস্কার ও বৃত্তি লাভ করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে জেম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক ৪র্থ সম্মেলন: থিওরি মিটস প্র্যাকটিস কনফারেন্স এর ভ্রমণ অনুদান, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে অপরাধ ও বিচার গবেষণা কেন্দ্রের “আরলি-ক্যারিয়ার রিসার্চার স্কলারশিপ ইন সাউদার্ন ক্রিমিনোলজি”, হংকং সিটি ইউনিভার্সিটিতে ২০১২-২০১৩, ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হিসেবে গবেষণা ডিগ্রির জন্য অসামান্য একাডেমিক পারফরম্যান্স পুরস্কার, ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির বার্ষিক সভায় দক্ষিণী সম্মেলনে যোগদানের জন্য প্রেস্টিজ-কুক ভ্রমণ পুরস্কার, ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ সালে হংকং সিটি ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ টিউশন স্কলারশিপ, ২০১২-২০১৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন পর্যন্ত হংকং সরকারের অর্থায়নে ইউজিসি অব হংকং সিটি ইউনিভার্সিটির পোস্ট গ্রেজুয়েট স্কলারশিপ, ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ড জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ফাইনাল পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফলের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেধা বৃত্তি ও বুক এওয়ার্ড অর্জন করেন।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন ১৯৮৯ সালে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ফয়েজ আহমেদ ও মাতা চেমনা খাতুন। প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের সহধর্মিনী সরকারের একজন ডেপুটি সেক্রেটারী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর আগ্রহের বিষয় শিক্ষকতা, গবেষণা ও সমাজসেবা। প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিশ^বিদ্যালয় পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

হাল্ট প্রাইজ জুনিয়র্স: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নবপ্রজন্মের উদ্ভাবনী মিলনমেলা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিসারিজ অডিটোরিয়ামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে হাল্ট প্রাইজ জুনিয়র্স অনুষ্ঠান। হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই আয়োজনটি  স্কুল-কলেজের তরুণ উদ্ভাবক ও নেতৃত্বকে একত্রিত করে সৃজনশীলতা ও সামাজিক উদ্ভাবন উদযাপনের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুর রশিদ সোহাগ, প্রতিষ্ঠাতা, সিইও ও চেয়ারম্যান, পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেড; সারফুদ্দিন, সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার, রবি আজিয়াটা লিমিটেড; মো. মুফিদুর রহমান, প্রভাষক, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; এবং মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা;অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও পরিচালক;আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নার্গিস ফাতেমা-এর মূল বক্তব্য, যেখানে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া নিজের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রার গল্প তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য প্রমাণ করে যে, প্রভাবশালী ধারণার সূচনা যেকোনো বয়সেই হতে পারে।

এ বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২০টি দল নিবন্ধন করে, যার মধ্যে নির্বাচিত কয়েকটি দল অনুষ্ঠানে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতায় টিম “ইকোজিরকন (EcoZircon)” সেরা দল নির্বাচিত হয়, টিম “টম অ্যান্ড জেরি (Tom & Jerry)”  প্রথম রানার-আপ এবং টিম “অ্যাকোয়া ফাইবার (Aqua Fiber)” দ্বিতীয় রানার-আপ নির্বাচিত হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ অনিক (২০২৫–২৬)-এর নেতৃত্বে। এতে কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম মুনাজ চিফ অব স্টাফ এবং কারিন সাফফানা চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পুরো আয়োজনের সফল বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট টিম-এর প্রধান নিশাত তাহসিন চৌধুরী লামিয়া ও তানজিফ হাসান, পাশাপাশি জাজেস অ্যান্ড পার্টিসিপ্যান্টস ম্যানেজমেন্ট টিম-এর প্রধান শাজিয়া রহমান ও রাহবার করিম।

হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবারও প্রমাণ করেছে যে এটি তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ এবং সাহসী চিন্তা ও সীমাহীন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণাদায়ক একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম।

গ্রন্থাগার সমাজ উন্নয়নের এক শক্তিশালী বাহন ঃ চুয়েট ভিসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া মহোদয় বলেছেন, গ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয় বরং এটি সমাজ উন্নয়নের এক শক্তিশালী বাহন। যে জাতির গ্রন্থাগার যত সমৃদ্ধ, সে জাতি তত উন্নত ও অগ্রসর। একটি জাতির মেধা, মনন, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির ধারক ও লালনকারী হিসেবে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের ভূমিকা সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘস্থায়ী।

বৃহস্পতিবার চুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উদ্যোগে “জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬”-এর আলোচনা সভা ও “অনলাইন এসডিআই সার্ভিস এন্ড অনলাইন মেম্বারশীপ সিস্টেম ইন সেন্ট্রাল লাইব্রেরি” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুর ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আসিফুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন চুয়েটের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ আবির। চীফ লাইব্রেরিয়ান মোঃ আব্দুল খালেক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান জনাব মোহাঃ নাসিরুজ্জামান।

এতে সঞ্চালনা করেন সহকারী লাইব্রেরিয়ান শারমিন সুলতানা তমা।উল্লেখ্য, “জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬” উপলক্ষে এক বণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। বিকালে অনলাইন এসডিআই সার্ভিস এন্ড অনলাইন মেম্বারশীপ সিস্টেম ইন সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চীফ লাইব্রেরিয়ান মোঃ আব্দুল খালেক সরকার।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ