আজঃ সোমবার ২৩ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশের শ্রম আইন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার ও চ্যালেঞ্জ

লেখক: আদনান আহমেদ রিফাত,আইন বিভাগ,প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়,চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এ খাতে কর্মরত, যাদের অধিকাংশই নারী। তারা স্বল্প বেতনে দিনরাত পরিশ্রম করলেও তাদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন। যদিও বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইন রয়েছে, বাস্তবে এই আইনগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না, ফলে শ্রমিকদের জন্য শ্রম আইন থেকে যে সুরক্ষা পাওয়ার কথা তা তারা পাচ্ছেন না।বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ শ্রমিকদের কাজের সময়, বেতন, নিরাপত্তা, ছুটি, ক্ষতিপূরণ, এবং অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধারা নিয়ে গঠিত। এই আইনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে এসব বিধান অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না।
শ্রম আইনের ধারা ১০০ অনুযায়ী, একজন শ্রমিক দৈনিক সর্বাধিক ৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন। সপ্তাহে ছয় দিন কাজের পর একদিন ছুটি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক গার্মেন্টস শ্রমিককে দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বিশেষত নির্ধারিত সময়ের বাইরে ‘ওভারটাইম’ করতে বাধ্য হন, এবং অনেক সময় তারা যথাযথভাবে এই অতিরিক্ত কাজের জন্য অর্থপ্রাপ্তিও পান না।একই আইনের ধারা ১২৩ অনুযায়ী, একজন মহিলা শ্রমিককে মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সুবিধা পাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই এ সুবিধাগুলো অমান্য করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করলেই কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ছাঁটাই করার পন্থা অবলম্বন করে, যা শ্রম আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৪৮ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বাস্তবিক চিত্র অনেক ভিন্ন। অগ্নিনিরাপত্তা বা ভবনের নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে হাজার হাজার শ্রমিকের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা এ সমস্যার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেএমইএ) ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য মতে (১৯৯৩-২০১৩) পর্যন্ত ২০ বছরের হিসাব অনুযায়ী বছরে গড়ে ১০ টি গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।বর্তমানে তা এই হার আরো বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারনা।ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী একই কারখানায় একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাসিক মজুরি অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।গত বছরের নভেম্বর মাসে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা চূড়ান্ত করেছে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড। টাকা নির্ধারণ করলেও অনেক কারখানায় শ্রমিকদের সেই পরিমাণ বেতন সঠিক সময়ে বা সম্পূর্ণ দেওয়া হয় না। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে এ বেতনে তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৭৬ ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার দিয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে অধিকার দাবি করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় শ্রমিকদের সংগঠনে অংশগ্রহণ করলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয় বা হুমকি দেওয়া হয়। ফলে তারা তাদের অধিকার দাবি করতে সাহস পান না।বাংলাদেশ সরকার শ্রম আইন সংশোধন ও আধুনিকায়ন করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবে আইনের বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই শিথিল। ফলে শ্রমিকরা ভোগান্তির শিকার হন এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত হয় না।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ অনেক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও, তাদের জন্য এসব অধিকার বাস্তবায়িত হয় না। বাংলাদেশে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হলে সরকারকে কঠোর নজরদারি এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সংগত মজুরি, কর্মপরিবেশ, এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মুনশী আব্দুর রহমান মিয়া মসজিদ” এর কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২৬ – ২০২৮ গঠিত হয়েছে ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ আলেম মুনশী আব্দুর রহমানের প্রপৌত্র , বীরমুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবিদ সালাউদ্দিন মিয়ার সন্তান, বদরপুর মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক কবি শাহাবুদ্দিন রিপন শান কে সভাপতি এবং
মুনশী আব্দুর রহমানের পৌত্র, বিশিষ্ট সমাজসেবক মনির আহমদ মিয়ার সন্তান, চতলা সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফয়েজ উল্যাহ মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে # বীরমুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন মিয়া বাড়ির দরোজায় অবস্থিত মুনশী আব্দুর রহমান মিয়া মসজিদের একান্ন সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে ।দক্ষিণ ধলীগৌরনগর চতলা সালাউদ্দিন মিয়া বাড়ির দরোজায় , ২১ মার্চ ২০২৬ যোহরবাদ মসজিদের মুসল্লিদের আন্তরিক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠিত হয় ।

কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যগণ হচ্ছেন – প্রধান উপদেষ্টার মর্যাদায় নির্বাহী সভাপতি- ডাচ বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট একেএম গিয়াসউদ্দিন মুরাদ । সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হাফেজ আহমেদ মিয়া, সহ-সভাপতি গণ হচ্ছেন- মহিউদ্দিন আহমেদ মিয়া, আব্দুর রশিদ বেপারী এবং মোহাম্মদ হোসেন খন্দকার । যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকগণ হচ্ছেন- মোঃ অজিউল্যাহ মিয়া, মোঃ রফিকুল ইসলাম বাবুল, মোঃ জহিরুদ্দিন ফরহাদ এবং মোঃ আলমগীর বেপারী । কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন- মোঃ মিলন মোল্লা ।

সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন- মাহতাব উদ্দিন মিরাজ শান । সম্পাদকীয় বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হয়েছেন -মোঃ রুবেল শান (মুক্তিযুদ্ধ ও মানবাধিকার), নেছার উদ্দিন রাসেল (তথ্য ও গবেষণা), কৌশিক আহমেদ (শিক্ষা ও সংস্কৃতি). মোঃ জসিম আহমেদ (প্রচার ও প্রকাশনা), সিয়াম আহমেদ (সমাজকল্যাণ ও আপ্যায়ন), তাসলিমা শরীফ আঁখি (নারী ও শিশুকল্যাণ), মাওলানা মফিজুল ইসলাম ( ধর্ম বিষয়ক), মোঃ রফিক বেপারী (ত্রাণ ও পূণর্বাসন), মোঃ মোসলেউদ্দিন (ক্রীড়া) , মোঃ কুদ্দুস মিয়া (মানবসম্পদ), মোঃ সুমন বেপারী (কৃষি ও সমবায়), মোঃ কামরুল ইসলাম (প্রশিক্ষণ) , মোঃ নুরুন্নবী (পাঠাগার), মোঃ জাহিদুর রহমান (অনুষ্ঠান) , মোঃ শাহাবুদ্দিন জুলহাস (মিলনায়তন) প্রমুখ ।

নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন- মোঃ আজিম উদ্দিন লিটন, মোঃ শরিফ উদ্দিন টিপু, মোঃ গিয়াসউদ্দিন নিরব, মোঃ ফজলে করিম, মোঃ আব্দুল করিম, মোঃ মাফুল করিম , মোঃ হানিফ মোল্লা, মোঃ মোস্তফা মোল্লা , মোঃ মাকসুদ মিয়া , মোঃ আঃ রাজ্জাক, মোঃ বেলাল প্রমুখ ।।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন। কারা কতৃপক্ষ জানিয়েছেন -বন্দিদের ঈদের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।এছাড়া বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ মিলছে বলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের দিন সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন সকালে বন্দিদের জন্য থাকছে পায়েস ও মুড়ি। আর দুপুরে থাকবে পোলাও, গরু অথবা খাসি, সালাদ, মিষ্টি, পান-সুপারি। আর রাতের বেলায় সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলার শাহ্ শরীফ আরো জানান-এছাড়া ঈদের পরদিন বন্দিরা বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন থেকে তিন দিন বন্দিরা স্বজনদের সাথে পাঁচ মিনিট করে টেলিফোনে এবং একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন।

সাধারণ সময়ে হাজতিরা মাসে দুই বার এবং কয়েদীরা মাসে একবার করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও ঈদের সময় বিশেষ ভাবে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।একই ভাবে ১০ টাকার বিনিময়ে মাসে দুই বার স্বজনদের সাথে টেলিফোনে ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান বন্দীরা। তবে ঈদে বিনামূল্যে পাঁচ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবেন।বর্তমানে কারাগারে হাজতি ও কয়েদী মিলে পাঁচ হাজার ৮৫৮ জন বন্দি রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ