বাংলাদেশের শ্রম আইন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার ও চ্যালেঞ্জ

লেখক: আদনান আহমেদ রিফাত,আইন বিভাগ,প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়,চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এ খাতে কর্মরত, যাদের অধিকাংশই নারী। তারা স্বল্প বেতনে দিনরাত পরিশ্রম করলেও তাদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন। যদিও বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইন রয়েছে, বাস্তবে এই আইনগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না, ফলে শ্রমিকদের জন্য শ্রম আইন থেকে যে সুরক্ষা পাওয়ার কথা তা তারা পাচ্ছেন না।বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ শ্রমিকদের কাজের সময়, বেতন, নিরাপত্তা, ছুটি, ক্ষতিপূরণ, এবং অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধারা নিয়ে গঠিত। এই আইনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে এসব বিধান অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না।
শ্রম আইনের ধারা ১০০ অনুযায়ী, একজন শ্রমিক দৈনিক সর্বাধিক ৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন। সপ্তাহে ছয় দিন কাজের পর একদিন ছুটি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক গার্মেন্টস শ্রমিককে দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বিশেষত নির্ধারিত সময়ের বাইরে ‘ওভারটাইম’ করতে বাধ্য হন, এবং অনেক সময় তারা যথাযথভাবে এই অতিরিক্ত কাজের জন্য অর্থপ্রাপ্তিও পান না।একই আইনের ধারা ১২৩ অনুযায়ী, একজন মহিলা শ্রমিককে মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সুবিধা পাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই এ সুবিধাগুলো অমান্য করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করলেই কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ছাঁটাই করার পন্থা অবলম্বন করে, যা শ্রম আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৪৮ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বাস্তবিক চিত্র অনেক ভিন্ন। অগ্নিনিরাপত্তা বা ভবনের নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে হাজার হাজার শ্রমিকের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা এ সমস্যার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেএমইএ) ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য মতে (১৯৯৩-২০১৩) পর্যন্ত ২০ বছরের হিসাব অনুযায়ী বছরে গড়ে ১০ টি গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।বর্তমানে তা এই হার আরো বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারনা।ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী একই কারখানায় একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাসিক মজুরি অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।গত বছরের নভেম্বর মাসে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা চূড়ান্ত করেছে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড। টাকা নির্ধারণ করলেও অনেক কারখানায় শ্রমিকদের সেই পরিমাণ বেতন সঠিক সময়ে বা সম্পূর্ণ দেওয়া হয় না। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে এ বেতনে তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৭৬ ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার দিয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে অধিকার দাবি করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় শ্রমিকদের সংগঠনে অংশগ্রহণ করলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয় বা হুমকি দেওয়া হয়। ফলে তারা তাদের অধিকার দাবি করতে সাহস পান না।বাংলাদেশ সরকার শ্রম আইন সংশোধন ও আধুনিকায়ন করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবে আইনের বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই শিথিল। ফলে শ্রমিকরা ভোগান্তির শিকার হন এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত হয় না।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ অনেক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও, তাদের জন্য এসব অধিকার বাস্তবায়িত হয় না। বাংলাদেশে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হলে সরকারকে কঠোর নজরদারি এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সংগত মজুরি, কর্মপরিবেশ, এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে লেবেলবিহীন ঘি দিয়ে খাবার তৈরি, জরিমানা গুনল বনফুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনসহ নানা অপরাধে বনফুলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম। এছাড়া আরও নানা অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ।

তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন উপাদান উপকরণ ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজে তেলাপোকা বিচরণ, বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করায় বনফুলতে ৬০ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় এম অ্যান্ড এস মেডিকোকে ৬ হাজার টাকা, সাঈদ মেডিকেল হলকে ৩ হাজার টাকা, অপরিচ্ছন্ন অস্বাস্থ্যকর উপায় তেল সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাতকরণ, মোড়কজাত তেলে মেয়াদ মূল্য না দেওয়ায় পাঠানটুলি চৌমুহনী তেলের দোকানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

BPHCDA-এর রাজশাহী বিভাগীয় কমিটিতে কার্যনির্বাহীর সন্মানিত সদস্য মনোনীত হলেন মোঃ আব্দুল জব্বার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (BPHCDA)-এর রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সন্মানিত সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মোঃ আব্দুল জব্বার।
পাবনা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

মোঃ আব্দুল জব্বার বর্তমানে BPHCDA-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলা কমিটির সভাপতি ও পাবনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটিতে নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে তাকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় মোঃ আব্দুল জব্বার বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত কেন্দ্রীয় ও রাজশাহী বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ এবং পাবনা জেলা কমিটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে চান। এ ক্ষেত্রে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মোঃ আব্দুল জব্বার আরও আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। নতুন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য তিনি সবার নিকট দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, মোঃ আব্দুল জব্বার BPHCDA-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলা কমিটির সভাপতি, পাবনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এবং নব-মনোনীত রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সন্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ