আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

লালমনিরহাটে পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ, দুশ্চিন্তায় তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দারা

সাহিদ বাদশা বাবু, লালমনিরহাট ::

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উজানের ঢল ও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গত তিন দিনে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপ কমাতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে৩০ হাজার মানুষ।

চলতি বছর দফায় দফায় বন্যায় সর্বস্বান্ত উত্তরাঞ্চলের মানুষ। পঞ্চম দফার বন্যায় লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজে দ্রুত পানি বাড়ার কারণে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পরে পানি রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কিছুটা কমে বেলা ৩টার দিকে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে রবিবার দুপুর ১২টায় তিস্তা নদীর ব্যারাজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৫ মিটার (স্বাভাবিক ৫২.১৫ মিটার) যা বিপদসীমার ৩ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ অবস্থায় লালমনিরহাট তিস্তা নদী সংলগ্ন চর এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লালমনিরহাট তিস্তা নদী সংলগ্ন চর এলাকায় দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে দহগ্রাম, সানিয়াজান, গুড্ডিমারি, ভোটমারি, ডাউয়াবাড়ী, মহিষখোচা, রাজপুর, খুনিয়াগাছ, গোকুন্ডা ইউনিয়ন এলাকায় মানুষ নদী ভাঙনসহ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সেখানকার গবাদিপশুগুলো উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি অভাব এবং সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে চর এলাকার রাস্তাঘাট। বন্যায় পানি বাড়ায় তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইন পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সকাল থেকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি কমলে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বন্যাকবলিত এলাকায় বন্ধ রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় জানান, বন্যার কারণে জেলায় ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকায় পানি নেমে গেলে পুনরায় পাঠদান চালু হবে।

খুনিয়াগাছ চোংগাদাড়া এলাকার তিস্তা চর এলাকার ফজর আলী বলেন, ‘তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে। গৃহপালিত পশু নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। রান্নার চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা খাবার খেতে পারছি না। টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।’

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাহাদুর পাড়ার আছিয়া বেগম বলেন, ‘দুই দিন বন্যার পানির জন্য মুই ভাত রান্না করতে পাং নাই, একজনে ভাত দেছে তাক খাইলাম। চুলা টুলা ব্যাবাক তলে গেছে বাহে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ তথ্য মতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা একেবারেই কমে গেছে। সেক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি সামনে আর পানি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে পানি কমার সঙ্গে নদী ভাঙন দেখা দেয়। এজন্য আমরা জরুরি আপদকালীন ভাঙন রোধে জিও ব্যাগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

প্রতি বছর বন্যা হওয়ায় তিস্তার গর্ভে পলি পড়ে পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে অল্প পানিতে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আবার শুরু হয় তীব্র ভাঙন। এতে প্রতি বছর ভূমিহীন ও গৃহহীনের সংখ্যা বাড়ছে। নদী ভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে দ্রুতই স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ চান লালমনিরহাট তিস্তা এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ