আজঃ মঙ্গলবার ২৪ মার্চ, ২০২৬

লালমনিরহাটে পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ, দুশ্চিন্তায় তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দারা

সাহিদ বাদশা বাবু, লালমনিরহাট ::

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উজানের ঢল ও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গত তিন দিনে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপ কমাতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে৩০ হাজার মানুষ।

চলতি বছর দফায় দফায় বন্যায় সর্বস্বান্ত উত্তরাঞ্চলের মানুষ। পঞ্চম দফার বন্যায় লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজে দ্রুত পানি বাড়ার কারণে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পরে পানি রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কিছুটা কমে বেলা ৩টার দিকে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে রবিবার দুপুর ১২টায় তিস্তা নদীর ব্যারাজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৫ মিটার (স্বাভাবিক ৫২.১৫ মিটার) যা বিপদসীমার ৩ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ অবস্থায় লালমনিরহাট তিস্তা নদী সংলগ্ন চর এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লালমনিরহাট তিস্তা নদী সংলগ্ন চর এলাকায় দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে দহগ্রাম, সানিয়াজান, গুড্ডিমারি, ভোটমারি, ডাউয়াবাড়ী, মহিষখোচা, রাজপুর, খুনিয়াগাছ, গোকুন্ডা ইউনিয়ন এলাকায় মানুষ নদী ভাঙনসহ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সেখানকার গবাদিপশুগুলো উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি অভাব এবং সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে চর এলাকার রাস্তাঘাট। বন্যায় পানি বাড়ায় তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইন পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সকাল থেকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি কমলে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বন্যাকবলিত এলাকায় বন্ধ রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় জানান, বন্যার কারণে জেলায় ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকায় পানি নেমে গেলে পুনরায় পাঠদান চালু হবে।

খুনিয়াগাছ চোংগাদাড়া এলাকার তিস্তা চর এলাকার ফজর আলী বলেন, ‘তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে। গৃহপালিত পশু নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। রান্নার চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা খাবার খেতে পারছি না। টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।’

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাহাদুর পাড়ার আছিয়া বেগম বলেন, ‘দুই দিন বন্যার পানির জন্য মুই ভাত রান্না করতে পাং নাই, একজনে ভাত দেছে তাক খাইলাম। চুলা টুলা ব্যাবাক তলে গেছে বাহে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ তথ্য মতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা একেবারেই কমে গেছে। সেক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি সামনে আর পানি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে পানি কমার সঙ্গে নদী ভাঙন দেখা দেয়। এজন্য আমরা জরুরি আপদকালীন ভাঙন রোধে জিও ব্যাগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

প্রতি বছর বন্যা হওয়ায় তিস্তার গর্ভে পলি পড়ে পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে অল্প পানিতে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আবার শুরু হয় তীব্র ভাঙন। এতে প্রতি বছর ভূমিহীন ও গৃহহীনের সংখ্যা বাড়ছে। নদী ভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে দ্রুতই স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ চান লালমনিরহাট তিস্তা এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মুনশী আব্দুর রহমান মিয়া মসজিদ” এর কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২৬ – ২০২৮ গঠিত হয়েছে ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ আলেম মুনশী আব্দুর রহমানের প্রপৌত্র , বীরমুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবিদ সালাউদ্দিন মিয়ার সন্তান, বদরপুর মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক কবি শাহাবুদ্দিন রিপন শান কে সভাপতি এবং
মুনশী আব্দুর রহমানের পৌত্র, বিশিষ্ট সমাজসেবক মনির আহমদ মিয়ার সন্তান, চতলা সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফয়েজ উল্যাহ মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে # বীরমুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন মিয়া বাড়ির দরোজায় অবস্থিত মুনশী আব্দুর রহমান মিয়া মসজিদের একান্ন সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে ।দক্ষিণ ধলীগৌরনগর চতলা সালাউদ্দিন মিয়া বাড়ির দরোজায় , ২১ মার্চ ২০২৬ যোহরবাদ মসজিদের মুসল্লিদের আন্তরিক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠিত হয় ।

কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যগণ হচ্ছেন – প্রধান উপদেষ্টার মর্যাদায় নির্বাহী সভাপতি- ডাচ বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট একেএম গিয়াসউদ্দিন মুরাদ । সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হাফেজ আহমেদ মিয়া, সহ-সভাপতি গণ হচ্ছেন- মহিউদ্দিন আহমেদ মিয়া, আব্দুর রশিদ বেপারী এবং মোহাম্মদ হোসেন খন্দকার । যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকগণ হচ্ছেন- মোঃ অজিউল্যাহ মিয়া, মোঃ রফিকুল ইসলাম বাবুল, মোঃ জহিরুদ্দিন ফরহাদ এবং মোঃ আলমগীর বেপারী । কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন- মোঃ মিলন মোল্লা ।

সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন- মাহতাব উদ্দিন মিরাজ শান । সম্পাদকীয় বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হয়েছেন -মোঃ রুবেল শান (মুক্তিযুদ্ধ ও মানবাধিকার), নেছার উদ্দিন রাসেল (তথ্য ও গবেষণা), কৌশিক আহমেদ (শিক্ষা ও সংস্কৃতি). মোঃ জসিম আহমেদ (প্রচার ও প্রকাশনা), সিয়াম আহমেদ (সমাজকল্যাণ ও আপ্যায়ন), তাসলিমা শরীফ আঁখি (নারী ও শিশুকল্যাণ), মাওলানা মফিজুল ইসলাম ( ধর্ম বিষয়ক), মোঃ রফিক বেপারী (ত্রাণ ও পূণর্বাসন), মোঃ মোসলেউদ্দিন (ক্রীড়া) , মোঃ কুদ্দুস মিয়া (মানবসম্পদ), মোঃ সুমন বেপারী (কৃষি ও সমবায়), মোঃ কামরুল ইসলাম (প্রশিক্ষণ) , মোঃ নুরুন্নবী (পাঠাগার), মোঃ জাহিদুর রহমান (অনুষ্ঠান) , মোঃ শাহাবুদ্দিন জুলহাস (মিলনায়তন) প্রমুখ ।

নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন- মোঃ আজিম উদ্দিন লিটন, মোঃ শরিফ উদ্দিন টিপু, মোঃ গিয়াসউদ্দিন নিরব, মোঃ ফজলে করিম, মোঃ আব্দুল করিম, মোঃ মাফুল করিম , মোঃ হানিফ মোল্লা, মোঃ মোস্তফা মোল্লা , মোঃ মাকসুদ মিয়া , মোঃ আঃ রাজ্জাক, মোঃ বেলাল প্রমুখ ।।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন। কারা কতৃপক্ষ জানিয়েছেন -বন্দিদের ঈদের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।এছাড়া বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ মিলছে বলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের দিন সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন সকালে বন্দিদের জন্য থাকছে পায়েস ও মুড়ি। আর দুপুরে থাকবে পোলাও, গরু অথবা খাসি, সালাদ, মিষ্টি, পান-সুপারি। আর রাতের বেলায় সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলার শাহ্ শরীফ আরো জানান-এছাড়া ঈদের পরদিন বন্দিরা বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন থেকে তিন দিন বন্দিরা স্বজনদের সাথে পাঁচ মিনিট করে টেলিফোনে এবং একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন।

সাধারণ সময়ে হাজতিরা মাসে দুই বার এবং কয়েদীরা মাসে একবার করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও ঈদের সময় বিশেষ ভাবে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।একই ভাবে ১০ টাকার বিনিময়ে মাসে দুই বার স্বজনদের সাথে টেলিফোনে ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান বন্দীরা। তবে ঈদে বিনামূল্যে পাঁচ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবেন।বর্তমানে কারাগারে হাজতি ও কয়েদী মিলে পাঁচ হাজার ৮৫৮ জন বন্দি রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ