আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চবিতে যোগদান করেছেনপ্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো.কামাল উদ্দিন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এর অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ১৪(১) ধারা অনুসারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. মো.কামাল উদ্দিনকে ৪ (চার) বছরের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন মঙ্গলবার পূর্বাহ্নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে যোগদান করেছেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যোগদানের পূর্বে মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
প্রফেসর ড. মো. কামাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০১১ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সংগঠনের উপর অ্যাডভান্সড মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১৫ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অফ হংকং এর এশিয়ান অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিভাগ থেকে বাংলাদেশে আওয়ামী সরকারের আমলে পুলিশের কার্যক্রমে মানবাধিকার বিপর্যয় শিরোনামে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে কৃতি শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। এছাড়াও তিনি হংকং এর সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি’র বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি’র বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব মেরিটাইম এ্যাফেয়ারর্স সহ দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউশনে শিক্ষকতা করেছেন।
এছাড়া তিনি ২০২২ ও ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শীর্ষ গবেষকের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩ সালের শ্রেষ্ঠ গবেষণা অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। এছাড়াও তিনি ২০১৭ সালে কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, অস্ট্রেলিয়া এর ক্রাইম অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টার কর্তৃক ইয়াং রিসার্চার এওয়ার্ড পান। স্কোপাস ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে ড. কামালের ২৫টিরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ। স্কোপাস ও গুগোল স্কলারের সাইটেশন অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের একজন বেস্ট রিসার্চার।
তিনি তার বিভিন্ন গবেষণায় গত ১৫ বছর ধরে মানবাধিকার লংঘন, গুম-খুন, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।
তিনি শিক্ষা জীবনে ১৪টি পুরস্কার ও বৃত্তি লাভ করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে জেম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক ৪র্থ সম্মেলন: থিওরি মিটস প্র্যাকটিস কনফারেন্স এর ভ্রমণ অনুদান, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে অপরাধ ও বিচার গবেষণা কেন্দ্রের “আরলি-ক্যারিয়ার রিসার্চার স্কলারশিপ ইন সাউদার্ন ক্রিমিনোলজি”, হংকং সিটি ইউনিভার্সিটিতে ২০১২-২০১৩, ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হিসেবে গবেষণা ডিগ্রির জন্য অসামান্য একাডেমিক পারফরম্যান্স পুরস্কার, ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির বার্ষিক সভায় দক্ষিণী সম্মেলনে যোগদানের জন্য প্রেস্টিজ-কুক ভ্রমণ পুরস্কার, ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ সালে হংকং সিটি ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ টিউশন স্কলারশিপ, ২০১২-২০১৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন পর্যন্ত হংকং সরকারের অর্থায়নে ইউজিসি অব হংকং সিটি ইউনিভার্সিটির পোস্ট গ্রেজুয়েট স্কলারশিপ, ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ড জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ফাইনাল পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফলের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেধা বৃত্তি ও বুক এওয়ার্ড অর্জন করেন।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন ১৯৮৯ সালে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ফয়েজ আহমেদ ও মাতা চেমনা খাতুন। প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের সহধর্মিনী সরকারের একজন ডেপুটি সেক্রেটারী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর আগ্রহের বিষয় শিক্ষকতা, গবেষণা ও সমাজসেবা। প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিশ^বিদ্যালয় পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, খুবি শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি)এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে ইতোমধ্যে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব: সাঈদ আল নোমান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউ) প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান এমপি বলেছেন, বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই চলবে না, বরং তাদের দক্ষ ও বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘সামার ২০২৬’ সেশনের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সাঈদ আল নোমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে রামিসার অকাল ও মর্মান্তিক বিদায়ে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।তিনি বলেন, রামিসার এই চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।নবীন শিক্ষার্থীদের সাঈদ আল নোমান আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা এবং বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।তিনি সামার ২০২৬ সেশনের নতুন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানান এবং একাডেমিক ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে সমানভাবে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম. সেকান্দার খান। অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন ইকোটেক্স লিমিটেডের এইচআর ডিরেক্টর শাফায়েত কবির চৌধুরী। তিনি বর্তমান করপোরেট জগতের চাহিদা এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির নানাদিক শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মেজর রেজাউল করিম (অব.)।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ