আজঃ সোমবার ২২ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের শ্রম আইন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার ও চ্যালেঞ্জ

লেখক: আদনান আহমেদ রিফাত,আইন বিভাগ,প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়,চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এ খাতে কর্মরত, যাদের অধিকাংশই নারী। তারা স্বল্প বেতনে দিনরাত পরিশ্রম করলেও তাদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন। যদিও বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইন রয়েছে, বাস্তবে এই আইনগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না, ফলে শ্রমিকদের জন্য শ্রম আইন থেকে যে সুরক্ষা পাওয়ার কথা তা তারা পাচ্ছেন না।বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ শ্রমিকদের কাজের সময়, বেতন, নিরাপত্তা, ছুটি, ক্ষতিপূরণ, এবং অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধারা নিয়ে গঠিত। এই আইনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে এসব বিধান অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না।
শ্রম আইনের ধারা ১০০ অনুযায়ী, একজন শ্রমিক দৈনিক সর্বাধিক ৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন। সপ্তাহে ছয় দিন কাজের পর একদিন ছুটি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক গার্মেন্টস শ্রমিককে দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বিশেষত নির্ধারিত সময়ের বাইরে ‘ওভারটাইম’ করতে বাধ্য হন, এবং অনেক সময় তারা যথাযথভাবে এই অতিরিক্ত কাজের জন্য অর্থপ্রাপ্তিও পান না।একই আইনের ধারা ১২৩ অনুযায়ী, একজন মহিলা শ্রমিককে মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সুবিধা পাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই এ সুবিধাগুলো অমান্য করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করলেই কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ছাঁটাই করার পন্থা অবলম্বন করে, যা শ্রম আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৪৮ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বাস্তবিক চিত্র অনেক ভিন্ন। অগ্নিনিরাপত্তা বা ভবনের নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে হাজার হাজার শ্রমিকের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা এ সমস্যার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেএমইএ) ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য মতে (১৯৯৩-২০১৩) পর্যন্ত ২০ বছরের হিসাব অনুযায়ী বছরে গড়ে ১০ টি গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।বর্তমানে তা এই হার আরো বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারনা।ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী একই কারখানায় একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাসিক মজুরি অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।গত বছরের নভেম্বর মাসে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা চূড়ান্ত করেছে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড। টাকা নির্ধারণ করলেও অনেক কারখানায় শ্রমিকদের সেই পরিমাণ বেতন সঠিক সময়ে বা সম্পূর্ণ দেওয়া হয় না। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে এ বেতনে তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৭৬ ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার দিয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে অধিকার দাবি করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় শ্রমিকদের সংগঠনে অংশগ্রহণ করলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয় বা হুমকি দেওয়া হয়। ফলে তারা তাদের অধিকার দাবি করতে সাহস পান না।বাংলাদেশ সরকার শ্রম আইন সংশোধন ও আধুনিকায়ন করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবে আইনের বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই শিথিল। ফলে শ্রমিকরা ভোগান্তির শিকার হন এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত হয় না।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ অনেক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও, তাদের জন্য এসব অধিকার বাস্তবায়িত হয় না। বাংলাদেশে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হলে সরকারকে কঠোর নজরদারি এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সংগত মজুরি, কর্মপরিবেশ, এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন :যোগ জীবনের প্রতিটি দিককে সমৃদ্ধ করে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নেভি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রামের যোগব্যায়াম উৎসাহীদের সাথে এ দিবস উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ( চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে ৮০০ অধিক জনসমাগম হয়।যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সুধীজনরা অংশগ্রহণ করেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যোগ অনুশীলন পরিচালনা করেন।

সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হারীশ কুমার তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, যোগ একটি প্রাচীন অনুশীলন, যার অর্থ হলো ‘যুক্ত হওয়া’ বা ‘একত্রিত হওয়া’। এটি দেহ, মন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা অর্জনে সহায়তা করে।
প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশে এর উৎপত্তি হলেও যোগ কেবল শারীরিক ব্যায়াম বা বিভিন্ন ভঙ্গির অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনধারা, যা শারীরিক প্রাণশক্তি, মানসিক স্বচ্ছতা এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হয়। ভারতের উদ্যোগে ইউনাইটেড নেশনস ২০১৪ সালে এই দিবসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সুস্বাস্থ্য, নমনীয়তা, মানসিক স্থিতি এবং জীবনীশক্তি বজায় রাখতে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। নিয়মিত যোগাভ্যাস মানসিক চাপ কমায়, শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই একটি সুস্থ, সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গঠনে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, যোগ আমাদের সকলকে সংযুক্ত করে ও একত্রিত করে। যখন যোগ জীবনযাত্রার অংশ হয়ে ওঠে, তখন তা মানব ঐক্যের ভিত্তি স্থাপন করে। যোগ আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের শিল্প শেখায় এবং মানসিক সুস্থতা থেকে শারীরিক সুস্থতার পথ দেখায়। এটি আমাদের শরীরকে নমনীয় হতে সাহায্য করে এবং আমাদের শক্তির মাত্রা উচ্চ রাখে। শারীরিক সুস্থতা থেকে শুরু করে মনের শান্তি পর্যন্ত, যোগ জীবনের প্রতিটি দিককে সমৃদ্ধ করে।

সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে : জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জীবনমানের উন্নয়ন নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। রোববার চট্টগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের জন্য আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেছেন, কেবল নিজের চাকরি জীবনে কে কত সুবিধা পেয়েছেন বা নিজের জীবনে কত পরিবর্তন এনেছেন, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে কী দিতে পেরেছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমরা সবাই একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর রাষ্ট্র চাই।কিন্তু নিজের পরিবর্তনের প্রশ্নে আমরা অনেক সময় অনাগ্রহী থাকি। আমি চাই অন্যদের পরিবর্তন হোক, কিন্তু নিজের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চাই না। এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখা একটি চলমান প্রক্রিয়া।প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে না পারলে তার কোনো মূল্য থাকে না। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি যেমন পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি পরিবর্তিত হচ্ছে মানুষের প্রত্যাশা ও সেবার মানদণ্ডও।

ফলে সরকারি সেবাকে মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ১৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান মীমের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা, চট্টগ্রামের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমি চাকরি জীবনে কী পেলাম, আমার জীবনের কত উন্নতি হলো, আমার সন্তান কোথায় পড়াশোনা করল-এসবের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমি রাষ্ট্রকে কী দিলাম। জনগণের করের অর্থে বেতন নিয়ে, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আমরা সমাজের জন্য কী অবদান রাখতে পেরেছি, সেটি প্রত্যেকের ভেবে দেখা উচিত।তিনি বলেন, সরকারি চাকরি কেবল একটি পদ বা দায়িত্ব নয়; এটি জনগণের প্রতি অঙ্গীকার। তাই সেবাগ্রহীতারা যেন সরকারি দপ্তরে এসে হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসার সুযোগ পায় না। তাই কর্মজীবন শেষে যেন আফসোস না থাকে যে আরও ভালো কিছু করা যেত। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক অবদান রেখে যাওয়ার মধ্যেই একজন মানুষের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। কোনো প্রশিক্ষণ, কোনো নির্দেশনা বা কোনো আইন একা পরিবর্তন আনতে পারে না। পরিবর্তন তখনই আসে, যখন মানুষ নিজের ভেতরে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও বিবেককে ধারণ করে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ