আজঃ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের শ্রম আইন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার ও চ্যালেঞ্জ

লেখক: আদনান আহমেদ রিফাত,আইন বিভাগ,প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়,চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এ খাতে কর্মরত, যাদের অধিকাংশই নারী। তারা স্বল্প বেতনে দিনরাত পরিশ্রম করলেও তাদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন। যদিও বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইন রয়েছে, বাস্তবে এই আইনগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না, ফলে শ্রমিকদের জন্য শ্রম আইন থেকে যে সুরক্ষা পাওয়ার কথা তা তারা পাচ্ছেন না।বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ শ্রমিকদের কাজের সময়, বেতন, নিরাপত্তা, ছুটি, ক্ষতিপূরণ, এবং অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধারা নিয়ে গঠিত। এই আইনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে এসব বিধান অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না।
শ্রম আইনের ধারা ১০০ অনুযায়ী, একজন শ্রমিক দৈনিক সর্বাধিক ৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন। সপ্তাহে ছয় দিন কাজের পর একদিন ছুটি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক গার্মেন্টস শ্রমিককে দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বিশেষত নির্ধারিত সময়ের বাইরে ‘ওভারটাইম’ করতে বাধ্য হন, এবং অনেক সময় তারা যথাযথভাবে এই অতিরিক্ত কাজের জন্য অর্থপ্রাপ্তিও পান না।একই আইনের ধারা ১২৩ অনুযায়ী, একজন মহিলা শ্রমিককে মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সুবিধা পাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই এ সুবিধাগুলো অমান্য করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করলেই কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ছাঁটাই করার পন্থা অবলম্বন করে, যা শ্রম আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৪৮ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বাস্তবিক চিত্র অনেক ভিন্ন। অগ্নিনিরাপত্তা বা ভবনের নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে হাজার হাজার শ্রমিকের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা এ সমস্যার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেএমইএ) ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য মতে (১৯৯৩-২০১৩) পর্যন্ত ২০ বছরের হিসাব অনুযায়ী বছরে গড়ে ১০ টি গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।বর্তমানে তা এই হার আরো বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারনা।ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী একই কারখানায় একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাসিক মজুরি অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।গত বছরের নভেম্বর মাসে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা চূড়ান্ত করেছে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড। টাকা নির্ধারণ করলেও অনেক কারখানায় শ্রমিকদের সেই পরিমাণ বেতন সঠিক সময়ে বা সম্পূর্ণ দেওয়া হয় না। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে এ বেতনে তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৭৬ ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার দিয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে অধিকার দাবি করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় শ্রমিকদের সংগঠনে অংশগ্রহণ করলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয় বা হুমকি দেওয়া হয়। ফলে তারা তাদের অধিকার দাবি করতে সাহস পান না।বাংলাদেশ সরকার শ্রম আইন সংশোধন ও আধুনিকায়ন করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবে আইনের বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই শিথিল। ফলে শ্রমিকরা ভোগান্তির শিকার হন এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত হয় না।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ অনেক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও, তাদের জন্য এসব অধিকার বাস্তবায়িত হয় না। বাংলাদেশে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হলে সরকারকে কঠোর নজরদারি এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সংগত মজুরি, কর্মপরিবেশ, এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জনগণের জন্য উন্নয়নের পরিকল্পনা- মির্জা ফখরুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচনী গণসংযোগকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী প্রতিপক্ষের উদ্দেশে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী অনেক অত্যাচার করেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, পেট্রোল পাম্প-ট্যাংক সবই নিয়ে গিয়েছিল। পাকিস্তানি সেনাদের কারা সহযোগিতা করেছিল, আমরা তা জানি।

আগে একাত্তর সালের জন্য মাফ চান, তারপর ভোট চান।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, হাসিনার আমলে আমরা কাজ করতে পারিনি। পরে আমরা উন্নয়নের কাজ শুরু করেছি। আগে ১০০ টাকা আয় হতো, এখন ২০০ টাকা আয় করাকে উন্নয়ন বলা হচ্ছে। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন মানুষের কর্মসংস্থান ও কৃষির উন্নতি হবে।

তিনি আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে বলেন, ভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা ভুল করব। বিএনপি আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন করবে, আর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তারেক জিয়াকে দেশে আসতে দেয়নি ১৮ বছর। দেশে ফিরেই তিনি জনগণের জন্য উন্নয়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সার-বীজ এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

কলমাকান্দায় বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা কলমাকান্দায় সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দিনব্যাপী বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররাফ হোসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মো. শাহজাহান কবীর।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরে আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মাসুদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্বগুণ গড়ে তুলতে সহায়ক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারি চাঁন মিয়া, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এমদাদুল হক, কলমাকান্দা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীমসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ