আজঃ বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

টেকনাফে অপহরণের শিকার ১৮ বনকর্মীকে উদ্ধার 

অন্তর দে বিশাল, কক্সবাজার প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. টানা ৪৮ ঘন্টার সাঁড়াশি অভিযানে কক্সবাজার টেকনাফে অপহরণের শিকার ১৮ (আঠারো) জন বনকর্মীকে উদ্ধার করেছে “র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন” (র‌্যাব-১৫) এর সদস্যরা।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া ও জুম্মাপাড়া পাহাড়ী এলাকা থেকে অপহৃত বনকর্মীদের উদ্ধার হয়।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানানো হয় , গত সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) উপজেলার জাদিমুড়ার পশ্চিম দিকে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের অধীনে ১৮ জন শ্রমিক টেকনাফের জাদিমুড়া সংলগ্ন পাহাড়ে বন বিভাগের কার্যক্রম করতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাদের কিছু অস্ত্রধারী ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঐদিন বিকালে শ্রমিকের মাঝি জুহুর আলমের নিকট অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা ফোন করে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবী করেছে বলে জানা যায়।

র‌্যাবের আভিযানিক দল অপহরণের পর থেকেই হ্নীলা  জাদিমুড়া, রংগীখালীর জুম্মাপাড়া ও পানখালীস্থ গহীন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু করেন। এ সময় ঐ এলাকার সকল টিলা ও পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে র‌্যাবের সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্প ও সিপিসি-২ হোয়াইক্যং ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দলের দিন-রাত নিরলস সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও বন বিভাগের সহায়তা অপহৃত ১৮ (আঠারো) জন বনকর্মীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া অফিসার) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান, পিপিএম (সেবা) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বনকর্মী অপহরণের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা থাকার সন্দেহে সন্দেহভাজন দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপহরণের মূল চক্রের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শেরপুর-৩ আসন জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

প্রস্তাবিত জায়গায় শৌচাগার নির্মাণের প্রতিবাদ, পরে শিক্ষার্থীরাই মন্দির উদ্বোধন করেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গায় শৌচাগার নির্মাণের প্রতিবাদে এবং দ্রুত মন্দির নির্মাণের দাবিতে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে প্রশাসনের কোনো সাড়া না পেয়ে রাতে নিজেরাই ভিত্তিপূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন করেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে তাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।
এরপর শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে দেবদেবীর ছবির সঙ্গে পূজাসামগ্রী নিয়ে এসে কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধনের ঘোষণা দেন এবং সেখানে রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে জনমত জরিপ ও নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে চলছে বিচার বিশ্লেষণ। এনিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট তাদের সর্বশেষ বিশ্লেষণে যা ফুটে উঠেছে, তাই প্রকাশ করেছে তাদের নিজস্ব মাধ্যমে। তাদের প্রকাশিত তথ্যে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।প্রকাশিত সাময়িকীটির সাম্প্রতিক সংখ্যায় বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে সুপরিচিত একটি পরিবারের উত্তরসূরি ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের নেতৃত্বে আসার প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।


ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর এই আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শাসনের অবসান ঘটে।বিগত সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবেও সমালোচনা ছিল। দ্য ইকোনমিস্ট আরও জানায় , গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুলে দেবে।


নির্বাচনের পূর্বে তারেক রহমানকে নিয়ে এমন সময়ে এপূর্বাভাস দেয়া হলো, যখন টাইম ম্যাগাজিন, ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনমতে এগিয়ে থাকার বিষয়টি গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে সাময়িকীটিতে । ঐপ্রতিবেদনে বলা হয়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে রাজধানীতে প্রবেশের সময় বিপুল সংখ্যক সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। উচ্ছ্বাসের কারণে বাসটি কয়েক মাইল পথ খুব ধীরগতিতে চলতে থাকে, যেন সমর্থকেরা কাছ থেকে তাকে দেখতে পারেন।


বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছে সাময়িকীটি। সেপ্রতিবেদনে আরও বলা হয়- ২০০৮ সালের পর দেশে আর কোনো বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ নাগরিক কখনো প্রকৃত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচনই হবে শেষ বড় দায়িত্ব। অধিকাংশ মানুষের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সরকার অর্থনীতিতে একটি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদের জন্য একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব।সংসদে ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অতীত অভিজ্ঞতা কম জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে দ্যা ইকোনমিস্ট লিখেছে-দলটি ক্ষমতায় গেলে সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে তাদের উত্থান উদ্বেগ তৈরি করেছে। দলটি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি, কিন্তু কর্মীদের দ্বারে দ্বারে পাঠাচ্ছেন নারীদের ভোট দাঁড়ি পাল্লায় দেয়ার জন্য। এই রাজনৈতিক বাস্তবতাই তারেক রহমানের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করে সাময়িকীটিতে। কারণ বিভিন্ন জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

বিএনপি দীর্ঘদিন তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। তার পূর্বে বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নব্বই ও দুই হাজারের দশকে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বলা হয়, তারেক রহমান নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিস্তারিত না দিলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ আয়ের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন।
তিনি দেশের পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং প্রতিবছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে উপযুক্ত মনে করেন এবং তাকে একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী হিসেবে দেখেন।দ্য ইকোনমিস্ট আরও লিখেছে, তারেক রহমানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া। তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার অবশ্যই হবে।

তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—যে সরকার জনগণের জন্য কার্যকর কর্মসূচি দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের পতন অনিবার্য। প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন- প্রতিশোধ সমাজের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।বিশ্লেষকদের মতে-লন্ডন থেকে ফিরে আসা এই রাজনীতিককে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযত ও পরিণত মনে হচ্ছে। দেশে ফেরার পর জনমানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে চলছেন।

সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ