আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়ায় খেজুরের রস রাখার মাটির পাত্র বিক্রয়ের ধুম

মো: গোলাম কিবরিয়া। রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর পুঠিয়ায় খেজুরের রস রাখার মাটির পাত্র বিক্রয়ের ধুম শুরু হয়েছে। পুঠিয়া উপজেলায় খেজুরের রস সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হওয়া মাটির পাত্র নাড়ি বা ভাঁড় নামে গ্রামে পরিচিত। এখন কুমারপাড়ায় মাটির এই নাড়ি বা ভাঁড় তৈরির ও বিক্রয়ের ধুম পড়েছে।

হেমন্তের শিশিরভেজা আর হাল্কা ঠাণ্ডা জানান দিচ্ছে শীত আসছে। খেজুর গাছ থেকে নামবে মিষ্টি রস, গাছিরা খেজুরগাছ প্রস্তুত করেছেন। তাই পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন কুমার পাড়ার চলছে নাড়ি বা ভাঁড় তৈরির ব্যস্ততা। পুঠিয়ার ঝলমলিয়া পালপাড়া, কানাই পাড়া পালপাড়া ছাড়াও উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি ইউনিয়নে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য মাটির তৈরি পাত্র পাওয়া যায়।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, তৈরি হচ্ছে খেজুর গাছে পাতার জন্য নাড়ি বা ভাঁড়। মৌসুমের শুরুতে কুমোরপাড়ার নারী-পুরুষরা সবাই এখন আসন্ন শীতের খেজুর রস সংগ্রহের মাটির পাত্র তৈরি করছেন দিনের বেশিরভাগ সময়। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একদিকে চলছে কাদামাটির তৈরি পাতিল রোদে শুকানো অপরদিকে রাত থেকে চলছে বিশাল চুল্লিতে আগুনের তাপে পোড়ানো। এদিকে দিনে দিনে খেজুর গাছের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে তাই চাহিদা কম হলেও সীমিত লাভে বিক্রয় হচ্ছে। ক্রেতারাও ছুটে যাচ্ছেন তা কিনতে। খেজুরগাছ পরিচর্যা শেষে রস নেওয়ার জন্যে গাছে বাঁধবে মাটির নাড়ি বা ভাঁড়। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে থেকে শুরু করে কুমোরের নিজ বাড়ি থেকেই ক্রয় হচ্ছে মাটির এ সকল পণ্য।

ঝলমলিয়া পালপাড়া গ্রামের অধীর পাল বলেন, ২০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আকার ভেদে ৬০ টাকা পর্যন্ত এবার মাটির নাড়ি বা ভাঁড় বিক্রয় হচ্ছে। তবে গত বছরে তুলনায় এ বছরে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে মাটির কলস গুলো বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা করে। পুঠিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আমাদের গ্রামটি হওয়ায় প্রতিদিনই আশেপাশের উপজেলা থেকে ক্রেতারা আসছেন এবং তারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ পেশায় আগের মতো লাভ হয় না, বংশের ঐতিহ্য ধরে রেখেছি মাত্র। চাহিদা কম থাকায় দাম অনেক কম, এই ব্যবসা বাড়াতে পারিনি পূর্বের দামেই বিক্রি করছি। তবে এই মৌসুমে শীতের আমেজ আগেভাগেই তাই বেচাকেনা অনেক ভালো হবে বলে আশা করছি।

বাঘা উপজেলার নারানপুর গ্রামের ক্রেতা বিনয় খলিফা বলেন, গুড় তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাটির নাড়ি বা ভাঁড়, ক্রয়ের জন্যে এসেছি। এ বছর ভালো মানের নতুন নাড়ি বা ভাঁড় একটু বড় আকারের গুলো ৩০ থেকে ৬০ টাকা প্রতিটি হিসেবে ক্রয় করছি। খুব একটা দাম বৃদ্ধি পাইনি বলে মনে করেন এই ক্রেতা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ব্রিধান-১০২ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর বাস্তবায়নে “রিয়েক্টস-ইন” প্রজেক্টের আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ “জিংক ব্রি ধান-১০২” চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ইএসডিও’র আয়োজনে ও পরিচালনায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সাটিয়া ঈদগাঁ মাঠে কৃষক মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত শতাধিক কৃষকের মাঝে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ শাহিনুল কবির এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলম মানবদেহে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের অভাব পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২, ব্রিধান-১০০, ব্রিধান৮৪ এবং ব্রিধান৭৪ এর ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তারা তাদের বক্তব্যে সকলের প্রতি জিংক ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি, জিংক ধানের আবাদের সম্প্রসারণ ও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শোয়েবুর রহমান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা: মাহফুজা খাতুন, সিঙ্গারোল সরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ ওমর ফারুক মন্ডল, উক্ত গ্রামের ঈদগাঁ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাহেব মোঃ কামরুজ্জামান এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান সহ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর বাস্তবায়নে ও রিয়েক্টস-ইন প্রজেক্টের আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ইএসডিও’র আয়োজনে ও পরিচালনায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর  ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গ্রামে কৃষক মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়। 

কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত শতাধিক কৃষকের মাঝে হারভেস্টপ্লাসের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ শাহিনুল কবির এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলম মানবদেহে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের অভাব পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২,  ব্রিধান১০০, ব্রিধান৮৪ এবং ব্রিধান৭৪ এর ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।তারা তাদের বক্তব্যে সকলের প্রতি জিংক ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি, জিংক ধানের আবাদের সম্প্রসারণ ও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহীন আলী ও উত্তম কুমার বর্মন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা: জিন্নাতুন নেছা, মাদারগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন, উক্ত গ্রামের মাদারগঞ্জ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাহেব মোঃ হায়দার আলী এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আবু তালহা শিশির সহ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ